সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কা, গুরুত্বপূর্ণ চার লড়াইয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:১৮
Donald Trump listens as Mehmet Oz speaks
Donald Trump listens as Mehmet Oz speaks

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন জরিপের গড় ফলাফলে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল, জুলাইয়ে সেখানে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে।

 

ভোটহাব (VoteHub)-এর ২১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের পাশাপাশি ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখন গড় হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন।

 

আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ০.৭ শতাংশের লিড থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ০.৫ শতাংশের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

 

মিশিগানে অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ঘিরেও পাল্টেছে পরিস্থিতি। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ১.৯ শতাংশ এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের গড় লিড দাঁড়িয়েছে ১.৮ শতাংশ।

 

ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের প্রাথমিক সুবিধা হারিয়ে গেছে। এপ্রিলের গড়ে রিপাবলিকানরা ০.৩ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ০.৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে এপ্রিলের সামান্য রিপাবলিকান লিড জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ০.৯ শতাংশের গড় ব্যবধানে রূপ নিয়েছে।

 

তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও বাজিভিত্তিক নির্বাচনী পূর্বাভাস প্লাটফর্মগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কালশি ও পলিমার্কেট -এর মতো পূর্বাভাস বাজার এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখাচ্ছে, বিশেষ করে আইওয়া ও ওহাইওর কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। অন্যদিকে মিশিগান সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাই বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ভোটের চিত্র খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের মুক্তির জন্য বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউ অরলিন্সভিত্তিক ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের ১৭ বিচারপতির মধ্যে ১০ জন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং সাতজন বিপক্ষে মত দেন। রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা কিছু অভিবাসীর বন্ডের মাধ্যমে মুক্তি চাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ায় আটক থাকা সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের জন্য সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বন্ড হিয়ারিংয়ের অধিকার নিশ্চিত করে না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা নির্ধারণের জন্য প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা শুনানি আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই বলে আদালত মনে করেন।   রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন মামলার নিষ্পত্তি চলাকালে বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই আটক রাখার আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে আটক সব অভিবাসীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে যাঁরা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, পরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা অন্য ধরনের ইমিগ্রেশন মামলায় আটক হয়েছেন, তাঁদের আইনি পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বন্ড হিয়ারিং না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে ডিপোর্টেশনের চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে।   এই মামলার সূত্রপাত টেক্সাসে আটক তিন অভিবাসীকে কেন্দ্র করে। তাঁরা হলেন মেক্সিকোর নাগরিক ইগনাসিও সোসনাভা রদ্রিগেজ ও আলেহান্দ্রো ভিয়েগাস অ্যাঞ্জেল এবং হন্ডুরাসের নাগরিক মিগেল অ্যাঞ্জেল গোমেজ আলভারাদো। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ২২ বছরের বেশি সময় এবং অন্য দুজন ২০১১ ও ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের সন্তানও মার্কিন নাগরিক।   ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্রাফিকসংক্রান্ত ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন ওই তিন ব্যক্তি। পরে তাঁদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে দেওয়া হয়। ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করে দীর্ঘ সময় আটক রাখা সংবিধানের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করে।   প্রথমে নিম্ন আদালত তিন অভিবাসীর পক্ষে রায় দেন। বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন, বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ না দিয়ে তাঁদের আটক রাখা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। পরে জুলাই মাসে ফিফথ সার্কিটের তিন বিচারপতির একটি প্যানেলও অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। শুনানিতে বিচারক বিবেচনা করবেন, আটক ব্যক্তি সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না এবং মুক্তি পেলে আদালতে হাজির না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া চলাকালে বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখা যায়। পরে ফিফথ সার্কিটের পূর্ণাঙ্গ বিচারক প্যানেল মামলাটি পুনরায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন রায় দেওয়া হয়। এর ফলে জুলাই মাসে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিংয়ের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বাতিল হয়েছে।   সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লেখেন ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক কোরি উইলসন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তাঁদের আটক ও মুক্তির বিষয়ে কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন আইনের বিধান প্রযোজ্য। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে শারীরিক আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এই বক্তব্য আদালতের আইনি যুক্তির অংশ। বাস্তবে প্রত্যেক আটক অভিবাসীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে দেশত্যাগ করা সম্ভব কি না, সেটি পৃথক প্রশ্ন।   অন্যদিকে সাতজন বিচারক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের একজন বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করে বলেন, নির্বাহী বিভাগের আটক রাখার ক্ষমতার ওপর যথাযথ বিচারিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। আরেক বিচারক লেসলি সাউথউইক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমিত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। ভিন্নমত পোষণকারী বিচারকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় না।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের জন্য বড় আইনি সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনে বাধ্যতামূলক আটকের যে বিধান রয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত তার প্রয়োগকে সমর্থন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা নির্দিষ্ট অভিবাসীদের বন্ডে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখা আইনসম্মত।   তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করেছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টন বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত শুনানি ছাড়াই আরও বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় আটক থাকার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাঁর মতে, এর প্রভাব শুধু আটক ব্যক্তিদের ওপর নয়, তাঁদের পরিবার ও কমিউনিটির ওপরও পড়বে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলও রায়টিকে সাংবিধানিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।   রায়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ভৌগোলিক এখতিয়ার। ফিফথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের অধীনে রয়েছে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি। ফলে এই তিন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে রায়টির সরাসরি প্রভাব রয়েছে। টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক অভিবাসন বন্দিশালা অবস্থিত। অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে আটক ব্যক্তিদেরও এসব কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তাই রায়টির প্রভাব শুধু ওই তিন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি অক্টোবরেই বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশনসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে মূলত ফেডারেল অভিবাসন আইনের অধীনে বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে ফিফথ সার্কিটের শুক্রবারের রায়ে যে সাংবিধানিক প্রশ্নের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের গৃহীত মামলাটি সরাসরি সেই একই প্রশ্নের ওপর নয়। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য আদালতের রায়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা আইনগতভাবে প্রবেশের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং বর্তমানে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন, তাঁদের বন্ড হিয়ারিং পাওয়ার সুযোগ সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে সব গ্রিন কার্ডধারী, ভিসাধারী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী কিংবা আটক অভিবাসীর বন্ড পাওয়ার অধিকার একসঙ্গে বাতিল হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রবেশের ইতিহাস, বর্তমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং মামলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ।   এ ছাড়া বন্ড হিয়ারিংয়ের সুযোগ সীমিত হওয়া মানেই সব ধরনের আইনি প্রতিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটক ব্যক্তিরা ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাসের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত পথ অনুসরণ করতে পারেন। তবে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে, তা মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তাই আইসিইর হেফাজতে থাকা ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের জন্য অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার অবস্থান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   সব মিলিয়ে ফিফথ সার্কিটের নতুন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ডিটেনশন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আগের ৯০ দিনের মধ্যে বন্ড হিয়ারিং দেওয়ার নির্দেশ বাতিল হওয়ায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন আরও কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব অভিবাসীর বন্ড হিয়ারিং বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নীতির পরবর্তী অবস্থান নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ৭:৯
নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক

কুরআনের আয়াতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক, রক্ষা পেয়েছে ১৯ শিশু

সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য সার্টিফায়েড হালাল খাবার চালুর উদ্যোগ

ক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা

ট্রাম্প ও মেলানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগেই ভোট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পর ট্রাম্প জানান, তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে প্রেসিডেন্টের আগাম ভোট দেওয়া দেশটির নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   শনিবার বিকেলে ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনসের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান ট্রাম্প ও মেলানিয়া। এর আগে সকালে কাছাকাছি নিজের গলফ কোর্সে সময় কাটান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি। এ সময় তাঁর পোশাকে ‘আই ভোটেড’ লেখা একটি স্টিকার দেখা যায়।   সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন কি না। জবাবে তিনি জানান, অবশ্যই দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে গোপন ব্যালটে তাঁর দেওয়া প্রতিটি ভোট স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের কাছে নিজের ভোটের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যই এ তথ্যের ভিত্তি।   এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় গভর্নর, মার্কিন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদসহ বিভিন্ন পদে ভোট হচ্ছে। গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডসকে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড জলি। অন্যদিকে মার্কিন সিনেটের বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সন।   ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুধু নিজের ভোট দেওয়ার বিষয়েই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি বিতর্কিত নির্বাচনি বিজ্ঞাপনের পক্ষেও অবস্থান নেন তিনি। বিজ্ঞাপনটিতে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামি অ্যাকটনের ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও।   তবে ট্রাম্পের দাবি, রামাস্বামীর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন নেতিবাচক বক্তব্য দিলেও তা নিয়ে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তিনি বিজ্ঞাপনটির সমালোচনার বিরোধিতা করেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয় ব্যবহার করা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই ওহাইওর গভর্নর নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা চলছে।   এদিকে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের মার্কিন সিনেট নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের পাশাপাশি একই নামের আরেক প্রার্থী ব্যালটে থাকায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একই নামের প্রার্থীকে নির্বাচনে রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে দুর্নীতি হিসেবে বর্ণনা করে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনি ফলের সার্টিফিকেশন আটকে দেওয়ার উদ্যোগের পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি। তবে একই নামের প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে দাঁড় করানো হয়েছে, এমন অভিযোগ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ভোট দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরিতে মেলানিয়া ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে নিজের প্রশাসনের পেশাদার কর্মকর্তাদের চেয়েও দক্ষ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প।   মেলানিয়া ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোবে। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার বিষয়টি এবং তা বাস্তবে কার্যকর হওয়া এক নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যুদ্ধবিরতির শর্ত কতটা মানা হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর। মেলানিয়ার এই কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক মন্তব্য করলেও যুদ্ধবিরতির বাস্তব ফলাফল তখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।   এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় নিজের ব্যস্ততা নিয়েও কথা বলেন ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প। এক সাংবাদিক তাঁর একের পর এক সমাবেশে অংশ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলে ট্রাম্প জানান, টানা প্রচারণা চালানো শারীরিকভাবে কঠিন। তবে তিনি বলেন, এবার নিজের জন্য নয়, অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ নন, কিন্তু তাঁদের নির্বাচিত করতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।   ভোট দেওয়ার পর একই দিন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন ট্রাম্প। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন জোগানো তাঁর প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনের পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও তাঁর প্রশাসনের নীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   এদিকে আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোটের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অতীতে ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অথচ আগের বিভিন্ন নির্বাচনে নিজেও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। এবার অবশ্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সরাসরি আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোট আলাদা পদ্ধতি। ভোটগ্রহণের দিন উপস্থিত না থেকেও আগে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে।   আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত, অন্যদিকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যেই ফ্লোরিডায় স্ত্রী মেলানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিলেন ট্রাম্প। ভোটকেন্দ্র থেকেই দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন, নির্বাচনি বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ২:৪২
টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে ২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে প্রবেশমূল্য মওকুফ থাকবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে বিশেষ উপহার, যুক্তরাষ্ট্রের সব ন্যাশনাল পার্কে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ

২৫ বছর বন্ধ থাকার পর নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ইডেনওয়াল্ডের প্রবীণদের সেবাকেন্দ্র পুনরায় চালু হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২৫ বছর পর খুলল নিউ ইয়র্কের প্রবীণ সেবাকেন্দ্র, উদ্বোধন করলেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা ও সম্পত্তিকরের ব্যয় গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বার্ষিক খরচ ছাড়াল ১৬ হাজার ডলার

নিউ জার্সির ফেয়ারফিল্ডে অবস্থিত আল-গাজালি জুনিয়র/সিনিয়র হাইস্কুল। শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর আবেদন নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৯০ শিক্ষার্থীর অনুমোদন, পড়ছে ৩১৩ জন, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন চায় নিউ জার্সিয়ার ইসলামি স্কুল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি বেসরকারি ইসলামি স্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রয়েছে। তবে অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও সম্প্রসারণের আবেদন নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা চলছে। এসেক্স কাউন্টির ফেয়ারফিল্ড টাউনশিপে অবস্থিত আল-গাজালি জুনিয়র/সিনিয়র হাইস্কুলে বর্তমানে ৩১৩ জন শিক্ষার্থী পড়ছে, যদিও আগে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ৯০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়িয়ে ৪০০ করার অনুমতি চেয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শনে তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল বন্ধ করার মতো কোনো ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তবে অনুমোদিত সীমা অতিক্রমের ঘটনায় স্কুলটিকে নিয়মভঙ্গের নোটিশ ও সমন জারি করা হয়েছে।   গত ১৩ অক্টোবর ফেয়ারফিল্ড টাউনশিপের পরিকল্পনা বোর্ডের শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসে। নিউ জার্সির ইসলামিক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হায়াত জালুদি বোর্ডকে জানান, স্কুলটিতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীসংখ্যা ৯০ থেকে বাড়িয়ে ৪০০ এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪৬ জন করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় এত শিক্ষার্থী কীভাবে ভর্তি করা হলো, তা নিয়ে বোর্ডের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তে অনুমোদিত শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানো যায় না।   শুনানিতে হায়াত জালুদি বলেন, ওয়েন শহরের আগের ক্যাম্পাস থেকে ফেয়ারফিল্ডে স্থানান্তরের সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন এড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বর্তমান শিক্ষার্থীসংখ্যা নিয়ে কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর ভাষ্য, একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি মনে করেছিলেন, ভবনটির শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠদান করা সম্ভব। তবে বোর্ডের সদস্যরা জানান, ভবনে জায়গা থাকলেও নির্ধারিত সীমার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করার আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। জালুদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁরা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।   শুনানির পরদিন, ১৪ অক্টোবর, টাউনশিপের অগ্নিনিরাপত্তা কর্মকর্তা স্কুল ভবন পরিদর্শন করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রায় ৪২ হাজার বর্গফুটের ভবনটিতে বর্তমান উপস্থিতির কারণে জরুরি ভিত্তিতে স্কুল বন্ধ করার মতো কোনো আসন্ন অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তবে এই পরিদর্শনের ফল শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর অনুমোদন হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি এবং আগের অনুমোদনের অন্যান্য শর্ত না মানার কারণে স্কুলটিকে নোটিশ ও সমন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও পৌর আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথে এগোবে।   স্কুলটির শিক্ষার্থীসংখ্যা ৯০ জনে সীমিত রাখার শর্তটি ২০১৯ সালে ভবনটিতে পরিচালিত আগের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। চলতি বছর ইসলামিক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনও একই শর্তে সেখানে স্কুল চালুর অনুমতি পায়। প্রতিষ্ঠানটি জুলাইয়ে নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। ইংরেজি, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে স্কুলটি। ফাউন্ডেশনটি ১৯৮৪ সালে আল-গাজালি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছে।   স্কুলটির কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও মতামত উঠে এসেছে। শুনানিতে কেউ কেউ আশপাশের সড়কে যানজট, শিক্ষার্থীদের পাসাইক অ্যাভিনিউ পারাপার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়াদান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। শুনানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু মন্তব্যে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেখা যাওয়ায় টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ ইউটিউবে ভিডিওটির মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিসহ বৃহত্তর দর্শকের কাছে এসব মন্তব্য পৌঁছানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   আল-গাজালি স্কুলের শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়ানোর আবেদন এখনো অনুমোদন পায়নি। ফেয়ারফিল্ডের পরিকল্পনা বোর্ডে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ নভেম্বর। ওই শুনানিতে স্কুলের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলবে। ততদিন প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত শিক্ষার্থীসংখ্যা নিয়ে বিরোধ এবং নিয়মভঙ্গের বিষয়টি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকবে।   সূত্র: ফেয়ারফিল্ড টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ, ফক্স ৫ নিউইয়র্ক এবং ইসলামিক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২২:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও ওয়াশিংটনে নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে

জীবনযাত্রার ব্যয় ও চকোলেটের উচ্চমূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে ক্যান্ডি বিক্রি কমেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে হ্যালোইন ক্যান্ডি বিক্রি, পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অন্তত ৮০ কোটি ডলারের সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্কের ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ১৩০০ ভুক্তভোগীকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে নিউ ইয়র্কের চার্চ

0 Comments