সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জোহরান মামদানি

নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৭০ হাজার বিনামূল্যের অপেরা টিকিট দেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সুখবর, বিনামূল্যে ৭০ হাজার অপেরা টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে অপেরা উপভোগ করার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। জীবনে যারা কখনো অপেরা পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য 'অপেরা ফর অল' বা সবার জন্য অপেরা শীর্ষক নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে মামদানি প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কবাসীদের মাঝে ৭০ হাজার ফ্রি অপেরা টিকিট বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএবিসি টিভি।   বৃহস্পতিবার মেয়র জোহরান মামদানি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কালচারাল অ্যাফেয়ার্স কমিশনার দিয়া ভিজ যৌথভাবে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির অধীনে মেট্রোপলিটন অপেরার সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শহর কর্তৃপক্ষ ২০২৬ থেকে ২০২৭ মৌসুমের জন্য চলতি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি মাসে লটারির মাধ্যমে ১০ হাজার টিকিট বিনামূল্যে প্রদান করবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি বলেন, এই শিল্পমাধ্যমটি সবার দেখার জন্য তৈরি হয়েছে, কেবল যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তাদের জন্য এটি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর এই আসনগুলোতে বসার, এই কণ্ঠস্বরগুলো শোনার এবং এই মঞ্চের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত।   এই বিনামূল্যের টিকিট পেতে আগ্রহীরা অন ডট এনওয়াইসি ডট গভ স্ল্যাশ অপেরা (on.nyc.gov/opera) ওয়েবসাইটে বা মেট অপেরা অ্যাপের মাধ্যমে লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই লটারিটি শুধুমাত্র তাদের জন্যই উন্মুক্ত, যারা ২০১৯ সালের পর থেকে মেট অপেরার কোনো টিকিট কেনেননি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, থিয়েটারের সব প্রান্তেই টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে, যার মধ্যে দাঁড়িয়ে দেখার স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত।   চলতি মৌসুমে যেসব বিখ্যাত পরিবেশনা মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ম্যাকবেথ, লিংকন ইন দ্য বার্ডো এবং লা বোহেম।   শিল্প ও সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মেয়র মামদানির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন ঘোষণা দেওয়া হলো। এর আগে গত গ্রীষ্মে থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে এবং স্বল্প মূল্যে ব্রডওয়ে ও অফ ব্রডওয়ে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। মেট্রোপলিটন অপেরা বা দ্য মেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আগামী সব মৌসুমেও অপেরা ফর অল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে শহরের সাবওয়েতে ভ্রমণ করছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মামদানির সঙ্গে সাবওয়ে ট্রেনে ঘুরলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে শহরের সাবওয়েতে ভ্রমণ করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। বুধবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির নিউইয়র্ক আইরিশ সেন্টার পরিদর্শনের পর তারা একসঙ্গে সাবওয়েতে ওঠেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন মার্টিন।   নিউইয়র্ক আইরিশ সেন্টারে গিয়ে দুই নেতা আইরিশ-আমেরিকান প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটান এবং সাপ্তাহিক বিঙ্গো খেলায় অংশ নেন। পরে কয়েক ব্লক হেঁটে তারা সাবওয়ে স্টেশনে যান। সেখানে সাতটি স্টেশন পর্যন্ত একসঙ্গে ট্রেনে ভ্রমণ করেন মামদানি ও মার্টিন। এ সময় কয়েকজন নিউইয়র্কবাসী তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।   সাবওয়ে যাত্রার সময় নিউইয়র্ক ও আয়ারল্যান্ডের আবাসন সংকট নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। মার্টিন জানান, আয়ারল্যান্ডে আবাসন সংকট তাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। মামদানিও বলেন, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিউইয়র্কে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েও তিনি কথা বলেন।   আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবিত মেট্রোলিংক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। মার্টিন জানান, প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টানেল নির্মাণের বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে আয়ারল্যান্ডের। অন্যদিকে মামদানিকে আয়ারল্যান্ডে অল-আয়ারল্যান্ড ফাইনাল দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান মার্টিন।   সাবওয়ে যাত্রায় আইরিশ ঐতিহ্য ও নিউইয়র্কের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সম্পর্কও উঠে আসে। মার্টিন মামদানিকে গ্যালিক অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন বা জিএএ-এর ইতিহাস সম্পর্কে জানান। এই সফরকে নিউইয়র্ক ও আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবেও তুলে ধরেছে আইরিশ সংবাদমাধ্যম।   এ সময় আয়ারল্যান্ডের ঐক্য নিয়েও মামদানিকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আইরিশ জনগণের এবং তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণের নীতিতে বিশ্বাস করেন। তবে তাদের নিউইয়র্কের সাক্ষাতের মূল আলোচনায় ছিল আবাসন, পরিবহন, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং নিউইয়র্কে আইরিশ কমিউনিটির ভূমিকা।   সূত্র: দ্য জার্নাল

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ফুটপাতে গৃহহীনদের গড়ে তোলা শিবিরের বিষয়ে নতুন পদ্ধতি ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গৃহহীন শিবির নিয়ে মমদানির নতুন নীতি, পুলিশের ভূমিকা বদল

নিউইয়র্কে ফুটপাত ও জনসমাগমস্থলে গড়ে ওঠা গৃহহীনদের শিবির নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব শিবির নিয়ে ৩১১ নম্বরে অভিযোগ এলে সরাসরি পুলিশ পাঠানোর পরিবর্তে বিষয়টি সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসের কাছে পাঠানো হবে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করা হয়েছে।    নতুন ব্যবস্থায় কোনো পুলিশ অফিসার গৃহহীনদের শিবিরের মুখোমুখি হলে সেটি নিয়ে রিপোর্ট করে হোমলেস সার্ভিসেসকে জানাবেন। এরপর শহরের আউটরিচ কর্মীরা সেখানে গিয়ে গৃহহীন ব্যক্তিদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রমে লক্ষ্য হচ্ছে শুধু শিবির সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সেখানে থাকা মানুষদের প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করা।   মামদানির প্রশাসন এর আগে জানিয়েছিল, গৃহহীনদের শিবির সরানোর ক্ষেত্রে আগের প্রশাসনের পদ্ধতির পরিবর্তে আউটরিচ ও সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। জুলাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানিয়েছিলেন, কোনো শিবির নোটিশ পাওয়ার পর সেটি সরানোর আগে সাত দিন পর্যন্ত সময় থাকবে এবং ওই সময়ে সিটির কর্মীরা সেখানে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন।    তবে নতুন পুলিশ নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের মতামতধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সরাসরি ভূমিকা কমে যাওয়ায় কিছু গৃহহীন শিবির দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই প্রতিবেদনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিবিরের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব বক্তব্য মূলত প্রতিবেদনের মতামত ও সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে এসেছে, প্রশাসনের স্বীকৃত মূল্যায়ন হিসেবে নয়।    নিউইয়র্কে গৃহহীনতার সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ২০২৬ সালের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে গৃহহীনদের জন্য আবাসন ও সেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামদানি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১২ হাজার ৪৯১টি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বা সংরক্ষণের জন্য অর্থায়ন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ২ হাজারের বেশি ইউনিট আগে গৃহহীন থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। একই সময়ে ৯ হাজার ৯৭০ জনকে সাশ্রয়ী আবাসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৭০ জন আগে গৃহহীন ছিলেন।    প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গৃহহীনদের জন্য কম বাধাসম্পন্ন আশ্রয়ব্যবস্থা, বিশেষায়িত সহায়তা এবং স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বাড়ানোর কথাও রয়েছে। শহরের নথি অনুযায়ী, জটিল মানসিক স্বাস্থ্য, মাদক ব্যবহার বা অন্যান্য গুরুতর প্রয়োজন থাকা গৃহহীনদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।    এদিকে নিউইয়র্কে নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, লোয়ার ম্যানহাটনের ১০০ গোল্ড স্ট্রিট এলাকায় প্রায় ৪ হাজার নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী ও রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।    গৃহহীন শিবির ব্যবস্থাপনায় পুলিশের ভূমিকা কমিয়ে সামাজিক সেবা ও আউটরিচ কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানোর এই পদ্ধতি নিউইয়র্কের চলমান হোমলেসনেস নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সিটির আউটরিচ কার্যক্রম, আশ্রয়ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার অগ্রগতির ওপর।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী

দুর্নীতি এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে বুধবার গ্র্যাসি ম্যানশনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। ম্যানহাটনে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রাতঃরাশে সানচেজের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।   স্পেনে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উদারনৈতিক নীতির প্রশংসা করে মামদানী সানচেজকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষাকারী এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ওপর আস্থা ফেরানোর অন্যতম কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেন।   তবে স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সানচেজের এমন উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরার সময় মামদানী এটা এড়িয়ে গেছেন যে, স্পেনের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই বামপন্থি নেতার প্রতি অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে চলতি বছর ৪৮ ঘণ্টার একটি অভিবাসী সংকট সামলাতে তার প্রশাসনের ব্যর্থতার পর এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে, যখন প্রায় ৬০ হাজার মরোক্কান অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের সেউতায় প্রবেশ করে।   এছাড়া সানচেজের পরিবার এবং তার দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। আইরিশ টাইমসের মতে, প্রভাব খাটানো এবং সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে তার স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সানচেজের ছোট ভাই ডেভিড সানচেজকে সম্প্রতি সরকারি সংগীত বিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পদে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় তাকে নয় বছরের জন্য সরকারি যেকোনো পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।   পাশাপাশি, ইসরায়েল থেকে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতদের নিষিদ্ধ করার পর সানচেজ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, যাকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় "প্রকাশ্য ইহুদিবিদ্বেষ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দ্য জুইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সির তথ্যমতে, সানচেজের শাসনামলে ২০২৫ সালে স্পেনে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা ১৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল) এক প্রতিবেদনে জানায়, স্পেনের ২৬ শতাংশ নাগরিক ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেন, যা পশ্চিম ইউরোপের যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।   এমন এক বিতর্কিত নেতাকে মামদানীর এই উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ম্যানহাটনে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জড়ো হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   গাজায় চলমান যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে মামদানী নিউইয়র্কবাসীদের তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু সম্প্রতি একটি কড়া ভাষায় দেওয়া ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর মামদানীর বিষয়ে ‘সত্য প্রকাশ’ করার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মামদানীর একজন মুখপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল বন্ধ দরজার আড়ালে এবং এর আগে এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।    মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বাহর আগে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প ও মামদানি শহর এবং এর বাসিন্দাদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামদানি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিউইয়র্কের আবাসন ও ফেডারেল বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের একটি প্রতীকী প্রথম পৃষ্ঠার কপি উপহার দেন, যার শিরোনাম ছিল “ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড”। এটি ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক “ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড” শিরোনামের প্রতি ইঙ্গিত ছিল।    ট্রাম্প ও মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। মামদানি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবাসন, ফেডারেল অর্থায়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিটি ও ফেডারেল প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিউইয়র্কবাসীর ওপর।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা তহবিলের ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছেন। নিউইয়র্কের নিরাপত্তা কার্যক্রমে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের হাতে অব্যবহৃত নিরাপত্তা তহবিল রয়েছে বলে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন।    গ্রেসি ম্যানশনে সোমবারের বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার আরেকটি পর্ব শুরু হলো। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পাবলিক টয়লেট প্রকল্প চালু করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা

নিউইয়র্কে নতুন ১৭টি পাবলিক টয়লেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি বরোতে এসব টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এসব টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম—ভেতরে ঢোকার পর সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। সময় শেষ হলে সতর্কবার্তার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।   নতুন টয়লেটগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে থাকবে চলমান পানির ব্যবস্থা, ফ্লাশ টয়লেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব টয়লেট খোলা থাকবে।   ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে, থ্রোন বাথরুম নেটওয়ার্ক অ্যাপের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় কমিউনিটি অংশীদারদের দেওয়া ট্যাপ কার্ড ব্যবহার করে টয়লেটে প্রবেশ করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি টয়লেটের অবস্থান, সেটি খালি আছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতার তাৎক্ষণিক তথ্যও দেখা যাবে।   টয়লেটগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো ১০ মিনিটের সময়সীমা। ব্যবহারকারীরা পাঁচ মিনিট ও আট মিনিটে সময় শেষ হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাবেন। ১০ মিনিট পূর্ণ হলে টয়লেটের আলো জ্বলবে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দরজা খোলার বিষয়ে জানানো হবে। এরপর প্রায় ৩০ সেকেন্ডের সতর্কতার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। সতর্কবার্তাগুলো ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষায় দেওয়া হবে।   টয়লেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থ্রোন ল্যাবস জানিয়েছে, এই সময়সীমা নির্ধারণের আগে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত কতক্ষণ টয়লেটে থাকেন, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই টয়লেট থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ৮১ শতাংশ ব্যবহারকারী পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার শেষ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১০ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে যান।   মামদানি প্রশাসনের এই প্রকল্পের আওতায় টয়লেটগুলো ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে স্থাপন করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের কুপার স্কয়ার ও ম্যালকম এক্স প্লাজা, ব্রুকলিনের কলম্বাস পার্ক ও মিলস্টোন পার্ক, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া বুলেভার্ড ও নর্দার্ন বুলেভার্ডের বিভিন্ন এলাকা এবং ব্রঙ্কসের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম এলাকা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নর্থ শোর এসপ্লানেডেও একটি ইউনিট স্থাপন করা হবে।   প্রচলিত স্থায়ী পাবলিক টয়লেটের তুলনায় এসব ইউনিট দ্রুত স্থাপন করা যায়। কারণ এগুলোকে সরাসরি পানি, পয়োনিষ্কাশন বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিটগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব। থ্রোন ল্যাবসই প্রতিটি ইউনিটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।   নিউইয়র্কে পাবলিক টয়লেটের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। নতুন ১৭টি ইউনিটকে সেই ঘাটতি মোকাবিলায় একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্প এক বছর চলবে এবং এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শহরের পাবলিক টয়লেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।   ১০ মিনিটের নিয়মের উদ্দেশ্য হিসেবে দীর্ঘ সময় টয়লেট দখল করে রাখা বা সেখানে অপ্রয়োজনে অবস্থান ঠেকানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে থ্রোন ল্যাবস। আর মামদানি প্রশাসনের লক্ষ্য হলো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে, পরিচ্ছন্ন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেটের সুযোগ বাড়ানো।   সূত্র: ফক্স নিউজ

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রেপ্তারের আহ্বানের মাঝেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
গ্রেফতারের হুমকির পরও জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেতানিয়াহু!

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি গ্রেফতারের আহ্বান জানানোর পরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে নেতানিয়াহু ২৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্কে যাবেন এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।   ড্যানন বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মামদানি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন। মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানায় গাজায় মানবিক সহায়তা সীমিত করার মাধ্যমে অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   নিউইয়র্ক সিটির ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা না থাকলেও মামদানির আহ্বানকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ড্যানন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে উপস্থিত হওয়া ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও চাপের মধ্যেও নেতানিয়াহু তার বক্তব্য দেবেন।   ড্যাননের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এরপর একই রাতেই তিনি ইসরায়েলে ফিরে যাবেন। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের আশঙ্কাও রয়েছে। ড্যানন বলেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নিউইয়র্কের রাস্তায় আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। গত বছর নেতানিয়াহু জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ পরিষদের হল থেকে বহু প্রতিনিধি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।   তবে ড্যানন বলেন, নেতানিয়াহু এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিজ্ঞ এবং প্রতিবাদ বা বিরোধিতার মধ্যেও তিনি জাতিসংঘে তার বক্তব্য দেবেন। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। ফলে এবারের জাতিসংঘ সফরও ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপে একটি ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে যাচ্ছেন নিউইয়র্ক সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি রিট্রিটে যাচ্ছেন মামদানির স্ত্রী ও নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী ও সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি আবারও ইউরোপে যাচ্ছেন একটি ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে। ‘দ্য উইমেন স্যাংচুয়ারি’ আয়োজিত এই রিট্রিটে তিনি ‘আর্টিস্ট-ইন-রেসিডেন্স’ হিসেবে থাকবেন।    ‘জার্নি থ্রু ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি’ নামের রিট্রিটটি পর্তুগালের পোর্তো অঞ্চলে আগামী ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দুটি সেশনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ইসলামিক ঐতিহ্য ও পর্তুগালে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা, ইলাস্ট্রেশন ও ক্যালিগ্রাফি কর্মশালা, আধ্যাত্মিক অনুশীলন, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো এবং বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন থাকবে।    রামা দুয়াজি এ বছর এই সংগঠনের আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো রিট্রিটে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি স্পেনের মায়োর্কা এবং ফ্রান্সের কর্সিকায় আয়োজিত নারী-কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিয়েছিলেন।    নতুন এই রিট্রিটের খরচও আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগালের অনুষ্ঠানে শেয়ারড রুমের জন্য জনপ্রতি খরচ শুরু প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ডলার থেকে, আর ব্যক্তিগত বাথরুমসহ প্রাইভেট রুমের খরচ প্রায় ৫ হাজার ২৬০ ডলার পর্যন্ত।    রামা দুয়াজি একজন শিল্পী ও ইলাস্ট্রেটর। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার স্বামী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিটির ফার্স্ট লেডি হন।    তবে ইউরোপে তার নিয়মিত রিট্রিটে অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি হিসেবে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তার আরও সক্রিয় থাকা উচিত কি না। অন্যদিকে মামদানির দপ্তর আগের রিট্রিটগুলোর প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, এসব সফরে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি এবং বিশ্বজুড়ে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মোবারকবাদ জানান।   নিজের আবেগঘন বার্তায় মেয়র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো করুণা, বদান্যতা এবং ন্যায়বিচারের মহান আদর্শের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই নীতিগুলো গোটা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় শহরের নেতা হিসেবে বিভিন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এমন শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া তাঁর দায়িত্বের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, মেয়র মামদানি এই উৎসবটিকে নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করেছেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজের নানা বৈচিত্র্যকে আপন করে নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা করার মধ্য দিয়েই একটি শহর সাংস্কৃতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।   নিউইয়র্ক সিটি হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক জায়গা থেকে নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এমন প্রকাশ্য সম্মান ও স্বীকৃতি সেখানকার মুসলিম বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়রের এই আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা শহরটিতে বসবাসরত মুসলিমদের মাঝে এক গভীর আত্মবিশ্বাস ও স্বস্তিদায়ক আপনত্বের অনুভূতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ইউএস ওপেনের ১,০০০টি টিকিট মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কবাসীর জন্য মামদানির উপহার, ১০০ ডলারে ইউএস ওপেনের ১,০০০ টিকিট

নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ইউএস ওপেনের ১,০০০টি টিকিট মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি ও যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রথমে আসলে আগে টিকিট পাওয়ার ভিত্তিতে এসব টিকিট বিক্রি শুরু হবে।    এই বিশেষ টিকিটের সুযোগ শুধু নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য। একজন সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিটগুলো ৩০ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইউএস ওপেনের মূল পর্বের ম্যাচের জন্য ব্যবহার করা যাবে।    টিকিটের মধ্যে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম ও লুইস আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখার সুযোগের পাশাপাশি টেনিস সেন্টারের বিভিন্ন কোর্টে খেলা দেখার জন্য গ্রাউন্ডস পাসও থাকবে।    মেয়র মামদানি বলেছেন, বিশ্বের সেরা টেনিস খেলোয়াড়রা যখন নিউইয়র্কে খেলতে আসছেন, তখন শহরের বাসিন্দাদেরও সেই ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ থাকা উচিত। ক্রমবর্ধমান টিকিটের দামের কারণে অনেক নিউইয়র্কবাসী বড় ক্রীড়া আয়োজন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।    ইউএস ওপেন ও নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ মূল্যছাড়ের এই ১,০০০ টিকিট বুধবার সকাল ১০টায় বিক্রি শুরু হবে এবং টিকিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রথমে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিক্রি চলবে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ক্রেতার জিপ কোড যাচাই করা হবে।    ইউএস ওপেন বিশ্বের অন্যতম বড় বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজন। ২০২৫ সালে প্রায় ১২ লাখ দর্শক এই টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের হিসাবে, টুর্নামেন্টটি প্রতিবছর নিউইয়র্কে ১২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করে এবং ৭ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত।    মামদানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় ক্রীড়া আয়োজন আরও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইউএস ওপেনের এই বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্যও নিউইয়র্কবাসীর জন্য ১,০০০টি সাশ্রয়ী টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।    ইউএস ওপেনের আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের ফ্যান উইকের সময় কিছু অনুষ্ঠান ও গ্রাউন্ডস প্রবেশের সুযোগ বিনামূল্যেও রাখা হয়েছে। তবে নতুন এই উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা মূল পর্বের ম্যাচ সরাসরি দেখার জন্য তুলনামূলক কম দামে টিকিট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে এক ইহুদি সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত
‘ভোট দিয়ে অনুতপ্ত অনেকেই’ মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ ইহুদি নারীর

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে শহরে ইহুদিবিদ্বেষের পরিবেশ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রভাবশালী এক ইহুদি রাব্বির মেয়ে কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ। তাঁর দাবি, মামদানিকে ভোট দেওয়া অনেক ইহুদি এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত। ইসরায়েল নিয়ে মেয়রের ধারাবাহিক কঠোর বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।   কারেন স্নেইয়ার ড্রেসবাখ পার্ক ইস্ট সিনাগগের রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারের মেয়ে। তিনি বহু-ধর্মীয় অ্যাপিল অব কনশেন্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির অবস্থান নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ আরও উসকে দিচ্ছে।   মামদানি ইসরায়েলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস আন্দোলনকে সমর্থন করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরেরও বিরোধিতা করেছেন। এসব অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   স্নেইয়ার ড্রেসবাখের ভাষ্য অনুযায়ী, মামদানির বক্তব্যের কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ করে ইহুদি উপাসনালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বাবা রাব্বি আর্থার স্নেইয়ারও ইহুদি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   এদিকে, ইহুদি নেতাদের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগস্টে মেয়রের সঙ্গে ১০ জন রাব্বির একটি বন্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রাব্বি জানান, ইসরায়েল নিয়ে মামদানির বক্তব্য নিউইয়র্কের ইহুদিদের একটি অংশকে বিচ্ছিন্ন ও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে।   তবে ওই বৈঠক নিয়ে মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। মেয়রের ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী দপ্তরের প্রধান ফিলিসা উইজডম বৈঠকটিকে খোলামেলা, ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।   মামদানি নিজেও এর আগে বলেছেন, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ বা যেকোনো ধরনের বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। তাঁর প্রশাসনের দাবি, সব ধরনের ঘৃণা ও বৈষম্য মোকাবিলায় তারা কাজ করছে।   তবে ইসরায়েল বিষয়ে মামদানির অবস্থান এবং নিউইয়র্কে ইহুদি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মেয়রের নীতির সঙ্গে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশের দূরত্ব বাড়ছে কি না, সেটিও নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে বাবা-মাদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচির আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাবা-মায়েদের একান্ত সময়ের সুযোগ, মামদানির ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ ৪ ঘণ্টার ফ্রি চাইল্ডকেয়ার

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘পেরেন্টস নাইট আউট’ কর্মসূচিতে চার ঘণ্টার বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ারের সুযোগ পেলেন শহরের বাবা-মায়েরা। ১৬ আগস্টের এই আয়োজনে ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ শিশু বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে সময় কাটায়। আর এ সময়ে তাদের বাবা-মা ও অভিভাবকেরা কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের মতো সময় কাটানোর সুযোগ পান।   নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের উদ্যোগে পাঁচ বরোর পাঁচটি বিনোদনকেন্দ্রে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে বিশেষ এই আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল রাতের খাবার, খেলাধুলা, ছবি আঁকা ও হাতের কাজ, দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম এবং বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। প্রশিক্ষিত কর্মীরা পুরো সময় শিশুদের দেখাশোনা করেন।   মামদানি প্রশাসন জানিয়েছিল, কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যস্ত বাবা-মা ও অভিভাবকদের নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করে দেওয়া। কেউ চাইলে সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে খেতে যেতে পারেন, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারেন, বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন কিংবা জমে থাকা ঘরের কাজ শেষ করতে পারেন।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন অভিভাবক এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে সময় কাটিয়েছেন বা রাতের খাবার খেতে গেছেন। কেউ বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন, কেউ কেনাকাটা করেছেন, আবার কেউ জমে থাকা কাপড় ধোয়া বা ঘরের অন্যান্য কাজ শেষ করার সুযোগ পেয়েছেন।   শিশুদের জন্যও আয়োজনটি ছিল নানা কার্যক্রমে ভরপুর। বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে তারা খেলাধুলা, বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম, হাতের কাজ, রোবোটিকস, বোর্ড গেমসহ নানা আয়োজনে অংশ নেয়।   এই কর্মসূচির জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ শিশুর জায়গা রাখা হয়েছিল। ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সেবাটি ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে আগে থেকে নিবন্ধন করা এবং নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের বিনোদনকেন্দ্রের সদস্য হওয়া প্রয়োজন ছিল।   ব্রুকলিনের শার্লি চিশলম বিনোদনকেন্দ্র, ম্যানহাটনের হাইব্রিজ বিনোদনকেন্দ্র, কুইন্সের আল ওর্টার বিনোদনকেন্দ্র, ব্রঙ্কসের কোয়ামে টুরে বিনোদনকেন্দ্র এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের গ্রিনবেল্ট বিনোদনকেন্দ্রে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।   মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ‘পেরেন্টস নাইট আউট’-এ প্রায় ৩০০ শিশু অংশ নেয়। কর্মসূচিটির মাধ্যমে পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের বিনোদন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি বাবা-মায়েদের দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কয়েক ঘণ্টার বিরতিও দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।   নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত শহরে সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্বের কারণে অনেক বাবা-মায়ের জন্য নিজেদের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন। সেই বাস্তবতায় বিনামূল্যে কয়েক ঘণ্টার চাইল্ড কেয়ারের এই উদ্যোগ তাদের কিছুটা স্বস্তি ও ব্যক্তিগত সময় দেওয়ার একটি নতুন ব্যবস্থা হিসেবে সামনে এসেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে আয়োজিত ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি মেম্বার জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসবে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ‘এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না’

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে অনুষ্ঠিত কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে নিজের সংযোগের কথা তুলে ধরেছেন। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ ও স্মরণীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে মামদানি লিখেছেন, তিনি এই সপ্তাহান্তে আবারও ফ্লোরাল পার্কে ফিরেছিলেন কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিতে। তবে এবার তাঁর পরিচয় ছিল ভিন্ন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে এবং নিজের ভাষায়, শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।   মামদানি লিখেছেন, ‘এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আমি কখনো ভুলব না।’   প্যারেডে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা রঙের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মামদানিকেও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কমিউনিটি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মামদানি নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ডেভিড ডিনকিন্সের একটি পরিচিত বর্ণনার কথাও স্মরণ করেন। ডিনকিন্স নিউইয়র্ককে একসময় ‘গর্জিয়াস মোজাইক’ বা অসংখ্য সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অপূর্ব সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।   ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজনে মামদানি বলেন, তিনি সেই বৈচিত্র্যেরই প্রতিচ্ছবি দেখেছেন ভারতীয় ডায়াস্পোরার মধ্যে। সেখানে হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা উদযাপন করতে দেখা গেছে।   তাঁদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, নিউইয়র্ককে আজকের শহরে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ডায়াস্পোরার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের।   মামদানির নিজের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুজরাটি মুসলিম এবং তাঁর মা মীরা নায়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন।   এর আগে মেয়র নির্বাচনের সময়ও মামদানি তাঁর মায়ের পরিবারের হিন্দু ঐতিহ্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দীপাবলি, হোলি ও রাখিবন্ধনের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য তাঁর বেড়ে ওঠার অংশ ছিল। একই সঙ্গে তিনি নিজের মুসলিম পরিচয়কেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।   ফলে ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজন মামদানির জন্য কেবল একজন মেয়র হিসেবে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল না। নিজের পারিবারিক শিকড়, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং নিউইয়র্কের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে একই মঞ্চে উদযাপনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেও এটি সামনে এসেছে।   পোস্টের শেষদিকে ভারতীয় কমিউনিটির উদ্দেশে মামদানি লিখেছেন, ‘হ্যাপি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স ডে।’   তাঁর শেয়ার করা ছবিগুলোতেও সেই উদযাপনের আবহ স্পষ্ট। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা মানুষ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উচ্ছ্বসিত কমিউনিটি সদস্যদের মাঝে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির উপস্থিতি যেন শহরটির বৈচিত্র্যময় পরিচয়েরই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ২,১০০ ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি
নিউইয়র্কের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ২,১০০ ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট দিচ্ছেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক শহরের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিখ্যাত ব্রডওয়ের জাদুকরী দুনিয়া উপভোগ করার এক অনন্য সুযোগ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার শহরের মেয়র জোহরান মামদানি শিক্ষার্থীদের মাঝে দুই হাজার একশটি ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট বিতরণের জন্য একটি বিশেষ লটারির ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত চলা সাতটি জনপ্রিয় ব্রডওয়ে শো এই টিকিটগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে।   এই লটারিতে অংশগ্রহণকারী ব্রডওয়ে শোগুলোর মধ্যে রয়েছে বুয়েনা ভিস্তা সোশ্যাল ক্লাব, নিউইয়র্ক সিটি সেন্টারের ইন দ্য হাইটস, স্কুল গার্লস; অর, দ্য আফ্রিকান মিন গার্লস প্লে, স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য ফার্স্ট শ্যাডো, দ্য লস্ট বয়েজ, দ্য গ্রেট গ্যাটসবি এবং টু স্ট্রেঞ্জারস (ক্যারি আ কেক অ্যাক্রস নিউইয়র্ক)। লটারিতে বিজয়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের শোর জন্য সর্বোচ্চ দুটি করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে।   অলাভজনক থিয়েটার গ্রুপ 'টিডিএফ' (TDF) এই লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যারা মূলত শহরের জনপ্রিয় টিকিটিএস (TKTS) বুথগুলোও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, শুধু বিজয়ীরাই নয়, লটারিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্রডওয়ে এবং অফ-ব্রডওয়ে শোর পাশাপাশি মিউজিক, জাদুঘর ও নাচের অনুষ্ঠানে ছাড় পেতে টিডিএফ-এর দুই মাসের বিনামূল্যের মেম্বারশিপ লাভ করবে।   শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র মামদানি বলেন, অসাধারণ শিল্প ও সংস্কৃতিতে ভরপুর এই শহরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রতিটি তরুণের এসব মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, তারা চান প্রতিটি হাইস্কুল শিক্ষার্থী এই শহরকে নতুন করে জানুক, দুর্দান্ত শিল্পের স্বাদ নিক এবং এমন কিছু আবিষ্কার করুক যা শো শেষ হওয়ার অনেক পরও তাদের মনে গেঁথে থাকবে।   লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটটি ইতিমধ্যেই সকাল ১০টায় চালু হয়েছে এবং আগামী ১৭ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এরপর আগামী ১ সেপ্টেম্বর টিকিটের চূড়ান্ত ড্র অনুষ্ঠিত হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত
মামদানির রেন্ট ফ্রিজ ও নতুন করের শঙ্কার মধ্যে ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার রেকর্ড! মাসে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নতুন রেকর্ড গড়েছে। জুলাইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মিডিয়ান রেন্টও বেড়ে ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।   বুধবার প্রকাশিত রিয়েল এস্টেট মার্কেটের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ম্যানহাটনে প্রায় সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে দুই ও তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে।   নতুন তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনে একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া এখন ৪ হাজার ৮৮ ডলার। এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার, দুই বেডরুমের ৮ হাজার ৫৪ ডলার এবং তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ১২ হাজার ২২৮ ডলারে পৌঁছেছে।   গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্টুডিওর ভাড়া ৮ শতাংশ এবং এক বেডরুমের ভাড়া ৭ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে ১২ শতাংশ। স্টুডিও, এক বেডরুম ও দুই বেডরুমের গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।   তবে গড় ভাড়ার পাশাপাশি মিডিয়ান রেন্টের হিসাবটি ম্যানহাটনের সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্য বাজারের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ে মিডিয়ান রেন্ট ছিল ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত ভাড়ার অর্ধেক এর চেয়ে বেশি এবং অর্ধেক কম।   ম্যানহাটনের ভাড়া বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি আবাসনের সীমিত সরবরাহ। নিউইয়র্ক সিটিতে ভ্যাকেন্সি রেট মাত্র ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্ন। সাধারণভাবে ৫ শতাংশের নিচে ভ্যাকেন্সি রেটকে বাড়িওয়ালাদের অনুকূলে থাকা বাজার হিসেবে দেখা হয়।   একদিকে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে নিউইয়র্কে হাজার হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। বাড়িওয়ালাদের দেওয়া স্টেট রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরজুড়ে প্রায় ৫৭ হাজার রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট খালি ছিল। এটি নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার মোট অ্যাপার্টমেন্টের প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।   কেন এত ইউনিট খালি রয়েছে, তা নিয়ে বাড়িওয়ালা ও টেন্যান্ট অ্যাডভোকেটদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে না ছেড়ে খালি রাখছেন। অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের দাবি, ২০১৯ সালের রেন্ট আইন সংস্কারের পর পুরোনো অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নির্ধারিত ভাড়ায় আবার বাজারে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভজনক নয়।   এদিকে মেয়র জোহরান মামদানির রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘিরেও রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক চলছে। রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের আশঙ্কা, রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটের ভাড়া স্থির থাকলে বাড়িওয়ালাদের বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের চাপ মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়াটিয়াদের ওপর পড়তে পারে।   তবে এই বক্তব্য মূলত রিয়েল এস্টেট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মূল্যায়ন। ভাড়া স্থগিত রাখার নীতিই ম্যানহাটনের বর্তমান রেকর্ড ভাড়ার কারণ, এমন সরাসরি প্রমাণ প্রকাশিত তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। আবাসনের ঘাটতি, কম ভ্যাকেন্সি রেট, উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসনের চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহসহ একাধিক বিষয় নিউইয়র্কের রেন্টাল মার্কেটে চাপ তৈরি করছে।   নিউইয়র্ক পোস্টকে দ্য করকোরান গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যারি ম্যালিন বলেন, শহর ও স্টেটের সাম্প্রতিক কয়েকটি হাউজিং নীতি রেন্টাল হাউজিংয়ের সরবরাহ সীমিত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।   মামদানি প্রশাসনের পিয়েদ-আ-তের কর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও রিয়েল এস্টেট খাতে আলোচনা চলছে। শহরে মূল বাসস্থানের বাইরে দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত বাড়ির মালিকদের ওপর বাড়তি কর আরোপের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত কর এড়াতে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ার দিকে ঝুঁকলে উচ্চমূল্যের রেন্টাল মার্কেটে চাহিদা আরও বাড়তে পারে।   উচ্চ মর্টগেজ রেটও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। যারা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাড়ি বা কনডো কিনতেন, তাদের একটি অংশ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে রেন্টাল মার্কেটেই থেকে যাচ্ছেন। এতে সীমিত সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে ম্যানহাটনে বাসা ভাড়া নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যয়বহুল। গড় মাসিক ভাড়া ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার এবং মিডিয়ান রেন্ট ৫ হাজার ২৯৫ ডলারে পৌঁছানো নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের চাপ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হোকুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মামদানি? আদালতে স্থগিত নিউইয়র্কের বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ কর

নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি।   তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।   এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়।   অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।   তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র‌্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি।   রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের।   স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়।   নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে এনওয়াইপিডির নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সিটি হল ও পুলিশের মতবিরোধ। ছবি: সংগৃহীত
মামদানি-পত্নীর সিরিয়া-লেবানন সফরে পুলিশ পাহারা নিয়ে পুলিশ বিভাগের বিরোধ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে নিউইয়র্ক পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে কি না, তা নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি হল ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে রামা দুওয়াজির সফরে তার সঙ্গে পুলিশের একটি নিরাপত্তা দল থাকবে। তবে পুলিশ বিভাগ পরে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে জানায়, ব্যক্তিগত সফরে তাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যদের সিরিয়া বা লেবাননে পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।   ২৯ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সিরিয়া ও লেবানন সফরের পরিকল্পনা করছেন। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সফরটি ব্যক্তিগত এবং নিউইয়র্ক সিটির কোনো সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।   মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক এর আগে জানিয়েছিলেন, রামার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সফরের সময় তার সঙ্গে থাকবেন। তবে পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র পরে স্পষ্ট করে বলেন, রামার সফর কোনো তদন্ত বা সরকারি দায়িত্বের অংশ নয়। তাই তাকে সঙ্গ দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।   জানা গেছে, রামা এর আগে একটি বিদেশ সফরে পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই গিয়েছিলেন। পরে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এবারের সফর ব্যক্তিগত হওয়ায় বিদেশে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে তার স্ত্রী রামাকে ব্যক্তিগত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, রামার পরিকল্পিত সফরের সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনও চলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণে ওই সময়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওপর বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে।   রামা দুওয়াজির সফরে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিটি হল ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মেয়রের স্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা সিরিয়া ও লেবাননে যাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে কড়া অবস্থানে মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ‘বিস্ফোরক পরিস্থিতি’, পুলিশ-জনতার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্কে আসার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র দাবি করেছে, মেয়র জোহরান মামদানির নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থান ও সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতিকে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের বিক্ষোভ বা সহিংসতা হলে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে গত জুলাইয়ে আইনি পর্যালোচনার পর মামদানি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি এরপর বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের কাজে নিউইয়র্কে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মামদানির আগের অবস্থান বাস্তবায়নে গুরুতর আইনি বাধা রয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা হুমকি মূল্যায়ন ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।   এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বারুদের স্তূপ’ বা মামদানির বক্তব্যের কারণে সরাসরি বিপদ তৈরি হয়েছে—এটি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের মূল্যায়ন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নির্ধারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসীদের জন্য নতুন আইনি সহায়তা প্রচারণা শুরু করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ৩ লাখ ডলারের বিশেষ প্রচারণা শুরু

নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তার হটলাইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মাসব্যাপী একটি প্রচারণা শুরু করেছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসী বিষয়ক কার্যালয় (Mayor's Office of Immigrant Affairs)।   পিআইএক্স১১ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রচারণার মাধ্যমে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় অভিবাসন-সংক্রান্ত বিনামূল্যের আইনি সহায়তার তথ্য প্রচার করা হবে। প্রিন্ট, ডিজিটাল এবং রেডিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাসিন্দাদের জানানো হবে কীভাবে তারা নিরাপদ, গোপনীয় এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেতে পারেন।   ২০২৬ অর্থবছরে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বরাদ্দ দেওয়া তিন লাখ ডলারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এই ক্যাম্পেইন। কর্মসূচির আওতায় ইংরেজি, স্প্যানিশ, চীনা, রুশ, আরবি, উর্দু, পাঞ্জাবি, ফরাসি, নেপালি, তিব্বতি, তাগালোগ, হাইতিয়ান ক্রেওলসহ মোট ১৭টি ভাষায় তথ্য প্রচার করা হবে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী অভিবাসীরা সহজেই এই সেবার বিষয়ে জানতে পারেন।   সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রিন্ট ও রেডিও বিজ্ঞাপন বিভিন্ন কমিউনিটি ও জাতিগত গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী যেকোনো ব্যক্তি, তার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান যাই হোক না কেন, বিনামূল্যে ও গোপনীয় এই আইনি সহায়তা হটলাইনে ফোন করতে পারবেন। এজন্য ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে কল করা যাবে। এছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে "Immigration Legal" বললেও সংশ্লিষ্ট সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া যাবে।   হটলাইনটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে সপ্তাহের কর্মদিবসে। সোমবার ও বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যাবে।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, "এই মাসে আমরা ১৭টি ভাষায়, মানুষের পড়া সংবাদপত্র, শোনা রেডিও স্টেশন এবং তাদের নিজ নিজ কমিউনিটির মাধ্যমে সরাসরি আইনি সহায়তার তথ্য পৌঁছে দিচ্ছি।"   তিনি আরও বলেন, "যদি আমরা বলি নিউইয়র্ক অভিবাসীদের স্বাগত জানায়, তাহলে প্রত্যেক বাসিন্দা যেন প্রয়োজনে কোথায় সাহায্য পাবেন তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। এই প্রচারণার মাধ্যমে আমরা ঠিক সেটিই করছি।"   সিটি কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন এই উদ্যোগের ফলে অভিবাসীরা তাদের আইনি অধিকার, পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্পর্কে আরও সহজে তথ্য পাবেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত সঠিক সেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি বন্ধে মেয়রের নির্দেশ, সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভ
নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি বন্ধে মেয়রের নির্দেশ, সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভ

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবৈধ ও বিপজ্জনক ই-বাইক এবং স্কুটার বিক্রি বন্ধে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বুধবার সিটি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার প্রশাসন অবৈধভাবে উচ্চ গতির ই-বাইক ও স্কুটার বিক্রির অভিযোগে ৪২টি অনলাইন খুচরা বিক্রেতাকে 'সিজ-অ্যান্ড-ডেসিস্ট' (cease-and-desist) বা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।   আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে এই নির্দেশ না মানলে প্রতিটি অবৈধ বিক্রির জন্য বিক্রেতাদের দুই হাজার ডলার করে জরিমানা গুণতে হবে। মেয়র স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের রাস্তায় এ ধরনের বিপজ্জনক যান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নতুন এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো— ১০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের বা ২০ মাইল বেগের বেশি চলতে সক্ষম স্কুটার, ৭৫০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার মোটরযুক্ত ই-বাইক এবং বৈধ নিবন্ধন নম্বরবিহীন মোপেডগুলোর ভবিষ্যৎ বিক্রি বন্ধ করা।   তবে মেয়রের এই পদক্ষেপকে 'অকার্যকর ও দুর্বল প্রতিক্রিয়া' বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। কারণ, এই নির্দেশনার মাধ্যমে কেবল ভবিষ্যতে বিক্রি হতে যাওয়া যানগুলো ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু ইতোমধ্যে শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ানো বিপজ্জনক ই-বাইকগুলো অপসারণের বিষয়ে মেয়র কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। এমনকি এসব যানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার যে আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি সমর্থন করতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মেয়রের দাবি, ই-বাইক ও স্কুটারের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে রাস্তার নিরাপত্তা খুব একটা বাড়বে না এবং তিনি এই পথে হাঁটতে চান না।   মেয়রের এমন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে 'এনওয়াইসি ই-ভেহিকল সেফটি অ্যালায়েন্স'। সংগঠনের একজন মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের রাস্তা থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক অবৈধ যানগুলো সরাতে মেয়র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। গত পাঁচ বছর ধরে শহরে এই জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকট চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।   পরিসংখ্যানও এই ভয়াবহতার প্রমাণ দেয়। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ই-বাইক চালকদের মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটনার জন্যই অবৈধ যানগুলো দায়ী। এছাড়া, এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে সাইকেল ও স্কুটার দুর্ঘটনাজনিত ট্রমার হার ১০ শতাংশেরও কম থাকলেও ২০২৩ সালের মধ্যে তা অর্ধেকের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির মোট ট্রমা রোগীর প্রায় ৭ শতাংশই মাইক্রোমোবিলিটি দুর্ঘটনার শিকার।   সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে ই-বাইকের কারণে বেশ কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। লোয়ার ম্যানহাটনে অবৈধ ই-বাইক চালাতে গিয়ে পার্ক করা এসইউভির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়। গত মাসে সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইকের ধাক্কায় এক জগিংকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোমায় ছিলেন।   এসব কারণে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বর্তমান আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাস্তায় থাকা অবৈধ বাইকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কিছুক্ষণ পরই মেয়র নিজেই যখন প্রশ্ন তোলেন— "যে আইন প্রয়োগই হয় না, তার আসলে কী মূল্য আছে?", তখন তার এই স্ববিরোধী অবস্থান পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর করে তোলে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীনদের জরুরি আশ্রয় নিশ্চিত করতে পাঁচটি বরোর বিভিন্ন হোটেল ব্যবহারের জন্য ১৮৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি নবায়ন করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। নতুন এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।   চুক্তিটি করা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে, যারা প্রায় ৩০০টি হোটেলের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলেই কেবল এসব হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পুরো ১৮৬ কোটি ডলারের অর্থ ব্যয় নাও হতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীন সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সংকটের সময় তাদের বাণিজ্যিক হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্থায়ী ও উন্নতমানের আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশেষ করে শিশু থাকা পরিবারগুলোর জন্য হোটেলের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো যায়।   শহরের ‘রাইট টু শেল্টার’ আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেককে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় শয্যা ধরে রাখতে এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৮২ হাজার ৯২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু অবস্থান করছিলেন।   কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে গৃহহীনদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে হোটেল ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে অভিবাসন সংকটের সময়ও হাজারো আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার জন্য শহরের প্রায় ১৫০টি হোটেল, মোটেল ও সরাইখানাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।   এদিকে একই কর্মসূচির আওতায় হোটেলে অবস্থানরত গৃহহীন ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সেবার জন্য দুটি সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাকেও ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দুটি আলাদা চুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় পর্যটন খাতের ওপর চাপ বাড়ছে এবং কক্ষের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। তবে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, পর্যাপ্ত স্থায়ী আবাসন গড়ে না ওঠা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা একটি প্রয়োজনীয় বিকল্প।

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০