সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্যবিমা

ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমায় বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)।   মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।   এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।   সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান।   সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও তারা চিকিৎসা ঋণের পাহাড় জমিয়ে তুলছেন। দ্য কমনওয়েলথ ফান্ড নামের একটি নির্দলীয় স্বাস্থ্য নীতি গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' মার্কেটপ্লেস বা বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজন চিকিৎসা ঋণের কবলে পড়েছেন। তারা সময়ের সাথে সাথে কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।     এই ঋণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিল থেকেই তাদের এই ঋণের সূত্রপাত। এছাড়া নিয়মিত চেকআপ, চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া এবং ল্যাব বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও রোগীরা ঋণের সম্মুখীন হচ্ছেন।   গবেষণার প্রধান লেখক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ সারা কলিন্স সিবিএস নিউজকে জানান, বিমা থাকার পরও রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে ঠিক কতটা খরচ করতে হচ্ছে, মূলত তার ওপর ভিত্তি করেই এই ঋণের বিশাল বোঝা তৈরি হয়।   জরিপের তথ্যমতে, চিকিৎসা ঋণে থাকা প্রায় অর্ধেক আমেরিকানের অন্তত দুই হাজার ডলার বা তার বেশি ঋণ রয়েছে, যা কর্মক্ষম ও বেসরকারি বিমাভুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫ শতাংশ। এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ৩৭ শতাংশ মানুষ তাদের জমানো সঞ্চয় ভেঙেছেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে খাবার, ঘর গরম রাখার জ্বালানি বা বাড়ি ভাড়ার মতো দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদাগুলো কমিয়ে দিয়েছেন।   এমনকি টাকার অভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দেরি করছেন বা একেবারেই নিচ্ছেন না। সারা কলিন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে না। আকস্মিক কোনো বড় খরচ সামনে এলে তা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৩৫৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর টেলিফোন ও অনলাইনে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।   বিশাল এই চিকিৎসা ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুল চার্জ যুক্ত করে বিল পাঠায়, তাই কোনো অসংগতি মনে হলে গ্রাহকদের অবশ্যই সেই বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। যদিও ক্রেডিট স্কোর কমার ভয়ে অনেকেই এটি করতে দ্বিধাবোধ করেন, তবে প্রকৃত বিল যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।   এছাড়া, কোনো চিকিৎসার জন্য বিমা কভারেজ প্রত্যাখ্যান করা হলে গ্রাহকরা তাদের বিমা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুবিধা বা নিজস্ব খরচের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ওবামাকেয়ারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ১০ লাখ নাগরিককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছেন ট্রাম্প
ওবামাকেয়ারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ১০ লাখ নাগরিককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বা ওবামাকেয়ারের আওতায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, কেন্দ্রীয় হেলথকেয়ার এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে আগামী অক্টোবর মাসে ৫০০ ডলারের এই চেক ডাকযোগে পাঠানো হবে। যাদের অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত খরচের মুখে ফেলা হয়েছিল, তাদের প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিয়ে প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ইউজার ফি আদায় করেছিল, যা পরবর্তীতে বর্ধিত প্রিমিয়াম আকারে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়। ট্রাম্পের যুক্তি, এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ তহবিলের প্রয়োজন ছিল, আদায়কৃত অর্থ তার চেয়ে অনেক বেশি।   ফলে কেন্দ্রীয় এক্সচেঞ্জ ব্যবহারকারী ৩০টি অঙ্গরাজ্যের যেসব গ্রাহক ওবামাকেয়ারের অধীনে কোনো প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি, তাদের এই বাড়তি অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে বর্ধিত এসিএ ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর লাখ লাখ গ্রাহকের জন্য স্বাস্থ্যবীমার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল।   এই অর্থ ফেরত পাওয়ার তালিকায় থাকা ৩০টি অঙ্গরাজ্য হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং।   স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা কেএফএফ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ চিকিৎসা সেবায় ব্যয়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তার আওতায়ও গ্রাহকদের জন্য পৃথক রিবেটের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্প্রতি সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই ৫০০ ডলারের স্বাস্থ্যবীমা রিফান্ড তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে লাভজনক নয় অজুহাতে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছবি সংগৃহীত
অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে রোগীকে ফোন, ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে চিকিৎসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে এক রোগীর চিকিৎসা বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। রোগীর দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, সেখানে অস্ত্রোপচারটি করা ‘খরচ লাভজনক নয়’। অস্ত্রোপচারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   ওই রোগী জানান, একটি আঘাতের কারণে তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল এবং প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসাটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় নির্ধারণের আগে তার বীমা সুবিধা যাচাই করা হয়। রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসকের কার্যালয় বীমা পরিকল্পনার প্রথম স্তরের আওতাভুক্ত ছিল।   তবে যে হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল, সেটি ছিল বীমা পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরের আওতাভুক্ত। সেখানে অস্ত্রোপচার করালে রোগীকে ২ হাজার ডলার ছাড়পূরণ এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ৩০ শতাংশ বহন করতে হতো। বিষয়টি জানার পর সময় নির্ধারণকারী কর্মী প্রথম স্তরের আওতাভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাটি করা যায় কি না, তা খুঁজে দেখেন।   রোগীর দাবি, পরে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরবর্তী সপ্তাহের জন্য অস্ত্রোপচারের সময়ও নির্ধারণ করা হয়। এতে চিকিৎসাটি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে বলে তিনি ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগের শুক্রবার বিকেলে তাকে ফোন করে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে অস্ত্রোপচারটি করাকে ‘খরচ লাভজনক নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি আসে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে। ওই সময়ের মধ্যে অন্যান্য চিকিৎসা কার্যালয়ের বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাকে হয় দ্বিতীয় স্তরের আওতাভুক্ত হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করিয়ে কয়েক হাজার ডলার বেশি খরচ করার, অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা করানোর জন্য অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।   রোগী প্রশ্ন তোলেন, তার বীমা যখন অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার কথা, তখন হাসপাতাল কেন চিকিৎসাটি করতে চাইছে না। তার মতে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বা তার আঘাতের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু চিকিৎসাটি কোন প্রতিষ্ঠানে হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টিই পরিবর্তিত হয়েছে।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা, হাসপাতালের অর্থপ্রাপ্তি এবং চিকিৎসার খরচ নিয়ে আলোচনা করেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী জানান, চিকিৎসক কোন প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচার করছেন তার ওপর প্রতিষ্ঠানের খরচ ও অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।   একজন স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেন বলে দাবি করা মন্তব্যকারী প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের ব্যবস্থার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। অন্য একজন রোগীকে বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগী সহায়তা কর্মকর্তার সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ আবার চিকিৎসা বিলম্বিত হলে সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই রোগীর দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রোগী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসা বাতিলের কারণ সম্পর্কেও স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটি রোগীর নিজের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া আলোচনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।   সূত্র: ডেইলি ডট

তাবাস্সুম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রসূতি মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় কাজ করেন ডুলা বা প্রসূতি সহায়করা। ছবি: সংগৃহীত
মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা

নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন নতুন বাবা ও মা হতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য প্রসূতি সহায়তা বা ডুলা সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে খোদ নগর প্রশাসনের কর্মীদের জন্যই এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ডুলা মূলত এমন এক ধরনের পেশাদার সেবা, যেখানে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় এবং প্রসবের পর একজন প্রসূতি মাকে শারীরিক ও মানসিক সমর্থন দেওয়া হয়।   নিউইয়র্ক সিটির কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেট্রোপ্লাসহেলথ জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে তাদের বিমা পরিকল্পনায় ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিমা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধার আওতায় সন্তান জন্মদানের আগে বা পরে মোট আটবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সন্তান প্রসবের সময় সরাসরি একজন প্রসূতি সহায়কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপটি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শহরের পরিচালিত ছয়টি হাসপাতাল সন্তান প্রসবের সময় ডুলা সেবা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোতে এই সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ছয় বছরে হাসপাতালগুলো থেকে ডুলা বা প্রসূতি সহায়কের কাছে রেফার করার হার আগের তুলনায় ছয় গুণ বেড়েছে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ডা. হেলেন আর্তেয়াগা এই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে পরিচালিত ডুলা বা প্রসূতি সহায়তা কর্মসূচিগুলো সন্তান প্রত্যাশী পরিবারগুলোর মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো সম্প্রদায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে গভীর বৈষম্য এবং উদ্বেগজনক হারে মাতৃমৃত্যুর শিকার, তাদের জন্য এই সেবাটি অত্যন্ত জরুরি।   ন্যাশনাল হেলথ ল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মাতৃমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের যুক্ত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয় এবং মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুটি অঙ্গরাজ্যে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য ডুলা সেবা অন্তর্ভুক্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বর্তমানে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে চাকরি ছাড়তে পারছেন না
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে চাকরি ছাড়তে পারছেন না ২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ কর্মী এমন চাকরিতে থেকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেটি তারা আর করতে চান না। কারণ চাকরি ছাড়লে হারাতে পারেন স্বাস্থ্যবিমা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী এই পরিস্থিতিতে রয়েছেন। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।   ওয়েস্ট হেলথ–গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকা-এর গবেষণায় এই প্রবণতাকে ‘জব লক’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় কর্মীরা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়তে বা নতুন চাকরিতে যেতে পারছেন না। ২০২১ সালের তুলনায় এ ধরনের কর্মীর হার ৮ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।   গবেষণাটি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগদাতার দেওয়া স্বাস্থ্যবিমাকে প্রধান স্বাস্থ্যসুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা ২ হাজার ৩২২ জন কর্মীর তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ নিয়মিতভাবে বহন করতে তাদের সমস্যা হয়। একই সঙ্গে ৫১ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার।   চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঋণে থাকা কর্মীদের মধ্যে ‘জব লক’-এর হার আরও বেশি। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক চিকিৎসা ঋণ রয়েছে এমন কর্মীদের ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা এমন চাকরিতে থেকে যাচ্ছেন, যেটি তারা ছাড়তে চান। চিকিৎসা ঋণ নেই এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ২১ শতাংশ।   স্বাস্থ্য ব্যয়কে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা মনে করেন এমন কর্মীদের মধ্যেও প্রায় ৪৮ শতাংশ চাকরি ছাড়তে পারছেন না স্বাস্থ্যবিমার কারণে। আর যাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে তীব্র মানসিক চাপ রয়েছে, তাদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ।   নারীদের মধ্যেও এই প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। জরিপে ৩০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি ছাড়ছেন না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২০ শতাংশ।   দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এক বা একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ স্বাস্থ্যবিমার কারণে চাকরি ছাড়তে পারছেন না। এমন কোনো রোগ নেই—এমন কর্মীদের মধ্যে এই হার ১৭ শতাংশ। তিন বা তার বেশি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে।   গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা অনেক ক্ষেত্রে চাকরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর প্রভাব শুধু চিকিৎসা পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চাকরি পরিবর্তন, বেতন বৃদ্ধি, পেশাগত উন্নতি এমনকি নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্তেও স্বাস্থ্যবিমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখন এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ পছন্দের চাকরি ছেড়ে ভালো সুযোগ নেওয়ার বদলে বর্তমান চাকরিটিই ধরে রাখছেন—শুধু স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ঝুঁকি এড়াতে। আর স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় যত বাড়ছে, এই ‘জব লক’ প্রবণতাও তত বেশি কর্মীর পেশাগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্বাস্থ্যসেবা মূল্যায়নের জাতীয় প্রতিবেদনে জর্জিয়ার অবস্থান দেশের নিচের সারিতে। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যসেবায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ রাজ্যগুলোর একটি জর্জিয়া, অবস্থান ৪৯তম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নতুন জাতীয় মূল্যায়নে একেবারে নিচের সারিতে জায়গা পেয়েছে জর্জিয়া। স্বাস্থ্যসেবার খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ এবং রোগীদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম বলে জানিয়েছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব।   সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার খরচের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার অবস্থান ৩৭তম হলেও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যটি নেমে গেছে ৪৯তম স্থানে। স্বাস্থ্যগত ফলাফলে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৩তম। এসব সূচকের সম্মিলিত মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে রাজ্যটির অবস্থান হয়েছে ৪৯তম।   ওয়ালেটহাবের গবেষণায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকে তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা মানুষের হার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রতিবেদনে জর্জিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। মাথাপিছু হাসপাতালের শয্যার সংখ্যায় রাজ্যটির অবস্থান ৪২তম। মাথাপিছু চিকিৎসকের সংখ্যাতেও জর্জিয়া ৪২তম এবং দন্তচিকিৎসকের সংখ্যায় ৪৬তম।   হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কভারেজ থাকা মানুষের হারে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম। শিশুদের ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে অবস্থান ৪২তম।   তবে সব সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান একই রকম খারাপ নয়। গড় মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে রাজ্যটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান ২২তম।   ওয়ালেটহাবের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে একজন আমেরিকান বছরে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। বিপুল এই ব্যয়ের পরও দেশের সব এলাকায় সমানভাবে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। রাজ্যভেদে এসব ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা থাকা রাজ্যগুলো উচ্চমানের চিকিৎসাকে মানুষের আর্থিক নাগালের মধ্যে রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসকের বিকল্প এবং সহজে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে।   জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যটিতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস রাজ্যের জন্য ১০টি স্টেট ডিরেক্টেড পেমেন্ট কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এর লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা।   স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনতেও জর্জিয়ায় ‘জর্জিয়া পাথওয়েজ টু কভারেজ’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল সরকার কর্মসূচিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। জর্জিয়া গভর্নরের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত কর্মসূচিটির মাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছিলেন।   তবে ওয়ালেটহাবের নতুন মূল্যায়ন বলছে, এসব উদ্যোগের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ এবং ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে জর্জিয়া এখনো দেশের অধিকাংশ রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।   এবারের মূল্যায়নে দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার। শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মিনেসোটা ও আইওয়াও রয়েছে। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচের দিকের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া।   তবে এই র‌্যাঙ্কিংয়ের অর্থ জর্জিয়ার প্রতিটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের, এমন নয়। ওয়ালেটহাবের গবেষণাটি কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের মান নির্ধারণ না করে পুরো রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে খরচ, সেবা পাওয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে তুলনা করেছে। ফলে একজন রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার অবস্থান, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ, চিকিৎসার ধরন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।   তারপরও ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের হার, মাথাপিছু চিকিৎসক, হাসপাতালের শয্যা এবং দন্তচিকিৎসকের প্রাপ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান রাজ্যটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে সামনে এনেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে প্রতি ৪ জনে ১ মার্কিন নাগরিক বাধ্য হয়ে অপছন্দের চাকরি করছেন
স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে প্রতি ৪ জনে ১ মার্কিন নাগরিক বাধ্য হয়ে অপছন্দের চাকরি করছেন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন চাকরিতে আটকে আছেন, যা তারা ছেড়ে দিতে চান। তবে চাকরি হারালে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও হারানোর আশঙ্কায় তারা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার প্রয়োজনই লাখো মার্কিন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপ সেন্টার অন হেলথকেয়ার ইন আমেরিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী—সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ—শুধু নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ভয়ে অপছন্দের চাকরিতে রয়ে গেছেন। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘জব লক’ নামে অভিহিত করেছেন। ২০২১ সালে এ হার ছিল ১৬ শতাংশ, অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।  জরিপে আরও দেখা গেছে, যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বেশি, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কায় তারা চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না। আর যাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে তীব্র আর্থিক চাপ রয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেকই একই কারণে বর্তমান চাকরিতে আটকে আছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যবিমা সরাসরি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, নতুন ব্যবসা শুরু করা, ভালো চাকরির সুযোগ গ্রহণ কিংবা শ্রমবাজারে স্বাভাবিক গতিশীলতাও বাধাগ্রস্ত হয়।   ওয়েস্ট হেলথ পলিসি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট টিম ল্যাশ বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিমা ধরে রাখার জন্য মানুষকে এমন চাকরিতে থাকতে বাধ্য হওয়া, যা তারা আর করতে চান না, তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রাপ্যতা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্যসেবার খরচ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানুষের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করছে।    জরিপটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিয়োগকর্তার স্বাস্থ্যবিমার ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।  

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ এপি
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি খরচে বিপাকে সাধারণ নাগরিক, কমছে ওবামাকেয়ারের গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা হারিয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এই স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকা ২ কোটি ২১ লাখ মানুষের সংখ্যা এ বছর ১৩ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯২ লাখে দাঁড়িয়েছে। সরকারের দাবি, ভুয়া বা প্রতারণামূলক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই এই পতন ঘটেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, গত ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বীমার খরচ হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রিমিয়ামের অর্থ পরিশোধ করা আর সম্ভব হচ্ছে না।   স্বাস্থ্য গবেষণাকারী অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এসিএ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনথিয়া কক্স জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির কারণে অসংখ্য প্রকৃত গ্রাহক তাদের স্বাস্থ্যবীমার সুরক্ষা হারিয়েছেন। বীমা পরিকল্পনা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের ওপর চালানো জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ যখন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বা তিনগুণ খরচ বৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছেন, ঠিক তখনই তারা এই অপরিহার্য বীমা সুবিধা হারিয়েছেন। এপ্রিলে সংকলিত এই নতুন তথ্যে মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বিল পরিশোধে গ্রাহকদের ব্যর্থতা এবং এর প্রভাবে মোট নিবন্ধনের নিম্নমুখী প্রবণতার প্রথম সরকারি প্রমাণ পাওয়া গেছে।   এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল যে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় আট লাখ মানুষ কম ওবামাকেয়ারের জন্য নিবন্ধন করেছেন, যা গত চার বছরের মধ্যে প্রথম নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। কেএফএফ আশঙ্কা করছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে এবং তা ১ কোটি ৭৫ লাখে নেমে আসতে পারে। মেডিক্যালের জন্য যোগ্য নন অথচ কর্মক্ষম এমন মানুষদের জন্য সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী, কৃষক, খামারি এবং অন্যান্য পেশাজীবী, যাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবীমা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের কাছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিকল্প হয়ে উঠেছিল।   গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এই ভর্তুকি নবায়নের জোর দাবি জানালেও তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
এক মার্কিন নাগরিকের হাসপাতালের বিল ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকায় ২৪ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিল কমে হলো আড়াই হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২২ হাজার ডলারেরও বেশি ছাড় পাওয়ার একটি ঘটনা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ক্রমবর্ধমান প্রিমিয়ামের যুগে প্রচলিত স্বাস্থ্যবিমা আদৌ সবার জন্য লাভজনক কি না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখে স্বাস্থ্যবিমা ছেড়ে দেওয়া বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্লার্কসন লসন চলতি বছর স্বাস্থ্যবিমা না করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে জরুরি অসুস্থতায় তাকে দুই রাত হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। চিকিৎসা শেষে তার নামে ২৪ হাজার ডলারের বেশি বিল তৈরি হয়। তবে হাসপাতালটি 'সেলফ-পে' বা নিজে অর্থ পরিশোধকারী রোগী হিসেবে বিবেচনা করে বিল থেকে ২২ হাজার ডলারেরও বেশি ছাড় দেয়। শেষ পর্যন্ত তাকে পরিশোধ করতে হয় মাত্র ২ হাজার ৪৭৮ ডলার।   ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে লসন বিল দেখিয়ে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ মওকুফ করেছে। তার শেয়ার করা খাতভিত্তিক বিলে দেখা যায়, শুধু সিটি স্ক্যানের খরচ ছিল ৮ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৯৮ ডলার এবং জরুরি বিভাগের ফি ছিল ৩ হাজার ৭৩৮ দশমিক ৮২ ডলার। লসনের ভাষ্য, স্বাস্থ্যবিমা করলে তাকে প্রতি মাসে ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার প্রিমিয়াম দিতে হতো। এর পাশাপাশি ছিল ৫ হাজার ডলারের ডিডাক্টিবল। এসব হিসাব বিবেচনা করেই তিনি স্বাস্থ্যবিমা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে, অন্তত এই ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ দিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই তার জন্য কম ব্যয়বহুল হয়েছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা ব্যতিক্রম হলেও একেবারে বিরল নয়। অনেক হাসপাতাল বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এড়াতে সরাসরি অর্থ পরিশোধকারী রোগীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে। এতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যয় কমে এবং সেই সুবিধার একটি অংশ রোগীকে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ধরনের ছাড় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যদিও সব হাসপাতালের নীতি এক নয়।   তবে এই সুবিধার সঙ্গে বড় ঝুঁকিও রয়েছে। সরাসরি অর্থ পরিশোধ করলে সেই ব্যয় স্বাস্থ্যবিমার ডিডাক্টিবল বা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ব্যয়ের সীমার মধ্যে গণনা হয় না। এছাড়া বিমা কোম্পানির দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত কম দামের সুবিধাও পাওয়া যায় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা জটিল অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় কয়েক হাজার নয়, কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সেক্ষেত্রে পুরো ব্যয় রোগীকেই বহন করতে হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের 'নো সারপ্রাইজেস অ্যাক্ট' অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিমাবিহীন রোগীদের সম্ভাব্য খরচের একটি লিখিত ধারণা দিতে হয়। তবে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। যেহেতু লসনের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল জরুরি বিভাগে, তাই তিনি আগাম খরচ জানার সুযোগ পাননি এবং বিল নিয়ে আইনি আপত্তি জানানোর সুযোগও ছিল সীমিত।   নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলেন কালেকটিভ হেলথের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কৌশিক ভৌমিক। তিনি বলেন, অনেকের হতাশার মূল কারণ শুধু ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং স্বাস্থ্যবিমা ব্যবহার করাও অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। কাগজে-কলমে কভারেজ থাকলেও বাস্তবে বিল, অনুমোদন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়া রোগীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ক্রাউডহেলথের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডি স্কুনওভারও মনে করেন, অনেক হাসপাতাল রোগীদের সঙ্গে বিল নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী থাকে। তার পরামর্শ, হাসপাতালের প্রথম দেওয়া বিলই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দরকষাকষির সুযোগ থাকে।   অন্যদিকে টেক কমান্ডের প্রধান নির্বাহী জ্যাক হুপার বলেন, নগদ অর্থে চিকিৎসা কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে পারে। কিন্তু জরুরি চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে একটি পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতা মুহূর্তেই ভেঙে পড়তে পারে। কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের (কেএফএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগকর্তা-ভিত্তিক পারিবারিক স্বাস্থ্যবিমার গড় বার্ষিক প্রিমিয়াম প্রায় ২৬ হাজার ৯৯৩ ডলারে পৌঁছেছে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার গড় প্রিমিয়াম ৯ হাজার ৩২৫ ডলার। এছাড়া বিমাধারীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষের ডিডাক্টিবল ২ হাজার ডলারের বেশি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বাড়তে থাকায় সুস্থ ও কম ঝুঁকির মানুষ যদি বিমা করা ছেড়ে দেন, তাহলে বিমা ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। কারণ তখন বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে মূলত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীরাই থেকে যাবেন, ফলে ভবিষ্যতে প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একটি ভাইরাল ঘটনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিমা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। নগদ অর্থে চিকিৎসা কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হলেও জরুরি বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০