যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের জয়
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে ডেমোক্র্যাট শেখ রহমান, কানেকটিকাটে ডেমোক্র্যাট এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের স্টেট হাউসে রিপাবলিকান আবুল খান নিজ নিজ আসন ধরে রেখেছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তিনটি আসনের সর্বশেষ সরকারি ফলাফল পৃথকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জর্জিয়ার স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৫ থেকে শেখ রহমান এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে অংশ নেন। সাধারণ নির্বাচনে তাঁর বিপক্ষে কোনো প্রার্থী না থাকায় পুনর্নির্বাচনের পথ নিশ্চিত হয়। প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোটের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পঞ্চমবারের মতো জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে শেখ রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রবিন এমিলিয়া ম্যাককয়। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান পান ৬ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ম্যাককয় পান ৫ হাজার ১৬৬ ভোট। জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রাইমারিতে জয় নিশ্চিত করার পর সাধারণ নির্বাচনে তাঁর আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না।
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান ২০১৮ সালে প্রথম জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান লিসা ব্যাবেজকে পরাজিত করে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। এবার পঞ্চম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।
অন্যদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এমডি রহমান নামে পরিচিত এই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকের জয়ের তথ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটিইনসাইডারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহ্যাম কাউন্টির ৩০ নম্বর হাউস ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী আবুল খানও পুনর্নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকলেও পাওয়া ফলাফলে তাঁর জয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাঁকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করার আগে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ফলাফল প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনসভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের এই উপস্থিতি প্রবাসী কমিউনিটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাজ্যে প্রয়াত মায়ের প্রায় ১২ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি নিয়ে বোনের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছেন এক অভিনেতা। রবার্ট রাজপল নামের ওই অভিনেতার অভিযোগ, তাঁর বোন প্রভাব খাটিয়ে মায়ের উইল পরিবর্তন করিয়েছেন এবং পুরো সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে আদালতে জানিয়েছেন। এমনকি নিজের পোষা কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান রবার্টের মা মিলডা রাজপল। মৃত্যুর আগে তিনি পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথ এলাকার একটি বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তি রেখে যান। বাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ পাউন্ড। রবার্টের দাবি, নগদ অর্থসহ তাঁর মায়ের মোট সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১২ লাখ পাউন্ড। কিন্তু ২০২৩ সালের আগস্টে তৈরি সর্বশেষ উইলে পুরো সম্পত্তি রবার্টের বোন প্রেশাস রাজপলের নামে রেখে যান তাঁদের মা। উইলের নির্বাহক হিসেবেও প্রেশাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রবার্টের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে করা মায়ের আগের উইলে ভাই-বোনের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুর এক বছর আগে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বোন প্রেশাস দীর্ঘদিন মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং শেষ বয়সে তাঁকে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। এমনকি বাড়ির তালা পরিবর্তন এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার অভিযোগও করেছেন তিনি। সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্টে বিচারক নাইজেল জেরাল্ডের সামনে রবার্ট দাবি করেন, ২০২৩ সালে উইল পরিবর্তনের সময় তাঁর মায়ের মানসিক সক্ষমতা ছিল না। নতুন উইলে কী লেখা রয়েছে, তা তিনি পুরোপুরি বুঝতেন কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা। রবার্ট আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মা খ্রিষ্টান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রয়াত স্বামীর পাশে সমাহিত হতে চেয়েছিলেন। অথচ বোন সেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর মরদেহ দাহ করার ব্যবস্থা করেন। ব্রিটেনের রয়্যাল একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টে প্রশিক্ষণ নেওয়া রবার্ট আদালতকে জানান, বর্তমানে তাঁর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তিনি নিজের পোষা কুকুর টুইংকেলকে নিয়ে অস্থায়ী গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন। শুধু উইলের বৈধতা চ্যালেঞ্জই নয়, ১৯৭৫ সালের ইনহেরিট্যান্স আইনের আওতায় মায়ের সম্পত্তি থেকে যুক্তিসংগত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার দাবিও করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জীবিত অবস্থায় মা তাঁকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন। তবে রবার্টের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁর বোন প্রেশাস রাজপল। তাঁর আইনজীবী নিকোলা ফিলিপসন আদালতে জানিয়েছেন, উইল পরিবর্তনে জোরজবরদস্তির অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। মায়ের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রবার্ট কোনো মেডিকেল রেকর্ড জমা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। প্রেশাস পাল্টা আবেদন করে ২০২৩ সালের উইলকে বৈধ ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন। সম্পত্তির নগদ অর্থ নিয়েও দুই পক্ষের মতভেদ রয়েছে। প্রেশাসের হিসাবে নগদ অর্থ ছিল ১৬ হাজার ৫৩০ পাউন্ড, কিন্তু রবার্টের দাবি তা ছিল প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারক নাইজেল জেরাল্ড রবার্টকে আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মামলার জটিলতা এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত শুনানি মুলতবি করেছেন। পরবর্তী শুনানিতে নির্ধারণ করা হবে, উইলের বৈধতা নিয়ে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারের পর্যায়ে যাবে কি না। আদালত এখনো রবার্টের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। সংবাদসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্টে উপস্থাপিত বক্তব্যের সংবাদপ্রতিবেদন।
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব
ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন
নিজের পরিবার নিয়ে ফিরছিলেন, পথে চারজনের জীবন বাঁচিয়ে নায়ক হলেন কেনেথ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে ডেমোক্র্যাট শেখ রহমান, কানেকটিকাটে ডেমোক্র্যাট এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের স্টেট হাউসে রিপাবলিকান আবুল খান নিজ নিজ আসন ধরে রেখেছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে তিনটি আসনের সর্বশেষ সরকারি ফলাফল পৃথকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জর্জিয়ার স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট ৫ থেকে শেখ রহমান এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে অংশ নেন। সাধারণ নির্বাচনে তাঁর বিপক্ষে কোনো প্রার্থী না থাকায় পুনর্নির্বাচনের পথ নিশ্চিত হয়। প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোটের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পঞ্চমবারের মতো জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে শেখ রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রবিন এমিলিয়া ম্যাককয়। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান পান ৬ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ম্যাককয় পান ৫ হাজার ১৬৬ ভোট। জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রাইমারিতে জয় নিশ্চিত করার পর সাধারণ নির্বাচনে তাঁর আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান ২০১৮ সালে প্রথম জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান লিসা ব্যাবেজকে পরাজিত করে চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। এবার পঞ্চম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এমডি রহমান নামে পরিচিত এই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকের জয়ের তথ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটিইনসাইডারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহ্যাম কাউন্টির ৩০ নম্বর হাউস ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী আবুল খানও পুনর্নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকলেও পাওয়া ফলাফলে তাঁর জয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাঁকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করার আগে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ফলাফল প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনসভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের এই উপস্থিতি প্রবাসী কমিউনিটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষ করে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত হচ্ছে।
ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারে হার্ভার্ড গবেষকের মামলা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র
স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে মিলবে জানুয়ারি থেকেই সুবিধা
আমেরিকায় ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিজ রেস্টুরেন্টে বিনামূল্যে খাবার খাইয়েছেন কাজী মান্নান
আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও জয় পাননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন তুলনামূলক অনেক কম অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অ্যাকটনের এই জয় ওহাইওর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছর পর অঙ্গরাজ্যটিতে একজন ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ ব্যয়ের হিসাবেও দুই প্রার্থীর মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। এনবিসি ৪-এর প্রকাশিত নির্বাচনী অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, রামাস্বামী ও তাঁর পক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রচারণায় প্রায় ৮ কোটি ডলার ব্যয় বা বরাদ্দ করা হয়েছিল। অন্যদিকে অ্যাকটনের পক্ষে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ রামাস্বামীর পক্ষে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল অ্যাকটনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে বিপুল অর্থের এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কাজে আসেনি। অ্যাকটন একজন চিকিৎসক এবং ওহাইওর সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক। করোনাভাইরাস মহামারির সময় অঙ্গরাজ্যটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকটকে গুরুত্ব দেন অ্যাকটন। শৈশবে কঠিন আর্থিক পরিস্থিতি ও গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব বিষয় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। অন্যদিকে বিবেক রামাস্বামী ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী। একজন ধনকুবের উদ্যোক্তা ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আগে থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি ছিল তাঁর। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রামাস্বামীর পক্ষে প্রচারণা চালান। তবে তাঁদের সমর্থন এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই প্রার্থীর প্রচারণা ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়। বিশেষ করে অ্যাকটনের পারিবারিক অতীত নিয়ে রামাস্বামীর প্রচারশিবিরের একটি বিজ্ঞাপন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিজ্ঞাপনটিতে অ্যাকটনের বিচ্ছিন্ন থাকা মায়ের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতাদের মধ্যেই সমালোচনা দেখা দেয়। নির্বাচনের আগে বিজ্ঞাপনটি প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অ্যামি অ্যাকটনের এই জয় শুধু একজন প্রার্থীর বিজয় নয়, ওহাইওর রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচিত হলেন। একই সঙ্গে অ্যাকটন ওহাইওর ইতিহাসে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রথম নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, অ্যাকটনের এই বিজয় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যটিতে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সেই অঙ্গরাজ্যেই এবার গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর জয় জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়, প্রেসিডেন্টের সমর্থন এবং জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও রামাস্বামীর পরাজয় এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম অর্থ ব্যয়ে অ্যাকটনের বিজয় আবারও দেখিয়ে দিল, নির্বাচনে অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থনই নির্ধারণ করে দেয় কে যাবেন ক্ষমতায়।
গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম, সরকারি সুবিধা ব্যবহারে বাড়তি যাচাই
ভবিষ্যতে টাকা জমানোর প্রয়োজন নেই, এআই সবাইকে ধনী বানিয়ে দিবে: ইলন মাস্ক