সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বন্ধুহীন ট্রাম্প! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাশে নেই ন্যাটো ও যুক্তরাজ্য

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২৯, ২০২৬ ২৩:২৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না।

 

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না।

 

তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়।

 

সূত্র: আল জাজিরা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খ্রিস্টা পাইক। ছবি: সংগৃহীত
২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি

খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য টেনেসি। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত পাইক বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী।   নাশভিল, টেনেসি: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী খ্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আগামী বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকর করার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।   ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন পাইক। তারা দুজনই নক্সভিলের জব কর্পসে পড়াশোনা করতেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইক মনে করতেন স্লেমার তার প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে পাইক ও তার প্রেমিক টাডারিল শিপ স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করেন।   হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার নৃশংসতা, জড়িতদের অল্প বয়স এবং নিহতের শরীরে শয়তানবাদ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতীক খোদাই করার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। মামলায় শিপ স্বীকার করেছিলেন যে তিনিই স্লেমারের শরীরে পেন্টাগ্রাম বা পাঁচকোণা তারকা আকৃতির প্রতীকটি খোদাই করেছিলেন।   পাইক তার অপরাধের দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাদের দাবি, শৈশব থেকেই পাইক গুরুতর নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়।   পাইকের আইনজীবী স্টিফেন ফেরেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই পাইক যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণের সময় বিচারকদের সামনে তার শৈশবের এসব পরিস্থিতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথেষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।   ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনে পাইক নিজের অপরাধের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি তখন মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী ছিলেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বুঝতে তার অনেক বছর লেগেছে। তিনি স্বীকার করেছেন, তার কর্মকাণ্ডে একটি পরিবারের সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হারাতে হয়েছে।   পাইকের আইনজীবীরা আরও বলছেন, বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও শৈশবের মানসিক আঘাতের প্রভাব সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা যায়। তাদের মতে, অপরাধের সময় পাইকের বয়স এবং তার শৈশবের পরিস্থিতি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কারণ হওয়া উচিত।   মামলায় পাইকের প্রেমিক টাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তার প্যারোলের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। আরেক কিশোর সহযোগী হিসেবে দায় স্বীকার করে পরীক্ষামূলক মুক্তির সাজা পেয়েছিল।   টেনেসির গভর্নর বিল লি সোমবার জানিয়েছেন, তিনি পাইকের সাজা মওকুফ করবেন না। এর পর পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে টেনেসি সুপ্রিম কোর্টও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ বন্ধ করেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি নিয়ে পাইকের করা চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।   এদিকে নিহত কোলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মেয়ের মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছেন। তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোলিন মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান এবং বড় হয়ে ওঠার সুযোগ পাননি। মার্টিনেজ জানান, তার মেয়ে স্পেশাল অলিম্পিকসে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন, রোলার স্কেটিং পছন্দ করতেন এবং কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার পেশাগত স্বপ্ন ছিল।   কোলিনের হত্যাকাণ্ড নক্সভিল শহরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তাকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং বড় একটি পাথর বা অ্যাসফল্টের টুকরা দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের তথাকথিত ‘স্যাটানিক প্যানিক’ বা শয়তানবাদ নিয়ে সামাজিক আতঙ্কের আলোচনাকেও উসকে দিয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা তুলনামূলকভাবে বিরল। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ জন নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ওই সময়ের মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ১ শতাংশ। ২০২৩ সালে মিসৌরিতে অ্যাম্বার ম্যাকলাফলিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার লিসা মন্টগোমেরির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, যা প্রায় সাত দশকের মধ্যে কোনো নারী ফেডারেল বন্দির প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল।   ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের হিসাবে, আধুনিক মৃত্যুদণ্ডের যুগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য ২৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। তবে এই বয়সসীমার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বর্তমানে ক্রমেই বিরল হয়ে এসেছে। পাইক ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। তার মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর হলে টেনেসির ইতিহাসে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার (DPIC)

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ২০:৪৯
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াই ৪ বছরের এলেনার

সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াই ৪ বছরের এলেনার

নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী

নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধ র্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ শিক্ষার্থী

মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু

মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু

নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় মামদানির উদ্যোগ, রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় মামদানির উদ্যোগ, রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ

নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়। এই বাস্তবতায় ২০২৬ অর্থবছরে শহরজুড়ে ১৮ হাজার ২৬১টি গাছ লাগানোর তথ্য জানিয়েছে পার্কস বিভাগ - ২০১৬ সালের পর এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।    সিটি কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন গাছের বেশির ভাগ লাগানো হয়েছে প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে। তালিকায় আছে ব্রাউনসভিল, মট হেভেন, ইস্ট হারলেম ও সাউথ ওজোন পার্ক। ব্রাউনসভিল ও ইস্ট হারলেমে গরমের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য এ বছর নতুন শীতল আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।    কেন এসব এলাকায় গাছ জরুরি, তার ব্যাখ্যা মিলেছে সিটির কম্পট্রোলারের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের সব এলাকায় গাছের ছায়া সমান নয়। সাউথ ব্রঙ্কস ও সেন্ট্রাল ব্রুকলিনের কিছু এলাকায় গাছের আচ্ছাদন কম, আর সেখানে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি।    তবে গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়লেই দ্রুত বেশি ছায়া মিলবে, এমন নয়। কম্পট্রোলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরে গাছের আচ্ছাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আগে লাগানো গাছের বেড়ে ওঠা। নতুন গাছ টিকিয়ে রাখতে প্রথম কয়েক বছর নিয়মিত পানি দেওয়া, মাটি ও গোড়ার পরিচর্যা জরুরি। পরিচর্যায় কর্মী ও অর্থের ঘাটতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।    নিউইয়র্কের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের ৩০ শতাংশ জমি গাছের ছায়ার আওতায় আনা। তাই ১৮ হাজার গাছ লাগানোর পরের প্রশ্ন হলো - গাছগুলো কতটা টিকে থাকবে এবং যেসব পাড়ায় ছায়ার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেখানকার বাসিন্দারা কতটা সুফল পাবেন। 

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৮:১২
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস কর্মকর্তাকে গুলি করে হ ত্যা, কয়েক মিনিটেই শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার গৃহহীন, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি

নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার গৃহহীন, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি

নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা

আকাশছোঁয়া আবাসন ব্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন তাদের পরিচিত প্রতিবেশী শহর ফিলাডেলফিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মেট্রো এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ৮ লাখ ৩২ হাজার ডলার।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে মাত্র ৯০ মাইল দক্ষিণের শহর ফিলাডেলফিয়ায় একটি বাড়ির দাম গড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার। প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ডলারের এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই নিউইয়র্কারদের কাছে ফিলাডেলফিয়া এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।   রেডফিনের তথ্যমতে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার খোঁজ করেছেন ২৭ হাজার ১৪৩ জনেরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো শহরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শহরত্যাগের হার, যেখানে ২৮ হাজার ৬৫২ জনের শহরত্যাগের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস।   তবে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে ফিলাডেলফিয়ার পাশাপাশি ফ্লোরিডাও দারুণ জনপ্রিয়। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, মিয়ামি ও টাম্পার মতো রৌদ্রোজ্জ্বল শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিউইয়র্ক থেকে পাড়ি জমাচ্ছেন।   রাজ্য হিসেবেও ফ্লোরিডা এখন স্থানান্তরের শীর্ষে রয়েছে; দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৩৮ হাজার ৯২২ জন মানুষ সেখানে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা পরবর্তী তিনটি জনপ্রিয় রাজ্য অ্যারিজোনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেনেসির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে, রাজ্যভিত্তিক শহরত্যাগের হারে ক্যালিফোর্নিয়ার পরই নিউইয়র্কের অবস্থান।   মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমানে ঘরে বসে বা হাইব্রিড মডেলে কাজের সুযোগ প্রসারিত হওয়ার কারণেই আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের রাজ্য ছেড়ে সস্তা ও দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পাড়ি জমানোর এই নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে।   রেডফিন জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীদের ১৮.৭ শতাংশই নিজেদের বর্তমান মেট্রো এলাকার বাইরে বাড়ি খুঁজছেন, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও বাসা খোঁজার এই প্রবণতা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বাড়ি কেনার হার ধীর হওয়ায় বাস্তব স্থানান্তরের সংখ্যা এখনো মহামারি চলাকালীন সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৬:১৬
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির যুব নেতৃত্ব পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি তাহমিদ

নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, কাজ করছেন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা

নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, কাজ করছেন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার

0 Comments