শনিবার সকালে নিউইয়র্কের ইস্ট হারলেমের টমাস জেফারসন পুলে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হলো নগরবাসী। শহরের গ্রীষ্মকালীন পুল মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে রীতিমতো পোশাকের তোয়াক্কা না করে স্যুট-প্যান্ট ও কালো মোজা পরেই পানিতে ঝাঁপ দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী। তবে মজার ছলে করা মেয়রের এই কাজ সুইমিংপুলের সাধারণ নিয়মনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, স্বাস্থ্যকর রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পার্কস ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী পুলে নামার জন্য সাঁতারের নির্দিষ্ট পোশাক বা বাথিং স্যুট পরা বাধ্যতামূলক। মেয়রের এমন কাণ্ডে সেখানে উপস্থিত শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ১২ বছর বয়সী মিলা মেডার তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলে, "এটি দারুণ মজার ছিল। আমি ভাবতেই পারিনি তিনি সত্যিই এমন কিছু করবেন! পানিতে নামার পর তিনি আমার এবং আমার ভাইয়ের সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন।" মূলত গত মার্চ মাসে দ্য সিটি রিপোর্টারের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে পড়ে পুল উদ্বোধনে মেয়রের পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পুরোনো ঐতিহ্যটি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই সমাজতান্ত্রিক মেয়র। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মেয়রদের মধ্যে মাইকেল ব্লুমবার্গ সর্বশেষ এই প্রথা পালন করেছিলেন। এরপর সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এবং এরিক অ্যাডামস এই ঐতিহ্য থেকে নিজেদের দূরে রেখেছিলেন। তবে বিজনেস স্যুট পরে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা জোহরান মামদানীর জন্য এবারই প্রথম নয়। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনি আইল্যান্ডে বার্ষিক 'পোলার বিয়ার ক্লাব প্লাঞ্জ' ইভেন্টেও স্যুট পরে ঢেউয়ের মধ্যে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। সেসময় তিনি নগরবাসীর বাড়িভাড়া আটকে দেওয়া বা 'রেন্ট ফ্রিজ' করার চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে গত বৃহস্পতিবারই নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড তার সেই প্রতিশ্রুতি অনুমোদন করেছে, যার ফলে শহরের প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড বা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার ইউনিটের এক ও দুই বছর মেয়াদি চুক্তির ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মামদানি রাজ্যব্যাপী একাধিক গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীকে সমর্থন দেন। জেমসের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জেমস আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির প্রকৃত রাজনীতি বোঝেন না। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সম্পর্কে তাদের কোনো বাস্তব ধারণা নেই। এই নতুন প্রার্থীরা বর্ণবাদ ও শ্রেণীগত জটিল সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে দলের ভেতরে এক ধরণের আদর্শিক দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের রাজ্য এবং কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার সমর্থনে ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বর্তমান আইনপ্রণেতাদের পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদের দৌড়ে জয়ী হয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সিনেটে দুটি এবং স্টেট অ্যাসেম্বলিতে চারটি আসনে মামদানি সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীরা বিশাল জয় পেয়েছেন। সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জেমস জানান যে ডেমোক্রেটিক পার্টির এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে অনেকেই হতাশ। তিনি বলেন যে দলের ওপর আমাদের সবারই কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে পুরো দলকেই ধ্বংস করে দিতে হবে। তিনি এই প্রবণতাকে ট্রাম্পের অনুসারী মাগা বা এমএজিএ আন্দোলনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির সাথে তুলনা করেন। স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও অন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে এই সমস্ত আশঙ্কার মাঝেও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ বুধবার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। দল অতিরিক্ত বামপন্থার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি এই উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি উল্টো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মেয়র মামদানির কার্যকরী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ওভাল অফিসে তাদের বৈঠকের মাধ্যমে বারবার স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানি এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। তাদের করমর্দন ও হাসিমুখে ছবি তোলার ঘটনা সমালোচকদের বেশ অবাক করেছিল। তবে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের পরেও ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানান যে আমেরিকা কখনই একটি কমিউনিস্ট দেশ হবে না। সূত্র: দ্য হিল
নিউইয়র্কের রাজনীতি অনেক কিছু দেখেছে- তামানি হলের দিন, রুজভেল্টের নিউ ডিল, কেনেডি যুগের উদারপন্থা, কুওমো পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের অভিঘাতও। কিন্তু মঙ্গলবারের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলাফল যে বার্তা দিয়েছে, তা কেবল কয়েকটি আসনের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; এটি একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত। রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন নির্বাচনের ফলাফল সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। এবারের নির্বাচন তেমনই একটি মুহূর্ত। কয়েক বছর আগেও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির সমীকরণ ছিল মোটামুটি নির্ধারিত। দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব যাকে সমর্থন দিত, বড় অর্থদাতা, ইউনিয়ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় সংগঠনের সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে থাকতেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ফলাফল দেখিয়েছে, সেই পুরোনো সমীকরণ আর আগের মতো কার্যকর নয়। মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব এখন আর শুধু সিটি হলের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিউইয়র্কে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে। এটি শুধু একজন জনপ্রিয় নেতার ব্যক্তিগত প্রভাব নয়; বরং এমন একটি আদর্শিক প্রবাহ, যা তরুণ ভোটার, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিকভাবে হতাশ অনেক নাগরিককে একত্রিত করছে। ব্র্যাড ল্যান্ডারের জয়, ক্লেয়ার ভালদেজের বিজয় কিংবা দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের উত্থান—প্রতিটি ফলাফলের মধ্যে একটি সাধারণ বার্তা রয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে নয়, বরং স্থবিরতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিল যে ট্রাম্পবিরোধিতা নিজেই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। তবে নিউইয়র্কের ভোটারদের একটি অংশ যেন এবার জানিয়ে দিয়েছে, শুধু ট্রাম্পের বিরোধিতা যথেষ্ট নয়; নিজেদের পক্ষেও স্পষ্ট অবস্থান থাকতে হবে। বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, গাজা যুদ্ধ এবং আয় বৈষম্যের মতো প্রশ্নে তারা আরও নির্দিষ্ট উত্তর চায়। এখানেই মামদানির রাজনীতির শক্তি। তিনি এমন ভাষায় কথা বলেন, যা প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি সরাসরি। তাঁর সমর্থকদের মতে, তিনি সমস্যাগুলোকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পিছপা হন না। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর কিছু অবস্থান অতিরিক্ত আদর্শিক। তবে উভয় পক্ষই একমত যে তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গেছে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। হাকিম জেফ্রিস, ক্যাথি হকুলসহ দলের মূলধারার নেতারা এখনো শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ফলাফল দেখিয়েছে, তাদের সমর্থন আর আগের মতো নিরঙ্কুশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে; বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গাজা ইস্যুর প্রভাবও এবারের নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়েছে। একসময় বিদেশনীতি স্থানীয় নির্বাচনে খুব বেশি গুরুত্ব পেত না। কিন্তু আজকের নিউইয়র্কে অভিবাসী, মুসলিম, আরব, লাতিনো এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। গাজা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তবে এই ফলাফলকে শুধুমাত্র মতাদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একই সঙ্গে সাংগঠনিক রাজনীতিরও সাফল্য। মামদানির সমর্থকেরা শুধু সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন না; তারা মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন, ফোন ব্যাংকিং করেছেন, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করেছেন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রে ভোট গণনা হয়, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নয়। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব কম থাকার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সেই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকলেও রাজনৈতিক শক্তি শুধু জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সংগঠন, ধারাবাহিক অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়। যেসব সম্প্রদায় আজ প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছেছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভোটার সংগঠিত করেছে, নেতৃত্ব তৈরি করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থেকেছে। পিয়া রহমানের মতো বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর পরাজয় অনেকের জন্য হতাশাজনক হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সাফল্য খুব কম ক্ষেত্রেই প্রথম প্রচেষ্টায় আসে। প্রতিনিধিত্বের পথ সাধারণত দীর্ঘ, ধৈর্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল। সবশেষে, মঙ্গলবারের নির্বাচন একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। মামদানির ঢেউ কি সাময়িক, নাকি এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যতের ইঙ্গিত? ইতিহাস বলে, বিদ্রোহী আন্দোলন ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছালে তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিবাদ করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু শাসন করা কঠিন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু বাজেট পাস করা কঠিন। আন্দোলন গড়ে তোলা সহজ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জোট ধরে রাখা কঠিন। মামদানি এবং তাঁর সমর্থিত প্রার্থীরা এখন সেই কঠিন পথের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছেন। মঙ্গলবার তারা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতীক নন, পরিবর্তন বাস্তবায়নের সক্ষমতাও রাখেন। নিউইয়র্কের ভোটাররা তাদের জন্য একটি দরজা খুলে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রজন্ম সেই দরজা দিয়ে ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে কি না।
নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচনে একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের শক্তিশালী প্রমাণ দিলেন মেয়র জোহরান মামদানি। তার সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দলটির ভেতরে নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মামদানির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে দুজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় মামদানির সমর্থন পাওয়া ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বিজয়ী হন। সপ্তম জেলায় জয় পান ক্লেয়ার ভালদেজ। আর ১০ম জেলায় মামদানির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ব্র্যাড ল্যান্ডার বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এই সাফল্যের পর বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়ে মামদানি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব এবং ভিন্নধর্মী নীতির প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল ধারার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির আদর্শিক অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এবারের নির্বাচনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েকজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল-সংক্রান্ত নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। বিজয়ী প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার বলেন, এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব আসনে প্রগতিশীল প্রার্থীরা সফল হননি। নিউইয়র্কের ১২তম কংগ্রেসনাল আসনে দলীয় মূলধারার সমর্থন পাওয়া মাইকা ল্যাশার বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে উটাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও মধ্যপন্থি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। এদিকে রিপাবলিকান পার্টিতেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচন। দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের শুরুতে ট্রাম্প পাম এভেটকে সমর্থন দিলেও পরে দুই প্রার্থীর প্রতিই সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত অ্যালান উইলসন বড় ব্যবধানে জয় পান। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প সমর্থিত আরও কয়েকজন গভর্নর প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো শক্তিশালী আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিভিন্ন নির্বাচনে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের জন্য যে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রাথমিক নির্বাচন বা প্রাইমারি বলা হয়। বর্তমানে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব এবং তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রগতিশীল আন্দোলনের জোয়ারে ভর করে কুইন্সে কংগ্রেস, স্টেট সিনেট ও স্টেট অ্যাসেম্বলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়ের পথে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) সমর্থিত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, কংগ্রেস প্রার্থী ক্লেয়ার ভালদেজ, অ্যাসেম্বলি প্রার্থী সামান্থা কাট্টান ও ডেভিড অরকিন এবং সিনেট প্রার্থী আবের কাওয়াস নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ফলাফল বিশ্লেষকদের মতে, কুইন্সে ডিএসএ-সমর্থিত রাজনীতির জন্য এটি একটি বড় অর্জন। সংগঠনটির সমর্থিত প্রার্থীরা অন্তত তিনটি নতুন আসন দখলের পথে রয়েছে। শুধু ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্যই নয়, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দুই বর্তমান জনপ্রতিনিধি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস এবং অ্যাসেম্বলি সদস্য জেনিফার রাজকুমার, নিজেদের বামঘেঁষা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পিছিয়ে পড়েছেন। নিউইয়র্কের ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে অবসর নিতে যাওয়া কংগ্রেসওম্যান নিডিয়া ভেলাজকুয়েজের উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পথে থাকা ক্লেয়ার ভালদেজ ভোটের প্রায় ৫৬ শতাংশ পেয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন। ভোটের ৯২ শতাংশ গণনা শেষে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও রেনোসোর ভোট ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর ডিস্ট্রিক্টে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর মাইকেল জিয়ানারিসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে আবের কাওয়াস প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা পেয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে সামান্থা কাট্টান তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পিয়া রহমান ও মেলিসা অরল্যান্ডোর চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৮-এ আইনজীবী ডেভিড অরকিন প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান জনপ্রতিনিধি জেনিফার রাজকুমারকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেন। ২০২১ সাল থেকে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন রাজকুমার। ব্রুকলিনের ৯৯ স্কট নামের একটি সংগীত ভেন্যুতে ডিএসএ আয়োজিত নির্বাচনী ফলাফল পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ফেব্রুয়ারিতে মামদানির স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হওয়া অ্যাসেম্বলি সদস্য ডায়ানা মোরেনো বলেন, “আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, যার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি, আজ তার ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। এটি জনগণের শক্তির বিজয়। আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি যে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিকেও পরাজিত করা সম্ভব।” নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত মুখ জেসিকা রামোস এবার নিজের আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টেট সিনেট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাসেম্বলি সদস্য জেসিকা গনজালেজ-রোজাস প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত রামোস মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির পরিবর্তে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন দেওয়ার পর অনেক প্রগতিশীল সংগঠনের সমর্থন হারান। এছাড়া কুইন্সে প্রস্তাবিত ক্যাসিনো প্রকল্পে সমর্থন না দেওয়াতেও দলের একটি অংশের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। অন্যদিকে গনজালেজ-রোজাস সরাসরি মামদানির সমর্থন না পেলেও শহরের অধিকাংশ প্রগতিশীল আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ব্রায়ান রোমেরোও অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৪-এ জয়ের পথে রয়েছেন। তিনি প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রোসা সানচেজকে বড় ব্যবধানে পিছনে ফেলেছেন। কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সমর্থিত প্রার্থীদের ফলাফল ছিল মিশ্র। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৩-এ দীর্ঘদিনের সরকারি কর্মকর্তা পেসাক ওসিনা প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে আইনজীবী মাইক স্কালাকে পরাজিত করার পথে ছিলেন। তিনি কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থন পেয়েছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩২-এ অবসর নিতে যাওয়া অ্যাসেম্বলি সদস্য ভিভিয়ান কুকের উত্তরসূরি নির্বাচনের দৌড়ে নাথানিয়েল হেজেকাইয়া তৃতীয়ও এগিয়ে ছিলেন। তবে সব আসনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীরা সফল হননি। অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩০-এ কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থিত প্রার্থী প্যাট্রিক মার্টিনেজ এবং সাবেক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দা শামসুল হকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। ভোটের প্রায় ৯৯ শতাংশ গণনা শেষে মার্টিনেজ মাত্র ১৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ফলে এই আসনের ফল পুনর্গণনার দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাবের প্রথম বড় পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তাঁর সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের ভোট গণনায় নিউইয়র্কের ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্লেয়ার ভালদেজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। একই রাতে ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ব্র্যাড ল্যান্ডারও ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। সিবিএস নিউজের প্রক্ষেপণে এ ফলাফল উঠে আসে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ক্লেয়ার ভালদেজ জয় পেয়েছেন অবসর নিতে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য নিডিয়া ভেলাজকেজের উত্তরসূরি নির্বাচনের লড়াইয়ে। এই আসনে ব্রুকলিন ও কুইন্সের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য ভালদেজকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। অন্যদিকে বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য ভেলাজকেজ সমর্থন দিয়েছিলেন আন্তোনিও রেইনোসোকে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার দুই মেয়াদের বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন অর্জন করেন। লোয়ার ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের অংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে ল্যান্ডারের জয়কে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ল্যান্ডার নির্বাচনী প্রচারণায় জোহরান মামদানি ছাড়াও ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনের আগে ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং প্রো-ইসরায়েল লবিং সংগঠন এআইপিএসি নিয়ে গোল্ডম্যান ও ল্যান্ডারের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। তবে মামদানির সমর্থন পাওয়া তৃতীয় প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের ফলাফল প্রকাশের সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে নিউইয়র্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনেও বেশ কয়েকজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য সহজেই নিজেদের মনোনয়ন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন থমাস সুয়োজি, গ্রেস মেং, ইয়ভেট ক্লার্ক, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ এবং রিচি টরেস। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে থমাস ডিনাপোলি বিজয়ী হয়েছেন বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহও দেখা গেছে। নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে আগাম ভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাইমারি নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের প্রার্থী নির্ধারণের লড়াই নয়; বরং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে প্রগতিশীল এবং মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই নির্বাচনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউইয়র্কের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, মেয়র মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েলপন্থী সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি), বিশেষ করে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC)-এর সমালোচনা করে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি দাবি করেছেন, এসব রাজনৈতিক অর্থায়নকারী গোষ্ঠী “নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে” এবং বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করছে। সোমবার সিটি হল রোটুন্ডায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামদানি তার আগের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে তিনি এক নির্বাচনী সমাবেশে AIPAC-কে ইঙ্গিত করে “মনস্টার” শব্দ ব্যবহার করেন, যা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মামদানি বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো একক সংগঠন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সেইসব সুপার পিএসিকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন যারা বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালায়। তার ভাষায়, এসব গোষ্ঠী মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এর আগে তিনি ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, এসব শক্তি বিভিন্ন রূপে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। পরবর্তীতে ব্রুকলিনের কিংস থিয়েটারে দেওয়া এক বক্তব্যে মামদানি AIPAC এবং ইসরায়েল নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে জনমত প্রভাবিত করছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তার এই মন্তব্যের পর নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের কেহিলাথ জেরুশালেম সিনাগগের সিনিয়র রাব্বি চাইম স্টেইনমেটজ বলেন, এ ধরনের ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি সহিংসতা উসকে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, মামদানি AIPAC-কে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। মামদানি তার বক্তব্যে ইতালীয় সমাজতান্ত্রিক চিন্তক আন্তোনিও গ্রামশির একটি ধারণার উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয় পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন বাস্তবতার জন্ম হয়। তবে এই উদ্ধৃতির সঠিক ব্যাখ্যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে। এদিকে, এই মন্তব্যকে ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা ও মতবিরোধ আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মামদানিকে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন। তবে বামপন্থী মহলে আগে থেকেই জনপ্রিয় এই নেতা এখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। অ্যালবানি থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে মামদানির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীও অংশ নেবেন। বার্নি স্যান্ডার্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়েজ শাকির বলেন, “তিনি মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি নেতৃত্বের সমালোচনার জন্য এটি করছেন না। তিনি মনে করেন, যাদের সমর্থন করছেন তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী। প্রয়োজন হলে পরাজয় মেনেও তিনি সেই অবস্থানে অটল থাকবেন।” নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় বর্তমান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইয়াতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংগঠক দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরকে সমর্থন দিয়েছেন মামদানি। এ ছাড়া ১০তম জেলায় বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারকে এবং সপ্তম জেলায় ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজকে সমর্থন করছেন তিনি। ক্লেয়ার ভালদেজ বলেন, “গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি যেভাবে ভোটারদের উজ্জীবিত করেছিলেন, এখন সেই শক্তিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সময়।” তবে দলের মূলধারার নেতারা মামদানির এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। প্রতিনিধিপরিষদে ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিজ মামদানি-সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিরোধিতা করে বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গাজা যুদ্ধ এবং নিউইয়র্কের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন ডেমোক্রেটিক নেতা ইসরায়েলের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের করপোরেট প্রভাবমুক্ত নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন। ওয়াশিংটনের অনেক ডেমোক্রেটিক নেতা মনে করছেন, মামদানি এখন দলের জন্য রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছেন। তাদের মতে, তিনি এমন অনেক ভোটারকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন, যারা আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, তার বামপন্থী অবস্থান দলীয় রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মামদানির জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেলা বলেন, “মামদানির সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।” তবে ফয়েজ শাকির এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “জোহরান মামদানি রাজনৈতিক বোঝা নন। তিনি ক্রমেই ডেমোক্রেটিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।” সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়াইনে মুলিন প্রকাশ্যে নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশে “বোধোদয়” হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে মেয়র মামদানিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ১১ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং “স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি” নীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুলিন মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি তাকে “র্যাডিক্যাল সোশ্যালিস্ট”, “পুলিশবিরোধী” এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টিকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। মুলিন বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ দেশের অন্যতম দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হলেও তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে, যিনি তাদের কাজের পরিধি সীমিত করে দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “এনওয়াইপিডির সদস্যরা তাদের কাজ করতে চান, কিন্তু তাদের এমন একজন নেতা রয়েছে যিনি তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কবাসী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে “প্রকৃত নেতৃত্ব” বেছে নেবে বলে তিনি আশা করেন। মুলিনের এই মন্তব্যকে শুধু প্রশাসনিক সমালোচনা হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানির মধ্যে অতীত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তার দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প ওভাল অফিসে মামদানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সহযোগিতার সুযোগ দিয়েছিলেন, তবে বৈঠকের পর মামদানির অবস্থান ভিন্ন দিকে যায়। অন্যদিকে মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ওই বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে “ফ্যাসিস্ট” বলে উল্লেখ করেন এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোসহ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ থাকার কথাও বলেন। অভিবাসন নীতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন এবং সংস্থাটির ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইস-এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পক্ষে। এর আগেও মুলিন অভিযোগ করেছিলেন যে মেয়র মামদানির অভিবাসন নীতি নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তবে মামদানির সমর্থকরা বলছেন, তিনি অভিবাসী সম্প্রদায়, শ্রমজীবী মানুষ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। তাদের মতে, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ মূলত অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার এবং স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে মতপার্থক্যের প্রতিফলন। নিউইয়র্কের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাক্যবিনিময় কেবল ব্যক্তিগত বা দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং ফেডারেল সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিউইয়র্ক সিটির প্রগতিশীল প্রশাসনের মধ্যে বৃহত্তর আদর্শিক সংঘাতের প্রকাশ। আগামী দিনে অভিবাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ফেডারেল-স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার প্রশ্নে এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি, যিনি প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত এবং একই সঙ্গে রক্ষণশীল মহলের সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা মুদি দোকান স্থায়ীভাবে চালু রাখার উদ্দেশ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছেন স্থানীয় আইনপ্রণেতারা। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেনিফার গুতেরেজ ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে সিটি কাউন্সিলে এই সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, সিটির পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে যেন অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান বাধ্যতামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন তাঁর প্রথম মেয়াদের মধ্যেই সিটির পাঁচটি প্রধান বরোতে অন্তত একটি করে সরকারি মুদি দোকান চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আইনপ্রণেতা জেনিফার গুতেরেজ মনে করেন, এই উদ্যোগটি যেন কেবল বর্তমান মেয়রের একক বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আইন পাসের মাধ্যমে এটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া উচিত। যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রশাসন এলেও এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি চিরতরে বজায় থাকে। উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের কমিশনার অথবা মেয়রের মনোনীত অন্য কোনো সংস্থার প্রধানকে প্রতিটি বরোতে অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কোনো বেসরকারি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ অংশীদারিত্ব বা পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মেয়রের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি মালিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী খরচ কমিয়ে আনা। সরকারি এই গ্রোসারি উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চ-মানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে পুরো সিটিজুড়ে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের দৈনন্দিন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পাঁচটি বরোতে প্রথম পাঁচটি দোকান তৈরির জন্য মেয়র মামদানি ইতিমধ্যে ৭ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছেন। এই নতুন মডেলের আওতায়, গ্রোসারি শপের জমি এবং দোকান নির্মাণের সমস্ত খরচ ও ভাড়ার ব্যয়ভার বহন করবে সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, একটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো বেসরকারি অপারেটর বা প্রতিষ্ঠান এই দোকানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে শর্ত থাকবে যে, সরকারি সুবিধার কারণে বেঁচে যাওয়া অর্থ সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে। উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট দল থেকে নির্বাচিত এবং নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া জোহরান মামদানি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সিটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য এই ব্যতিক্রমী সরকারি গ্রোসারি শপের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা এখন স্থায়ী আইনের দিকে রূপ নিতে যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংকট মোকাবিলায় মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ২২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী এক দশকে ২ লাখ সাশ্রয়ী ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ বিদ্যমান ইউনিট সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা’ কর্মসূচিকে সমালোচকেরা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে করদাতাদের অর্থ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয় এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট মোকাবিলায় এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ফক্স নিউজের কলাম গবেষক নিকোল হুয়ার ও অ্যানি হেইম পরিকল্পনাটিকে ‘ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক নীতি’ এবং ‘অবাস্তব প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, নিউইয়র্কের আবাসন সংকটের মূল কারণ আবাসনের সরবরাহ ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা। তাদের দাবি, উচ্চ কর, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন আবাসন নির্মাণকে নিরুৎসাহিত করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আবাসন নির্মাণ সহজ করা গেলে সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে মামদানির পরিকল্পনা সেই পথের বিপরীত দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দীর্ঘদিন অবহেলিত বা জীর্ণ আবাসিক ভবনের মালিকানা ব্যক্তিগত বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট, অলাভজনক সংস্থা অথবা ভাড়াটেদের সংগঠনের হাতে হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি করা। মেয়র মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ভবনগুলো সংরক্ষণ করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ‘কমিউনিটি অপরচুনিটি টু পারচেজ অ্যাক্ট (২০২৫)’-এর আওতায় অলাভজনক সংস্থা ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলোকে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব ভবন উন্মুক্ত বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিক্রির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ কমে যাচ্ছে। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সরকারি আবাসন ব্যবস্থাগুলোর একটি পরিচালনা করছে। সংস্থাটির অধীনে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার অ্যাপার্টমেন্টে ৫ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন। সমালোচকদের বক্তব্য, সরকারি খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান না করেই আরও বেশি সম্পত্তি সরকারি অনুমোদিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ কার্যকর হবে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের কয়েকজন গবেষক পরিকল্পনার কিছু অংশের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর সরকারি প্রভাব বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা এই নীতিকে কার্ল মার্ক্সের সম্পদ পুনর্বণ্টন ধারণার সঙ্গে তুলনা করেছেন। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নিউইয়র্কের রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডও। এই বোর্ড শহরের প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ইউনিটের ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করে। সমালোচকদের দাবি, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বাড়িওয়ালাদের মুনাফা সীমিত হয়ে যায়, যা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হ্রাস পায়। মামদানি প্রশাসন ‘রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিংস’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে ভাড়াটেরা তাদের আবাসন-সংক্রান্ত সমস্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারেন। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবহেলনাকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং কাউন্সিলের তথ্য উদ্ধৃত করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রণমুক্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সরবরাহমুখী নীতিই আবাসনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বেশি কার্যকর হতে পারে। সমালোচকদের আরও দাবি, ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা আবাসন খাতে ব্যক্তিগত পুঁজি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাদের মতে, শত শত কোটি ডলার সরকারি ব্যয়ের পরিবর্তে আবাসন নির্মাণে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো হলে ডেভেলপাররাই নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন। অন্যদিকে মেয়র মামদানি ও তার প্রশাসন বলছে, সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি দূর করতে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ অপরিহার্য। ফলে প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি নিয়ে নিউইয়র্কের আবাসন নীতি, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থা আইসিইর তৎপরতা বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাবেক আইসিই কর্মকর্তা টমাস হোম্যান সম্প্রতি নিউইয়র্কে আরও বেশি সংখ্যক অভিবাসন কর্মকর্তার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন কার্যক্রম সীমিত করতে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের নতুন আইনি পদক্ষেপের পর তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ক্রীড়া অঙ্গনে অভিবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনেও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও শ্রম বড় ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামদানি আরও বলেন, “নিউইয়র্ক সবসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের শহর। আমরা এমন কোনো পরিস্থিতি চাই না, যেখানে মানুষের মধ্যে ভয় বা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।” বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগামী সময়ে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে অভিবাসন অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য শহরটির পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক বক্তব্য অতিরঞ্জিত বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সরকারি বিবৃতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বড় বিষয়। বিশেষ করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সামনের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই ইস্যু আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য ভাড়ার বোঝা কমাতে একটি নতুন আবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এতে "অত্যন্ত স্বল্প আয়ের" বাসিন্দারা, অর্থাৎ চার সদস্যের পরিবারে বার্ষিক আয় ৫০,৮৮০ ডলার বা তার কম, নগর-ভর্তুকির অ্যাপার্টমেন্টে আয়ের ৩০ শতাংশের বদলে কেবল ২৫ শতাংশ ভাড়া দেবেন। নগর গৃহায়ন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের (এইচপিডি) কমিশনার দিনা লেভি বলেছেন, "আমরা ভাবছি 'কার জন্য সাশ্রয়ী' এই প্রশ্নটা নিয়ে।" তিনি জানান, নতুন ভাড়ার হার কার্যকর হবে জুন ২০২৬ বা তার পরে অর্থায়ন চূড়ান্ত হওয়া এইচপিডি-অর্থায়িত নতুন প্রকল্পগুলোতে। ভাউচার ব্যবহারকারী পরিবারগুলো এর আওতায় পড়বেন না। "যখন শ্রমজীবী মানুষদের এই শহর থেকে ঠেলে বের করা হচ্ছে, তখন অর্ধেক পদক্ষেপ বা দেরি করার সুযোগ নেই। এই পরিকল্পনা আবাসন সংকটের জরুরিতাকে সেভাবেই মোকাবিলা করছে যেভাবে দরকার।" জোহরান মামদানি, মেয়র, নিউ ইয়র্ক সিটি দশ বছরে ২ লাখ ঘর মামদানি প্রশাসন আগামী দশ বছরে দুই লাখ সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর আট হাজার নতুন সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে, যা আগের দুই বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বছরে প্রায় দুই হাজার ৪০০টি অ্যাপার্টমেন্ট হবে এলাকার মধ্যমান আয়ের ৩০ শতাংশ বা তার কম উপার্জনকারীদের জন্য এবং এক হাজার ৬০০টি হবে মধ্যমান আয়ের ৩১ থেকে ৫০ শতাংশ উপার্জনকারী পরিবারের জন্য। কমিশনার লেভি জানিয়েছেন, বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ, গৃহমালিকানার সুযোগ তৈরি এবং মূলধনি তহবিল ছাড়াই কর সুবিধার মাধ্যমে নির্মাণ ত্বরান্বিত করে দুই লাখ ঘরের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসন বছরে এক হাজার নতুন প্রবীণ আবাসন তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। নতুন কৌশলে শুধু বয়স্কদের জন্য আলাদা প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য মিশ্র প্রজন্মভিত্তিক আবাসন নির্মাণও করা হবে। "ফেডারেল সরকার সাশ্রয়ী আবাসনে তাদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। সেকশন ৮-এ সম্প্রসারণ হচ্ছে না, বরং কোথাও কোথাও কমছে। তাই মিশ্র প্রজন্মের প্রকল্পগুলো সেকশন ৮ না বাড়িয়েই বেশি প্রবীণ আবাসন তৈরির পথ দেখাচ্ছে।" দিনা লেভি, কমিশনার, এইচপিডি পরিকল্পনায় আবাসনের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট রক্ষা করা, নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ, ভবন বিধি প্রয়োগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উৎসাহিত করতে ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা। প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপ ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে বলে কমিশনার জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকে নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এনওয়াইপিডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” বলে দাবি করলেও, সিটি প্রশাসন বলছে এটি পুলিশ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তা হলেন এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন জেমস উইলসন।তিনি ব্রুকলিনের ৯৪তম প্রিসিঙ্কটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে তাকে মেয়র মামদানিকে “an embarrassment” বা “লজ্জাজনক” বলতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে তিনি নিউইয়র্কের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এনওয়াইপিডি প্রশাসন তাকে ব্রঙ্কসে অবস্থিত ৯১১ কল সেন্টারে বদলি করে। এনওয়াইপিডির নীতিমালা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল নেতারা ক্যাপ্টেন উইলসনের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ করায় তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান অরিওলা বলেন, “যদি একই ধরনের মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে করা হতো, তাহলে হয়তো তাকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু মেয়র মামদানির সমালোচনা করায় এখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করছে। তারা এটিকে “দুই ধরনের নিয়ম” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন—একটি কট্টর বামপন্থীদের জন্য, আরেকটি অন্যদের জন্য। অন্যদিকে মেয়র মামদানি দাবি করেছেন, ক্যাপ্টেন উইলসনের বদলির সিদ্ধান্তে তার কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ এনওয়াইপিডির প্রশাসনিক বিষয়।” তবে বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার একটি শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর সিএনএনের। মেয়রের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির একটি প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন মামদানি। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন ওবামাও। এর আগে গত নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ফোনে কথা হয়েছিল দুই নেতার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেই আলোচনায় ওবামা মামদানিকে সতর্ক করে বলেন—একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম শহর পরিচালনা করেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে অনেকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ওই কথোপকথনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রশাসন পরিচালনার বাস্তবতার পার্থক্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পান মামদানি। এদিকে, মেয়র হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দুবার সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন মামদানি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘পাইড-আ-তের’ কর নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, এই নীতির মাধ্যমে নিউইয়র্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই কর নীতির আওতায় শহরে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ট্রাম্পের সমালোচনার বিষয়ে মামদানি বলেন, তিনি এ ধরনের অবস্থানে বিস্মিত নন এবং নীতিগত পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।
জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, শহর প্রশাসনের পর তার রাজনৈতিক পথ রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়েও বিস্তৃত হতে পারে। সিবিএস নিউজের এর সিবিএস মর্নিং অনুষ্ঠানে মামদানি বলেন, আগে অনেকেই মনে করতেন তিনি কেবল নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার একটি অংশে সীমাবদ্ধ রাজনৈতিক প্রভাব রাখতে পারবেন। কিন্তু এখন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র। এরপর তিনি বলেন, পরবর্তী প্রশ্ন হবে রাজ্য, তারপর দেশ। তার এই মন্তব্যকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জাতীয় পর্যায়ে আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হলো শ্রমজীবী মানুষ। তাই এমন রাজনীতি প্রয়োজন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, শিশু পরিচর্যা, গণপরিবহন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। তিনি দাবি করেন, নিউইয়র্কে তার প্রশাসন ইতোমধ্যে সেই ধরনের নীতির বাস্তব প্রয়োগ শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে তার প্রশাসন বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, অফিস অফ কমিউনিটি সেফটি চালু এবং শহরের প্রথম সরকারি পরিচালিত মুদি দোকানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বাসসেবা উন্নয়ন ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজও চলছে বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক এই পদ থেকে জাতীয় পরিচিতি পেয়েছেন। তাই মামদানির সাম্প্রতিক মন্তব্য ভবিষ্যতে গভর্নর, সিনেট কিংবা আরও বড় কোনো পদে আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও মামদানি সরাসরি কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি, তবুও তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শনকে শুধু নিউইয়র্কে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। ফলে তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এখন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।