ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতা চলাকালে সরকারি সভায় বোরখা পরে আজানের অডিও চালিয়েছেন এক নারী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিনেলাস কাউন্টি কমিশনের সভায় বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে তিনি মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে আজানের রেকর্ডিং চালু করেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে মৌন প্রতিবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় এক মিনিট আজান চলার পর সভার চেয়ারম্যান রেকর্ডিং বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশ না মানায় পুলিশ তাঁকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে পিনেলাস কাউন্টি বোর্ড অব কাউন্টি কমিশনার্সের সভায়। ওই দিন স্থানীয় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন নিয়ে বাসিন্দারা নিজেদের মতামত জানাচ্ছিলেন। কেউ সম্প্রসারণের পক্ষে, আবার কেউ এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। এ সময় বোরখা পরা ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। কিন্তু কোনো কথা না বলে তিনি একটি ডিভাইস থেকে আজানের অডিও চালু করেন।
আজানের রেকর্ডিং শুরু হলে সভাকক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিদের দৃষ্টি তাঁর দিকে যায়। তিনি কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে অডিও চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রায় এক মিনিট পর কমিশনের চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন। চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউন্টি কমিশনের সভায় জনসাধারণের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগে থেকে ধারণ করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। নারীটি নির্দেশ না মানায় শেরিফ কার্যালয়ের একজন ডেপুটি তাঁর কাছে এগিয়ে যান।
এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে ভবনের বাইরে নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। কেউ কেউ চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেভ এগার্স সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
পরে চেয়ারম্যান ব্যাখ্যা করেন, ওই নারীকে তাঁর পোশাক বা আজানের ধর্মীয় বিষয়বস্তুর কারণে বের করে দেওয়া হয়নি। বরং সভার নিয়ম অনুযায়ী রেকর্ডিং চালানোর অনুমতি না থাকায় তাঁকে তা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা চাইলে কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন, কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড করা অডিও বাজাতে পারেন না। নির্দেশ না মানার কারণেই ওই নারীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ঘটনাটি যে পরিবেশে ঘটেছে, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম কমিউনিটির অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছিল। স্থানীয় মাসজিদ আল রহমান নামের একটি মসজিদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে পিনেলাস কাউন্টিতে মতবিরোধ রয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি কমিশন চার-তিন ভোটে মসজিদটির জমির ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক হাজার বর্গফুট বড় একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতাকারীদের একাংশ স্থানীয় যান চলাচল, ভবনের আকার এবং আশপাশের এলাকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কয়েকজন বক্তা ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিমদের উপাসনালয় সম্প্রসারণ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একজন নারী দাবি করেন, মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন দিলে এলাকায় ইসলামের প্রভাব বাড়বে এবং তা নারীদের অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত, যা মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।
অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপাসনালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাঁদের মতে, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে আরও উপযোগী করতে এবং মক্কার দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চায়। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করেও মসজিদের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের উল্লেখযোগ্য সমস্যা হয়নি। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
মসজিদটির সম্প্রসারণসংক্রান্ত সরকারি নথিতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাউন্টি কমিশনার ভিন্স নাউইকি জানতে চান, প্রকল্পটিকে সরাসরি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ না করে কেন ‘কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নথিতে প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন। কাউন্টির পরিকল্পনাবিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় জোনিং বিধিমালায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও জনসমাবেশের স্থাপনার জন্য বিস্তৃত শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করা হয়।
এদিকে আজানের অডিও চালানো নারীর পরিচয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজে মুসলিম কি না, মসজিদ সম্প্রসারণের সমর্থক নাকি বিরোধী, অথবা তাঁর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে প্রতিবাদ কিংবা মসজিদের বিরোধিতায় পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
তবে সরকারি সভার মতো একটি আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বক্তব্যের পরিবর্তে আজানের অডিও চালানোর ঘটনাটি উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সভার নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন। কিন্তু ওই নারীর নিজের ব্যাখ্যা ছাড়া তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করার পর আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হবে না। ফলে আজানের অডিও চালানোর কারণে তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন কিংবা কোনো আইনি শাস্তি পেয়েছেন, এমন দাবি সঠিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণ এবং সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে। তবে এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বা বক্তব্যের বিষয়বস্তুর কারণে বৈষম্য করা যাবে না।
সব মিলিয়ে ফ্লোরিডার সরকারি সভায় বোরখা পরা নারীর আজানের অডিও চালানোর ঘটনা মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সভার চেয়ারম্যান নিয়ম ভঙ্গের কথা বলে তাঁকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনো মামলা হয়নি। অন্যদিকে মাসজিদ আল রহমানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে একটি পরিত্যক্ত কারাগার কেনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 'কেএআরই ১১'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অ্যাপলটন শহরের ওই পরিত্যক্ত কারাগারটি একসময় মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ডলারে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান 'কোরসিভিক' (CoreCivic, Inc.)। কিন্তু মাত্র এক বছর পরই ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) জন্য সেই একই পরিত্যক্ত কারাগারটি রেকর্ড ৪৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচের ঘটনায় খোদ মিনেসোটার কারা কমিশনার পল স্খনেল বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন যে এটি একেবারেই "অবিশ্বাস্য ও ব্যাখ্যাতীত" একটি ঘটনা। প্রায় ১৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা এই কারাগারটি মিনেসোটার ইতিহাসের সবচেয়ে দামি সম্পত্তি কেনাবেচা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত বছর মে মাসে কোরসিভিক কর্র্তৃপক্ষ এটি মিনেসোটা সরকারের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। অথচ, ট্রাম্প প্রশাসন সেটিই কয়েকগুণ বেশি দামে কিনেছে। কোরসিভিক নামের এই কোম্পানিটি মূলত অভিবাসী আটকের কেন্দ্র হিসেবে এসব পরিত্যক্ত কারাগার ব্যবহার করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছে। মজার বিষয় হলো, কোম্পানিটি ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলে প্রায় ৫ লাখ ডলার অনুদানও দিয়েছিল। তবে কোরসিভিক এই অস্বাভাবিক মূল্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা কেবল এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের মাধ্যমে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্দলীয় সংস্থা 'গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস' (GAO) আইসিই-এর এমন অস্বাভাবিক কেনাকাটাকে করদাতাদের অর্থের বড় ধরনের অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বেটি ম্যাককলাম এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে সাধারণ করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় যৌ ন অসদাচরণের অভিযোগে হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি অনুদান না দেওয়ার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের ট্র্যান্সজেন্ডার জামাতা জোনাথান ম্যাককিনসিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক বৃদ্ধা তার জামিন আবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন। ৭৭ বছর বয়সী শিলি চেন নামের ওই নারী তার মুক্তির জন্য এই হত্যাকাণ্ডের পুরো দায়ভার তার স্বামী এবং সহ-অভিযুক্ত শাউইয়ং ঝাংয়ের ওপর চাপিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মকর্তা ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। চেনের আইনজীবী কার্টিস ব্রিগস আদালতে দাবি করেছেন, ম্যাককিনসিকে প্রথম গুলিটি চেন করেননি, বরং তার স্বামী ঝাং-ই এই মারাত্মক গুলি চালান। আইনজীবীর ভাষ্যমতে, চেন শুধু দেখেছিলেন যে তার স্বামী ম্যাককিনসিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছেন। এরপর স্বামী হামলার শিকার হতে পারেন ভেবে গাড়ি থেকে নেমে চেন ম্যাককিনসির নিথর শরীরে আরও কয়েকটি গুলি চালান। আইনজীবী জানান, চেন তার স্বামীর নির্দেশেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তারা শুটিং রেঞ্জে যাওয়ার জন্য বন্দুক সাথে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে, ঝাংয়ের মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল ম্যাককিনসি তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন, যাতে তিনি 'পূর্ণ স্বাধীনতা' পেতে পারেন। এমনকি ঝাংয়ের ধারণা ছিল, এর আগে সাইকেল চালানোর সময় দুবার তার ওপর যে গাড়ির ধাক্কা লেগেছিল, তার পেছনেও ম্যাককিনসির হাত ছিল। তদন্তে দম্পতির অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাঞ্চল্যকর সব আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে ম্যাককিনসির এমন কিছু ছবি পাওয়া যায়, যেগুলোর মুখ কেটে ফেলা হয়েছিল এবং বুকে ও ডান চোখে কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা ছিল, যা পরে তার শরীরে হওয়া গুলির ক্ষতের সাথে মিলে যায়। চেনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ঝাং ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। চেন বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন উল্লেখ করে তার আইনজীবী বলেন, সান্তা রিটা কারাগারে রাখা হলে তা এই বৃদ্ধার জন্য 'মৃত্যুদণ্ড' হতে পারে। আগামী ৪ নভেম্বর তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, আগেই পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ময়লার ব্যাগে মিলল অজ্ঞাত ব্যক্তির ম রদেহ, তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ‘সত্য’, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম আমেরিকানদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেসনাল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ডজনখানেক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী এবার ব্যালটে লড়াই করছেন। প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভির (এমএনটিভি) তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫১ জন মুসলিম আমেরিকান ব্যালটে রয়েছেন, যার মধ্যে ১১ জন লড়ছেন কংগ্রেসের জন্য। মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে লড়ছেন আবদুল এল-সায়েদ; তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পদে মুসলিম প্রার্থীদের প্রথম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদের মধ্যে নিউজার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে অ্যাডাম হামাউই, নিউইয়র্কের স্টেট লেজিসলেচারে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে আবীর কাওয়াস এবং টেক্সাস তথা আমেরিকান সাউথের প্রথম মুসলিম কাউন্টি এক্সিকিউটিভ হিসেবে লেটিশিয়া প্লামার নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এর বাইরেও মুসলিম কমিউনিটিতে পরিচিত নামের আরও প্রায় ৫০ জন প্রার্থীর কথা জানা গেছে, তবে তাদের অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ২২৫ জন মুসলিম আমেরিকান নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটি গত আগস্টে 'মুসলিমস.ভোট' (Muslims.Vote) নামে একটি নির্দলীয় প্রচারণা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এবারের নির্বাচনী চক্রে ২০ লাখ নতুন মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। তারা ধারণা করছে, ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২৫ লাখ নিবন্ধিত মুসলিম ভোটার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। উল্লেখ্য, মিশিগানের আগস্ট প্রাইমারির আগে কেয়ার ৪৮ হাজারেরও বেশি মুসলিম ভোটারের কাছে 'রোবোকল' প্রচারণার মাধ্যমে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। মাঠপর্যায়ের সংগঠকদের মতে, ভোটারদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলোতে নানা ভিন্নতা রয়েছে। চলতি মাসে ওহাইওর কলম্বাসে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা গাজা যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি এবং বাকস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোকে তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও উঠে এসেছে; যার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি, যাতায়াত সমস্যা, আইডি সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমার বিষয়টি অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি নেতাদের সম্মেলন
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন উদ্যোগ, দুই সন্তানের মা গড়ে তুললেন হালাল সারকিউটারি ব্যবসা