যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত সংগীত তারকা শন ‘ডিডি’ কম্বস কারাগারে এক সহবন্দির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নির্জন কারাবাসে গেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিউ জার্সির ফেডারেল কারাগার এফসিআই ফোর্ট ডিক্সে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী কম্বস বর্তমানে ৫০ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কারাগারের ভেতরে এক সহবন্দির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে কারারক্ষীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কম্বসকে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়।
এবিসি নিউজ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা ব্যুরো বন্দিদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করার নীতির কারণে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিনোদন বিষয়ক সাময়িকী এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি জানায়, সংঘর্ষটি অল্প সময়ের মধ্যেই কারারক্ষীরা থামিয়ে দেন। তবে এই ঘটনার কারণে কম্বসের সাজা বা সম্ভাব্য মুক্তির তারিখে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
শন ‘ডিডি’ কম্বস ২০২৫ সালে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যক্তিদের পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৫০ মাসের কারাদণ্ড পান। তবে যৌন পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মতো গুরুতর অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। বর্তমানে তিনি নিউ জার্সির এফসিআই ফোর্ট ডিক্স কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
ঘটনার পর কম্বসের আইনজীবী বা প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার নীতির কথা উল্লেখ করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা বলে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসে গত ৩ জুন সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আটক হন কনর রিড নামের ওই তরুণ। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টির চ্যাথামে জন্ম নেওয়া কনর রিড ২০০৭ সালে পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসার অধীনে নির্ভরশীল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আমেরিকান স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন এবং জীবনের সিংহভাগ সময় দেশটিতে কাটালেও মাত্র একবার যুক্তরাজ্যে যান। ২০১১ সালে প্রথমবার তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, বয়সের কারণে তিনি 'ড্যাকা' (DACA) কর্মসূচির আওতায় আইনি সুরক্ষা ও কাজ করার অনুমতি পান। তবে পরবর্তীতে অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদকের সরঞ্জাম রাখা এবং পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ২২ বছর বয়সে তার ড্যাকা স্ট্যাটাস নবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী তাকে ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন নাগরিক জায়লিনকে বিয়ে করেন কনর। তাদের তিন বছর বয়সী দুটি জমজ সন্তানও রয়েছে। বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের বা ‘গ্রিন কার্ড’ পেতে তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩ জুন টাম্পার ইমিগ্রেশন সেন্টারে সাক্ষাৎকার চলাকালেই চারজন আইস কর্মকর্তা তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। তাকে প্রথমে পিনেল্যাস কাউন্টি জেলে এবং পরবর্তীতে লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। আইস (ICE)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নির্দেশনায় গুরুতর ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কনর বর্তমানে এই চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন জরিপের গড় ফলাফলে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল, জুলাইয়ে সেখানে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। ভোটহাব (VoteHub)-এর ২১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের পাশাপাশি ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখন গড় হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ০.৭ শতাংশের লিড থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ০.৫ শতাংশের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মিশিগানে অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ঘিরেও পাল্টেছে পরিস্থিতি। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ১.৯ শতাংশ এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের গড় লিড দাঁড়িয়েছে ১.৮ শতাংশ। ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের প্রাথমিক সুবিধা হারিয়ে গেছে। এপ্রিলের গড়ে রিপাবলিকানরা ০.৩ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ০.৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে এপ্রিলের সামান্য রিপাবলিকান লিড জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ০.৯ শতাংশের গড় ব্যবধানে রূপ নিয়েছে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও বাজিভিত্তিক নির্বাচনী পূর্বাভাস প্লাটফর্মগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কালশি ও পলিমার্কেট -এর মতো পূর্বাভাস বাজার এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখাচ্ছে, বিশেষ করে আইওয়া ও ওহাইওর কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। অন্যদিকে মিশিগান সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাই বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ভোটের চিত্র খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।
টেক্সাসে মালবাহী ট্রেনের একটি বন্ধ কনটেইনারে ১৪ বছরের এক শিশুসহ সাত অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। কয়েক মাস ধরে চলা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্সের তদন্তের পর চলতি সপ্তাহে টেক্সাসের ডেল রিওতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ২৪ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা এমন একটি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যারা মেক্সিকো থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর পর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের আরও ভেতরে নিয়ে যেতে মালবাহী ট্রেন ব্যবহার করত। বিচার বিভাগের দাবি, চক্রটি অন্তত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ১২ মে পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। অভিযুক্ত ১১ জন হলেন ডেল রিওর কারিনা গার্সিয়া, এডসন আলেহান্দ্রো পেরেজ ও মায়রা আলেহান্দ্রা হুয়ের্তা, মেক্সিকোর সেফেরিনো হুয়ের্তা-কাসিয়াস, মারিয়া নর্মা নেরি দে মোরান, দামিয়ান হুয়ের্তা আনালুকাস ও রোসারিও ক্রিস্টাল লোপেজ-সালদানা, হন্ডুরাসের জোনাস উলোয়া-আগুইলেরা ও ফ্র্যাঙ্কলিন উইলিয়ামস আয়ালা আগুইলেরা, টেক্সাসের ঈগল পাসের এরিক হার্নান্দেজ এবং গুয়াতেমালার পাসকুয়াল রাইমুন্ডো লোয়ারকা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী কারিনা গার্সিয়া একজন ইউএস সিটিজেন। তিনি এবং মেক্সিকান নাগরিক সেফেরিনো হুয়ের্তা-কাসিয়াস এখনও পলাতক। অন্যদিকে মায়রা আলেহান্দ্রা হুয়ের্তাকে ১২ মে ডেল রিও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। গত সপ্তাহে মধ্য ও দক্ষিণ টেক্সাসে কয়েক দিনব্যাপী অভিযানে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিনিময়ে জনপ্রতি দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিত। অভিবাসী কিংবা তাদের পরিবার ও বন্ধুরা হন্ডুরাস, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা পাচারকারীদের এই অর্থ দিতেন। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ জনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি ঘটে গত মে মাসে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ দিকে অন্তত সাতজন অভিবাসীকে মেক্সিকোর আকুনিয়া থেকে টেক্সাসের ডেল রিও এলাকায় আনার ব্যবস্থা করে চক্রটি। ৯ মে তাদের সীমান্ত পার করিয়ে ডেল রিওতে ইউনিয়ন প্যাসিফিকের রেললাইনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন দুপুরে একটি ইউনিয়ন প্যাসিফিক ট্রেন সেখানে থেমে থাকার সময় পাচারকারীরা লাল রঙের বোল্ট কাটার দিয়ে একটি কনটেইনারের দরজার তালা কেটে সাতজনকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কনটেইনারটিতে কোনো ভেন্টিলেশন বা কুলিং ব্যবস্থা ছিল না। বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতর থেকেও দরজা খোলার সুযোগ ছিল না। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল ৮৮ থেকে ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে। কনটেইনারে থাকা সাতজনের একজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। ট্রেনটি পরে ডেল রিও থেকে সান আন্তোনিওর দিকে যাত্রা করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সান আন্তোনিও পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা কনটেইনারের দরজা খুলে ভেতরের অভিবাসীদের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। একজনের মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং বাকিদের কনটেইনারের ভেতরেই রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরদিন ১০ মে ট্রেনটি লারেডোর দিকে যাওয়ার পর ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলইয়ার্ডের এক কর্মী কনটেইনার থেকে একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। পরে ভেতরে ছয়জনের মরদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে সান আন্তোনিওতে রেললাইনের পাশে সপ্তম ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সাতজনের মধ্যে চারজন মেক্সিকোর এবং তিনজন হন্ডুরাসের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ বছরের শিশুটিও ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, কনটেইনারে আটকা পড়া অন্তত একজন মৃত্যুর আগে তার এক স্বজনকে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছিলেন। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্রে ১১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মৃত্যুর কারণ হওয়া অবৈধ অভিবাসী পরিবহনের ষড়যন্ত্র এবং সেই পরিবহনে সহায়তার একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জাস্টিন আর. সিমন্স শুক্রবার মামলার নতুন অভিযোগের তথ্য ঘোষণা করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্সের অধীনে একাধিক ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থা মামলাটির তদন্তে যুক্ত রয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে থাকা বিষয়গুলো এখনো কেবল অভিযোগ। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।