আমেরিকা

ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে নতুন মোড়: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাংলাদেশ-চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’কে সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করেছে Supreme Court of the United States। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস–এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অপব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

 

এই রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
 

ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act (আইইইপিএ) ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। বাংলাদেশ প্রথমে ৩৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়ে। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তিতে শুল্ক কমে ১৯ শতাংশে আসে।

 

এর বিনিময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা, সয়াবিন এবং অন্তত চারটি Boeing বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়। তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ এই চুক্তিকে ‘অসম’ ও ‘চাপিয়ে দেওয়া’ বলে সমালোচনা করেন।

 

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে। এবার ব্যবহার করা হয়েছে Trade Act of 1974–এর ধারা ১২২, যার আওতায় ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ করা যায়।

 

আইন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রম পরিবেশ, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স, বাজারনীতি এবং তথাকথিত ‘আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস’ যাচাই করবে মার্কিন প্রশাসন। অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুল্ক কাঠামো পরিবর্তিত হলেও পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলি বহাল থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টতা এখনো মেলেনি।

 

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির অংশই বেশি। তৈরি পোশাক খাত বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে, কারণ উচ্চ শুল্কের ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেমন Walmart, Gap Inc. এবং H&M–এর ক্রয় সিদ্ধান্তে।

 

বাংলাদেশ নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন BKMEA–এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শুল্ক ইস্যু শুরু থেকেই অনিশ্চিত। ১০ শতাংশ দেওয়া হলেও সেটি কতদিন বহাল থাকবে, তা বলা যাচ্ছে না।”

 

World Bank–এর ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, তাৎক্ষণিকভাবে পুরোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনায় না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।

 

তার ভাষায়, “১৫০ দিনের এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ পরিবেশ যাচাই করবে। আমাদের উচিত শ্রমমান, পরিবেশ ও নীতিগত প্রস্তুতি আরও শক্ত করা।”

 

তিনি আরও বলেন, এত অল্প সময়ে বহু দেশের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করা মার্কিন প্রশাসনের জন্যও সহজ নয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শুল্ক কমে ১০ শতাংশ হওয়া সাময়িক সুবিধা দিলেও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কংগ্রেসের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির ওপর।

 

(সূত্র: বিবিসি বাংলা)

জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশ: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা

ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।   কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে।   প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী—     •    রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন     •    জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী     •    প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান      •    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর     •    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি)     •    পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির     •    অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী)     •    শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান     •    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান     •    তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন     •    পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান     •    বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির     •    শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু     •    নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ     •    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান     •    পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু     •    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান     •    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান     •    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি     •    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন     •    যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি     •    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন     •    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী     •    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু     •    কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু     •    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস     •    ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর     •    রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়     •    জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ     •    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী     •    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান   কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি: বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নতুন শুল্ক ঘোষণা এবং বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয় ১৯ শতাংশ। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের Supreme Court of the United States ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে।   আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি Trade Act of 1974–এর আওতায় প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।   চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কি না—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।   বিদায়ী বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।   অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। নির্বাচনের আগে চুক্তি না করে নির্বাচিত সরকারের জন্য সিদ্ধান্ত রাখা উচিত ছিল—এমন মতও প্রকাশ পেয়েছিল।   বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, সংসদীয় অনুসমর্থনের বাধ্যবাধকতার কারণে চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাই বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, “এ মুহূর্তে সরকারকে কৌশলী হতে হবে। চুক্তি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না।”   শুল্ক নীতির আইনি কাঠামো ট্রাম্প প্রশাসন আগে International Emergency Economic Powers Act ব্যবহার করে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল, যা পরে আদালত বাতিল ঘোষণা করে।   নতুন শুল্ক নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্য অনিয়ম তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।   বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত শুল্কহার পরিবর্তন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।   BKMEA–এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, “চুক্তির ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে না থাকলে ভবিষ্যতে এটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।”   রপ্তানিকারকদের মতে, ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতার চাপে পড়তে পারে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে শুল্ক পরিবর্তন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।   সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলো বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রম পরিবেশ, উৎপাদন মান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিলে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যে শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে নতুন মোড়: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাংলাদেশ-চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: এএফপি

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বেআইনি ঘোষণা: কোন বিচারকদের ভোটে বাতিল হলো ট্যারিফ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
হামলা না কূটনীতি—ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতায় ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাসের বেশি সময় আগে ইরানকে ‘চূড়ান্ত সীমা’ (রেড লাইন) নির্ধারণ করে সতর্ক করেছিলেন। সে সময় ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে দেশটিতে ‘কঠিন আঘাত’ হানা হবে এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে জানান—‘সাহায্য আসছে’। তবে ওই হুঁশিয়ারির পর বাস্তব পদক্ষেপে আর এগোননি তিনি।   জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে—যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তখনো দমনপীড়নের খবর আসছিল। এরপর ইরানের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে নীরব থাকলেও সম্প্রতি তিনি দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আবার সরব হয়েছেন। বারবার হুমকি দিয়ে বলছেন, তেহরান চুক্তিতে না এলে ‘খারাপ পরিণতি’ হবে।   পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইরান নিয়ে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি হয়তো ঘোষিত ‘রেড লাইন’ কার্যকর করতে পারেন, অথবা এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন যা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।   হামলার প্রসঙ্গ সামনে আসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকের দুই দিন পর। গত বৃহস্পতিবার গাজায় ‘শান্তি পর্যদের’ বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরান ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি না করলে মার্কিন বাহিনী হামলা চালাবে। একই সঙ্গে CNN জানায়, চলতি সপ্তাহেই হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ দিনই যথেষ্ট সময়।’   সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ইরানে হামলার পক্ষে জনসমর্থন সীমিত। একটি জরিপে ৪২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন, পক্ষে ছিলেন মাত্র ১৬ শতাংশ। আরেক জরিপে হামলার বিরোধিতা করেন ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা। Quinnipiac University-এর জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৭০ শতাংশ বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীরা নিহত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানো উচিত নয়। এমনকি রিপাবলিকানদের বড় অংশও হামলার বিরোধিতা করেছেন।   জরিপে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানে হামলা হলে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি বাড়বে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এতে বড় পরিসরের যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এখন এমন এক কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে সামরিক পদক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন তাঁর জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী—তখন ইরান প্রশ্নে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।  

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
অভিবাসী খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব—নিউইয়র্ক মেয়রকে তীব্র সমালোচনা রোগানের

অভিবাসী খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব—নিউইয়র্ক মেয়রকে তীব্র সমালোচনা রোগানের

ছবি: সংগৃহীত

গাজা পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা ট্রাম্পের

লেক টাহোর কাস্তেল পিকের তুষারময় অঞ্চলে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালাচ্ছেন, যেখানে হিমবাহ ধসের পরে বেঁচে থাকা স্কিয়ারদের নিরাপদে তোলা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় হিমবাহ ধসে ৮ জনের মৃত্যু, ৬ আহত উদ্ধার

রাজধানী হাভানায় পেট্রল পাম্পের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন একজন বয়স্ক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন চাপে কিউবা: খাদ্য–জ্বালানি সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিউবা। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতি ও চাপের ফলে দেশটির অর্থনীতি কার্যত থমকে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN।   এক দশক আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলে দেশটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। সে সময় মার্কিন পর্যটকদের ঢলে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য গতি আসে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর প্রশাসনিক নীতির ফলে কিউবা এখন জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন পদক্ষেপ এবং মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শুল্কচাপের কারণে কিউবায় তেলের সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   পর্যটন খাতে ধস জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতেও। জেট ফুয়েলের অভাবে রাশিয়া ও কানাডা থেকে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও কানাডা তাদের নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় কিউবা ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বাতিল হয়েছে বার্ষিক ‘হাবানোস সিগার উৎসব’, যা দেশটির জন্য বড় বৈদেশিক মুদ্রার উৎস ছিল। জ্বালানি সংকটে খনি প্রতিষ্ঠান শেরিট ইন্টারন্যাশনালও কার্যক্রম স্থগিত করেছে।   জীবনযাত্রা অচল প্রায় এক কোটি মানুষের দেশ কিউবায় পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটময় হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বহু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, কর্মীদের ছাঁটাই বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলো সীমিত সেবা দিচ্ছে। জ্বালানি সংকটে আবর্জনা অপসারণ বন্ধ হয়ে অনেক এলাকায় ময়লার স্তূপ জমেছে। রাতে রাজধানী হাভানার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে ডুবে থাকে।   রাজনৈতিক অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio বলেছেন, কিউবার সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে তা কমিউনিস্ট নেতৃত্বের ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়কে ঘিরেই হতে পারে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ভর্তুকিনির্ভর কিউবার অর্থনৈতিক মডেল এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।   অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট Miguel Díaz-Canel জনগণকে ‘সৃজনশীল প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে খাদ্য পরিবহন ব্যাহত হতে পারে, তাই স্থানীয়ভাবে যা উৎপাদন সম্ভব তা-ই ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।   খাদ্য সংকট তীব্রতর কিউবার অধিকাংশ খাদ্য আমদানিনির্ভর। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হিমাগার সচল রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান খাদ্য আমদানি বন্ধ করেছে। ফলে বাজারে ফল ও সবজির দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিউবা একটি গভীর মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে অর্ধশতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

গাজা পুনর্নির্মাণে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার ঘোষণা ট্রাম্পের

0 Comments