ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার পেছনে।
তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত উন্নত ইন্টারসেপ্টর এবং বিভিন্ন ধরনের মিউনিশনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। কংগ্রেসে আলোচনার সময় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযান চালিয়ে যেতে হলে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে হবে।
মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌযান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা ধ্বংস হওয়ায় ইরানের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা কমে গেছে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার
জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ৯০ শতাংশ কমেছে এবং ড্রোন হামলা কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এখনও ইরানের হাতে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এবং দেশটির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষত আছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তেলের দামে সাময়িক বৃদ্ধি বড় কোনো বিষয় নয়। তার ভাষায়, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি ছোট মূল্য। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াই এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল–এর ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা প্রায় ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ১৫.২৭ ডলার বা ১৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬.১৭ ডলারে ওঠে। সেশনের শুরুতে ডব্লিউটিআইয়ের দাম একসময় ১১১.২৪ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৩৫.৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু তেল স্থাপনার ক্ষতি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে তেলের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তার ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এদিকে এএনজেড ব্যাংক–এর সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উৎপাদক দেশে গুদামে তেল জমে যাওয়ায় উৎপাদন কমানো হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক তেলকূপ বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সংঘাত শেষ হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে, যার ফলে দীর্ঘ সময় তেলের দাম উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে। সূত্র: দ্য হিল
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দ্বন্দ্বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে, যেখানে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (AAA)-এর তথ্যমতে, শুক্রবার নাগাদ সাধারণ গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় মূল্য প্রতি গ্যালন ৩.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক সপ্তাহের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪.৩৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে মার্কিন তেলের চাহিদা বেড়েছে, যার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোতেও খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্য-পশ্চিম (Midwest) এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন। জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ 'সুইং স্টেট'-এর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতারাতি জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন শুধু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি বের করছেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তার প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা উদাসীনতা প্রকাশ করে বলেন, "দাম যদি বাড়ে, তবে বাড়ুক।" তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুদ্রাস্ফীতির চাপে থাকা ভোটারদের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামনে আরও কঠিন সময় আসছে। গ্যাসবাডি (GasBuddy)-র বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৩.৫০ থেকে ৩.৭০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে সাধারণত জ্বালানির চাহিদা বেশি থাকে, যা দামকে আরও উসকে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়, যার ফলে খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে আসবাবপত্র—সবকিছুর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিতর্কিত মন্তব্য নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি অংশ হলো ইরানের বিশাল তেল মজু নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সংঘাত দ্রুত লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গোলান মালভূমি এবং বাগদাদে হামলার খবর পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল এনার্জি ডমিনেন্স কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক জ্যারড অ্যাজেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের বিশাল তেলের মজুদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণকে আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজু রাখে এবং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়েছে। কিছু ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বীমা কোম্পানিগুলোও কভারেজ প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন শুধুমাত্র ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক জোট এতে জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। চীনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ, উত্তর কোরিয়ার সমর্থন এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিলিশিয়া গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, মানবিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ততই বেড়ে যাবে। সূত্র: ওয়াশিংটন হেরাল্ড