ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে তিন শিশুর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং অবহেলার অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা হয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তের পর এরিকা লিন সেয়ার, ৪৫, এবং তাঁর স্বামী ক্লিফোর্ড গেইল সেয়ার, ৪৬, ছয়টি করে অভিযোগের মুখে পড়েছেন। শিশুদের ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় শেরিফের ভাষায়, শিশুদের বসবাসের পরিবেশ ছিল ‘ভয়াবহ নির্যাতনের বাড়ি’। তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, বছরের পর বছর তাঁদের মারধর করা, শ্বাসরোধ করার চেষ্টা, খাবার ও পানি থেকে বঞ্চিত করা এবং টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, শাস্তি হিসেবে শিশুদের বিছানায় ব্যবহৃত বিড়ালের নোংরা লিটার ফেলে দেওয়া হতো এবং তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে কুকুরের মল লাগানো হতো। কখনো কখনো পাথরকুচি ছড়ানো রাস্তার ওপর খালি পায়ে দৌড়াতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিশুদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘরের বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁদের মারধর করা হতো, এতে কারও কারও শরীরে রক্তপাতের মতো আঘাতের সৃষ্টি হয়। তাঁদের নোংরা মোজা মুখে দিতে বাধ্য করা এবং জোর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শিশু জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। এতে রক্তপাত হলেও তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আরেক শিশুকে নির্যাতনের কথা শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানালে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
শিশুদের মৃত জৈবিক বাবা-মাকে নিয়েও কটূক্তি ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক শিশু আবেগাপ্লুত হয়ে জানায়, সে ওই বাড়িতে আর ফিরতে চায় না। অন্য এক শিশু বছরের পর বছর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।
শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ, ক্লিফোর্ড সেয়ার বারবার নির্যাতনের ঘটনা দেখেও তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেননি। বরং একটি ঘটনায় তিনি এক শিশুর হাত ধরে রেখেছিলেন, আর এরিকা ক্ষুর দিয়ে তার চুল কাটছিলেন। এতে শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ।
জ্যাকসন কাউন্টির শেরিফ রস মেলিঙ্গারের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা শিশুদের শরীরে এমন কিছু দাগ পেয়েছেন, যা তাদের বর্ণিত নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিশুদের বক্তব্যের মধ্যেও মিল পাওয়া গেছে। তদন্তে একাধিক সাক্ষাৎকার, চিকিৎসা পরীক্ষা এবং ছবি সংগ্রহের তথ্য উঠে এসেছে।
মামলায় এরিকার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু নির্যাতনের তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের কারণ হওয়া শিশু অবহেলার তিনটি এবং আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে এমন শিশু অবহেলার তিনটি অভিযোগ রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই মোট ছয়টি করে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এরিকার প্রাথমিক শুনানির তারিখ ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্লিফোর্ডের শুনানিও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreজর্জিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, প্রতিষ্ঠানটির শেষ কার্যদিবস হবে বলে জানিয়েছেন এর মালিক তানবীর আহমেদ। দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি গ্রাহক, বাংলাদেশি কমিউনিটি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তানবীর আহমেদ বলেন, গ্রাহকদের আস্থা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা অর্জন তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। এই দীর্ঘ পথচলায় গ্রাহকেরা কেবল ক্রেতা হিসেবেই থাকেননি, বরং বৃহত্তর পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং স্মৃতি তাঁর কাছে সব সময় মূল্যবান হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি পাকিস্তানি, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্যীয় ও আমেরিকানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গ্রাহক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আল-ফালাহর মালিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা, ভালোবাসা ও সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের পথচলাকে অর্থবহ করে তুলেছে। তাঁদের অবদান কখনো ভুলে যাবেন না বলেও জানান তিনি। বিদায়বার্তায় নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আচরণ নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তানবীর আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের সেবা, পণ্য, মূল্য কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ অথবা কোনো কর্মচারীর আচরণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বা হতাশ হয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহককে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারিত করা কিংবা তাঁর বিশ্বাসের অপব্যবহার করা কখনোই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। কোনো সীমাবদ্ধতা বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও গ্রাহকদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও ভালোবাসা স্মৃতিতে অমলিন থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘদিন পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তানবীর আহমেদ তাঁর পরিবারকে দোয়ায় রাখার অনুরোধ করেছেন। বিদায়বার্তার শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবার সুস্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি, সম্মান ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে সবার ভবিষ্যৎ সুন্দর ও কল্যাণময় হোক—এ প্রার্থনা জানিয়ে নিজের বার্তা শেষ করেন। আল-ফালাহ সুপার মার্কেট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা গ্রাহক ও পরিচিতজনদের মধ্যে স্মৃতিকাতরতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিভক্তি, প্রতিবাদী চিঠিতে সই করেননি ৪০ জন
২৫ কোটি ডলারের ত্রাণ জালিয়াতি, সালিম সাঈদের ৪০ বছরের কারাদণ্ড চাইছে মার্কিন সরকার
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর বরফঢাকা পাহাড়ে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, মিলল শুধু ধসে পড়া তাঁবু
নিউইয়র্কের কুইন্সে আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য বিশেষ আয়োজনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এতে চাকরি খোঁজা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, অনলাইনে চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য জানার সুযোগ থাকছে। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কুইন্স প্যালেসে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা রয়েছে। কর্মসূচির প্রথম পর্বে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যকর জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, উপযুক্ত চাকরি খুঁজে বের করা, অনলাইনে আবেদন করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি। পাশাপাশি চাকরি খোঁজা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণাও তুলে ধরার কথা রয়েছে। নতুন অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবনে অগ্রসর হতে আগ্রহীদের জন্য এ আয়োজন বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি থেকে শুরু করে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের কাজে আসতে পারে। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অভিবাসনসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা নিয়ে আলোচনা রাখার কথা রয়েছে। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য অভিবাসন আইন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটির অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা অভিবাসীদের সম্মাননা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই চাকরি, আবাসন সহায়তা কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো আইনি সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হবে, এমন নয়। ব্যক্তিগত অভিবাসন সমস্যার ক্ষেত্রে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি। আয়োজনে অংশ নেওয়ার আগে সময়সূচি, নিবন্ধন ও প্রবেশসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আয়োজকদের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের লড়াইয়ে নামছে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটি
দাম বাড়ায় স্ট্রিমিং থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন মার্কিনরা, খরচ কমাতে বাতিল হচ্ছে একের পর এক সাবস্ক্রিপশন
ভার্জিনিয়ায় ৩ শিশুকে হন্টেড বাড়িতে আটকে বছরের পর বছর নির্যাতন, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা
নিউইয়র্কের কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে হ্যালোইন উপলক্ষে শিশু ও পরিবারের জন্য একাধিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার, ২৮ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বিকেল থেকে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের বিনোদন, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এসব আয়োজন হতে পারে অবসর কাটানো ও কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ। লং আইল্যান্ড সিটির ১০-১৫, ৪৬তম রোডে রিনিউ কুইন্স ও ওয়েলস্প্রিং চার্চের উদ্যোগে ‘ফল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। এতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলা, মুখে রং করা, সৃজনশীল কাজ, পুরস্কার এবং নাশতার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের হ্যালোইনের পোশাক পরে আসতেও উৎসাহিত করা হয়েছে। আয়োজকেরা অনুষ্ঠানটিকে শুধু শিশুদের বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং একই এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে পরিচিতি ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। কর্মসূচির দুটি নির্ধারিত পর্ব ছিল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট। উভয় পর্বেই খেলা, মুখে রং করা, সৃজনশীল কার্যক্রম ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছিল। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব অংশগ্রহণকারীর তথ্য দিতে বলা হয়েছিল। একই দিনে লং আইল্যান্ড সিটির লা গার্ডিয়া কমিউনিটি কলেজ এলাকায় ‘হ্যালোইন অ্যান্ড দিয়া দে লস মুয়ের্তোস সেলিব্রেশন’ নামে আরেকটি পারিবারিক আয়োজনের ঘোষণাও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। আয়োজনে শিশুদের মিষ্টি সংগ্রহ, মুখে রং করা, খেলাধুলা, পুরস্কার, সংগীত, বিনোদন, কুমড়ার সাজসজ্জা এবং পোশাক প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পীদের সরাসরি কুমড়ায় নকশা তৈরির প্রদর্শনীও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘দিয়া দে লস মুয়ের্তোস’ মেক্সিকোর একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করা হয়। হ্যালোইনের সঙ্গে এই আয়োজন যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও পান। বহুসাংস্কৃতিক নিউইয়র্কে এ ধরনের অনুষ্ঠান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য শিশুদের নিরাপদ বিনোদন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলো স্থানীয় কমিউনিটির কার্যক্রমে অংশ নিলে আশপাশের সেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার সুযোগ পেতে পারে। তবে শিশুদের নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আয়োজকের নির্দেশনা, প্রবেশের শর্ত এবং অভিভাবকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। উৎসবগুলোর সময়সূচি ২৮ অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত ছিল। তাই প্রকাশের সময় পাঠকদের জানানো জরুরি যে এগুলো পূর্বঘোষিত কর্মসূচি; অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকলে আয়োজকদের কাছ থেকে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও ফলাফল নিশ্চিত না করে সেগুলোকে সম্পন্ন ঘটনার বিবরণ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়। একইভাবে, কোনো অনুষ্ঠান বিনা মূল্যে ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে বিনা মূল্যে অংশগ্রহণের দাবি করাও ঠিক হবে না। নিউইয়র্কের স্থানীয় কমিউনিটি অনুষ্ঠানগুলো শুধু উৎসবের আনন্দই নয়, বরং পরিবারগুলোর মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলারও একটি মাধ্যম। শিশুদের আনন্দ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশীদের অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন স্থানীয় জীবনযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কম বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই থাকছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়
অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত মার্কিন নাগরিককের তথ্য গোপন করছে বিচার বিভাগ, বাবা মায়ের ক্ষোভ