সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১২:২১
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের সাজা কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। টেনেসির গভর্নর বিল লি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক ব্যর্থ চেষ্টার পর পাইক বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

 

বুধবার এক প্রশ্নের জবাবে রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি জানান, পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনে নামিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, “আদালত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে ক্রিস্টা পাইকের আগের সাজাই বহাল থাকবে বলে আমি মনে করি।” তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঠিক কী ভুল হয়েছিল, তা বের করতে তদন্ত চলছে। আর এ কারণে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন গভর্নর।

 

১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে ডাবল ডোজ প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি বিস্ময়করভাবে বেঁচে যান। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্যমতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পর কোনো আসামির বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

 

কার্যকরের সময় শেষ কথা জানতে চাইলে পাইক জানিয়েছিলেন তিনি শান্তিতে আছেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তিনি হাতে ব্যথার কথা জানান এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তখন দ্রুত কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

ব্যর্থ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর জ্ঞান ফিরলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে কোনো স্মৃতিই ছিল না পাইকের; বরং নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত ছিলেন। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত ১০ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে নাশভিলের ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

 

আইনজীবীরা আরও জানান, তিনি কারগারেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন। এদিকে, এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কর্মীরা পাইকের সাজা কমিয়ে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন করার এবং দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বাতিলের জোর দাবি তুলেছেন। তুমুল বিতর্কের মুখে টেনেসির কারাসংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডাও ইতোমধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা
নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শীতের মৌসুমে বাড়ির তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধে আর্থিক সহায়তার নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে ২ নভেম্বর। অঙ্গরাজ্যের হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বয়স্ক নাগরিক এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বাসিন্দারা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।   অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ১৬ অক্টোবর কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত শীত মৌসুমে নিউইয়র্কে ১৫ লাখের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও প্রায় একই সংখ্যক সুবিধাভোগীকে সহায়তা দেওয়ার প্রত্যাশা করছে অঙ্গরাজ্য সরকার।   ২০২৬–২০২৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব পরিবার তেল, কেরোসিন বা প্রোপেনের মতো বাড়িতে সরবরাহ করা জ্বালানি দিয়ে ঘর গরম করে, তারা যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। কাঠ, কাঠের গুঁড়ি থেকে তৈরি জ্বালানি বা কয়লা ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তার পরিমাণ ৭০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   তবে এই অর্থ সবাই পাবেন না। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা, ঘর গরম করার প্রধান ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ৯৯০ ও ৭০০ ডলার সর্বোচ্চ সীমা—নিশ্চিত অর্থপ্রদানের পরিমাণ নয়।   প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ২৩০ ডলার মোট আয় করলেও নির্ধারিত আয়ভিত্তিক যোগ্যতার মধ্যে পড়তে পারে। মাসিক হিসাবে এই অঙ্ক প্রায় ৬ হাজার ৮৫২ ডলার।   তবে আয়সীমার মধ্যে থাকলেই সহায়তা নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যদের অবস্থা, জ্বালানির ধরন এবং কর্মসূচির অন্যান্য নিয়মও বিবেচনা করা হবে। আবেদনকারীর পরিবারের কেউ ছয় বছরের কম বয়সী শিশু, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি কিংবা স্থায়ী প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন হলে কিছু ক্ষেত্রে তা যোগ্যতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   যাঁরা ইতিমধ্যে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপ, অথবা নির্দিষ্ট সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তাঁদের একটি অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিপের সুবিধা পেতে পারেন। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপ বা সরকারি সহায়তা পাওয়া ১১ লাখের বেশি নিউইয়র্কবাসীর জন্য স্বয়ংক্রিয় সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।   তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সরকারি নথির ওপর নির্ভর করে। তাই সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন। অন্য যোগ্য পরিবারগুলোকে ২ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে হবে।   নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ACCESS HRA ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: https://access.nyc.gov/programs/home-energy-assistance-program-heap/   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা সরকারি হিপ ওয়েবসাইট https://otda.ny.gov/programs/heap/ থেকে নিজেদের এলাকার আবেদনপদ্ধতি ও কার্যালয়ের তথ্য জানতে পারবেন।   আবেদনের সময় পরিচয়, পরিবারের সদস্যদের তথ্য, আয় এবং বাড়ির তাপ সরবরাহসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য বা সাক্ষাৎকার চাইতে পারে। সহায়তার অর্থ সাধারণত জ্বালানি সরবরাহকারী বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়; অর্থপ্রদানের পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।   নিউইয়র্ক শহরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ সালের নিয়মিত হিপ সুবিধার আবেদন ২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৬ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত চলার কথা। তবে তহবিল ও কর্মসূচির নিয়মের কারণে আবেদনের সুযোগে পরিবর্তন হতে পারে। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদন করা ভালো।   যাঁদের বাড়ির হিটিং ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, তাঁদের জন্য মেরামত বা প্রতিস্থাপনের আলাদা কর্মসূচিও রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে চালু হওয়া এই সুবিধায় যোগ্য বাড়ির মালিকেরা হিটিং যন্ত্র মেরামতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার এবং প্রতিস্থাপনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। এই সুবিধার জন্য আলাদা যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৩:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা

প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্টকে অধিগ্রহণের চুক্তি করেছে খাবার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশ। ছবি: সংগৃহীত

১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট কিনছে ডোরড্যাশ, এক ছাতার নিচে আসছে দুই ডেলিভারি জায়ান্ট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের সাজা কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। টেনেসির গভর্নর বিল লি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক ব্যর্থ চেষ্টার পর পাইক বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।   বুধবার এক প্রশ্নের জবাবে রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি জানান, পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনে নামিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, “আদালত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে ক্রিস্টা পাইকের আগের সাজাই বহাল থাকবে বলে আমি মনে করি।” তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঠিক কী ভুল হয়েছিল, তা বের করতে তদন্ত চলছে। আর এ কারণে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন গভর্নর।   ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে ডাবল ডোজ প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি বিস্ময়করভাবে বেঁচে যান। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্যমতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পর কোনো আসামির বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।   কার্যকরের সময় শেষ কথা জানতে চাইলে পাইক জানিয়েছিলেন তিনি শান্তিতে আছেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তিনি হাতে ব্যথার কথা জানান এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তখন দ্রুত কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   ব্যর্থ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর জ্ঞান ফিরলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে কোনো স্মৃতিই ছিল না পাইকের; বরং নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত ছিলেন। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গত ১০ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে নাশভিলের ডেবরা কে. জনসন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।   আইনজীবীরা আরও জানান, তিনি কারগারেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন। এদিকে, এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কর্মীরা পাইকের সাজা কমিয়ে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন করার এবং দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ড প্রথা বাতিলের জোর দাবি তুলেছেন। তুমুল বিতর্কের মুখে টেনেসির কারাসংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডাও ইতোমধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১২:২১
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা

জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার

জর্জিয়ার হাইস্কুলে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার স্কুলে হামলার ছক, ফ্লোর প্ল্যানসহ নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করেছিলেন তিন সন্দেহভাজন

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে একই নামের দুই প্রার্থী, ভোট কাটার অভিযোগে তোলপাড়

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে একই নামের দুই প্রার্থী, ভোট কাটার অভিযোগে তোলপাড়

ওয়ালমার্ট ২০২৬ সালের ছুটির মৌসুম সামনে রেখে মাত্র ৩৫ ডলারে ১০ জনের বিশেষ খাবারের প্যাকেজ এনেছে। ছবি: সংগৃহীত
ওয়ালমার্টে ইতিহাসের সর্বনিম্ন দামে মিলছে ২৬টি আইটেম! জেনে নিন অফারের সময়সীমা

যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ২০২৬ সালের থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ছুটিকে সামনে রেখে বিশেষ খাবারের প্যাকেজ এনেছে। মাত্র ৩৫ ডলারে ১০ জনের জন্য খাবার তৈরির উপকরণ পাওয়া যাবে এই প্যাকেজে। জনপ্রতি খরচ পড়বে ৩ ডলার ৫০ সেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২২ সালে এই কর্মসূচি চালুর পর এবারই সবচেয়ে কম দামে খাবারের প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে।   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ওয়ালমার্ট নতুন এই হলিডে মিল বাস্কেটের ঘোষণা দেয়। এতে মোট ২৬টি আইটেম রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত বছর একই পণ্যগুলো কিনতে যে খরচ হতো, তার তুলনায় এবার প্যাকেজটির দাম ১২ শতাংশ কম রাখা হয়েছে।   কী থাকছে ৩৫ ডলারের প্যাকেজে ওয়ালমার্টের এই প্যাকেজে রয়েছে থ্যাংকসগিভিংয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। এর মধ্যে রয়েছে বাটারবল ব্র্যান্ডের টার্কি, স্টাফিং মিক্স, ক্র্যানবেরি সস, ম্যাশড পটেটো, গ্রেভি এবং ডিনার রোলস।   এ ছাড়া থাকছে গ্রিন বিন ক্যাসেরোল তৈরির জন্য ক্যাম্পবেলের ক্রিম অব মাশরুম স্যুপ, মিষ্টি আলুর ক্যাসেরোল তৈরির উপকরণ, জেট পাফডের মিনি মার্শম্যালো এবং জিফি কর্ন মাফিন মিক্স। প্যাকেজে রয়েছে পাম্পকিন পাই ও তার সঙ্গে পরিবেশনের জন্য হুইপড টপিংয়ের উপকরণও।   টার্কির দাম রাখা হয়েছে প্রতি পাউন্ড ৯৭ সেন্ট। গত বছরও একই দামে টার্কি বিক্রি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্যাকেজের মোট ৩৫ ডলারের হিসাবটি টার্কির আনুমানিক ওজন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ অন্যান্য পণ্যের দামের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।   কত দিন পাওয়া যাবে এই অফার ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দোকান থেকে সরাসরি অথবা অনলাইনে এই প্যাকেজ কেনা যাবে। ক্রেতারা চাইলে দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন কিংবা ডেলিভারির সুবিধা নিতে পারবেন। পণ্যের প্রাপ্যতা ও ডেলিভারির শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।   এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হলিডে মিল বাস্কেটের জন্য বিনা মূল্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারির সুবিধাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সব এলাকায় এই সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা স্থানীয় সেবা ও পণ্যের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   কেন কমানো হলো খাবারের দাম যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং ছুটির মৌসুমের বাড়তি ব্যয় অনেক পরিবারের কেনাকাটার বাজেটে চাপ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কম দামে বেশি পণ্য দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চাইছে ওয়ালমার্ট।   প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের হলিডে ট্রেন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জন জানিয়েছেন, ছুটির মৌসুমের খরচ তাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। আর ৭০ শতাংশ বলেছেন, পণ্যের দাম কম হলে ছুটির কেনাকাটা আরও সহজ হতো।   ওয়ালমার্টের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড গুগিনা জানিয়েছেন, পরিবারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ছুটির সময়কে আনন্দময় করতে এ বছরের প্যাকেজে আরও বেশি খাবার ও সাশ্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই কর্মসূচি চালুর পর থেকে হলিডে মিল বাস্কেটের মাধ্যমে ক্রেতাদের মোট ৩৫ কোটি ডলারের বেশি সাশ্রয় হয়েছে।   তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, ৩৫ ডলারের প্যাকেজটি মূলত খাবার তৈরির উপকরণের জন্য। সব খাবার প্রস্তুত অবস্থায় দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে এই অফারের ব্যতিক্রম রয়েছে। কেনার আগে স্থানীয় ওয়ালমার্ট স্টোরে পণ্যের প্রাপ্যতা ও প্রযোজ্য দাম যাচাই করে নেওয়া ভালো।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:৪৩
সিটি আইল্যান্ড অয়েস্টার রিফ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক

সাত বছরের অপেক্ষার পর সমুদ্রে নতুন আবাস, প্রয়াত আটজনের স্মৃতিতে মানবিক উদ্যোগ

আবেদনপ্রক্রিয়া চালু করেন।

কলিনে কমিউনিটি বোর্ডে যোগ দেওয়ার সুযোগ, ২০২৭ সালের আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

এক রাতেই নিভে গেল ১০ বছরের জিয়নের জীবন, ব্রঙ্কসে আগুনে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে পরিবারের চারজন

0 Comments