সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আসছে পরিবর্তন, অগ্রাধিকার পাবেন মার্কিন কর্মীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৯:৫
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আসছে পরিবর্তন, অগ্রাধিকার পাবেন মার্কিন কর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আসছে পরিবর্তন, অগ্রাধিকার পাবেন মার্কিন কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পেশাদারদের জন্য গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের নিয়মে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপের চিন্তাভাবনা চলছে। নতুন এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় অর্থাৎ মার্কিন কর্মীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করা।

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব লেবার (ডিওএল) বা শ্রম দপ্তরের প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের একটি খসড়া পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে মার্কিন অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি)। এর ফলে প্রস্তাবটি এখন ফেডারেল রেজিস্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের জন্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

 

নতুন এই প্রস্তাবনায় মূলত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মানদণ্ড বা রিক্রুটমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা। পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কর্মীদের অধিকার রক্ষায় আরও শক্তিশালী সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।



এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী নীতিগুলো যেন নিয়োগকর্তারা কঠোরভাবে মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের পর থেকে পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা 'পার্ম' (PERM) প্রোগ্রামের নিয়মে কোনো বড় ধরনের আপডেট না আসায়, এই নতুন উদ্যোগটি এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তবে প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়মের বিস্তারিত ধারা ও শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রেজিস্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পরই এগুলোর পূর্ণাঙ্গ রূপ জানা যাবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নতুন এই নিয়ম চূড়ান্ত ও কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে বর্তমান 'পার্ম' (PERM) নিয়মগুলোই বহাল থাকবে।

 

তবুও এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি পেশাদার কর্মী এবং তাদের স্পনসর করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অচিরেই বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
১৩ হাজার ডলারের কম দামে কেনা পুরোনো টেসলা মডেল এস এক চার্জে চলেছে ২২১ মাইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৩ হাজার ডলারের পুরোনো টেসলাও এক চার্জে চলে ২২১ মাইল, অবাক নতুন মালিক!

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আলোচনায় এসেছে ১৩ হাজার ডলারেরও কম দামে কেনা একটি পুরোনো টেসলা মডেল এস। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চালানোর পরও গাড়িটি একবার চার্জে ২২১ মাইল চলতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি গাড়ি বিষয়ক গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান এডমন্ডসের পরিচালিত এক পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। নতুন অবস্থায় প্রায় ৭০ হাজার ডলার বা তার বেশি দামের এই বিলাসবহুল গাড়ি এখন মূল দামের তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন পারফরম্যান্স পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   এডমন্ডস জানিয়েছে, তারা ১৩ হাজার ডলারের কম দামে গাড়িটি কেনার পর নিজেদের প্রচলিত ইভি রেঞ্জ টেস্টের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করে। পরীক্ষায় বাস্তব পরিস্থিতিতে এক চার্জে গাড়িটি ২২১ মাইল চলেছে। গাড়ি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইডইভিএস এই ফলাফলকে গাড়িটির ক্রয়মূল্য বিবেচনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চলার পরও গাড়িটি যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছে, তা পুরোনো টেসলা কেনার সম্ভাব্যতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   গাড়িটির সুনির্দিষ্ট ট্রিম বা সংস্করণ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এর চলার দূরত্ব ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি টেসলা মডেল এস ৮৫ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংস্করণের নতুন অবস্থায় ঘোষিত রেঞ্জ ছিল প্রায় ২৬৫ মাইল। সেই হিসাবে পরীক্ষায় পাওয়া ২২১ মাইল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তবে এটি গাড়িটির ব্যাটারির অবশিষ্ট সক্ষমতার চূড়ান্ত পরিমাপ নয়, বরং নির্দিষ্ট পরীক্ষায় পাওয়া বাস্তব রেঞ্জ।   শুধু ব্যাটারির পারফরম্যান্স নয়, গাড়িটির গতিও পরীক্ষকদের নজর কেড়েছে। পুরোনো ও একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন টায়ার ব্যবহার করা সত্ত্বেও গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫ সেকেন্ড। এক-চতুর্থাংশ মাইলের দৌড় শেষ করতেও সময় লেগেছে ১৩ দশমিক ৩ সেকেন্ড। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন গতিশীলতা এর মোটর ও ড্রাইভিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছে।   এডমন্ডসের পরীক্ষায় গাড়িটির ভেতরের পরিবেশও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। পরীক্ষকদের মতে, গাড়িটি এখনো বেশ নীরব, আরামদায়ক এবং রাস্তায় স্থিতিশীল। পুরোনো হলেও এর বিলাসবহুল অনুভূতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে সবকিছুই যে ভালো অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। গাড়িটির পেছনের মোটর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে, চালকের সামনের ডিসপ্লেতে ক্ষতি রয়েছে এবং পাওয়ার টেইলগেটের কার্যক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এসব অংশে মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে।   গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর কোনো ওয়ারেন্টি নেই। ফলে ব্যাটারি, মোটর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের পুরো খরচ নতুন মালিককেই বহন করতে হবে। কম দামে বিলাসবহুল টেসলা কেনার সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নতুন মালিকের জন্য বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২১:৫৮
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী মূল্যে বড় বাড়ির খোঁজে ম্যানহাটন ছেড়ে কুইন্সে পাড়ি জমাচ্ছেন বেশিরভাগ ক্রেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স

২০২৪ সালের নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশি প্রবাসী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

ডোরড্যাশের ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষতির শঙ্কায় ডোরড্যাশের নতুন চুক্তির বিরোধিতা করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি

আইসিইর আটক অভিযান
ক্যালিফোর্নিয়ায় চেহারা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইসিইর আটক অভিযান নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শুধু চেহারা, জাতিগত পরিচয় কিংবা শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে দেখেই কাউকে থামানো বা আটক করার বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক আদেশে বিচারক জানিয়েছেন, শুধু লাতিনো বংশোদ্ভূত মনে হওয়া কিংবা শ্রমজীবী মানুষের মতো দেখতে হওয়ার ভিত্তিতে কাউকে ইমিগ্রেশন তদন্তের জন্য থামানো যাবে না। এ ধরনের পদক্ষেপের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের যুক্তিসংগত ও ব্যক্তিনির্দিষ্ট সন্দেহ থাকতে হবে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইসহ ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক মামে ইউসি-মেনসা ফ্রিমপং নতুন এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তিনি জানান, আদালতে উপস্থাপিত বিপুলসংখ্যক প্রমাণ থেকে এমন ধারণার ভিত্তি পাওয়া গেছে যে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর একটি অলিখিত নীতি কার্যকর ছিল। বিচারক তাঁর আদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরার ফুটেজ, অভ্যন্তরীণ বার্তা এবং অভিযানের বিভিন্ন নথির কথা উল্লেখ করেন। তবে এই আদেশ মামলার চূড়ান্ত রায় নয়।   আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু লাতিনো হিসেবে চিহ্নিত হওয়া কিংবা শ্রমজীবী মানুষের মতো পোশাক বা চেহারা থাকার কারণে কোনো ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন তদন্তের জন্য থামানো যাবে না। কাউকে সাময়িকভাবে আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তি থাকতে হবে। তবে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের মতো অনুমোদিত প্রবেশপথ, সীমান্ত চেকপয়েন্ট এবং সীমান্তের সমতুল্য নির্দিষ্ট স্থানে পরিচালিত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এই আদেশের কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।   এই নিষেধাজ্ঞা ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে প্রযোজ্য। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ, রিভারসাইড, সান বার্নার্ডিনো, ভেনচুরা, সান্তা বারবারা এবং সান লুইস ওবিসপো কাউন্টি অন্তর্ভুক্ত। ফলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর সব অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে আদালত ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করার ক্ষমতাও বাতিল করেননি। প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি থাকলে কর্মকর্তারা তদন্ত ও আটক কার্যক্রম চালাতে পারবেন।   মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের পর। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া শাখা, পাবলিক কাউন্সেল এবং কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন। বিশেষ করে হোম ডিপো, গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার স্থানগুলোতে লাতিনো বংশোদ্ভূত মানুষদের লক্ষ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন মামলাকারীরা।   আদালতে জমা দেওয়া নতুন প্রমাণের মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরার ভিডিও এবং নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করা টেক্সট মেসেজ। এসব নথিতে কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাতিনো অভিবাসীদের সম্পর্কে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়। মামলাকারীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, অনেক অভিযানে নির্দিষ্ট সন্দেহভাজনকে ধরার পরিবর্তে এলাকায় উপস্থিত মানুষদের নির্বিচারে থামানো হয়েছে। এমনকি কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও এসব অভিযানে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন বলে আদালতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।   বিচারক ফ্রিমপং তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের আইন মেনে চলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানানো হলেও বাস্তব অভিযানের নথিতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। আদালতের মতে, মামলাকারীরা এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যার ভিত্তিতে জাতিগত পরিচয়কে প্রধান বিবেচনা করে মানুষকে থামানোর নীতি কার্যকর থাকার অভিযোগ তাঁরা প্রমাণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বেআইনি জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের নীতি গ্রহণ করেছিল, এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি।   মামলার নথিতে কয়েকটি ঘটনার বিবরণও রয়েছে। একটি গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মার্কিন নাগরিককে কর্মকর্তারা তাঁর পাসপোর্ট দেখানোর সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় লাতিনো শ্রমিক ও গ্রাহকদের থামানো হলেও একই স্থানে থাকা শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন মামলাকারীরা। এসব ঘটনা ইমিগ্রেশন অভিযানে জাতিগত বৈষম্য হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।   অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সংস্থাটির অবস্থান হলো, কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী অভিবাসন বিধি কার্যকর করছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছেন। মামলার শুনানিতে বিচার বিভাগের আইনজীবীরাও যুক্তি দেন, নতুনভাবে উপস্থাপিত তথ্য আগের পরিস্থিতির তুলনায় মৌলিক পরিবর্তন দেখায় না। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।   এই মামলায় এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছিল। ২০২৫ সালে বিচারক ফ্রিমপং জাতিগত পরিচয়, ভাষা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্রের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর বিরুদ্ধে সাময়িক নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের ওই সিদ্ধান্তে বিস্তারিত সংখ্যাগরিষ্ঠ যুক্তি প্রকাশ করা হয়নি। সর্বশেষ আদেশে বিচারক জানিয়েছেন, নতুন প্রমাণ ও আইনি যুক্তির কারণে বর্তমান আবেদনটি আগেরটির তুলনায় ভিন্ন।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বুধবারই নাইনথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়। ফলে উচ্চ আদালত পরবর্তী সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবেন, পরিবর্তন করবেন কিংবা স্থগিত করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত আদালতের নির্দেশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি সীমা নির্ধারণ করেছে।   অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এসিএলইউ অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসী অধিকারবিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ তাজসার বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মামলাকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ফেডারেল কর্মকর্তারা আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শুধু চেহারা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন তদন্তের জন্য থামানোর বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কাউকে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না, ডিপোর্টেশন মামলা বাতিল করে না কিংবা আইনসম্মত সব ধরনের আটক নিষিদ্ধ করে না। কোনো ব্যক্তি আইসিইর মুখোমুখি হলে তাঁর নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনি অধিকার সম্পর্কে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইমিগ্রেশন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন ফেডারেল বিচারক। আদালতের পর্যবেক্ষণে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর অভিযোগের পক্ষে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি এবং ট্রাম্প প্রশাসন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফলে আগামী দিনে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ; ট্রিবিউন কনটেন্ট এজেন্সি

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৯:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়, মুক্তির সুযোগে অনিশ্চয়তা

ছবি: মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতা কাজল

বোরখা পরিহিত নারী

ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

বয়স্ক সদস্য
বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী সদস্যের দেখাশোনা করতে গিয়ে ক্রমেই বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন স্বজনেরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যত্ন নিতে একজন সেবাদানকারীকে বছরে গড়ে নিজের পকেট থেকে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। ২০২১ সালে এই ব্যয় ছিল ৭ হাজার ২৪২ ডলার। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে পরিচর্যার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেককে চাকরির সময়সূচি পরিবর্তন, সঞ্চয় কমানো কিংবা ঋণ নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এএআরপি বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য জানিয়েছে। ২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে ২ হাজার ৫৩৮ জন পারিবারিক সেবাদানকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, পরিচর্যার ব্যয় একজন সেবাদানকারীর পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৩১ শতাংশের সমান। ফলে নিজেদের সংসারের খরচের পাশাপাশি অন্যের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পরিবারের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হচ্ছে।   এএআরপির হিসাব অনুযায়ী, বছরে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচের অর্থ মাসে গড়ে প্রায় ৯৫৯ ডলার। এই অর্থ শুধু চিকিৎসার জন্য ব্যয় হচ্ছে না। খাবার, বাসস্থান, ওষুধ, যাতায়াত, চিকিৎসাসামগ্রী এবং বাড়িতে পরিচর্যার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খরচ এর অন্তর্ভুক্ত। অনেক পরিবারকে বয়স্ক সদস্যের চলাচলের সুবিধার্থে বাড়িতে পরিবর্তন আনতে হয়। আবার কর্মজীবী সেবাদানকারীদের কেউ কেউ কাজের সময় পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার জন্য অন্য ব্যক্তির সহায়তা নেন।   গবেষণায় দেখা গেছে, পরিচর্যাসংক্রান্ত ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে বাসস্থান ও গৃহস্থালির প্রয়োজনে। এই খাতে বছরে গড়ে ৪ হাজার ৭৯৭ ডলার খরচ হচ্ছে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪২ শতাংশ। চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় বছরে গড়ে ৩ হাজার ৩১৩ ডলার, যা মোট খরচের প্রায় ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ বাসস্থান ও চিকিৎসা মিলিয়ে একজন সেবাদানকারীর মোট ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ চলে যাচ্ছে।   চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ের মধ্যেও একাধিক খাত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, কো-পে, কো-ইনস্যুরেন্স এবং সরাসরি চিকিৎসাসেবার মূল্য পরিশোধে চিকিৎসা খরচের ৩৭ শতাংশের বেশি ব্যয় হচ্ছে। এর বাইরে প্রেসক্রিপশন ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার খরচও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিমা থাকলেও সব ধরনের সেবার ব্যয় পুরোপুরি বহন করা হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের পকেট থেকে অর্থ দিতে হচ্ছে।   কম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ আরও বেশি। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার ডলারের কম, তাদের পরিচর্যার জন্য বছরে গড়ে ১১ হাজার ৪৪৮ ডলার খরচ হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, এই ব্যয় সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৭৬ শতাংশের সমান। তবে ৭৬ শতাংশ একটি জরিপভিত্তিক গড় অনুপাত, সব পরিবারের আয়ের একই অংশ ব্যয় হচ্ছে এমন নয়। এর ফলে বাড়িভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ বিল ও নিজেদের চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় খরচ চালানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   অন্যদিকে আলঝেইমার কিংবা অন্য ধরনের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেখাশোনার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এ ধরনের রোগীর পরিচর্যায় বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৬ ডলার খরচ করছেন সেবাদানকারীরা। ডিমেনশিয়া নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ১০ হাজার ২২১ ডলার। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন কাজে সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এসব কারণে পরিচর্যার খরচও বেড়ে যেতে পারে।   শুধু অর্থনৈতিক ব্যয় নয়, পরিবারের সদস্যের দেখাশোনার দায়িত্ব কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মজীবী সেবাদানকারীদের ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিচর্যার কারণে তাঁদের চাকরি বা কাজের সময়সূচিতে অন্তত একবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কেউ কাজের সময় কমিয়েছেন, কেউ ছুটি নিয়েছেন, আবার কেউ পরিচর্যার খরচ মেটাতে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। এসব পরিবর্তন পরিবারের বর্তমান আয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলছে।   এএআরপির গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাঁরা পরিচর্যার দায়িত্ব পালনের জন্য পরিকল্পনার আগেই অবসরে গেছেন, তাঁদের বছরে গড়ে ১৮ হাজার ৯৪০ ডলার খরচ হচ্ছে। এটি জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। আগেভাগে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিয়মিত আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।   গবেষণায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ব্যয়ের মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া গেছে। এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় বংশোদ্ভূত সেবাদানকারীদের বছরে গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৭১৬ ডলার, যা জরিপে অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ সেবাদানকারীরা নিজেদের পরিবারের বার্ষিক আয়ের গড়ে ৫২ শতাংশ পরিচর্যার পেছনে ব্যয় করছেন। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য পৃথক গড় খরচ নির্ধারণ করা যায় না।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে পরিবারের সদস্য বা পরিচিত ব্যক্তির নিয়মিত যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন বলে এএআরপি জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিনা বেতনে এই দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেওয়া, খাবার তৈরি এবং দৈনন্দিন চলাফেরায় সহায়তার মতো কাজ তাঁদের নিয়মিত করতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলো প্রিয়জনের পাশে থাকতে পারলেও সেবাদানকারীদের ওপর আর্থিক ও সময়ের চাপ তৈরি হচ্ছে।   এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেবরা হুইটম্যান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যায় বছরে সাড়ে ১১ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় অনেক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তাঁর মতে, এই পরিমাণ অর্থ গড় সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট সুবিধার প্রায় অর্ধবছরের সমান। অন্যদিকে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যান্সি লিয়ামন্ড বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা হারানো উচিত নয়।   এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিচর্যাকারীদের জন্য ট্যাক্স ক্রেডিট, সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়িতে সেবা, সাময়িক বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা এবং চাকরির সুরক্ষাসহ বেতনযুক্ত পারিবারিক ছুটির সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে এএআরপি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যার জন্য অর্থ দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব সব অঙ্গরাজ্যে কার্যকর কোনো নতুন সরকারি সুবিধার ঘোষণা নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ স্বজন বা প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যের দেখাশোনা করছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের পাশাপাশি চাকরির সময় সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে মেডিকেইডের হোম অ্যান্ড কমিউনিটি-বেইজড সার্ভিসেস, স্থানীয় প্রবীণসেবা সংস্থা এবং কর্মক্ষেত্রের ছুটিসংক্রান্ত সুবিধা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে এসব সুবিধার যোগ্যতা ও প্রাপ্যতা এক নয়।   এএআরপির সর্বশেষ গবেষণা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের যত্ন নেওয়া এখন অনেক মানুষের জন্য বড় আর্থিক দায়িত্ব। পাঁচ বছরে খরচ প্রায় ৫৯ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি কর্মজীবন, সঞ্চয় এবং অবসর পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বেশি। ফলে পরিচর্যাকারীদের আর্থিক সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৬:৫৬
টেসলার মানবসদৃশ রোবট

ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ, চাকরি না থাকলেও রয়েছে একাধিক পথ

হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা

স্মৃতি হারালেও হারায়নি সুরের টান, হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা

0 Comments