সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিককের তথ্য গোপন করছে বিচার বিভাগ, বাবা মায়ের ক্ষোভ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:২
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে গত জানুয়ারিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না দিয়ে এবং ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইনের অধীনে পরিবারের অধিকার ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে।

 

মাইকেল ও সুসান প্রেত্তি ২৭ অক্টোবর মিনিয়াপোলিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের ছেলে অ্যালেক্স পেশায় একজন নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স ছিলেন। ২৪ জানুয়ারি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও ফেডারেল অভিবাসন অভিযান ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তিনি গুলিতে নিহত হন। ঘটনার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

 

পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইখার জানান, অ্যালেক্সের মৃত্যুর তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে এবং কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবার স্পষ্ট তথ্য চায়। তাঁদের অভিযোগ, বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছে না এবং তদন্তের পূর্ণ নথি রাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না।

 

চলতি বছরের জুলাইয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে পাঠানো এক চিঠিতে পরিবারের আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের কাছ থেকে তাঁরা তদন্তের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য পাননি। চিঠিতে সরকারের আচরণকে নিষ্ঠুর ও বেআইনি বলে বর্ণনা করা হয়। পরিবারটির বক্তব্য, তদন্তের বিষয়ে যোগাযোগের অভাব তাঁদের শোক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

 

ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইনে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে প্রমাণ প্রকাশের দাবি পরিবারের

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর প্রায় নয় মাস পরও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাঁদের অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখছে। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২৭ অক্টোবর মিনিয়াপোলিসে প্রকাশ্যে দাবি জানান মাইকেল ও সুসান প্রেত্তি।

 

৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেত্তি ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৪ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের মধ্যে তিনি গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

 

পরিবারের আইনজীবী স্টিভ শ্লাইখারের মাধ্যমে জুলাই মাসে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অ্যালেক্সের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে বিচার বিভাগের কাছ থেকে পরিবার উল্লেখযোগ্য কোনো হালনাগাদ তথ্য পায়নি। চিঠিতে সরকারের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও বেআইনি বলে অভিযোগ করা হয়।

 

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্সের বাবা-মা বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে তাঁরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি। তাঁদের অভিযোগ, বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁদের উপেক্ষা করেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বদলে তাঁদের আড়াল করছেন।

 

অ্যালেক্সের মা সুসান প্রেত্তি অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে নিয়ে প্রশাসনের প্রাথমিক বক্তব্য তাঁর স্মৃতিকে কলঙ্কিত করেছে। ঘটনার পর তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম তাঁকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে গুলির আগে অ্যালেক্সের হাতে মোবাইল ফোন দেখা গেছে। গুলির ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁকে অস্ত্র প্রদর্শন বা কর্মকর্তাদের আক্রমণ করতে দেখা গেছে, এমন কোনো ভিডিও প্রকাশিত হয়নি।

 

তদন্তের তথ্য নিয়ে ফেডারেল ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরোধ চলছে। অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনে গুডের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ পাওয়ার জন্য মিনেসোটার কর্মকর্তারা মার্চ মাসে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্বাধীন তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য তাদের হাতে নেই।

 

তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসাবাদের রেকর্ডিংসহ আরও কিছু উপাদান চেয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা প্রমাণ ভাগাভাগি বন্ধ করে দেওয়ার পর তদন্তে সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার সীমিত।

 

অ্যালেক্সের বাবা-মা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর খবর তাঁরা প্রথম জানতে পারেন একজন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকের কাছ থেকে। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার দিন ফেডারেল সরকারের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে তাঁদের ছেলেকে নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

 

পরিবারের দাবি, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তাঁরা চান, তদন্তের সব প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করা হোক, রাজ্য তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেওয়া হোক এবং আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ভিকটিমস রাইটস আইন অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার নিশ্চিত করে। এর মধ্যে রয়েছে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার, মামলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য জানার সুযোগ এবং বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কিছু অধিকার। তবে অ্যালেক্সের পরিবারের অভিযোগের আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্ত চলমান। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগটির বিস্তারিত জবাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং দায় নির্ধারণের দাবিতে পরিবারটি তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে প্রবাসীদের দক্ষতা ও সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে পালন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আজ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজন, চাকরি প্রস্তুতি থেকে অভিবাসন ও আইনি সচেতনতা সব একত্রে

নিউইয়র্কের কুইন্সে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এতে চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, অনলাইনে চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য জানার সুযোগ থাকছে। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কুইন্স প্যালেসে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা রয়েছে।   কর্মসূচির প্রথম পর্বে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যকর জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, উপযুক্ত চাকরি খুঁজে বের করা, অনলাইনে আবেদন করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি। পাশাপাশি চাকরি খোঁজা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণাও তুলে ধরার কথা রয়েছে।   নতুন অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবনে অগ্রসর হতে আগ্রহীদের জন্য এ আয়োজন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি থেকে শুরু করে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের কাজে আসতে পারে।   অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অভিবাসনসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা নিয়ে আলোচনা রাখার কথা রয়েছে। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য অভিবাসন আইন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।   কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা অভিবাসীদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই চাকরি, আবাসন সহায়তা কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো আইনি সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হবে, এমন নয়। ব্যক্তিগত অভিবাসন সমস্যার ক্ষেত্রে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগে সময়সূচি, নিবন্ধন ও প্রবেশসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আয়োজকদের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৩:৫
ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ক্যারিবীয় কমিউনিটির একটি সংগঠন।

নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের লড়াইয়ে নামছে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটি

স্ট্রিমিং সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন ফি বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন গ্রাহকরা। ছবি: সংগৃহীত

দাম বাড়ায় স্ট্রিমিং থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মার্কিনরা, খরচ কমাতে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সাবস্ক্রিপশন

পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে এরিকা লিন সেয়ার ও ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন
হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের জন্য নানা আয়োজন, নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আনন্দের সুযোগ

নিউইয়র্কের কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে হ্যালোইন উপলক্ষে শিশু ও পরিবারের জন্য একাধিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার, ২৮ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বিকেল থেকে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের বিনোদন, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এসব আয়োজন হতে পারে অবসর কাটানো ও কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ।   লং আইল্যান্ড সিটির ১০-১৫, ৪৬তম রোডে রিনিউ কুইন্স ও ওয়েলস্প্রিং চার্চের উদ্যোগে ‘ফল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। এতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলা, মুখে রং করা, সৃজনশীল কাজ, পুরস্কার এবং নাশতার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের হ্যালোইনের পোশাক পরে আসতেও উৎসাহিত করা হয়েছে।   আয়োজকেরা অনুষ্ঠানটিকে শুধু শিশুদের বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং একই এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। কর্মসূচির দুটি নির্ধারিত পর্ব ছিল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট। উভয় পর্বেই খেলা, মুখে রং করা, সৃজনশীল কার্যক্রম ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছিল। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব অংশগ্রহণকারীর তথ্য দিতে বলা হয়েছিল।   একই দিনে লং আইল্যান্ড সিটির লা গার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ এলাকায় ‘হ্যালোইন অ্যান্ড দিয়া দে লস মুয়ের্তোস সেলিব্রেশন’ নামে আরেকটি পারিবারিক আয়োজনের ঘোষণাও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। আয়োজনে শিশুদের মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে রং করা, খেলাধুলা, পুরস্কার, সংগীত, বিনোদন, কুমড়ার সাজসজ্জা এবং পোশাক প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পীদের সরাসরি কুমড়ায় নকশা তৈরির প্রদর্শনীও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।   ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ মেক্সিকোর একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করা হয়। হ্যালোইনের সঙ্গে এই আয়োজন যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও পান। বহুসাংস্কৃতিক নিউইয়র্কে এ ধরনের অনুষ্ঠান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য শিশুদের নিরাপদ বিনোদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলো স্থানীয় কমিউনিটির কার্যক্রমে অংশ নিলে আশপাশের সেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার সুযোগ পেতে পারে। তবে শিশুদের নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আয়োজকের নির্দেশনা, প্রবেশের শর্ত এবং অভিভাবকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।   উৎসবগুলোর সময়সূচি ২৮ অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত ছিল। তাই প্রকাশের সময় পাঠকদের জানানো জরুরি যে এগুলো পূর্বঘোষিত কর্মসূচি; অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকলে আয়োজকদের কাছ থেকে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও ফলাফল নিশ্চিত না করে সেগুলোকে সম্পন্ন ঘটনার বিবরণ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। একইভাবে, কোনো অনুষ্ঠান বিনা মূল্যে ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে বিনা মূল্যে অংশগ্রহণের দাবি করাও ঠিক হবে না।   নিউইয়র্কের স্থানীয় কমিউনিটি অনুষ্ঠানগুলো শুধু উৎসবের আনন্দই নয়, বরং পরিবারগুলোর মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলারও একটি মাধ্যম। শিশুদের আনন্দ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশীদের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন স্থানীয় জীবনযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১২:২৫
মূল্যস্ফীতি ও আবাসন ব্যয়ের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেত্তির মৃত্যুর তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তাঁর বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিককের তথ্য গোপন করছে বিচার বিভাগ, বাবা মায়ের ক্ষোভ

বাঙালি পরিচয় নিয়ে নিউ ইয়র্কে ব্যতিক্রমী আয়োজন

বাঙালি পরিচয় নিয়ে নিউ ইয়র্কে ব্যতিক্রমী আয়োজন, ‘আপনাকে বাঙালি মনে হয় না’

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিলের ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনে হারের পর ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বলসোনারো, পরিবার নিয়ে পৌঁছালেন মায়ামিতে

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে পৌঁছেছেন ডানপন্থী নেতা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছান। অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর দেশ ছাড়ার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা না দিয়ে তিনি ভোটের ফল বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ফ্লাভিও তাঁর স্ত্রী ফার্নান্দা আন্তুনেস ফিগেইরা বলসোনারো এবং দুই মেয়ে ক্যারোলিনা ও লুইজাকে নিয়ে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা একটি বেসরকারি উড়োজাহাজে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে যান। সেখান থেকে উড়োজাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার সকালে মায়ামির কাছে ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।   ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ফ্লাভিওকে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে তাঁর সাধারণ ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ফ্লাভিও সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো অপরাধের কথা স্বীকার করেননি।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছিলেন।   ফ্লাভিওর বাবা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রাজিলে ফিরে আসেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন।   এদিকে নির্বাচনে জয়ী লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্রাজিলে থেকেই ফ্লাভিওর উচিত ছিল নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়া। অন্যদিকে ফ্লাভিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে নিরাপদে আছেন।   ফ্লাভিওর দেশত্যাগ ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নিয়ে সামনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা এখন দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১১:২৭
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কম্বোডিয়ায় বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে মার্কিন ক্রুজ জাহাজ এমভি ওডিসি। ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ জ্বালানি তেলের ব্যয়ে ৩ বছরের বিশ্বভ্রমণ স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুস জাহাজ! অনিশ্চয়তায় ২০৩ যাত্রী

বিটিভির সাবেক বিতর্কিক রেবেকা শাফি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজগতের পরিচিত মুখ। ছবি: সংগৃহীত

বিটিভির বিতর্কমঞ্চ থেকে হার্ভার্ড: বাংলাদেশের রেবেকা শাফির বিস্ময়কর সাফল্যযাত্রা

ঢাকার মেয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড. লামিয়া মওলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে মহাবিশ্বের গভীরে: বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা লামিয়া মওলার জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসাধারণ অগ্রযাত্রা

0 Comments