আমেরিকাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দেশ বলা হলেও, এখনো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। অনেকেই মনে করেন, আমেরিকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো আইনি বাধা নেই, কিন্তু বাস্তবে কিছু অঙ্গরাজ্যের পুরনো আইনে এখনো এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, জর্জিয়া, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, মিশিগান এবং ওকলাহোমা সহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনো আইনে পরকীয়াকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা আছে।
বিশেষ করে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনে বলা হয়েছে, কোনো বিবাহিত ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানা বা স্বল্প মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের মামলা খুব কম দেখা যায়।
আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি শাস্তির ঘটনা বিরল হলেও পারিবারিক মামলায় এর প্রভাব অনেক বেশি। বিবাহ বিচ্ছেদের সময় আদালত পরকীয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, সন্তানের হেফাজত নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমনকি সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আইন আলাদা হওয়ায় সব জায়গায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোথাও আইন থাকলেও তা খুব কম প্রয়োগ করা হয়, আবার কোথাও পারিবারিক মামলায় এই বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলে।
তাই আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আমেরিকায় বসবাসকারী দম্পতিদের উচিত নিজেদের অঙ্গরাজ্যের আইন সম্পর্কে আগে থেকেই জানা, কারণ ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্তও কখনো কখনো আইনি জটিলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
আমেরিকাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দেশ বলা হলেও, এখনো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। অনেকেই মনে করেন, আমেরিকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো আইনি বাধা নেই, কিন্তু বাস্তবে কিছু অঙ্গরাজ্যের পুরনো আইনে এখনো এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, জর্জিয়া, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, মিশিগান এবং ওকলাহোমা সহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনো আইনে পরকীয়াকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা আছে। বিশেষ করে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনে বলা হয়েছে, কোনো বিবাহিত ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানা বা স্বল্প মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের মামলা খুব কম দেখা যায়। আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি শাস্তির ঘটনা বিরল হলেও পারিবারিক মামলায় এর প্রভাব অনেক বেশি। বিবাহ বিচ্ছেদের সময় আদালত পরকীয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, সন্তানের হেফাজত নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমনকি সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আইন আলাদা হওয়ায় সব জায়গায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোথাও আইন থাকলেও তা খুব কম প্রয়োগ করা হয়, আবার কোথাও পারিবারিক মামলায় এই বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলে। তাই আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আমেরিকায় বসবাসকারী দম্পতিদের উচিত নিজেদের অঙ্গরাজ্যের আইন সম্পর্কে আগে থেকেই জানা, কারণ ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্তও কখনো কখনো আইনি জটিলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে দগ্ধ হওয়া, আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং বিস্ফোরণের টুকরোয় আঘাত পাওয়ার মতো ঘটনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আহতদের মধ্যে প্রায় ১৮০ জন সেনাসদস্য চিকিৎসা নিয়ে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক হামলাই ঘটেছে ইরানের একমুখী বা আত্মঘাতী ড্রোন আক্রমণের কারণে। জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, এই ধরনের ড্রোন হামলাই সবচেয়ে বেশি হতাহতের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থান কেন দেখা যাচ্ছে না এ প্রশ্নের জবাবে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতাই দেশটিতে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন। ইরানি নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী দেশজুড়ে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রতিবাদ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “আপনারা একদল সন্ত্রাসীর মোকাবিলা করছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে কেউ যদি প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তবে তাকে সরাসরি গুলি করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কেন প্রকাশ্যে আন্দোলনে নামছে না, তা বোঝা কঠিন নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর ট্রাম্প ইরানি জনগণকে রাজপথে নেমে তাদের সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই আহ্বানের পরও দেশটিতে বড় ধরনের গণ-আন্দোলন দেখা না যাওয়ায় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা জানতে চান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে প্রস্তুত। জবাবে তিনি বলেন, এখনই এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় আসেনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনই নিজেকে বিজয়ী বলতে চাই না। তার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, ইরানের নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য ইরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইরানি জনগণের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সমর্থনের বার্তা হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করা হতে পারে।