যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের প্রথা বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) সারা বছর চালুর উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। এখন বিলটি সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায়। সিনেটে পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছেন।
বিলটি আইনে পরিণত হলে অ্যারিজোনা ও হাওয়াই ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব অঙ্গরাজ্য সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করবে। এর ফলে সন্ধ্যায় সূর্যের আলো কিছুটা বেশি সময় থাকবে, তবে শীতকালে অনেক এলাকায় সকাল ৮টার আগে সূর্যোদয় হবে না।
আইনপ্রণেতাদের দাবি, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের ঝামেলা দূর হবে, সন্ধ্যার অতিরিক্ত আলো অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন।
আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনের মুখপাত্র ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. কারিন জনসনের ভাষ্য, ডে-লাইট সেভিং টাইম মানুষের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে মানুষ কখনোই পুরোপুরি এ সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না।
তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত আলো থাকলেও মানুষ নতুন করে বেশি ব্যায়াম শুরু করে না। বরং যাঁরা আগে থেকেই ব্যায়াম করতেন, তাঁরা সময় পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা ও হৃদ্রোগের হার বাড়ার মতো উদ্বেগজনক প্রবণতাও কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক মাইকেল গ্র্যান্ডনার বলেন, এক ঘণ্টার সময় পরিবর্তনের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহে মানুষ মানিয়ে নিতে পারলেও সমস্যা থেকে যায় অন্য জায়গায়। কারণ, ডে-লাইট সেভিং টাইমে মানুষ সূর্যের প্রকৃত অবস্থানের তুলনায় জৈবিকভাবে ‘দেরিতে’ বসবাস করে। কোটি মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে এই সামান্য ঘুমের ঘাটতিও জনস্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাশ ইউনিভার্সিটি সিস্টেম ফর হেলথের চিকিৎসক ডা. জেমস রাউলি বলেন, সকালে প্রাকৃতিক আলো মানুষের শরীরকে জাগিয়ে তুলতে এবং রাতে অন্ধকার ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। এ স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসও বদলে যায়। তখন বেশি চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়, যা স্থূলতা ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীরা এ পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী এমনিতেই পর্যাপ্ত ঘুম পায় না। শীতকালে অন্ধকার সকালে স্কুলে যেতে হলে তাদের ঘুমের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার ওপর।
ডা. জনসনের মতে, ঘুমের ঘাটতির কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। কিন্তু চিকিৎসার পর তারা উপলব্ধি করেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন কতটা প্রভাবিত হচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইমের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমান হবে না। উত্তরাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোতে, বিশেষ করে একটি টাইম জোনের পশ্চিম প্রান্তে বসবাসকারীরা তুলনামূলক বেশি জৈবিক সময়ের অসামঞ্জস্যের মুখে পড়তে পারেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মার্চের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত ডে-লাইট সেভিং টাইম এবং বাকি সময় স্ট্যান্ডার্ড টাইম কার্যকর থাকে। নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না।
তবে ঘুম ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মত, যদি একটি সময়ব্যবস্থা স্থায়ী করতেই হয়, তাহলে ডে-লাইট সেভিং টাইম নয়; বরং স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইমই মানুষের জৈবঘড়ি ও স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী হবে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ীকরণের বিল পাস হওয়ার পর সেই বিকল্প প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিকে বহু শিশু ও কর্মী নিহত হওয়ার পর একই অঞ্চলে আবারও জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। দক্ষিণ টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে, নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়ছে এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, টেক্সাসের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উভালডে কাউন্টি ও আশপাশের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে নদী, ছোট জলপথ ও নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। উভালডে কাউন্টিসহ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট একাধিক কাউন্টিতে দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে রাজ্যের জরুরি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, পানির স্রোত দেখে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না এবং বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এই পরিস্থিতি টেক্সাসবাসীর মনে এক বছর আগের ভয়াবহ ক্যাম্প মিস্টিক বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গুয়াডালুপ নদীতে আকস্মিক বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিক এলাকায় ২৭ জন শিশু ও কর্মীসহ বহু মানুষ নিহত হন। পরবর্তী তদন্তে ক্যাম্পের জরুরি প্রস্তুতি ও বন্যা মোকাবিলা পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ভারী বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নদী, খাল ও পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। টেক্সাসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলে স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা অনুসরণ করুন, বন্যার পানিতে প্রবেশ করবেন না এবং জরুরি অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখুন। বিশেষ করে নদী, খাল বা নিচু এলাকার কাছাকাছি বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম ওঠানামার মধ্যে অনেক চালকই জ্বালানি খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করলে প্রতি গ্যালনে উল্লেখযোগ্য ছাড় পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ বড় গ্যাস স্টেশন এখন নিজস্ব রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম চালু করেছে। মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের পর প্রতিবার কেনাকাটায় পয়েন্ট জমা হয়, যা পরে গ্যাস কেনার সময় ছাড় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সুপারমার্কেট চেইনগুলোর সঙ্গে গ্যাস স্টেশনের অংশীদারিত্বও রয়েছে। যেমন, ক্রোগারের ‘ফুয়েল পয়েন্টস’ কর্মসূচিতে শপার কার্ড ব্যবহার করে প্রতি এক ডলার যোগ্য কেনাকাটায় এক পয়েন্ট পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ পয়েন্টে প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট পর্যন্ত ছাড় মেলে, যা ক্রোগার ফুয়েল সেন্টার এবং অংশগ্রহণকারী শেল স্টেশনগুলোতে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে অ্যালবার্টসনস ও সেফওয়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পণ্য কিনেও পয়েন্ট জমিয়ে পরে গ্যাসে মূল্যছাড় নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেসব গ্যাস স্টেশন বা ব্র্যান্ডে নিয়মিত জ্বালানি নেন, সেগুলোর রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করা উচিত। পাশাপাশি ভ্রমণের সময় যেসব ব্র্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন, সেগুলোর অফারও নজরে রাখা ভালো। তবে পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। সদস্যভিত্তিক বিভিন্ন সেবাও গ্যাসে ছাড় দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম সদস্যরা বিপি, অ্যামোকো এবং অংশগ্রহণকারী অ্যাম্পিএম স্টোরে প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। ওয়ালমার্ট প্লাস সদস্যরাও এক্সন, মোবিল, ওয়ালমার্ট ও মারফিসহ ১৩ হাজারের বেশি স্টেশনে সাধারণত প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট পর্যন্ত ছাড় পান। তবে আলাবামা ও ওকলাহোমায় এই ছাড় বর্তমানে প্রতি গ্যালনে ৫ সেন্ট। অন্যদিকে কস্টকো, স্যামস ক্লাব বা বিজে’স হোলসেল ক্লাবের সদস্যরা সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফুয়েল স্টেশন থেকে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৫ থেকে ২৫ সেন্ট পর্যন্ত কম দামে জ্বালানি কিনতে পারেন। গ্যাস ভরার আগে আশপাশের স্টেশনগুলোর মূল্য তুলনা করাও সাশ্রয়ের একটি কার্যকর উপায়। গ্যাসবাডি ও ওয়েজের মতো অ্যাপ বিভিন্ন এলাকার তাৎক্ষণিক গ্যাসের দাম দেখায়, ফলে কম দামের স্টেশন বেছে নেওয়া সহজ হয়। জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ির ব্যবহারেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি স্থির অবস্থায় এক ঘণ্টায় প্রায় আধা গ্যালন পর্যন্ত জ্বালানি খরচ করতে পারে। তাই ১০ সেকেন্ডের বেশি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখার পরিবর্তে বন্ধ করে দেওয়াই ভালো। এছাড়া টায়ারের বাতাস সঠিক মাত্রায় না থাকলে ইঞ্জিনকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করে প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত মাত্রায় রাখা হলে গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্রেইনার্ডে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিহত কিশোরী অ্যালেক্সিসের পরিবার দাবি করেছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পরই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং অভিযোগ জমা পড়েনি। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পর্যালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অ্যালেক্সিসের বাবা-মা শ্যান্টেল স্মিথ ও ব্রেন্ট উইলিসের অভিযোগ, তাদের মেয়ে ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে পড়ার সময় একদল সহপাঠী তার গায়ের রং, নাকের আকৃতি ও চেহারা নিয়ে নিয়মিত অপমান করত। তাদের দাবি, অ্যালেক্সিস বিষয়টি বন্ধু, পরিবারের সদস্য এমনকি স্কুলের কিছু কর্মীকেও জানিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মন্তব্যের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণও ছিল। তারা মনে করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়া ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট চিপ র্যাঙ্কিন বলেন, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি জানান, স্কুল প্রশাসনের নথিতে অ্যালেক্সিসকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং রিপোর্ট নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেই যে বুলিং হয়নি, এমনটি বলা যায় না। র্যাঙ্কিন বলেন, বর্তমানে অনেক বুলিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে, যা স্কুল সময়ের বাইরে হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জড়াতে না চাওয়ায় ঘটনাগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় না। তিনি জানান, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর পরপরই জেলার সংকট মোকাবিলা দল সক্রিয় করা হয়েছে। ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ৩০টিরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো বুলিং অভিযোগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইন-স্কুল বা আউট-অব-স্কুল সাসপেনশন, বহিষ্কার, এমনকি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। র্যাঙ্কিন বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে বুলিং শনাক্তকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিযোগ গ্রহণ ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বুলিং প্রতিরোধ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং স্কুলে অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এদিকে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের শৃঙ্খলাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসে বুলিং ও হয়রানির ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি, সেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০-এ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৫-এ পৌঁছায়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুলিংয়ের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও কঠোর হয়েছে। ইন-স্কুল সাসপেনশনের পাশাপাশি আউট-অব-স্কুল সাসপেনশনও আগের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যালেক্সিসের মৃত্যু আরও বেশি আলোচনায় এসেছে, কারণ এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছিল। দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং প্রতিরোধ এবং স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।