সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন, সেন্ট্রাল পার্কে দর্শকদের জন্য ৩৫০ বিনামূল্যের টিকিট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৭:১৮
সেন্ট্রাল পার্কে ম্যারাথনের শেষ মুহূর্ত দেখার বিশেষ সুযোগ
সেন্ট্রাল পার্কে ম্যারাথনের শেষ মুহূর্ত দেখার বিশেষ সুযোগ

উইয়র্ক সিটির জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন টিসিএস নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের শেষ মুহূর্তগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ করে দিতে ৩৫০টি বিনামূল্যের টিকিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নগর প্রশাসন। এসব টিকিটের মাধ্যমে নির্বাচিত দর্শকেরা সেন্ট্রাল পার্কে ফিনিশিং লাইনের শেষ ২০০ মিটার অংশের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে দৌড়বিদদের প্রতিযোগিতা শেষ করার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন। গত ২২ অক্টোবর মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয় এ উদ্যোগের কথা জানায়।
 

এ বছরের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ নভেম্বর, রোববার। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবার প্রায় ৬০ হাজার দৌড়বিদ এতে অংশ নেবেন। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে প্রতিযোগীরা নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো অতিক্রম করে ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ পাড়ি দেবেন। তাঁদের গন্তব্য সেন্ট্রাল পার্কের ফিনিশিং লাইন।


ম্যারাথন ঘিরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দুই মিলিয়নেরও বেশি দর্শক ও সমর্থকের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে দৌড়বিদদের লক্ষ্যপূরণের মুহূর্ত দেখতে প্রতিবছরই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ থাকে। এবার বিনামূল্যের টিকিটের উদ্যোগের ফলে নির্বাচিত দর্শকেরা গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে কাছ থেকে সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।


মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর দৌড়বিদেরা পাঁচটি বরো পেরিয়ে ফিনিশিং লাইনের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় দর্শকদের উপস্থিতি তাঁদের উৎসাহ জোগায় এবং প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলে। বিনামূল্যে টিকিট দেওয়ার উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো আরও বেশি নিউইয়র্কবাসীকে এই বড় ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং খেলাধুলা উপভোগের সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।


টিকিট পেতে আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৬ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নিউইয়র্ক রোড রানার্সের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে টিকিটপ্রাপ্তদের বেছে নেওয়ার কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। নির্বাচিত প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি টিকিট পেতে পারেন। দ্বিতীয় টিকিটটি যেকোনো বয়সের নিউইয়র্কবাসী ব্যবহার করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।


নিউইয়র্ক রোড রানার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রব সিমেলখায়ার বলেন, ম্যারাথন নগরীর পরিচয়, কমিউনিটির সংহতি এবং মানুষের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। পাঁচটি বরো নিয়ে ম্যারাথন আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিটি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ আরও বেশি মানুষকে ফিনিশিং লাইনের আবেগঘন মুহূর্ত সরাসরি উপভোগের সুযোগ দেবে।


গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে বসে ম্যারাথনের সমাপ্তি দেখার টিকিটের সাধারণ মূল্য শুরু হয় ৫৫ ডলার থেকে। ফলে বিনামূল্যের টিকিট পাওয়া দর্শকেরা কোনো টিকিটমূল্য ছাড়াই প্রতিযোগিতার শেষ অংশ দেখার সুযোগ পাবেন।


মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, বড় ক্রীড়া আয়োজনকে সাধারণ মানুষের আরও নাগালে নিয়ে আসার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এই উদ্যোগ। এ পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের জন্য সাশ্রয়ী টিকিটের সুযোগ, ২০২৬ সালের ইউএসএ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড আউটডোর ও প্যারা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বিনামূল্যের টিকিট এবং গথাম এফসি নারী ফুটবল দলের ম্যাচে ১৫ ডলারের টিকিটের উদ্যোগও রয়েছে।


এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে বাস্কেটবল কোর্ট, সকার মাঠ ও অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার হাজার ঘণ্টা খেলার সুযোগ তৈরির কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিক্সের প্লে-অফ ম্যাচ বিনামূল্যে দেখানো, চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্‌যাপনে বিনামূল্যের টিকিট দেওয়া এবং পাঁচটি বরোতে বিশ্বকাপ ফ্যান ফেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত।


সিটি প্রশাসনের লক্ষ্য, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসীর জন্য খেলাধুলায় অংশ নেওয়া এবং বড় ক্রীড়া আয়োজন উপভোগের সুযোগ বাড়ানো। নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের ফিনিশিং লাইনে বিনামূল্যে দর্শক প্রবেশের এই ব্যবস্থাও সেই পরিকল্পনার অংশ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ঘড়ির সময় পরিবর্তন বন্ধে সিনেটকে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ির কাঁটা বদলের সময় ঘনিয়ে আসছে, আইন পাসে সিনেটকে ফের তাগিদ দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা করে এগিয়ে নেওয়া ও পিছিয়ে দেওয়ার নিয়ম বন্ধ করতে আবারও সিনেটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দিনের আলো সাশ্রয়ী সময় বা ডেলাইট সেভিং টাইম সারা বছর চালু রাখলে সন্ধ্যায় বেশি সময় আলো পাওয়া যাবে এবং বারবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে। আগামী ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই আইন পাসের জন্য সিনেটের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প।   সোমবার মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক জনসভায় ট্রাম্প বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের ব্যবস্থাকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, এই নিয়ম মানুষকে বিরক্ত করে তোলে। তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষ সকালে বেশি আলো পাওয়ার চেয়ে সন্ধ্যায় বেশি সময় দিনের আলো পছন্দ করেন। বারবার ঘড়ির সময় বদলানোর ঝামেলাও তাঁরা চান না। সিনেটের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ডেলাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাবটি এখনো উচ্চকক্ষে আটকে আছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের অধিকাংশ মানুষ এই পরিবর্তন চাইলেও আইনপ্রণেতারা বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছেন না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টেও তিনি একই দাবি জানান। সেখানে তিনি লেখেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সন্ধ্যায় আরও আলো চান এবং কেউই বারবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করতে চান না।   ট্রাম্পের সমর্থিত এই উদ্যোগের নাম ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’। বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় সারা বছর ডেলাইট সেভিং টাইম চালু থাকবে। অর্থাৎ বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়ার পর শরতে আর তা পিছিয়ে দিতে হবে না। এতে শীতকালেও সন্ধ্যায় তুলনামূলক বেশি সময় আলো থাকবে। তবে দিনের শুরুতে সূর্যোদয় আরও দেরিতে হবে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে পাস হয়। কিন্তু এরপরও এটি সিনেটে অনুমোদন পায়নি। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন আগে বলেছেন, বিলটি পাস করার জন্য এখনো স্পষ্ট কোনো পথ বা পর্যাপ্ত ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে ১ নভেম্বরের আগে আইনটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কংগ্রেস আইন পরিবর্তন না করলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিতে হবে।   সময় পরিবর্তনের এই বিতর্কে রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আরকানসাসের এই সিনেটর স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর যুক্তি, শীতকালে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখলে সূর্যোদয় আরও দেরিতে হবে। এতে অনেক শিশুকে অন্ধকারে স্কুলে যেতে হতে পারে। একইভাবে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ, কৃষক ও নির্মাণশ্রমিকদেরও দিনের শুরুতে অন্ধকারে কাজ করতে হতে পারে। ট্রাম্প এর আগে বিলটির বিরোধিতা করায় কটনের সমালোচনা করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি অনলাইনে কটনের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ করে সমর্থকদের ওই সিনেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিলটির পক্ষে অবস্থান নিতে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে দুই রিপাবলিকান নেতার মধ্যে মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে।   স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর পক্ষে যুক্তি হিসেবে ট্রাম্প সন্ধ্যায় বেশি আলো পাওয়া, দৈনন্দিন কাজের সুবিধা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। মিসিসিপির জনসভায় তিনি বলেন, বড় ঘড়ি পরিবর্তন করতে গিয়ে উপাসনালয় ও পৌর ভবনের কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। তাঁর দাবি, সন্ধ্যায় বেশি আলো থাকলে অপরাধ কমাতেও সহায়তা মিলতে পারে। সময় পরিবর্তনের কারণে একবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেরি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব যুক্তি; স্থায়ী সময় পরিবর্তনে অপরাধ কমবে—এমন দাবি এখানে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি অঙ্গরাজ্য ইতিমধ্যে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর পক্ষে আইন পাস করেছে। কিন্তু ফেডারেল আইন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এসব রাজ্যও নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারছে না। বর্তমানে হাওয়াই ও অ্যারিজোনার অধিকাংশ এলাকায় ডেলাইট সেভিং টাইম পালন করা হয় না। পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের মতো মার্কিন অঞ্চলও সারা বছর মান সময় অনুসরণ করে। কংগ্রেসে সময় পরিবর্তন নিয়ে আরও দুটি প্রস্তাব রয়েছে। ‘সানশাইন ফর আওয়ার কিডস অ্যাক্ট’ নামের দ্বিদলীয় বিলটিতে সারা বছর মান সময় চালু রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যদিও রাজ্যগুলো চাইলে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম বেছে নিতে পারবে। অন্যদিকে, ‘ডেলাইট অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ নভেম্বর মাসে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে ৩০ মিনিট পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। দুটি বিলই প্রতিনিধি পরিষদের জ্বালানি ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে; সেগুলো এখনো পরবর্তী পর্যায়ে এগোয়নি। ডেলাইট সেভিং টাইম হলো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখার ব্যবস্থা, যাতে সন্ধ্যায় বেশি সময় দিনের আলো পাওয়া যায়। বসন্তে ঘড়ি এগিয়ে নেওয়া হয় এবং শরতে আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা স্থায়ী করার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা সন্ধ্যার আলোকে বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, স্থায়ী মান সময়ের সমর্থকেরা মনে করেন, শীতকালে সকালে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া শিশুদের স্কুলযাত্রা ও কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিনেটে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ফলে আইনপ্রণেতারা শেষ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে আগামী ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার নিয়মই কার্যকর থাকবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৮:৩৯
ভোটের অভিযোগে আইনি জটিলতায় নিউইয়র্কের মারভা কুক

নাগরিকত্ব নেই জানতেন না নিউইয়র্কের নারী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় ফৌজদারি অভিযোগ

অভিবাসন নীতির পরিবর্তনে স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে উদ্বেগ

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা, আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি

সেন্ট্রাল পার্কে ম্যারাথনের শেষ মুহূর্ত দেখার বিশেষ সুযোগ

১ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন, সেন্ট্রাল পার্কে দর্শকদের জন্য ৩৫০ বিনামূল্যের টিকিট

ভোটার তদন্ত ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ
ভোটার জালিয়াতির তদন্তে বাড়ি বাড়ি ফেডারেল এজেন্ট, নিউইয়র্কে অভিবাসীদের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সশস্ত্র ফেডারেল কর্মকর্তারা। বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব, ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং অতীতে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করছেন তাঁরা। এ ধরনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। তবে নিউইয়র্ক সিটিতে একই ধরনের বাড়ি বাড়ি তদন্ত ব্যাপকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এমন তথ্য নিশ্চিত হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ২১ অক্টোবরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআইয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের বাড়িতে যাচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য, মার্কিন নাগরিক নন এমন কেউ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন কিংবা আগের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা। তদন্তের অংশ হিসেবে ভোটার তালিকা, ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। সিবিএসের অনুসন্ধানে ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, মিসৌরি, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিনসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে এই কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও কর্মকর্তারা ইউনিফর্ম ও অস্ত্রসহ বাসিন্দাদের দরজায় উপস্থিত হয়েছেন। কিছু অভিযানের ছবি ও ভিডিও সরকারি সংস্থার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাড়ি বাড়ি অনুসন্ধানের সব ঘটনাই গ্রেপ্তারের অভিযান ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার নিবন্ধন বা নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, নির্বাচনে শুধু যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এসব তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের বেআইনিভাবে ভোট দেওয়া বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্ত করা তাদের দায়িত্ব। তবে ভোটার জালিয়াতির তদন্ত পরিচালনা এবং কোনো নাগরিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটদান থেকে বিরত রাখা আইনগতভাবে এক বিষয় নয়। গত ২৩ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনায় ১০ জন গ্রিন কার্ডধারী এবং আরও একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক না হয়েও অতীতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের নাগরিক পরিচয় দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়নি। এদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলেও ভোটার জালিয়াতিসংক্রান্ত কয়েকটি মামলা হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, পাঁচজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁরা ব্রিটেন, বসনিয়া ও কানাডার নাগরিক। অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক না হয়েও তাঁরা এমন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, যেখানে ফেডারেল পদগুলোর জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এই পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রেপ্তার পৃথক ঘটনা।  দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার খবর স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংগঠন মেক দ্য রোড অ্যাকশনের সহপরিচালক ড্যানিয়েল কোটস অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার যোগ্য ভোটারদের মধ্যেও ভয় তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামসও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা তত বাড়তে পারে। তবে এটি তাঁর আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিউইয়র্কের সব ভোটকেন্দ্রে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমন কোনো সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এই বিতর্কের মধ্যে গত ২১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। বিচারক আরাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন সিদ্ধান্ত দেন, ভোটার জালিয়াতির তদন্তের নামে মার্কিন নাগরিক বলে জানা বা যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ করা যায় এমন ব্যক্তিদের ভয়ভীতি তৈরি করতে পারে, এমন বাড়ি বাড়ি অভিযান ও সাক্ষাৎকার পরিচালনা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তিনি নিউইয়র্কসহ নয়টি অঙ্গরাজ্যে সংশ্লিষ্ট ধরনের নির্বাচনী মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশ দেন।  আদালতের নির্দেশে অবশ্য সব ধরনের ভোটার জালিয়াতির তদন্ত নিষিদ্ধ করা হয়নি। বিচারক স্পষ্ট করেছেন, প্রকৃত বেআইনি ভোটদান সম্পর্কে তদন্ত করার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের রয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় বৈধ ভোটারদের ভয় দেখানো কিংবা তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। আদালতের নির্দেশটি নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছে। সরকারের আপিলের সুযোগের জন্য নির্দেশটির কার্যকারিতা শুরুর ক্ষেত্রেও সাময়িক সময় দেওয়া হয়েছিল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আদালতের সিদ্ধান্তের পর জানিয়েছে, তারা মার্কিন নাগরিক বলে বিশ্বাস করে এমন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্ত করার পরিকল্পনা নেই। সংস্থাটির দাবি, বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, সরকারি তথ্য ও বেসরকারি তথ্যভান্ডার মিলিয়ে সন্দেহভাজন ভোটারদের তালিকা তৈরিতে ভুলের ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে বৈধ মার্কিন নাগরিকরাও অপ্রয়োজনীয় তদন্তের মুখে পড়তে পারেন।  এদিকে ২৭ অক্টোবর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ভোটারদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইসিই, সিবিপি ও এফবিআইসহ সশস্ত্র ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও কার্যক্রমের ওপর কঠোর আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা অস্ত্র, সরকারি পদবি বা ভয়ভীতি ব্যবহার করে যোগ্য ভোটারকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারেন না। একই সঙ্গে ভোটারের পরিচয় বা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে অননুমোদিতভাবে ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়াও আইনবিরুদ্ধ।  নিউইয়র্কে আগাম ভোটগ্রহণ চলছে এবং আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। মূল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সাধারণভাবে ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রথমবার ভোট দেওয়া কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় পরিচয় যাচাই সম্পন্ন না হলে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। ভোটারদের ভয় দেখানো বা বেআইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগ জানাতে ৮৬৬-৩৯০-২৯৯২ নম্বরে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করতে পারলেও সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। অন্যদিকে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় ভোটার নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করলে ভোট দিতে পারেন। শুধু বিদেশে জন্ম নেওয়া কিংবা আগে গ্রিন কার্ডধারী থাকার কারণে কোনো মার্কিন নাগরিককে ভোট দেওয়ার অযোগ্য বলা যায় না। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের ভোটার নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে যাঁরা এখনো গ্রিন কার্ডধারী কিংবা অন্য কোনো অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে রয়েছেন, তাঁদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোটদানের বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কোনো সরকারি কর্মকর্তা যোগাযোগ করলে তাঁর পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে ভোটার জালিয়াতির তদন্তে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই কার্যক্রমকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ বললেও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এতে বৈধ ভোটারদের মধ্যেও ভয় ছড়াতে পারে। আদালতের হস্তক্ষেপ এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের সতর্কবার্তার পর এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্তের নামে কোনো ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না। সোর্স: সিবিএস নিউজ, ২১ ও ২২ অক্টোবর ২০২৬; এএমনিউইয়র্ক, ২৫ অক্টোবর ২০২৬; যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৬:১৬
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হিলারি

ট্রাম্প পরিবারের প্রেসিডেন্সিকাল মুনাফায় ১৩ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা সম্ভব, দাবি হিলারি ক্লিনটনের

অভিবাসীদের নির্বাসন মামলা সাময়িক স্থগিতের ক্ষমতা পুনর্বহালের আবেদন নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাসন মামলা স্থগিতের সুযোগ বন্ধই থাকছে

ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি চালু করতে সাহায্য করতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় গাড়ি বিকল ভেবে সাহায্য করতে গিয়ে বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার নারী

ফ্লোরিডার সেবাস্টিয়ান ইনলেট স্টেট পার্কে মাছ ধরার পিয়ারের গ্রিল ভেঙে সাগরে পড়ে যায় ১৬ বছরের এক কিশোর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় মাছ ধরার মাচার মেঝে ভেঙে সাগরে পড়ে গেল কিশোর, বন্ধুদের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরার একটি পিয়ারের ধাতব গ্রিল ভেঙে উত্তাল সাগরে পড়ে প্রাণে বেঁচেছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। রোববার সেবাস্টিয়ান ইনলেট স্টেট পার্কের মাছ ধরার পিয়ারে হাঁটার সময় হঠাৎ তার পায়ের নিচের গ্রিল ভেঙে যায়। এতে সাগরে পড়ে যায় ল্যান্ডেন উইলিয়ামস নামের ওই কিশোর। দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রে জোয়ারের পানি বেশি থাকায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পরে নিজের বুদ্ধি, সাঁতারের দক্ষতা ও বন্ধুদের সহায়তায় তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হয় সে।   ফক্স ৩৫ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিয়ার দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ পথের একটি ধাতব গ্রিল ভেঙে পড়লে সাগরে ছিটকে পড়ে ল্যান্ডেন। এ সময় তার মাছ ধরার ছিপটিও ভেঙে যায়। পানিতে পড়েই সে দ্রুত জুতা, বাইরের পোশাক ও মাছ ধরার সরঞ্জাম খুলে ফেলে, যাতে সাঁতার কাটতে সুবিধা হয়। পিয়ারের খুঁটির কাছাকাছি বিপজ্জনক এলাকায় আটকে না থেকে সে শান্ত থাকার চেষ্টা করে এবং স্রোতের সঙ্গে ভেসে তীরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।   দুর্ঘটনাটি দেখে ল্যান্ডেনের সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তারা পানিতে ভাসমান উদ্ধারকারী রিং ছুড়ে দিলেও উত্তাল পানির কারণে সেগুলো তার কাছে পৌঁছায়নি। পরে ল্যান্ডেন তীরের কাছাকাছি চলে এলে তার বন্ধু মেমফিস প্রিন্সসহ কয়েকজন পানিতে নেমে তাকে তীরে তুলে আনতে সহায়তা করে। প্রিন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। সামান্য দেরি বা পরিস্থিতির অন্য রকম পরিবর্তন হলে পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারত।   দুর্ঘটনায় ল্যান্ডেনের দুই হাতে কেটে যাওয়ার ক্ষত এবং হাতে-পায়ে চামড়ায় ঘষা লেগে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া তার ঘাড় ও পিঠে ব্যথা ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্রেভার্ড কাউন্টি ফায়ার রেসকিউ বিভাগের কর্মীরা তাকে পরীক্ষা করেন। তবে তার অবস্থা এমন ছিল না যে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। দুর্ঘটনার পর ল্যান্ডেন বলেন, বেঁচে ফিরতে পেরে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং জীবিত থাকাটাই তখন তার কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি ছিল।   ঘটনার পর পিয়ারটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ল্যান্ডেনের বন্ধু প্রিন্স। তার মতে, পিয়ারের ধাতব গ্রিলগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় মেরামত করা জরুরি। কারণ, কোনো অংশ আলগা বা দুর্বল হয়ে থাকলে সেখানে হাঁটতে যাওয়া অন্য দর্শনার্থীরাও বিপদে পড়তে পারেন। বিশেষ করে মাছ ধরার পিয়ারে নিয়মিত মানুষের যাতায়াত থাকায় এ ধরনের অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।   ফক্স ৩৫ নিউজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার স্টেট পার্ক কর্তৃপক্ষ পিয়ারের একটি অংশ জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেয়। তবে কবে নাগাদ মেরামতের কাজ শুরু হবে কিংবা পিয়ারটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তারা তখনো জবাব দেয়নি।   সূত্র: ফক্স ৩৫ নিউজ, ব্রেভার্ড কাউন্টি ফায়ার রেসকিউ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ২১:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের সম্পত্তি জব্দের ঘটনা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে কি ফের আবাসন সংকটের শঙ্কা, এক বছরে বাড়ি বাজেয়াপ্তের হার বেড়েছে ৪২ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ভবিষ্যৎ

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আঙুল হারিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পেলেন যুবক

0 Comments