আজকের নিউইয়র্ক সিটি—উঁচু দালান, ব্যস্ত ওয়াল স্ট্রিট আর আলোকোজ্জ্বল টাইমস স্কয়ার—আধুনিকতার এক প্রতীক। কিন্তু এই ঝলমলে শহরের পেছনে লুকিয়ে আছে বহু শতকের ইতিহাস। কখনও কি ভেবেছেন, ‘নিউইয়র্ক’ নামটি এলো কোথা থেকে? আর এর আগের পরিচয়টাই বা কী ছিল? চলুন, সময়ের স্রোতে ভেসে ফিরে যাই সেই অতীতের দ্বীপে।
আদিবাসীদের ‘মানাহাট্টা’ ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে এই অঞ্চল ছিল লেনাপে জনগোষ্ঠীর বসতি। তারা এই দ্বীপের নাম দিয়েছিল ‘মানাহাট্টা’। এর অর্থ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সাধারণভাবে ধরা হয়—“পাহাড়ঘেরা দ্বীপ”।
তখনকার দৃশ্য আজকের মতো ছিল না—না ছিল কংক্রিটের শহর, না ছিল বাণিজ্যের কোলাহল। চারপাশজুড়ে ছিল সবুজ বন, নদী আর প্রাকৃতিক জীবন। লেনাপে জনগোষ্ঠী শিকার, মাছ ধরা ও কৃষির মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে জীবন কাটাত। ডাচদের আগমন ও ‘নিউ আমস্টারডাম’ ১৭শ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের নজর পড়ে এই অঞ্চলে। ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে একটি বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে এবং নেদারল্যান্ডসের রাজধানীর নামানুসারে এর নাম দেয় ‘নিউ আমস্টারডাম’।
১৬২৬ সালে ডাচ গভর্নর পিটার মিনুইট স্থানীয়দের কাছ থেকে ম্যানহাটন দ্বীপটি খুব অল্প মূল্যে অধিগ্রহণ করেন বলে প্রচলিত আছে। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, জমির মালিকানা নিয়ে ইউরোপীয় ও আদিবাসীদের ধারণা এক ছিল না।
ইংরেজ শাসন ও ‘নিউইয়র্ক’ নামের জন্ম ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা প্রায় বিনা প্রতিরোধেই এই অঞ্চল দখল করে নেয়। ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস তাঁর ভাই দ্বিতীয় জেমসের সম্মানে শহরটির নাম রাখা হয় ‘নিউইয়র্ক’।
‘ইয়র্ক’ নামটি এসেছে ইংল্যান্ডের ইয়র্ক শহর থেকে। অর্থাৎ ‘নিউইয়র্ক’ মানে—পুরনো ইয়র্কের নতুন সংস্করণ। অতীতের ছাপ আজও রয়ে গেছে আজকের আধুনিক শহরে দাঁড়িয়ে ‘মানাহাট্টা’ বা ‘নিউ আমস্টারডাম’-এর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবুও শহরের পতাকায় ডাচদের রঙ, কিছু পুরনো স্থাপত্য, আর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সেই অতীতের গল্প মনে করিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক সিটি শুধু একটি শহর নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি আর পরিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
আজকের নিউইয়র্ক সিটি—উঁচু দালান, ব্যস্ত ওয়াল স্ট্রিট আর আলোকোজ্জ্বল টাইমস স্কয়ার—আধুনিকতার এক প্রতীক। কিন্তু এই ঝলমলে শহরের পেছনে লুকিয়ে আছে বহু শতকের ইতিহাস। কখনও কি ভেবেছেন, ‘নিউইয়র্ক’ নামটি এলো কোথা থেকে? আর এর আগের পরিচয়টাই বা কী ছিল? চলুন, সময়ের স্রোতে ভেসে ফিরে যাই সেই অতীতের দ্বীপে। আদিবাসীদের ‘মানাহাট্টা’ ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে এই অঞ্চল ছিল লেনাপে জনগোষ্ঠীর বসতি। তারা এই দ্বীপের নাম দিয়েছিল ‘মানাহাট্টা’। এর অর্থ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সাধারণভাবে ধরা হয়—“পাহাড়ঘেরা দ্বীপ”। তখনকার দৃশ্য আজকের মতো ছিল না—না ছিল কংক্রিটের শহর, না ছিল বাণিজ্যের কোলাহল। চারপাশজুড়ে ছিল সবুজ বন, নদী আর প্রাকৃতিক জীবন। লেনাপে জনগোষ্ঠী শিকার, মাছ ধরা ও কৃষির মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে জীবন কাটাত। ডাচদের আগমন ও ‘নিউ আমস্টারডাম’ ১৭শ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের নজর পড়ে এই অঞ্চলে। ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে একটি বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে এবং নেদারল্যান্ডসের রাজধানীর নামানুসারে এর নাম দেয় ‘নিউ আমস্টারডাম’। ১৬২৬ সালে ডাচ গভর্নর পিটার মিনুইট স্থানীয়দের কাছ থেকে ম্যানহাটন দ্বীপটি খুব অল্প মূল্যে অধিগ্রহণ করেন বলে প্রচলিত আছে। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, জমির মালিকানা নিয়ে ইউরোপীয় ও আদিবাসীদের ধারণা এক ছিল না। ইংরেজ শাসন ও ‘নিউইয়র্ক’ নামের জন্ম ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা প্রায় বিনা প্রতিরোধেই এই অঞ্চল দখল করে নেয়। ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস তাঁর ভাই দ্বিতীয় জেমসের সম্মানে শহরটির নাম রাখা হয় ‘নিউইয়র্ক’। ‘ইয়র্ক’ নামটি এসেছে ইংল্যান্ডের ইয়র্ক শহর থেকে। অর্থাৎ ‘নিউইয়র্ক’ মানে—পুরনো ইয়র্কের নতুন সংস্করণ। অতীতের ছাপ আজও রয়ে গেছে আজকের আধুনিক শহরে দাঁড়িয়ে ‘মানাহাট্টা’ বা ‘নিউ আমস্টারডাম’-এর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবুও শহরের পতাকায় ডাচদের রঙ, কিছু পুরনো স্থাপত্য, আর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সেই অতীতের গল্প মনে করিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক সিটি শুধু একটি শহর নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি আর পরিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল।
পোপ চতুর্দশ লিও বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অস্থির পৃথিবীতে ঐক্য ও শান্তির যে বার্তা তিনি দিচ্ছেন, তা শোনার এখনই উপযুক্ত সময়। আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়া থেকে ক্যামেরুন যাওয়ার পথে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ক্রমাগত সমালোচনার মুখেও তিনি তার এই শান্তিবাদী অবস্থানে অনড় রয়েছেন। পোপ লিও আলজেরিয়ার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শনকে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনধারা সত্ত্বেও মানুষ চাইলে একে অপরের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং এই ভ্রাতৃত্বের চিত্রটিই আজ বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা পোপের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কোনো হুমকিতেই তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপের ধর্মতাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর জবাবে পোপ সেন্ট অগাস্টিনের জন্মভূমি পরিদর্শন করে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে তার জ্ঞান ও আদর্শ অত্যন্ত গভীর। ট্রাম্প ও ভ্যাটিকানের এই বাগযুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নিজেকে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘটনাটি এই দ্বৈরথকে আরও বেশি নাটকীয় করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোপের এই সফর কেবল ধর্মীয় নয় বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তিনি বিশ্বনেতাদের ক্ষমতার আস্ফালন বাদ দিয়ে অবিলম্বে মানবিকতার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পোপের আফ্রিকা সফর এখন ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতীকী প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল সংলাপের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংকটের অবসান ঘটানো সম্ভব এবং এতেই বিশ্ব মানবতার কল্যাণ নিহিত।
অভিবাসন ইস্যুতে সুর চড়া করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার 'অপব্যবহার' নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তবে এই আলোচনার মাঝেই তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন তার স্ত্রী ঊষা চিলুকুরি ভ্যান্সের বাবা-মাকে, যারা কয়েক দশক আগে ভারত থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। ভ্যান্স জানান, তার শ্বশুর-শাশুড়ি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং তারা মার্কিন সমাজ ও অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যারা মেধার ভিত্তিতে বৈধভাবে এসেছেন, তাদের সঙ্গে বর্তমানের 'ব্যবস্থা ভাঙা' অভিবাসীদের তুলনা করা চলে না। তিনি বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। ভ্যান্সের অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করে সস্তায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, যা মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা দরকার যা আমেরিকার স্বার্থকে সবার আগে দেখবে।" ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই রানিং মেট আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের শিথিল নীতির কারণে অভিবাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তারা ভিসার নিয়মকানুন আরও কঠোর করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের প্রশংসা এবং একইসঙ্গে অভিবাসন বিরোধী অবস্থান—ভ্যান্সের এই দ্বিমুখী কৌশল মূলত রক্ষণশীল মার্কিন ভোটারদের আশ্বস্ত করার একটি প্রয়াস।