সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বিপুল গণকবর খোঁড়ার মহড়া শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৮:৫৩
বড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী
বড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী

বড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের মরদেহ কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে সাময়িকভাবে সমাহিত করা হবে, তা নিয়ে বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। নর্থ ক্যারোলাইনায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গণকবর খোঁড়া এবং মরদেহ সংরক্ষণের পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর হিসাবে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল থাকলে একটি ইঞ্জিনিয়ার ইউনিট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মরদেহ সাময়িকভাবে সমাহিত করার ব্যবস্থা করতে পারবে।

 

মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক ও সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটির কাছে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এর নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্ট। মহড়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে অংশ নেন সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, টোয়েন্টিয়েথ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, চিকিৎসা সহায়তাকারী দল এবং সামরিক ধর্মীয় কর্মকর্তারা।

এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় ধরনের যুদ্ধের সময় নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের আক্রমণ, আকাশপথে চলাচলের সীমাবদ্ধতা কিংবা পরিবহনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে যুদ্ধক্ষেত্রেই সাময়িক সমাধিস্থ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে পরিস্থিতিতে মরদেহের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা যথাসম্ভব অক্ষত রেখে পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় মার্কিন সেনাবাহিনী।

 

সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এত বড় পরিসরে যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়েনি। ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের মরদেহ তুলনামূলক দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে ভবিষ্যতে বড় কোনো সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে একই ব্যবস্থা কার্যকর রাখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা।

এবারের মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গণকবর তৈরির গতি এবং সমাহিত মরদেহের সুরক্ষার ওপর। সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি অস্থায়ী সমাধিস্থলে পাঁচটি সমান্তরাল পরিখা থাকার কথা। প্রতিটি পরিখায় ২০টি করে মোট ১০০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা থাকে। প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা হয়েছে।

 

আগের পরীক্ষাগুলোতে সাধারণ ব্যাকহো এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ১০টি মরদেহ রাখার উপযোগী একটি পরিখা খুঁড়তে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগত। এবার ডি৬ বুলডোজার ব্যবহার করে ২০টি মরদেহ রাখার মতো পরিখা গড়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনাকারীরা হিসাব করেছেন, আটটি বুলডোজার ও চারটি বিশেষ সামরিক এক্সকাভেটর নিয়ে একটি ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি বিরতিহীনভাবে কাজ করলে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মরদেহ সমাহিত করার জন্য পরিখা তৈরি ও মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

তবে এটি একটি পরীক্ষামূলক সক্ষমতার হিসাব। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মাটির ধরন, আবহাওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরঞ্জামের প্রাপ্যতার ওপর কাজের গতি নির্ভর করবে। সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, এই মহড়া থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতের সামরিক নির্দেশনা ও পরিকল্পনা উন্নত করতে ব্যবহার করা হবে।

 

মহড়ায় প্রকৃত মরদেহ ব্যবহার করা হয়নি। মানুষের কঙ্কালের আদলে তৈরি মডেল এবং পানিভর্তি বিশেষ পাত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এসব মডেল মরদেহ বহনের ব্যাগে রেখে পরিখায় স্থাপন করা হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি ফেলে সেগুলো ঢেকে দেওয়া হয়। পরে আবার মাটি সরিয়ে পরীক্ষা করা হয়, চাপের কারণে ভেতরের মডেল ও পাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত মডেলগুলো অক্ষত ছিল। ফলে ভবিষ্যতে সাময়িকভাবে সমাহিত মরদেহ উদ্ধার, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে।

 

মহড়ায় অংশ নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার কর্মকর্তা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট কনর থম্পসন জানান, শুধু দ্রুত পরিখা খুঁড়লেই হবে না, মরদেহের কোনো ক্ষতি না করে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। শুকনো বালু, শক্ত মাটি, কাদা কিংবা বরফে জমে থাকা জমিতে একই যন্ত্রপাতি ভিন্নভাবে কাজ করে। তাই বাস্তব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির জন্য কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ফ্যাটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, উচ্চমাত্রার সংঘাতের মধ্যে নিহত সেনাসদস্যদের মর্যাদার সঙ্গে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা এই মহড়ার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে কার্যকর পদ্ধতি তৈরি না থাকলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হতো।

এবারের প্রশিক্ষণে সামরিক ধর্মীয় কর্মকর্তাদেরও বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক সমাধিস্থ করার ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় পরিসরে মহড়া করেছেন সামরিক চ্যাপলেইন ও ধর্মীয় সহায়তাকারী কর্মকর্তারা।

 

মহড়ায় বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৩০ জন ধর্মীয় সহায়তাকারী অংশ নেন। তাঁদের কাজ ছিল এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা, যাতে ব্যাপক প্রাণহানির পরিস্থিতিতেও নিহত ব্যক্তিদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মর্যাদার প্রতি যথাসম্ভব সম্মান দেখানো যায়।

সামরিক চ্যাপলেইন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাসকা জানান, তীব্র যুদ্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা চলমান সমাধিস্থ কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাবে না। তাই সামরিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে সমাধিস্থল প্রস্তুত করার আগেই সম্মিলিত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি, পরিবহন সংকট কিংবা রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে সমাহিত করার অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত শত্রুপক্ষের সদস্যদের মরদেহের ক্ষেত্রেও সম্মানজনক আচরণ এবং পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে এই প্রশিক্ষণ শুধু মার্কিন সেনাসদস্যদের জন্য নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত অন্য ব্যক্তিদের মরদেহ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অপারেশন ড্রাগন কভেন্যান্টের তৃতীয় পর্যায়ের মহড়া ২০২৭ সালের বসন্তে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা দল, চিকিৎসা ইউনিট, মরদেহ সংগ্রহকেন্দ্র এবং রাতের অন্ধকারে কাজ করার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। নাইট ভিশন সরঞ্জাম ব্যবহার করে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।

 

সামরিক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই মহড়া ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বড় যুদ্ধের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশে নতুন সামরিক অভিযান শুরু কিংবা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। বরং বড় ধরনের সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ঘটলে নিহতদের পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা করে কীভাবে তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে, সেই সক্ষমতা তৈরিই প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য।

 

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হঠাৎ আগুনের ঘরে আটকে থাকা ১৩ শিশুর জীবন বাঁচালেন অপরিচিত ব্যক্তি
নিজের পথে যাচ্ছিল, হঠাৎ আগুনের ঘরে আটকে থাকা ১৩ শিশুর জীবন বাঁচালেন অপরিচিত ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লায়ারলি এলাকায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘরের ভেতরে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন এক দম্পতি, তাঁদের ১২ দত্তক সন্তান এবং ১০ বছর বয়সী এক নাতনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো পরিবার প্রাণঘাতী বিপদের মুখে পড়ে।   ঠিক সেই সময় ওই এলাকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আলাবামার বাসিন্দা ক্যাসি স্পার্কস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে। পথনির্দেশক যন্ত্রের নির্দেশনায় রাস্তা পরিবর্তন করে ওই এলাকায় আসেন তিনি। পথে বাড়িটিতে আগুন জ্বলতে দেখে গাড়ি থামান।   এরপর আরেক পথচারীর সহায়তায় বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন ক্যাসি। ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যদের জাগিয়ে তোলেন এবং দ্রুত বাইরে বের হতে সাহায্য করেন। বাড়ির কর্তা জেমস বার্ক, তাঁর স্ত্রী লারিটা, ১২ দত্তক সন্তান ও নাতনিকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেন।এভাবে একজন অপরিচিত মানুষের সাহসিকতায় রক্ষা পায় একটি পুরো পরিবার।    আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবারের তিনটি গাড়িও পুড়ে যায়। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, পরিবারের কোনো সদস্য প্রাণ হারাননি।এই দম্পতির মানবিক কাজের ইতিহাসও অনন্য। জেমস ও লারিটা বার্ক গত ১৫ বছরে পাঁচ শতাধিক শিশুকে পালক পরিচর্যা দিয়েছেন। নিজেদের সন্তানদের পাশাপাশি অসংখ্য অসহায় শিশুর জীবন গড়তে ভূমিকা রেখেছেন তাঁরা।   আগুনে ঘরবাড়ি হারানোর পর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় মানুষ। নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজে দিতে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ১১ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়ে।   উদ্ধারকারী ক্যাসি স্পার্কস মনে করেন, সেদিন পথ পরিবর্তন করে ওই এলাকায় যাওয়া হয়তো কোনো বিশেষ কারণেই হয়েছিল। আর জেমস বার্কের কাছে সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা—বাড়ি ও সম্পদ হারালেও তাঁর পরিবারের সবাই বেঁচে আছেন।একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তাঁদের ঘর, কিন্তু একজন অপরিচিত মানুষের সাহসিকতা এবং মানুষের ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা। 

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৯:৪৬
ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ, প্রভাব পড়বে অভিবাসীদের ওপর

বড় ধরনের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য নিহত হলে তাঁদের বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী

বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে বিপুল গণকবর খোঁড়ার মহড়া শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর

হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ছে এয়ার ফোর্স ওয়ান

হ্যালোইন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উড়োজাহাজের আকস্মিক উড্ডয়ন, চমকে গেলেন অনেকে

ইবি-৫ বিনিয়োগ কর্মসূচিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া

বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে কোন পর্যায়ে কোন ফরম জমা দিতে হবে, কীভাবে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন করতে হয়—পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি। ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যরা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান। তবে শুধু বিনিয়োগ করলেই সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীরা অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন, আর বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথম ধাপ: বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন   ইবি-৫ প্রক্রিয়ার শুরুতে আবেদনকারীকে দুটি ফরমের মধ্যে একটি জমা দিতে হয়। নিজ উদ্যোগে বা স্বতন্ত্রভাবে বিনিয়োগ করলে জমা দিতে হবে ফরম আই-৫২৬ (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই স্ট্যান্ডঅ্যালোন ইনভেস্টর)। আর ইউএসসিআইএস অনুমোদিত আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে প্রয়োজন হবে ফরম আই-৫২৬ই (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই রিজিওনাল সেন্টার ইনভেস্টর)।   অর্থাৎ, আবেদনকারী কোন পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে কোন ফরম ব্যবহার করতে হবে। দুটি ফরমের উদ্দেশ্য একই হলেও বিনিয়োগের কাঠামো আলাদা। স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর আবেদন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।   দ্বিতীয় ধাপ: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তন অথবা বিদেশ থেকে ভিসার আবেদন প্রাথমিক বিনিয়োগ আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে আবেদনকারীর অবস্থান এবং অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর। যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ফরম আই-৪৮৫। এর মাধ্যমে তাঁরা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধন অথবা নিজেদের অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। তবে এ আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ইবি-৫ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। শর্ত পূরণ হলে আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদনের সঙ্গে একই সময়ে আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যায়। প্রাথমিক আবেদন বিবেচনাধীন থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সুযোগ রয়েছে। আবার প্রাথমিক আবেদন অনুমোদনের পরও আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করছেন এবং যাঁদের আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে ফরম ডিএস-২৬০ জমা দিতে পারেন। এটি অভিবাসী ভিসার আবেদন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসা পেলে তাঁরা বিদেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চাইতে পারবেন।   তৃতীয় ধাপ: দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড   আই-৪৮৫ আবেদন অনুমোদিত হলে অথবা ডিএস-২৬০ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইবি-৫ অভিবাসী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিনিয়োগকারী শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তাঁর যোগ্য পরিবারের সদস্যরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   তবে এ পর্যায়ে গ্রিন কার্ডের মেয়াদ হয় দুই বছর। অর্থাৎ, প্রথমবার অনুমোদন পাওয়ার পরই বিনিয়োগকারী নিঃশর্ত স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করে পরবর্তী আবেদন জমা দিতে হয়। শেষ ধাপ: শর্ত তুলে নিতে আই-৮২৯ ফরম দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীকে ফরম আই-৮২৯ (পিটিশন বাই ইনভেস্টর টু রিমুভ কন্ডিশনস অন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস) জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়বার্ষিকী বা দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগের ৯০ দিনের মধ্যে এ আবেদন করতে হবে।   ইউএসসিআইএস আবেদনটি অনুমোদন করলে বিনিয়োগকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা থেকে শর্ত তুলে নেওয়া হয়। একই আবেদনে অন্তর্ভুক্ত যোগ্য পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও শর্ত প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে তাঁদের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড নিঃশর্ত স্থায়ী বসবাসের মর্যাদায় রূপ নেয়।   ইবি-৫ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ কর্মসূচিতে বিনিয়োগকারীদের নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে হয় এবং নির্ধারিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্তও পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে বিনিয়োগের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভিসার প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি ফরম জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।   ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদন থেকে শুরু করে শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে শর্ত তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য কোনো স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর বিনিয়োগের ধরন, অভিবাসন অবস্থা এবং ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৭:৪২
ডিভি লটারি নিয়ে নতুন আইনি অনিশ্চয়তা

ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচ সামলাতে পারছেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকছেন অনেকে, বিপাকে সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী গত এক বছরে কোনো না কোনো জুয়ায় অংশ নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স প্রায় ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার হলেও মধ্যম ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের চেকিং অ্যাকাউন্টে একজন অ্যাকাউন্টধারীর গড় ব্যালেন্স প্রায় ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার। তবে এই অঙ্ক দেখে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এত টাকা রয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই। বাস্তবে মধ্যম বা মিডিয়ান ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব এই হিসাব প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই বিশাল পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে এনেছে।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানটি ২০২২ সালের ফেডারেল রিজার্ভের সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেস থেকে নেওয়া। সেখানে দেখা যায়, চেকিং অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার হলেও মিডিয়ান ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। অর্থাৎ অর্ধেক অ্যাকাউন্টধারীর ব্যালেন্স এই পরিমাণের নিচে এবং বাকি অর্ধেকের ওপরে। তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ থাকা কিছু অ্যাকাউন্ট গড় হিসাবকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছে। ফলে গড় ব্যালেন্স দিয়ে সাধারণ পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বোঝা কঠিন।   আয়ের ভিত্তিতে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনিম্ন আয়ের ২০ শতাংশ পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে মিডিয়ান ব্যালেন্স ছিল মাত্র ৩০০ ডলার। অন্যদিকে সর্বোচ্চ আয়ের ১০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ছিল ২২ হাজার ডলার। অর্থাৎ আয়ের পার্থক্যের সঙ্গে ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণেও বড় ব্যবধান রয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য হঠাৎ চিকিৎসা খরচ, গাড়ি মেরামত কিংবা অন্য কোনো জরুরি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।   তবে ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ ২০২৫ সালের জরিপে চেকিং অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি সেভিংস, মানি মার্কেটসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রানজ্যাকশন অ্যাকাউন্টের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত ওই জরিপ অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্টে মিডিয়ান ব্যালেন্স ছিল ৮ হাজার ২০০ ডলার। মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর ২০২২ সালের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের ট্রানজ্যাকশন অ্যাকাউন্টের সম্মিলিত হিসাবকে শুধু চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স হিসেবে দেখানো যাবে না।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চেকিং অ্যাকাউন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত চাকরির পেচেক জমা, রেন্ট, মর্টগেজ, ইউটিলিটি বিল, গাড়ির কিস্তি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে মাসের শুরুতে অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ অর্থ থাকে, বিভিন্ন বিল পরিশোধের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এ কারণে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ দিয়ে পরিবারের মোট সম্পদ বা সঞ্চয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না।   আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চেকিং অ্যাকাউন্টে কত টাকা রাখা উচিত, সেটি নির্ভর করে ব্যক্তির মাসিক খরচ, আয়ের নিয়মিততা এবং আর্থিক দায়বদ্ধতার ওপর। নিয়মিত বিল পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রাখা জরুরি হলেও অতিরিক্ত অর্থ দীর্ঘদিন সাধারণ চেকিং অ্যাকাউন্টে রাখলে বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হাই ইয়েল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্টে তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়া যায়। তবে অ্যাকাউন্টের শর্ত, ফি এবং প্রয়োজনের সময় টাকা তোলার সুবিধা বিবেচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।   সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গড়ে কত টাকা রয়েছে, সেই সংখ্যা সাধারণ পরিবারের আর্থিক বাস্তবতার পুরো চিত্র তুলে ধরে না। বিশেষ করে গড় ব্যালেন্স ও মিডিয়ান ব্যালেন্সের বড় পার্থক্য দেখায়, কিছু পরিবারের হাতে বিপুল অর্থ থাকলেও অনেক পরিবার তুলনামূলক অল্প অর্থ নিয়ে দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনা করছে। তাই নিজের আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে জাতীয় গড়ের চেয়ে নিয়মিত আয়, মাসিক খরচ, ঋণ এবং জরুরি সঞ্চয়ের পরিমাণ বিবেচনা করাই বেশি কার্যকর।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৪:৫৯
কারাগার থেকে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার মেধার জোরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পল ও লিন মন্টোয়া দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণের সরকারি বৈঠকে আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে এক নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ

0 Comments