সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভেটেরানস ডে উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ২৬ স্থানে বিনামূল্যে কার ওয়াশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ২১:৮
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে নিউ জার্সির ২৬টি শাখায় বিনামূল্যে গাড়ি পরিষ্কারের সুবিধা দিচ্ছে স্পিডার্স কার ওয়াশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে নিউ জার্সির ২৬টি শাখায় বিনামূল্যে গাড়ি পরিষ্কারের সুবিধা দিচ্ছে স্পিডার্স কার ওয়াশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ভেটেরান, বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত সদস্য এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য টানা তিন দিন বিনামূল্যে গাড়ি পরিষ্কারের সুযোগ দিচ্ছে স্পিডার্স কার ওয়াশ। আগামী ৯, ১০ ও ১১ নভেম্বর অঙ্গরাজ্যটির ২৬টি শাখায় এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ভেটেরানস ডে উপলক্ষে বিশেষ সম্মান জানাতে প্রতিষ্ঠানটি এই উদ্যোগ নিয়েছে। নির্ধারিত তিন দিন শাখাগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম চলাকালে যোগ্য ব্যক্তিরা বিনামূল্যে গাড়ি ধোয়ার সুবিধা নিতে পারবেন।

 

নিউ জার্সিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের ৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুবিধা পাবেন সাবেক সামরিক সদস্য বা ভেটেরান, বর্তমানে কর্মরত সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ফার্স্ট রেসপন্ডাররা। ফার্স্ট রেসপন্ডার বলতে সাধারণত পুলিশ কর্মকর্তা, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বোঝানো হয়। তবে সুবিধা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বৈধ সামরিক পরিচয়পত্র অথবা জরুরি সেবাকর্মী হিসেবে স্বীকৃত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের পরই বিনামূল্যে গাড়ি পরিষ্কারের সুবিধা দেওয়া হবে।

 

অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্পিডার্সের ২৬টি অংশগ্রহণকারী শাখায় এই আয়োজন চলবে। এর মধ্যে রয়েছে বুড লেক, কার্টারেট, চেরি হিল, চেস্টার, ফেয়ার লন, গ্রিন ব্রুক, হ্যামিল্টন টাউনশিপ, হাসব্রুক হাইটস, হথর্ন, কিয়ার্নি, ল্যানোকা হারবার, লিটল ফেরি, লোডি, মে-উড, মেটুচেন, মিডলটাউন টাউনশিপ, মিলবার্ন, মাউন্টেন লেকস, নিউ ব্রান্সউইক, প্যাটারসন, পেনসকেন, প্লেইনফিল্ড, পিসকাটাওয়ে, স্যাডল ব্রুক ও সাউথ প্লেইনফিল্ড। ফেয়ার লনে দুটি শাখা থাকায় মোট অংশগ্রহণকারী শাখার সংখ্যা ২৬।

 

স্পিডার্স কার ওয়াশের মূল প্রতিষ্ঠান সামিট ওয়াশ হোল্ডিংসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট কেভিন ম্যাথিউস বলেন, ভেটেরানস ডে দেশের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অসাধারণ অবদানকে সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একই সঙ্গে প্রতিদিন কমিউনিটির নিরাপত্তায় কাজ করা জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ এটি। তাঁদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার ছোট একটি প্রকাশ হিসেবেই বিনামূল্যে গাড়ি পরিষ্কারের এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ১১ নভেম্বর ভেটেরানস ডে পালিত হয়। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক সদস্যদের সম্মান জানাতে দিনটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেটেরান ও বর্তমানে কর্মরত সামরিক সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, সেবা এবং বিশেষ ছাড়ের আয়োজন করে থাকে। এবার নিউ জার্সিতে স্পিডার্সের তিন দিনের উদ্যোগে জরুরি সেবাকর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

আগ্রহী ব্যক্তিরা ৯, ১০ অথবা ১১ নভেম্বর অংশগ্রহণকারী যেকোনো শাখায় গিয়ে নির্ধারিত পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সুবিধাটি নিতে পারবেন। তবে যাওয়ার আগে নিকটবর্তী শাখার অবস্থান ও কার্যক্রমের সময়সূচি স্পিডার্স কার ওয়াশের ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

 

সংবাদসূত্র: এনজে ডটকম, দ্য আমেরিকান লিজিয়ন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
অভিযুক্ত সাবেক স্বামী আর্তুরো কালসাদা বেসেরিল ও তাঁর নির্যাতনের শিকার নারী। নর্থ ডাকোটার ফার্গোতে ওই নারীকে দুই বছর আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে সাবেক স্ত্রীকে দুই বছর শেকল দিয়ে বেঁধে রাখলেন স্বামী

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের ফার্গো শহরে প্রায় দুই বছর ধরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বিছানার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভবনের এক মেরামতকর্মী ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাপা কান্না ও সাহায্যের আবেদন শুনে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে বিছানার সঙ্গে শিকল ও তালা দিয়ে আটকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করে। তাঁর সাবেক স্বামী ও আরেক নারীর বিরুদ্ধে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই নারীকে আটকে রাখার পেছনে অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভ্যালি নিউজ লাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর ফার্গোর দক্ষিণাঞ্চলের ৪৯১১, ৪৪তম অ্যাভিনিউ সাউথের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে এ ঘটনা সামনে আসে। ভবনের নিয়মিত মেরামতের কাজে যাওয়া এক কর্মী একটি ইউনিট থেকে অস্পষ্ট কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি বিষয়টি ভবন কর্তৃপক্ষকে জানান এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ একটি শোবার ঘরে ওই নারীকে দেখতে পায়। তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে ভারী শিকল ও তালা লাগানো ছিল, যার অন্য প্রান্ত বিছানার কাঠামোর সঙ্গে আটকানো ছিল। ঘরে একটি নিরাপত্তা ক্যামেরাও পাওয়া যায় এবং জানালাগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   উদ্ধার হওয়া নারী ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না। তাই ভাষান্তর সহায়তা নিয়ে পুলিশ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করে। তিনি জানান, ২০২৪ সালে তাঁর সাবেক স্বামী ৪০ বছর বয়সী আর্তুরো কালসাদা বেসেরিল তাঁকে মেক্সিকো থেকে ফার্গোতে নিয়ে আসেন। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে তাঁকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রাখা হয় এবং বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিনে মাত্র দুবার খাবার দেওয়া হতো। শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় বিছানার পাশের একটি বালতিতে তাঁকে প্রয়োজন সারতে হতো। পুলিশ শিকল খুলে তাঁকে উদ্ধার করার পর হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসার সময় তাঁর মুখ, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা।   আদালতের নথিতে ওই নারীর অভিযোগ, সাবেক স্বামী আর্তুরো এবং তাঁর বর্তমান সঙ্গী ৪১ বছর বয়সী এরেন্দিরা আমোলেস তাঁকে মারধর ও যৌন নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিছানায় চেপে ধরে নির্যাতন করার অভিযোগও করেছেন তিনি। কপালে থাকা একটি দাগের কারণ হিসেবে মারধরের কথা জানিয়েছেন ওই নারী। তদন্তকারীদের কাছে আর্তুরো দাবি করেন, ওই নারী যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আবার মাদক গ্রহণ শুরু না করেন, সে কারণে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে আমোলেস পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি প্রায়ই ওই নারীকে বিছানার সঙ্গে আটকে রাখতেন। ঘটনার দিন নিজের আট বছর বয়সী মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাওয়ার কারণেও তাঁকে শিকলবন্দি করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।   মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভুক্তভোগী নারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে আটকে রেখে অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্তরা। অর্থাৎ ওই নারীর নাগরিকত্বকে ব্যবহার করে নিজেদের অভিবাসন অবস্থান সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগপক্ষ দাবি করেছে। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার পরপরই আমোলেস তাঁর আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন। পুলিশ জানায়, আর্তুরো, আমোলেস ও ভুক্তভোগী নারী একই মেক্সিকান শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে আর্তুরো তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।   এ ঘটনায় আর্তুরো কালসাদা বেসেরিল ও এরেন্দিরা আমোলেসকে গ্রেপ্তার করে ক্যাস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ৬ নভেম্বর শুক্রবার তাঁদের আদালতে প্রথম হাজির করা হয়। ভ্যালি নিউজ লাইভের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক দুজনের প্রত্যেকের জামিনের অর্থ ৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণ ছাড়াও পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাতসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মামলায় আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। ফার্গো পুলিশ ক্যাস কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালাচ্ছে।   ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী এরিন শাওয়ার জানান, ভবনে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দেন। তাঁরা ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং আশপাশেও নজরদারি করেন। এমন পরিস্থিতিতে একই ভবনের একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে একজন নারীকে আটকে রাখা হয়েছিল, তা জানতে না পারায় তিনি বিস্মিত। আরেক বাসিন্দা রিড বার্টশও বলেন, এত দিন ধরে এমন ঘটনা চললেও কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি, যা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।   সংবাদসূত্র: ভ্যালি নিউজ লাইভ, কেএফওয়াইআর টিভি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ২১:২৪
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে নিউ জার্সির ২৬টি শাখায় বিনামূল্যে গাড়ি পরিষ্কারের সুবিধা দিচ্ছে স্পিডার্স কার ওয়াশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ভেটেরানস ডে উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ২৬ স্থানে বিনামূল্যে কার ওয়াশ

হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ার আইসের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতার নিয়মে পরিবর্তন এনেছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর অভিবাসন নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিলেন হিউস্টনের মেয়র

পিয়ংইয়ংয়ে এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে পড়াশোনা করতে যাওয়া রুশ তরুণী ডায়ানা কারাবেগোভিচ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বিদেশে পড়ার সুযোগ পেয়ে উত্তর কোরিয়াকে বেছে নিলেন রুশ তরুণী

আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য বিনামূল্যে পোশাক ও জুতা বিতরণ করছে আরবান কমপ্যাশন প্রজেক্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অসহায়দের বিনামূল্যে নতুন পোশাক দিচ্ছে ‘কমপ্যাশন থ্রেডস’

যুক্তরাষ্ট্রের ওকল্যান্ডে অসচ্ছল ও আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পোশাক, জুতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ‘কমপ্যাশন থ্রেডস’ নামের এই বিশেষ দোকানে পাওয়া যাচ্ছে নতুন ও প্রায় নতুন মানের পোশাক, জ্যাকেট, জুতা, টুপি, শিশুদের খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রী। দোকানটির বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো পণ্যের জন্য অর্থ দিতে হয় না। বরং সম্মানজনক পরিবেশে নিজেদের পছন্দমতো প্রয়োজনীয় পোশাক বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ ও পরিবার।   ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আরবান কমপ্যাশন প্রজেক্ট এই উদ্যোগ চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে থেকেই সড়ক, পার্ক ও গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসবাসের এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে পরিচিত। তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবী। আর্থিক সংকট, বাসস্থানের অনিশ্চয়তা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তর লক্ষ্য। শহরের ডাউনটাউনে ১৪২০ ব্রডওয়ে ঠিকানার একটি দীর্ঘদিনের খালি দোকানঘরে চালু হয়েছে এই নতুন কার্যক্রম।   দোকানটিতে রাখা পোশাকের বেশির ভাগই একেবারে নতুন, অনেকগুলোর সঙ্গে এখনো মূল মূল্য ও ব্র্যান্ডের ট্যাগ লাগানো রয়েছে। বাকিগুলোও প্রায় নতুন অবস্থার এবং খুব সামান্য ব্যবহৃত। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিয়া গোলাস জানিয়েছেন, মানুষ যেন বিনামূল্যে পোশাক নিতে এসে নিজেদের ছোট বা অসম্মানিত মনে না করেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই দোকানটি সাজানো হয়েছে। এখানে সুন্দর পরিবেশ, গান শোনার সুযোগ এবং সাধারণ দোকানের মতো পছন্দ করে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছে, যদিও কোনো অর্থ লেনদেন হয় না।   এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে ভালো মানের পোশাক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অবিক্রীত পণ্য ফেলে দেওয়ার প্রবণতাও কমানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির এক অংশীদার জেরেমি কাস্ত্রোর গুদামে জমে থাকা ২০ হাজারের বেশি পোশাক এই উদ্যোগের প্রাথমিক বড় সরবরাহ হিসেবে যুক্ত হয়। এসব পোশাকের কিছু তৈরি হয়েছিল বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কারি এবং সংগীতশিল্পী জি-ইজির মতো পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য। ব্যবসায়িকভাবে অবিক্রীত থেকে যাওয়া এসব পোশাক ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে মানুষের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   গত আগস্টে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দোকানটি প্রায় ১০টি বিশেষ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আয়োজকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ জন মানুষ এখান থেকে বিনামূল্যে পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী পেয়েছেন। কয়েক হাজার পাউন্ড ওজনের পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই হুডি, জ্যাকেট ও গরম পোশাক নিতে আসছেন। মা ও শিশুদের পাশাপাশি সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চাওয়া ব্যক্তিরাও এই সেবা নিচ্ছেন। এমনকি চাকরির সাক্ষাৎকারে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক না থাকা ব্যক্তিরাও এখান থেকে পোশাক সংগ্রহ করেছেন।   শুধু পোশাক বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। বে এরিয়া কমিউনিটি সার্ভিসেস নামের আরেকটি দীর্ঘদিনের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দোকানে আসা মানুষদের আবাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। দোকানের পেছনের অংশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। ফলে কেউ পোশাক নিতে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পাওয়ার পথও খুঁজে পাচ্ছেন।   প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দোকানটি পরিচালনার জন্য মূলত বিভিন্ন কোম্পানির অবিক্রীত বা অতিরিক্ত মজুত পণ্য সংগ্রহ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান থেকেও পোশাক পাওয়া যায়। ফলে পর্যাপ্ত পণ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভর করে দোকান খোলার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত বুধবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আগ্রহীদের আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ১৫ মিনিটের নির্দিষ্ট সময় নিতে হয়। একজন দর্শনার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি পণ্য বিনামূল্যে নিতে পারেন। কেটিভিইউর ৩ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১১ নভেম্বরের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়সূচি ও পণ্যের প্রাপ্যতা জানতে প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য দেখতে হবে।   এদিকে আরবান কমপ্যাশন প্রজেক্ট ২০২১ সাল থেকে ওকল্যান্ডসহ বে এরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ওকল্যান্ডের পাশাপাশি এমেরিভিল, বার্কলে, ভ্যালেজো, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসে শহরেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধভাবে ফেলে দেওয়া প্রায় ১৭ লাখ পাউন্ড বর্জ্য ও পরিত্যক্ত সামগ্রী সরানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যাঁদের অনেকে পরবর্তী সময়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন।   প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিয়া গোলাসের আশা, ওকল্যান্ডের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। শহরের অব্যবহৃত দোকানঘরগুলোকে কাজে লাগিয়ে একই ধরনের আরও কয়েকটি বিনামূল্যের পোশাককেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি তাঁদের মর্যাদা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।   সংবাদসূত্র: কেটিভিইউ ফক্স ২, আরবান কমপ্যাশন প্রজেক্ট।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ২০:৫
মাঝআকাশে সংঘর্ষের পর প্যারাস্যুট জড়িয়ে প্রাণ হারান দুই স্কাইডাইভার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাঝআকাশে দুই স্কাইডাইভারের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল দুজনের

কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের চালান

টেক্সাসগামী এনভিডিয়ার ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার মূল্যের কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের চালান উধাও

ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প, কর্মকর্তাদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ

বিএনপি নেতা মাকসুদ আটক
বাফেলোতে আইসিইর হাতে বিএনপি নেতা মাকসুদ আটক, মুক্তির চেষ্টা চলছে

নিউইয়র্কের বাফেলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযানে আটক হয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল মাকসুদ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাফেলোতে তাঁর কর্মস্থল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। ইতোমধ্যে তাঁর মুক্তির জন্য আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন স্ত্রী। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তাঁর জামিনের আবেদন করার কথা রয়েছে। এদিকে বাফেলোসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসিইর অভিযান বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   আজহারুল মাকসুদ বেশ কয়েক বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার তাঁর কর্মস্থলে আইসিইর অভিযানের সময় তাঁকে আটক করা হয়। আটকের পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাঁর মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেন। বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।   আজহারুল মাকসুদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিমউদ্দিন বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আজহারুল দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয় ছাড়া অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন জসিমউদ্দিন। তিনি জানান, মাকসুদের মুক্তি নিশ্চিত করতে পরিবারের পাশাপাশি দলীয় পর্যায় থেকেও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁকে প্যারোলে মুক্ত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী সোমবার জামিনের আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব আশা করছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাকসুদের মুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিজ নিজ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জসিমউদ্দিন। তিনি ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড ও পাসপোর্টের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী সঙ্গে রাখার কথাও বলেছেন।   এদিকে বাফেলোতে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিইর অভিযান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয় অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ইনভেস্টিগেটিভ পোস্টের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শুধু বাফেলো শহরেই আইসিই ৫১৫ জন অভিবাসীকে আটক করেছে। একই সময়ে নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলের ৪৮টি কাউন্টিজুড়ে আটকের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯০০ এর বেশি। ওই অঞ্চলে আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৭৫ শতাংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাফেলো শহরে আইসিইর হাতে আটক হয়েছেন ১ হাজার ১০০ জনের বেশি। তাঁদের প্রায় ৮৯ শতাংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এসব পরিসংখ্যান থেকে ওই অঞ্চলে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে।   নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৯০ মাইল দূরে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কাছাকাছি অবস্থিত বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অন্যতম বসতিস্থল হয়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি পরিবার সেখানে বসবাসের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাফেলোতে আইসিইর অভিযানে এর আগেও বাংলাদেশি নাগরিকদের আটকের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে স্থানীয় বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের আটক হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আজহারুল মাকসুদের পরিবার ও দলীয় নেতারা এখন তাঁর মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন। আগামী সোমবারের সম্ভাব্য জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে তাঁর পরবর্তী আইনি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৩৪
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শামীম ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন

মেলানিয়া ট্রাম্প

ফস্টার কেয়ারের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ঘোষণা করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, তহবিলে ৭২ লাখ ডলার

মেডিকেয়ার রোগীদের চিকিৎসা

মেডিকেয়ার রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া কি আরও কঠিন হচ্ছে? ২০২৭ সালে কমছে চিকিৎসকদের পেমেন্ট

0 Comments