সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে মিলবে জানুয়ারি থেকেই সুবিধা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:১৯
স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু
স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন ও পুরোনো বিমা নবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে দেশটির অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে নতুন স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া, আগের বিমা নবায়ন করা কিংবা পছন্দের পরিকল্পনা পরিবর্তনের সুযোগ চালু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।

 

সরকারি স্বাস্থ্যবিমা বাজারের নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করলে এবং প্রথম কিস্তি পরিশোধ করলে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করলে সাধারণত বিমা কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।

 

এবার স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত গড় মাসিক খরচ ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে অঙ্গরাজ্য, বিমা কোম্পানি, পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও বিমার ধরন অনুযায়ী খরচ ভিন্ন হবে।

 

বিশেষ করে যাঁরা সরকারি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কম খরচে স্বাস্থ্যবিমা পান, তাঁদের নতুন বছরের আবেদন করার আগে যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তনের কারণে কিছু বৈধ অভিবাসী ২০২৭ সালে বিমার খরচ কমানোর সরকারি সহায়তা থেকে বাদ পড়তে পারেন। তবে গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী এখনো যোগ্যতা অনুযায়ী এই সহায়তা পেতে পারেন।

 

বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগের বছরের বিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নতুন বছরের মাসিক কিস্তি, চিকিৎসকের তালিকা, হাসপাতালের সুবিধা, ওষুধের খরচ এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে কত টাকা দিতে হবে—এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

 

যাঁদের পরিবারের আয় পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে অথবা চাকরি হারানোর কারণে আর্থিক পরিস্থিতি বদলেছে, তাঁদের আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। ভুল আয় দেখালে পরবর্তী সময়ে কর জমা দেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা সময়সীমা রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা বাজারে ২০২৭ সালের আবেদন চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে ১ জানুয়ারি থেকে বিমা কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে। সেখানে বিনা মূল্যে আবেদন সহায়তাও পাওয়া যায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আফগান বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আয়েশা ওয়াহাব। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল এখনো নিশ্চিত হয়নি।   এই নির্বাচনে আয়েশা ওয়াহাবের প্রতিদ্বন্দ্বীও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রাইমারিতে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী একই দলের হলেও সাধারণ নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ফলে এই আসনে দুই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হচ্ছে।   প্রাথমিক ফলাফলে ওয়াহাবের পক্ষে ৬০ হাজার ৪৫৪ ভোট এবং হার্নান্দেজের পক্ষে ৪২ হাজার ৮৮৫ ভোটের তথ্য পাওয়া যায়। আলামেডা কাউন্টির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেকিউইডি ও বে সিটি নিউজ এই ফলাফল জানিয়েছে। পরবর্তী গণনায় ভোটের সংখ্যা ও শতাংশ পরিবর্তিত হতে পারে।   ৩৯ বছর বয়সী আয়েশা ওয়াহাব আফগান বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৮ সালে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান। পরে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। আবাসন সংকট, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের আসনটি শূন্য হয়। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করায় আগস্টে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে আয়েশা ওয়াহাব জয়ী হন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম আফগান আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েন।   আগস্টের বিশেষ নির্বাচনে ওয়াহাব পেয়েছিলেন প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোট। একই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় তাঁর ভোটের হার আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। এবার নির্বাচিত হলে তিনি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।   আয়েশা ওয়াহাবের নির্বাচনী প্রচারে হেলথ কেয়ার, বাড়ির দাম, আবাসন সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে মেলিসা হার্নান্দেজ ইমিগ্রেশন সংস্কার ও জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার এই আসনে দুই ডেমোক্র্যাটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আফগান বংশোদ্ভূত ওয়াহাবের উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অভিবাসী পরিবারের প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর তাঁর নতুন মেয়াদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৫৯
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়,  জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন

ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন

পথে চারজনের জীবন বাঁচিয়ে নায়ক হলেন কেনেথ

নিজের পরিবার নিয়ে ফিরছিলেন, পথে চারজনের জীবন বাঁচিয়ে নায়ক হলেন কেনেথ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের জয়

ব্যাঙের ভ্রূণ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগে হার্ভার্ডের গবেষকের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারে হার্ভার্ড গবেষকের মামলা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

ব্যাঙের ভ্রূণ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক গবেষকের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গবেষণার কাজে ব্যবহৃত জৈব নমুনা পরিবহনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশ থেকে প্রাণীর ভ্রূণসহ বিভিন্ন জৈব নমুনা আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আমদানি ও কাস্টমস নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। গবেষণার উদ্দেশ্যে এসব নমুনা আনা হলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং সঠিক ঘোষণা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের মামলায় হার্ভার্ড বিজ্ঞানীর অভিযোগ প্রত্যাহারের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের অভিযোগে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের রুশ বংশোদ্ভূত গবেষক কেসেনিয়া পেত্রোভার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বোস্টনের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। গবেষক পেত্রোভা অভিযোগ করেছিলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতের সাম্প্রতিক এক আদেশের পর প্রসিকিউটররা মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ওই আদেশে পেত্রোভাকে তাঁর বিরুদ্ধে বাছাই করে মামলা করার অভিযোগের পক্ষে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রসিকিউটররা তাঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মামলাটি চালিয়ে গেলে ফেডারেল সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে উল্লেখযোগ্য সময় ও জনবল সরিয়ে নিতে হবে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ফ্রান্স সফর শেষে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পেত্রোভাকে আটক করেন ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা। তাঁর লাগেজ তল্লাশি করে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য আনা ব্যাঙের ভ্রূণের নমুনা পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় এসব নমুনার বিষয়ে কাস্টমসকে প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেননি তিনি।   পেত্রোভা দাবি করেন, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য তাঁর সুপারভাইজার নমুনাগুলো আনতে বলেছিলেন। এগুলো গোপনে পাচারের কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে বিমানবন্দরে আটকের পর তাঁর ভিসা বাতিল করা হয় এবং তাঁকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় তাঁকে।   ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর বিরুদ্ধে পাচার ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করা হয়। পেত্রোভা অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রায় চার মাস আটক থাকার পর ওই বছরের জুনে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এদিকে তাঁর আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কারণেই তাঁকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করা হয়েছে।   চলতি বছরের এপ্রিলে ভারমন্টের একটি ফেডারেল আদালত রায় দেন, পেত্রোভার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল না। পরে অক্টোবরে বোস্টনের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে বাছাই করে মামলা পরিচালনার অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক পর্যায়ে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি সংগ্রহের সুযোগ পান তাঁর আইনজীবীরা।   মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পেত্রোভার আইনজীবী উইলিয়াম ফিক। তিনি বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে তাঁর মক্কেল সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর লিয়া ফোলির কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   পেত্রোভার আইনজীবীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই মামলাটি করা হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রসিকিউটররা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।   মামলা প্রত্যাহারের আবেদন আদালতে জমা দেওয়া হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য বিচারকের অনুমোদন প্রয়োজন। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই পেত্রোভার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:২১
স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু

স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে মিলবে জানুয়ারি থেকেই সুবিধা

মাত্র তিন ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন পাকিস্তানি অভিবাসী কাজী মান্নান। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিজ রেস্টুরেন্টে বিনামূল্যে খাবার খাইয়েছেন কাজী মান্নান

ছবি: বামে: বিবেক রামাস্বামী রিপাবলিকান ডানে: অ্যামি অ্যাকটন ডেমোক্র্যাট (সংগ্রহীত)

বিপুল অর্থ ব্যয় করেও হারলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামী

সরকারি সুবিধা ব্যবহারে বাড়তি যাচাই
গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম, সরকারি সুবিধা ব্যবহারে বাড়তি যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা গ্রহণের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করার সুযোগ পেয়েছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)।   নতুন নীতিমালায় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, দক্ষতা এবং আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হতে পারে। সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও সামগ্রিক পরিস্থিতির একটি অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হতে পারে।   এর অর্থ এই নয় যে কেউ ফুড স্ট্যাম্প, স্বাস্থ্যসেবা বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গ্রিন কার্ডের আবেদনকারী বা আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের আগে নিজের অভিবাসন অবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়ম বুঝে নেওয়া উচিত।   শুধু আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাদ্যসহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা বন্ধ করাও ঠিক হবে না।বিশেষ করে যাঁরা পরিবারভিত্তিক অথবা চাকরিভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:০
ভবিষ্যতে অর্থ সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মনে করেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভবিষ্যতে টাকা জমানোর প্রয়োজন নেই, এআই সবাইকে ধনী বানিয়ে দিবে: ইলন মাস্ক

কায়াক ও প্যাডেলবোর্ড নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর

বন্যার পানিতে ঘরে আটকে মা-ছেলে, কায়াক ও প্যাডেলবোর্ড নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর

আবারও জয়ী ডেমোক্র্যাট জন অসফ

জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে আবারও জয়ী ডেমোক্র্যাট জন অসফ

0 Comments