যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগে বাড়তে পারে হৃদ্রোগ-স্থূলতার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) সারা বছর চালুর উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। এখন বিলটি সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায়। সিনেটে পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন।
বিলটি আইনে পরিণত হলে অ্যারিজোনা ও হাওয়াই ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গরাজ্য সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করবে। এর ফলে সন্ধ্যায় সূর্যের আলো কিছুটা বেশি সময় থাকবে, তবে শীতকালে অনেক এলাকায় সকাল ৮টার আগে সূর্যোদয় হবে না।
আইনপ্রণেতাদের দাবি, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের ঝামেলা দূর হবে, সন্ধ্যার অতিরিক্ত আলো অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন।
আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের মুখপাত্র ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. কারিন জনসনের ভাষ্য, ডে-লাইট সেভিং টাইম মানুষের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মানুষ কখনোই পুরোপুরি এ সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না।
তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত আলো থাকলেও মানুষ নতুন করে বেশি ব্যায়াম শুরু করে না। বরং যাঁরা আগে থেকেই ব্যায়াম করতেন, তাঁরা সময় পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও হৃদ্রোগের হার বাড়ার মতো উদ্বেগজনক প্রবণতাও কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক মাইকেল গ্র্যান্ডনার বলেন, এক ঘণ্টার সময় পরিবর্তনের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহে মানুষ মানিয়ে নিতে পারলেও সমস্যা থেকে যায় অন্য জায়গায়। কারণ, ডে-লাইট সেভিং টাইমে মানুষ সূর্যের প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় জৈবিকভাবে ‘দেরিতে’ বসবাস করে। কোটি মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে এই সামান্য ঘুমের ঘাটতিও জনস্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাশ ইউনিভার্সিটি সিস্টেম ফর হেলথের চিকিৎসক ডা. জেমস রাউলি বলেন, সকালে প্রাকৃতিক আলো মানুষের শরীরকে জাগিয়ে তুলতে এবং রাতে অন্ধকার ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। এ স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসও বদলে যায়। তখন বেশি চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়, যা স্থূলতা ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীরা এ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এমনিতেই পর্যাপ্ত ঘুম পায় না। শীতকালে অন্ধকার সকালে স্কুলে যেতে হলে তাদের ঘুমের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর।
ডা. জনসনের মতে, ঘুমের ঘাটতির কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। কিন্তু চিকিৎসার পর তারা উপলব্ধি করেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন কতটা প্রভাবিত হচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইমের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না। উত্তরাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে, বিশেষ করে একটি টাইম জোনের পশ্চিম প্রান্তে বসবাসকারীরা তুলনামূলক বেশি জৈবিক সময়ের অসামঞ্জস্যের মুখে পড়তে পারেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মার্চের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত ডে-লাইট সেভিং টাইম এবং বাকি সময় স্ট্যান্ডার্ড টাইম কার্যকর থাকে। নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না।
তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, যদি একটি সময়ব্যবস্থা স্থায়ী করতেই হয়, তাহলে ডে-লাইট সেভিং টাইম নয়; বরং স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইমই মানুষের জৈবঘড়ি ও স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী হবে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ীকরণের বিল পাস হওয়ার পর সেই বিকল্প প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreদীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে। জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন। সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়। আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা। জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়। দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য। আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি। জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে। দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে। তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন। এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি। জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫
নিউ ইয়র্কের জলাভূমিতে ছবি তুলতে গিয়ে তরুণীর ক্যামেরায় ধরা পড়লো রহস্যময় প্রাণী
মেরিল্যান্ডের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ব্যক্তিগত পার্কিং লট পরিচালনাকারীদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং চালকদের পার্কিংয়ের আগে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের নেতারা প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটির নাম দিয়েছেন ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’। আটলান্টার চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই কোথায় এবং কীভাবে পার্কিংয়ের বিল পরিশোধ করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন। অনেকেই কিয়স্ক খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে জরিমানার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতেই কাউন্সিল মেম্বার জেসন ডজিয়ার আইনটি প্রস্তাব করেছেন, যা সোমবার পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত এই বিলটি অনুমোদিত হলে পার্কিং লটগুলোতে মূল্য তালিকা এবং মূল্য পরিশোধের মাধ্যমগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো বাধ্যতামূলক হবে। শুধুমাত্র টেক্সট বা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হলে চালকদের তা আগেই জানাতে হবে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া কোনো চালক পার্কিং লটে প্রবেশের পর যদি সেখানে গাড়ি না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে বিনা খরচে লট ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দিতে হবে। নতুন নিয়মে লটগুলোতে কাস্টমার সার্ভিসের ফোন নম্বর বা ওয়েবসাইট, কার্য পরিচালনার সময়, পরিচালনাকারীর নাম এবং ধারণক্ষমতার তথ্যও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং লটটি ক্যাশলেস কি না, কর্মী আছে কি না বা গেট রয়েছে কি না, সে বিষয়গুলোও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। জরিমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। পরিচালনাকারীদের এখন থেকে চালকদের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং কোনো ক্রেডিট বা কালেকশন এজেন্সির কাছে পাঠানোর আগে আপত্তির জন্য অন্তত ৩০ দিন সময় দিতে হবে। বিরোধ চলাকালীন কোনো জরিমানা কার্যকর করা যাবে না। অন্যদিকে, পার্কিং লটে ব্যবহৃত লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার ব্যবহার নিষিদ্ধ না হলেও এর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি সাইনবোর্ডে জানাতে হবে এবং সংগৃহীত ডেটা মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের কাজে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইনটি গত বুধবার আটলান্টার ট্রান্সপোর্টেশন কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে লট পরিচালনাকারীরা নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিন সময় পাবেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) তাদের 'থার্ড কান্ট্রি' বা তৃতীয় দেশে বিতাড়ন কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সিবিএস নিউজের হাতে আসা মার্কিন সরকারের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ অন্যান্য দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকা মহাদেশের আটটি দেশে বিতাড়িত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আইসের তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এসব নারী-পুরুষকে বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নিরক্ষীয় গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা এবং সিয়েরা লিওনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিতাড়িত এই অভিবাসীদের কেউই সেসব দেশের নাগরিক নন। গত দেড় সপ্তাহে আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি ইরান, নেপাল, তুরস্ক এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরও আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন সরকারের এই অভ্যন্তরীণ নথিগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। নিজ দেশের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের সম্পূর্ণ অপরিচিত ও দূরবর্তী দেশে নির্বাসিত করার এই অভিযান ক্রমশ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। তবে বর্তমানে আফ্রিকার অনেক দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই চুক্তিতে জড়াচ্ছে, যার মধ্যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সশস্ত্র সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে জর্জরিত দেশগুলোও রয়েছে। ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলো কেবল আফ্রিকার অন্যান্য স্থানের অভিবাসীদের গ্রহণ করলেও এসওয়াতিনি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং লাইবেরিয়ার মতো দেশগুলো লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা বন্দীদেরও গ্রহণ করছে। আফ্রিকায় বিতাড়িত এসব অভিবাসীর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অনেকেই কেবল অবৈধভাবে প্রবেশ বা বৈধ নথিপত্রের অভাবের কারণে আইসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ফ্লাইটে সিয়েরা লিওন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বন্দীদের নামানো হয়। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি রয়েছে। এদিকে, এ বিষয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, যদি কোনো অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে আবেদন করে, তবে আইন অনুযায়ী তাদের জন্য একটি নিরাপদ দেশের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যদিকে তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিনা মূল্যে ফ্লাইট এবং ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়া হয়। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিতাড়িত হওয়া এক ২৪ বছর বয়সী আফগান যুবকের ঘটনা এই নীতির ভয়াবহ দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে। খলিল নামের ওই যুবকের পরিবার আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করেছিল এবং সে নিজেও মার্কিন অভিবাসন আদালতে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে তৃতীয় এই দেশে বিতাড়িত করেছে। মার্কিন মেরিন কর্নেল জাচারি শ্মিডট, যিনি খলিলের ভাইয়ের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, তিনি খলিলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্মিডট জানান, খলিলকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তালেবানরা তাকে হত্যা করবে। খলিলের আইনজীবী আলমা ডেভিডের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।
এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার
মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ