সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২১, ২০২৬ ২৩:১৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসব পায় প্রাণবন্ত রূপ।

 

ডেট্রয়েটের দুর্গা মন্দিরে ১৯ এপ্রিল দিনব্যাপী নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। বৈশাখী সাজে সজ্জিত মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা, অঞ্জলি, আরাধনা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন ছিল। মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের খাবার ও মিষ্টান্ন। বিকেলে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। শিশুদের অংশগ্রহণে বিশেষ পরিবেশনা এবং দর্শক-শ্রোতাদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন শহর থেকে আগত মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ ছিল মুখর।

 

একই দিন ওয়ারেন শহরের কালী মন্দিরেও নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। বিকেলে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। ঢাকঢোলের তালে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে নতুন বছরকে বরণ করে নেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক ও লোকগীতি পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। শিশুদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মুখে রং আঁকার আয়োজন।

 

এ ছাড়া হ্যামট্রাম্যাক শহরের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে ১৮ এপ্রিল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এতে গণেশ পূজা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়।

 

আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উৎসব আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ৫ নভেম্বর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে ভোটের দুই দিন আগে স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে ঠিকানা নিউজ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টায় আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিচারক নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে কোন আবেদন বা কী ধরনের আইনি যুক্তির ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।   নির্বাচন স্থগিতের খবরে প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত আসায় নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।   বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ঠিকানা নিউজকে জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে নির্বাচন কমিশন সংবাদ সম্মেলন করবে। নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলালও জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালেও ভোটার তালিকা, নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হয়েছিল। সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী সে সময় আদালতের দ্বারস্থ হন। একই বছরের অক্টোবরে আরও কয়েকজন সদস্য পৃথক মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতার কারণে ওই বছরের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগে আদালতের নির্দেশে ভোট স্থগিত হওয়ায় সংগঠনটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে।   সূত্র: ঠিকানা নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ২০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্ব অনুমোদনে বড় ধস

রোবট ‘অপটিমাস’

মানুষের মতো রোবট ‘অপটিমাস’ উৎপাদন শুরু করল টেসলা, বাজারে আসবে ২০২৭ সালে

নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি

নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি, আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছর বয়সীরাও

ডা. নাদিয়া হামিদ
নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন নাদিয়া হামিদ

নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিন কমিউনিটি মেডিকেল গ্রুপের ইস্ট এন্ড সার্জিক্যালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডা. নাদিয়া হামিদ। পায়ের ও গোড়ালির বিভিন্ন রোগ ও জটিলতার চিকিৎসায় বিশেষায়িত সেবা দেবেন তিনি। তাঁর এই যোগদানের ফলে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ইস্ট এন্ড অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।   ডা. নাদিয়া হামিদ একজন বোর্ড-সার্টিফায়েড পডিয়াট্রিস্ট। পায়ের বিভিন্ন সমস্যা, গোড়ালির রোগ এবং সংশ্লিষ্ট জটিলতার চিকিৎসায় তিনি রোগীদের সেবা দেবেন। তাঁর কর্মস্থল ইস্ট এন্ড সার্জিক্যাল থেকে গ্রিনপোর্ট, ম্যাটিটাক, রিভারহেড ও আশপাশের এলাকার রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।   স্টোনি ব্রুক মেডিসিনের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. অ্যাপোস্টোলোস তাসিওপোলোস ডা. নাদিয়া হামিদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইস্ট এন্ড সার্জিক্যাল ও স্টোনি ব্রুক মেডিসিন কমিউনিটি মেডিকেল গ্রুপে ডা. হামিদকে পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মাধ্যমে রোগীকেন্দ্রিক ও ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবায় নতুন গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বৃহত্তর ইস্ট এন্ড অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার চাহিদা পূরণেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে পায়ের ও গোড়ালির বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে পায়ের ব্যথা, গোড়ালির জটিলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে এমন বিভিন্ন রোগ। ডা. নাদিয়া হামিদের নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রোগীরা এসব সমস্যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৭:১৭
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাধ্য ট্রাম্প

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার

পাসপোর্ট প্রতারণার জেরে মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন অভিবাসী নারী

অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট, প্রতারণার জেরে মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন অভিবাসী নারী

সন্তানের হাতে উচ্চগতির ইলেকট্রিক বাইক
সন্তানের হাতে উচ্চগতির ইলেকট্রিক বাইক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১২ অভিভাবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের উচ্চগতির বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল চালাতে দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। সন্তান অবৈধভাবে বা বিপজ্জনকভাবে এ ধরনের যান চালালে এবং অভিভাবকের অবহেলা বা সংশ্লিষ্ট ভূমিকার প্রমাণ থাকলে, পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে। সম্প্রতি একাধিক গুরুতর দুর্ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়।   সিবিএস নিউজের ২২ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরেঞ্জ কাউন্টিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সন্তানদের অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল চালাতে দেওয়ার অভিযোগে ১২ জন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনায় শিশু-কিশোরদের গুরুতর আহত হওয়া কিংবা প্রাণহানির বিষয়ও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী বলা যাবে না।   ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, সাধারণ বৈদ্যুতিক সাইকেল এবং উচ্চগতির বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল এক শ্রেণির যান নয়। যানটির মোটরের ক্ষমতা, নকশা, সর্বোচ্চ গতি, প্যাডেল আছে কি না এবং আইনগত শ্রেণিবিন্যাসের ওপর নির্ভর করে সেটি চালানোর নিয়ম নির্ধারিত হয়। সাধারণ বৈদ্যুতিক সাইকেলের ক্ষেত্রে মোটরের ক্ষমতা ৭৫০ ওয়াটের মধ্যে থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু গতি বা মোটরের ক্ষমতা দেখেই প্রতিটি যানকে একই শ্রেণিতে ফেলা যায় না। ক্যালিফোর্নিয়ায় বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ যান সড়কে চালাতে লাইসেন্স, নিবন্ধন ও অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আরও ছয়জন অভিভাবকের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগের কথা জানায়। এর মধ্যে এক অভিভাবকের ১১ বছর বয়সী সন্তান উচ্চগতির বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল চালানোর সময় পিকআপ ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে হাড় ভাঙা ও গুরুতর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের শিকার হয়। অন্য একটি ঘটনায়, ৯ বছর বয়সী এক শিশু বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল চালানোর সময় পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের বিরুদ্ধে শিশুর নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।   আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, কিছু শিশু-কিশোর জনবহুল সড়কে উচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করছে এবং বিপজ্জনক কসরত করছে। কয়েকটি মামলায় প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন, অভিভাবকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে তাঁদের সন্তান যে যান চালাচ্ছে, সেটি অবৈধ বা বিপজ্জনক। এরপরও সন্তানকে সেটি চালাতে দেওয়ার অভিযোগে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব মামলায় শুধু গতি নয়, গাড়িটির আইনগত অবস্থান, সন্তানের বয়স, অভিভাবকের ভূমিকা এবং আগের সতর্কতার মতো বিষয়ও বিবেচনায় এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে বৈদ্যুতিক বাইক বা মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার আগে সেটি তার বয়সের উপযোগী কি না, জনসাধারণের সড়কে চালানো বৈধ কি না এবং লাইসেন্স বা নিবন্ধন প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে হেলমেটসহ নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সন্তানকে সচেতন করতে হবে। শুধু বিক্রেতার বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।   তবে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব অপ্রাপ্তবয়স্কের বৈদ্যুতিক বাইক চালানোর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে নেওয়া পদক্ষেপকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই আইন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। একইভাবে, কোনো শিশু নির্দিষ্ট গতিসীমা অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বাবা-মা অপরাধী হবেন বা গ্রেপ্তার হবেন—এমন সাধারণ নিয়মও নেই। পরিস্থিতি, প্রযোজ্য আইন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়।   সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বৈদ্যুতিক যান কেনার আগে তার প্রকৃত শ্রেণি ও স্থানীয় আইন সম্পর্কে জানা এবং সন্তানকে নিরাপদ চালনার নিয়ম শেখানো গুরুতর দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৫:৯
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ২৮ গ্রিন কার্ডধারী বিপাকে

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ২৮ গ্রিন কার্ডধারী বিপাকে, নাগরিকত্বও অনিশ্চিত

লাইসেন্সের কার্ড হারানো এবং গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল হওয়া এক বিষয় নয়

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্স হারালে, ৩০ মিনিটেই সমাধান! জানুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে বড় হতাশা, আট মাসে অনুমোদন কমেছে ৭২ শতাংশ

0 Comments