যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পেন্টাগন বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা ইস্যুগুলো দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে থাকলেও, এবার সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিতর্কিত আচরণ, বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেটে উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি, ট্রাম্পের নামে যুদ্ধজাহাজের বহর নামানো এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ (War Department) রাখার মতো বেশ কিছু ব্যক্তিগত ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে পেন্টাগন, যা তীব্র প্রতিবাদের মুখে আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করে সামরিক তহবিল আটকে রাখাকে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দাবি, ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সামরিক তহবিল আটকে রেখে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্বক ঝুঁকিতে ফেলছেন। তবে খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক আইনপ্রণেতাও প্রকাশ্যে ও গোপনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের কার্যপ্রণালী নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কংগ্রেসে শুনানিকালে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্যকে 'বেপরোয়া ও পরাস্ত মানসিকতার' বলে আক্রমণ করা এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অপেশাদার আচরণের কারণে হেগসেথ খোদ নিজ দলেও সমর্থন হারাচ্ছেন। এমনকি ইরান যুদ্ধের জেরে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বছরের শেষ ভাগে এসে সামরিক খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো (এনডিএএ এবং বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয়) ঝুলে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রভাণ্ডার বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে পেন্টাগনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের হারলেমে স্মৃতিশক্তির সমস্যায় থাকা মানুষদের জীবনে আনন্দ ও সামাজিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে একটি বিশেষ সংগীতদল। ‘দ্য আনফরগেটেবলস’ নামের এই দলটিতে অংশ নিচ্ছেন স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিজনিত সমস্যায় থাকা মানুষ এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা। ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ সিবিএস নিউইয়র্কের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু গান শেখানো নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ একসঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং নিজেদের একাকিত্ব কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন। স্মৃতিশক্তি কমে গেলে অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে ওঠে। পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া, সাম্প্রতিক ঘটনা মনে রাখতে না পারা কিংবা সাধারণ কথোপকথনে অসুবিধা তৈরি হওয়া তাঁদের সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও পরিচর্যাকারীদের ওপরও বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সংগীত একটি অর্থবহ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। পরিচিত সুর, ছন্দ এবং একসঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। সংগীতচিকিৎসক ডা. কেন্দ্রা রে সিবিএস নিউইয়র্ককে জানান, মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেলেও সংগীতের সঙ্গে পরিচিতি ও আবেগের সংযোগ অনেক সময় দীর্ঘদিন বজায় থাকতে পারে। এই উদ্যোগে পরিচর্যাকারীদের অংশগ্রহণও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা প্রতিদিন প্রিয়জনের দেখাশোনা করেন, তাঁদের জন্যও অন্য পরিবারের মানুষের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়। পরিচর্যার দায়িত্বের বাইরে নিজেদের জন্য কিছু সময় পাওয়া এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকা তাঁদের জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ, অর্থপূর্ণ কার্যক্রম এবং নিয়মিত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে গান গাওয়া স্মৃতিভ্রংশের চিকিৎসা বা নিরাময় নয়; এটি সহায়ক কার্যক্রম হিসেবে উপকার দিতে পারে। হারলেমের এই উদ্যোগের মানবিক বার্তা হলো—স্মৃতিশক্তি দুর্বল হলেও মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক ও একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। কখনো পরিচিত একটি সুর, কখনো অন্য কারও সঙ্গে গলা মেলানো, আবার কখনো একটি হাসি—এসব ছোট মুহূর্তও মানুষের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে।
ব্রুকলিনে এক মুহূর্তেই থেমে গেল ৩০ বছর বয়সী নারীর জীবন, শোকের ছায়া এলাকায়
নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সেনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সাঈদের বাবার বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, তার বাবা ইমাম ড. মোহাম্মদ এল-সাঈদ এমন একটি ইসলামিক চ্যারিটি সংস্থার বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন, যেটির বিরুদ্ধে একসময় ইরাকের প্রয়াত একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ ছিল। কর সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, ড. মোহাম্মদ অন্তত ২০২০ সাল থেকে ‘লাইফ ফর রিলিফ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (এলআরডি) নামের ওই চ্যারিটির বোর্ড সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। ওয়াশিংটন ফ্রি বিকন-এর এক প্রতিবেদনে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নকারী এই চ্যারিটির সাথে সিনিয়র এল-সাঈদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রথম সামনে আনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং এফবিআই বাগদাদে এলআরডি-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২০ বাক্স নথিপত্র ও ১২টি কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছিল। তখন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার সন্দেহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চ্যারিটিটির জনসংযোগ সমন্বয়ক মুথান্না আল-হানুতির বিরুদ্ধে সাদ্দাম সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করেন। মার্কিন সরকারের অভিযোগ ছিল, সংস্থাটি জর্ডান হয়ে ইরাকে সাদ্দামের কাছে আমেরিকার তহবিল পাচারের ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই সময় মার্কিন সরকার জানিয়েছিল, এলআরডি-এর সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি জানত এবং তারাই জর্ডানের মাধ্যমে ইরাকে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। শেষমেশ ২০১৪ সালে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বিশাল জরিমানার বিনিময়ে মার্কিন সরকারের সাথে রফা করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি। সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে অর্থ পাঠানোর ইতিহাস ছাড়াও সংস্থাটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৬ সালে মিশিগান-ভিত্তিক এই চ্যারিটিতে এফবিআই অভিযান চালায় এবং ২০০৭ সালে এর তৎকালীন প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই সময় এফবিআই 'ইসলামিক আফ্রিকান রিলিফ এজেন্সি' সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে, যা পরবর্তীতে আল-কায়েদাকে সমর্থন করার দায়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এল-সাঈদের জন্মদাত্রী মা ফাতেন ফাথি এলকোমিও কিছু সময় ওই আফ্রিকান রিলিফ এজেন্সিতে কাজ করেছিলেন। এছাড়া, এলআরডি এমন একটি সংস্থাকেও অর্থ পাঠিয়েছিল, যেটিকে পরে হামাসের জর্ডান শাখা বলে চিহ্নিত করে এফবিআই। এল-সাঈদের শ্বশুর জুকাকু তায়েবও একসময় এলআরডি-এর বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য পোস্টের পক্ষ থেকে এল-সাঈদের নির্বাচনী প্রচার শিবির এবং এলআরডি-এর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে, রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আবদুল এল-সাঈদ। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে পরিবারের এমন বিতর্কিত অতীত সামনে আসায় তার ভোটব্যাংকে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট কিনছে ডোরড্যাশ, এক ছাতার নিচে আসছে দুই ডেলিভারি জায়ান্ট
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে গুলি চালিয়ে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনরা স্কুলটির ফ্লোর প্ল্যান সংগ্রহ করেছিলেন, হামলার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করেছিলেন এবং অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনাও করেছিলেন। ঘটনাটি আটলান্টার উত্তরে ক্যান্টন শহরের চেরোকি হাইস্কুলকে কেন্দ্র করে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জর্জিয়ার মেটার শহরের ১৭ বছর বয়সী শেন কিথ টেলর, ক্যালিফোর্নিয়ার চ্যাটসওয়ার্থের ২১ বছর বয়সী মাইকেল ব্র্যান্ডন টেরি এবং পরিচয় প্রকাশ না করা এক অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশের অভিযোগ, তাঁরা স্কুলটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ২০২৭ সালের ২০ আগস্ট হামলার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। ওই শিক্ষাবর্ষে ২ আগস্ট স্কুল খোলার কয়েক সপ্তাহ পর হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, টেলর ও টেরি ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজনের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতা করেছিলেন। পাশাপাশি হামলার সময় কী ধরনের পোশাক পরা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। বডি আর্মার, ভিডিও ক্যামেরা ও কমব্যাট বুট কেনার বিষয়টিও তাঁদের আলোচনায় ছিল বলে পরোয়ানায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হুমকিমূলক পোস্ট থেকে। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এসব পোস্ট শনাক্ত করে স্কুল পুলিশের কাছে তথ্য পাঠায়। পরে স্কুল পুলিশ ক্যান্টন পুলিশ বিভাগের সহায়তা চায়। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজনদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্টন শহরের ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজনকে ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। টেলর ও টেরিকে গ্রেপ্তার করা হয় ২৩ অক্টোবর। টেলর জর্জিয়ার মেটার শহরের বাসিন্দা। অন্যদিকে টেরির বাড়ি ক্যালিফোর্নিয়ার চ্যাটসওয়ার্থে। তাঁদের মধ্যে কীভাবে পরিচয় হয়েছিল এবং টেরির সঙ্গে জর্জিয়ার কোনো পূর্বসংযোগ ছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চেরোকি হাইস্কুল কিংবা কাউন্টির অন্য কোনো স্কুলের ওপর তাৎক্ষণিক বা চলমান হামলার হুমকি শনাক্ত করা যায়নি। তদন্ত এখনো চলছে। তিনজনের বিরুদ্ধেই হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে সরকারি স্কুলের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপের অতিরিক্ত অভিযোগও রয়েছে। জর্জিয়ার আইনে ১৭ বছর বয়সী টেলরকে এই মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনলাইন আদালত-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, টেলরকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁর প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ নভেম্বর। টেরিকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে জর্জিয়ার চেরোকি কাউন্টিতে স্থানান্তরের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্দেহভাজনের নাম ও বয়স পুলিশ প্রকাশ করেনি। চেরোকি কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট মেরি এলিজাবেথ ডেভিস এক ভিডিও বার্তায় অভিভাবকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপে কথিত হামলার পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সতর্ক ভূমিকা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে হামলার কথিত পরিকল্পনার পেছনে উদ্দেশ্য কী ছিল, তিন সন্দেহভাজনের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছিল এবং স্কুলে প্রবেশের পরিকল্পনা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে একই নামের দুই প্রার্থী, ভোট কাটার অভিযোগে তোলপাড়
ওয়ালমার্টে ইতিহাসের সর্বনিম্ন দামে মিলছে ২৬টি আইটেম! জেনে নিন অফারের সময়সীমা