যুক্তরাজ্যের উত্তর ইংল্যান্ডের অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডে অনুষ্ঠিতব্য একটি উপনির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাধারণ একটি কমিউনিটি সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ভোটের ফলাফল ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৭৬ হাজার ভোটারের এই আসনে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার খুব ছোট একটি অংশ, আনুমানিক ০.১ শতাংশ ভোটারই পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করতে পারেন স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং লেবার পার্টির দিকনির্দেশনা। অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড, উত্তর ইংল্যান্ডের এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। গত নির্বাচনে এই অঞ্চলের ২৫টির মধ্যে ২৪টি আসন জিতে নিয়েছে রিফর্ম ইউকে, যা লেবার শিবিরে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করছে লেবার সমর্থক শিবির। তিনি আগামীতে পার্লামেন্টে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন এবং তার সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি না হওয়ায় তিনি সরাসরি লেবার নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। তবে এই উপনির্বাচনে জয় পেলে তার জন্য সেই পথ খুলে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনে নীতি পরিবর্তন, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দ্বিধা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। একাধিক মন্ত্রী ইতোমধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রিফর্ম ইউকে, যা জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে, লেবার ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সবুজ দল এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও ঐতিহ্যগত লেবার ভোট বিভক্ত করছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনেকে “কিং অব দ্য নর্থ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন কার্যকর স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার কেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে “ম্যানচেস্টারিজম” নামে একটি বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক মডেল প্রস্তাব করছেন। এই ধারণার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অর্থনীতির পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এই আসনের অন্তর্ভুক্ত ছোট ছোট শহরগুলো দীর্ঘদিন ধরে কয়লা খনি, ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে গত কয়েক দশকে এসব শিল্প প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অংশ নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। এলাকাটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের এবং উচ্চ হোমওনারশিপের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভোটার বেস, যেখানে ব্রেক্সিট-সমর্থন এবং অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক আচরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা এবং মূলধারার দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে। কেউ কেউ রিফর্ম ইউকের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে লেবার ও কনজারভেটিভ উভয় দলকেই দায়ী করছেন। এই বিভাজনের মধ্যেই বার্নহ্যাম এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকের প্রার্থী রবার্ট কেনিয়ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে উভয় প্রার্থীই গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপনির্বাচন কেবল একটি স্থানীয় ভোট নয়, বরং যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং স্টারমারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ফলাফল যাই হোক, এই ভোটকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সের (টুইটার) মতো প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দ্রুতই এই নজিরবিহীন ও কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা দেবেন। সরকারি মহলে এই নতুন পদক্ষেপটিকে অস্ট্রেলিয়ার জারি করা আইনের চেয়েও কঠোর বা ‘অস্ট্রেলিয়া প্লাস’ মডেল হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য অনলাইন পণ্য এবং গেমিং অ্যাপের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি জারি করা হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় বিভিন্ন অনলাইন গেমের ভেতর থাকা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বা চ্যাট করার সুযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী বড় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাত সাড়ে আটটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটানা স্ক্রোলিং করার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতিকর ও আসক্তি তৈরি করে এমন কনটেন্ট থেকে দূরে রাখা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ থেকে রক্ষা করাই এই কঠোর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোর-কিশোরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির রোমান্টিক কিংবা যৌন উদ্দীপক চ্যাটবটগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারের একটি সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের অর্ধেক বা আংশিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে আইনটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে ব্রিটিশ সরকারকে নতুন করে আইন প্রণয়ন করতে হতে পারে। যদিও দেশটির বিদ্যমান শিশু কল্যাণ ও বিদ্যালয় আইনের অধীনে মন্ত্রীদের ইতিমধ্যেই কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে একই ধরনের আইন কার্যকর করে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স, রেডিট, থ্রেডস, স্ন্যাপচ্যাট ও টুইচসহ ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাজ্যও ঠিক একই তালিকায় থাকা অ্যাপগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির শতকরা ৯০ ভাগ অভিভাবকই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার এই সরকারি উদ্যোগকে জোরালোভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ সমাজও স্বীকার করেছে যে, অনলাইনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলো বন্ধ করে দিলে তারা ইন্টারনেটে আরও বেশি নিরাপদ থাকবে। দেশটির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো শতভাগ জাদুকরী সমাধান নয়, তবে এটি কম বয়সী শিশুদের আবেগীয় ও মানসিক সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ষোলো বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এই গণ-নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে একে বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। আমেরিকার এই প্রবল আপত্তি ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই কঠোর নিয়ম বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঢালাওভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ না করে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ওপর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। তাদের দাবি, বয়স নির্ধারণের বর্তমান প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয় এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে মার্কিন আপত্তির জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের সরকার অন্য কোনো দেশের চাপ নয়, বরং দেশের পরিবারগুলোর ভবিষ্যতের জন্য যা সঠিক তা-ই করবে। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডালও মার্কিন আপত্তির মুখে অনড় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশের শিশুদের সুরক্ষায় যা করা উচিত, তা থেকে তাকে কোনোভাবেই বিচ্যুত করা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার আদলে অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্ষতিকর ও আসক্তি তৈরি করা ফিচারের ওপর কারফিউ জারির মতো বিকল্পগুলোও এখন ব্রিটিশ সরকারের টেবিলে রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আয়োজিত সরকারি মতামত জরিপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নাগরিক অংশ নিয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাড়াজাগানো ঘটনা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবকই শিশুদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সমর্থন করেছেন। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনখও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড়দের জন্য, শিশুদের জন্য নয়।
ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না। বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথকে মাইনমুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না; এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো শুরুতে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া। স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না। তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়। সূত্র: আল জাজিরা
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত। শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।