- প্রচ্ছদ
- Topic
ইমিগ্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী। ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে। সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে। সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক না হলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে। এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে। নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি। স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে। নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি। সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) পরিচালক পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত রিচার্ড শ্রয়ারের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সেনেটে তার মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে আটকে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত জুনে শ্রয়ারকে আইস-এর প্রধান তথা ডিএইচএস-এর সহকারী মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন ট্রাম্প। মিনেসোটায় এজেন্ট-জড়িত গোলাগুলির ঘটনার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য দাবি করে শ্রয়ারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া আটকে দেন রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল। ফলে সেনেটের 'হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স' কমিটিতেই আটকে যান শ্রয়ার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছে। গত এপ্রিলে টড লায়ন্স আইস-এর শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বর্তমানে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড ভেনচুরেলা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সেনেট কর্তৃক অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, আইসিই-সংক্রান্ত বিষয়, ড্রাইভিং বা ট্রাফিক মামলা, গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ক্রিমিনাল কেস, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় দ্রুত একজন যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি মুহূর্তের অপেক্ষা না করে নিজের ফোনে অন্তত কয়েকজন অ্যাটর্নি বা ল ফার্মের নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখা কাজে আসতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন অ্যাটর্নি ও ল ফার্মের প্রকাশ্য যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো অ্যাটর্নির সেবা, দক্ষতা বা ফলাফলের র্যাংকিং নয়। কোনো আইনি বিষয়ে যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নির বর্তমান লাইসেন্স, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার স্টেটে প্র্যাকটিস করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি মওমিতা রহমানের ল ফার্মের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। নিউইয়র্কে তার অফিস এবং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ভাষায় সেবা দেন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। অ্যাটর্নি নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস অফিসের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯। অ্যাটর্নি মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন অফিসের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। এসব অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা দিয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশি কমিউনিটিকেন্দ্রিক ল ফার্ম খায়রুল বাশার ল-এর অফিস ফোন ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। ফার্মটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, আইসিই ডিটেনশন, বন্ড এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন কেস নিয়ে তারা কাজ করে। জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল ল অফিসের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি ইমিগ্রেশন ও সিভিল লিটিগেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলা ভাষায় সহায়তার কথা উল্লেখ করেছে। জর্জিয়ায় আটলান্টা মেট্রো এলাকার মনির মেহরান ল-এর ডোরাভিল অফিসের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সেবা বিভিন্ন স্টেটের ক্লায়েন্টদের দেওয়া হয়। তবে পার্সোনাল ইনজুরি সংক্রান্ত কাজ জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্যান্য স্টেটের স্টেট ল-এর ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও স্টেটের কথা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। মিশিগানের হামট্রামকে অ্যাটর্নি রুহুল এম. মুমেনের অফিসের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। তার ফার্মের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা দেন এবং অটো অ্যাকসিডেন্ট, পার্সোনাল ইনজুরি, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, ডিইউআইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। মিশিগান স্টেটের অ্যাটর্নি রেকর্ড ও প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও তার লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অ্যাটর্নি জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ফ্লোরিডায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি। তার প্রকাশ্য প্রোফাইলে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে কাজের তথ্য রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে তিনি সেটি গ্রহণ করছেন কি না, ফোনে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। টেক্সাসের হিউস্টনে অ্যাটর্নি মনিকা উদ্দিন আহমাদ, জাভিতসানোস অ্যান্ড মেনসিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল কোর্টের অ্যাটর্নি রেকর্ডে তার অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন অফিসের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফার্মের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তার মূল প্র্যাকটিস কমার্শিয়াল লিটিগেশন ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই ইমিগ্রেশন বা ব্যক্তিগত কোনো মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তারা গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাটর্নি ওমর এইচ. বেঙ্গালির অফিস গিরার্ড বেঙ্গালি, এপিসি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং অফিসের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০। অফিসের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার ফার্ম সেই ধরনের মামলা গ্রহণ করে কি না নিশ্চিত করা উচিত। ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলে অ্যাটর্নি তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল-এর ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭। ওয়াশিংটন স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ডে তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং প্র্যাকটিস এরিয়া ইমিগ্রেশন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই রেকর্ডে বাংলা ভাষাও তার জানা ভাষার মধ্যে রয়েছে। ইমিগ্রেশন, ডিপোর্টেশন ডিফেন্স, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, ফ্যামিলি ওয়ার্ক ভিসাসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন বিষয়ে তার ফার্ম কাজ করে। মিশিগানে আরেকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর অফিসের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬। তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি মিশিগান স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের জন্য অনুমোদিত এবং নিউইয়র্কে তার কাজ ইমিগ্রেশন বিষয়ে সীমিত। অন্য স্টেটের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার অফিস উল্লেখ করেছে। আইনি ঝামেলা হলে শুধু পরিচিত কারও পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন মামলার ক্ষেত্রে নোটারি, ডকুমেন্ট প্রিপেয়ারার বা তথাকথিত ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টকে অ্যাটর্নি ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলের সামনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি অথবা অনুমোদিত অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। নোটারি, ট্রাভেল এজেন্ট বা সাধারণ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন রিভিউ অফিস স্বীকৃত সংস্থা ও অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব সংস্থার কিছু কম খরচে বা প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করে যে তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা অ্যাটর্নিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ বা অনুমোদন করে না। প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে নিজের ফোনে কয়েকজন অ্যাটর্নির নম্বর আলাদা করে সেভ করে রাখা। তবে নম্বর সেভ করার পর সুযোগ থাকলে একবার অফিসে ফোন করে নম্বরটি বর্তমান কি না, অফিস কোন ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রাথমিক কনসালটেশনের জন্য কোনো ফি রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো অ্যাটর্নি সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে প্রথমে নিজের স্টেটের বার অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি লাইসেন্স রেকর্ডে অ্যাটর্নির বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং প্রবাসীদের জরুরি সময়ে দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করা।
সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক ক্লোয়ি ডিলন অভিযোগ করেছেন, আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাসাইলামপ্রার্থীকে আটক করার ঘটনায় আইনি ও ডিউ প্রসেস নিয়ে উদ্বেগ জানানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ অভিযোগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন। ডিলন ২০২২ সালে সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টে বিচারক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে এক কিশোর অ্যাসাইলামপ্রার্থী তাঁর আদালতে হাজির হন। আইসিই তাঁর অ্যাসাইলাম মামলা বাতিল করে তাকে এক্সপেডাইটেড রিমুভাল প্রক্রিয়ায় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিলন সেই পদক্ষেপে আপত্তি জানান এবং ওই ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেন। এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই ওই কিশোরকে আটক করে বলে ডিলনের অভিযোগ। পরে তাঁর ফাইল পর্যালোচনা করে ডিলনের মনে হয়, ওই ব্যক্তি সম্ভবত একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর এবং তাকে সরাসরি এক্সপেডাইটেড রিমুভালে পাঠানো নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। একই দিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ই-মেইল করে সম্ভাব্য আইন ও ডিউ প্রসেস লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ জানান। ডিলনের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ই-মেইল পাঠানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তিনি চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ পান। নোটিশে তাঁর চাকরি শেষ করার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আর্টিকেল ২ উল্লেখ করা হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ডিলন দাবি করছেন, তাঁর বরখাস্ত ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের প্রতিশোধ। মামলায় তিনি হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন, প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৩:২৬-cv-10143 এবং বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, সির্স ওয়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তবে বিচার বিভাগ ডিলনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিওজির একজন মুখপাত্র অভিযোগটিকে “patently false” বা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও কর্মীসংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণত মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে বিভাগটি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কোর্ট ব্যবস্থায় চলমান বড় পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১২০ জনের বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে বলে বিচারকদের ইউনিয়ন দাবি করেছে। তবে বরখাস্তের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন হিসাব রয়েছে। ডিলনের মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর করা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন সবসময় অনুমোদনের বিষয়ে বিচারকদের ওপর চাপ ছিল। ডিলনের দাবি, তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নজরে রাখছে। এটি অবশ্য মামলার অভিযোগ - আদালত এখনো এসব দাবি সত্য বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্ট ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানকার মামলাগুলো অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিলনের মামলাটি তাই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত, আইসিইর ইনফোর্চমেন্ট এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার পর ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রিসিলিয়ানো ত্রেজো রিকানো নামের ওই যুবক আইস হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে আইস হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। অথচ এর আগে তার শরীরে বড় কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ ছিল না। নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে আটক থাকার তিন সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারকে ভিডিও কল করে তিনি নিয়মিত তার শারীরিক যন্ত্রণার কথা জানাতেন। এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও তাকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তারা কেবলই একটি 'সংখ্যা' মাত্র। গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের তার সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিতে শেষ মুহূর্তে আইস তাকে তাদের হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। যেহেতু মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাই সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে 'হেফাজতে মৃত্যু' হিসেবে দেখানো হচ্ছে না, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার নীতিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল কোর্ট আইআরএসের এমন একটি নীতি বন্ধ রাখার আগের আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। ওই নীতির মাধ্যমে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকা প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের সর্বশেষ ঠিকানা চেয়েছিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার করদাতার ঠিকানা আইসিইকে দিয়েছিল। আপিল কোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, তথ্য দেওয়ার যে পদ্ধতি আইআরএস ব্যবহার করেছিল, তা ফেডারেল আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেনি। আইআরএস ও আইসিইর মধ্যে করা একটি চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আইসিই করদাতাদের সর্বশেষ জানা ঠিকানা চাওয়া শুরু করে। আইসিইর অনুরোধে এমন ব্যক্তিদের তথ্যও ছিল, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন ছিল। মামলাটি করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল আইনে যে কঠোর নিয়ম রয়েছে, আইআরএসের নতুন পদ্ধতিতে তা পাশ কাটানো হয়েছে। আদালতও বলেছে, তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না। এই রায়ের গুরুত্ব অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক ইমিগ্র্যান্ট নিয়মিত ট্যাক্স ফাইল করেন। ফেডারেল আইনে সাধারণভাবে আইআরএসের কাছে থাকা করদাতার তথ্য গোপন রাখার ওপর কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। আপিল কোর্টের সিদ্ধান্ত সেই সুরক্ষার সীমা এবং সরকারের তথ্য ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে আইআরএস কোনো পরিস্থিতিতেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে কর সংক্রান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারের রায়ের মূল বিষয় হলো, আইসিইর জন্য ঠিকানা সংগ্রহ ও শেয়ার করার যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি আইআরএস ২০২৫ সালে চালু করেছিল, সেটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না। এখন এই সিদ্ধান্তের পর আইআরএস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। মঙ্গলবারের রায়ের মাধ্যমে আপিল কোর্ট আপাতত ওই তথ্য শেয়ারিং নীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরাও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস-এর নিয়ম অনুযায়ী ‘যোগ্য বিদেশি’ হিসেবে বিবেচিত হতে হবে। এসএসআই হলো সীমিত আয় ও সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাত ধরনের অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথমত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, তারা এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির আমেরেশিয়ান অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, ১৯৮০ সালের ১ এপ্রিলের আগে কার্যকর থাকা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় যারা শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, তারাও যোগ্য হতে পারেন। তৃতীয়ত, ওই আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অন্তত এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বা ‘প্যারোল’ পাওয়া বিদেশিরাও এসএসআই সুবিধার আওতায় পড়তে পারেন। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পঞ্চমত, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়া বিদেশিরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ষষ্ঠত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা দেশত্যাগ স্থগিত করা হয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। সপ্তমত, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘কিউবান বা হাইতিয়ান প্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিরা এবং এসএসআইয়ের ক্ষেত্রে একই মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তালিকায় থাকা কোনো একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই এসএসআই পাওয়া নিশ্চিত নয়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে আয়, সম্পদ এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে। একইভাবে, শুধু দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই কেউ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন না। এদিকে, বিদেশিদের সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে ডেনমার্কেও সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। কাজ বা পড়াশোনার অনুমতিতে থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা নিলে তাদের বসবাস বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দেশটিতে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।
২০১৭ সালের চীনের গোল্ডেন উইক ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া তিন চীনা নারীকে ঘিরে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, মুখ ব্যান্ডেজে ঢাকা ও ফুলে থাকা অবস্থায় তারা হাতে পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাদের চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে এতটাই অমিল হয়েছিল যে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তাদের দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়। তবে পরে জানা যায়, ঘটনাটির এই বর্ণনা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় ভাইরাল দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন নারীকে পরিচয় যাচাই করতে আটকে রাখা বা ফ্লাইটে উঠতে না দেওয়ার দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়নি। ছবিটি প্রথমে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে চীনা টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়া প্রকাশ করেছিলেন। পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, গোল্ডেন উইকের ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করানোর পর ওই নারীরা দেশে ফেরার সময় সমস্যায় পড়েছেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে আরও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি তাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় সেই দাবিকে ‘তথ্যভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করে। ফলে ভাইরাল ছবিটি সত্য হলেও ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পুরো গল্পকে সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন নয়। অস্ত্রোপচারের পর মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে ভ্রমণের সময় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে কিছু ক্লিনিক বিদেশি রোগীদের অস্ত্রোপচারের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে থাকে। সৌন্দর্য বাড়ানোর আশায় প্লাস্টিক সার্জারি করলেও অস্ত্রোপচারের পরপরই ভ্রমণ করলে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি পরিচয় যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে তিন চীনা নারীকে ঘিরে ২০১৭ সালের ভাইরাল ঘটনাটি যে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার সত্য ঘটনা ছিল, সে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দিদের সাথে স্বজনদের আলিঙ্গন বা শারীরিক স্পর্শ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ১,৬০০ বন্দি ধারণক্ষমতার 'ক্যালিফোর্নিয়া সিটি' নামের এই বন্দিশালায় গত এক বছর ধরে 'কন্টাক্ট ভিজিট' বা সরাসরি সাক্ষাতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। কোরসিভিক নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত এই কারাগারে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরিবারের সদস্যরা কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে শুধু ফোনেই কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রিয়জনকে একটু ছুঁয়ে দেখার বা সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হচ্ছে না। এই অমানবিক নিয়মের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বন্দি ও তাদের স্বজনরা। তেরেসা রেয়েস নামের এক মা ৩২০ মাইল পাড়ি দিয়ে ছেলের ৩২তম জন্মদিনে দেখা করতে এলেও তাকে একটু জড়িয়ে ধরতে বা কোনো উপহার দিতে পারেননি। অন্যদিকে, অ্যালেন টেসন নামের এক ফিলিপিনো-বংশোদ্ভূত বন্দি গত ফেব্রুয়ারি থেকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তার স্ত্রী সামান্থা সানচেজ বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ কাঁচের দেয়ালের কারণে স্বামীর একটু স্পর্শ বা মানসিক সমর্থন থেকে তিনি পুরোপুরি বঞ্চিত। সামান্থা ও তার সন্তানেরা এখন ব্যয়বহুল ভিডিও কলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কন্টাক্ট ভিজিট নিষিদ্ধ করা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্দিশালার জন্যই একটি চরম ও বিরল সিদ্ধান্ত। তারা অভিযোগ করছেন, বন্দিদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরতের আদেশে বাধ্য করতেই এমন কারাগার-সদৃশ অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর অডিটে উঠে এসেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা খোদ কোরসিভিকের নিজস্ব নীতির পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলে শারীরিক স্পর্শের সুযোগ দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও মাদক পাচারের আশঙ্কার কথা বললেও, দর্শনার্থী কক্ষে টেবিল ও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অমানবিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন বন্দি ও তাদের পরিবার। 'হাগস বিয়ন্ড বারস' (Hugs Beyond Bars) নামক একটি প্রচারণার মাধ্যমে তারা একজোট হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া কোলাবোরেটিভ ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস (CCIJ)-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তায় তারা সরাসরি কারারক্ষী বা ওয়ার্ডেনের কাছে চিঠি দিচ্ছেন এবং কংগ্রেসে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তার খোঁড়া যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বহাল রাখলেও, স্বজনদের একটাই দাবি— দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রিয়জনকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্য ও তার খালাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। কলোরাডোর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী মাইরা পল শুলেনবার্গ এবং তার ৩০ বছর বয়সী ভাগনে জন পল রিভেরার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিসৌরির ইউএস অ্যাটর্নি অফিস। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) নিবিড় তদন্তের পর তাদের এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি রিভেরার বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন এবং জাল নথিপত্র ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিপাইনে জন্মগ্রহণকারী শুলেনবার্গ পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। অন্যদিকে, তার ভাগনে রিভেরা ২০১৭ সালের মার্চ মাসে জে-১ (J1) এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মাস পরই শুলেনবার্গ ইউএসসিআইএস-এর কাছে একটি পিটিশন (ফর্ম আই-১৩০) জমা দিয়ে দাবি করেন যে, রিভেরা তার নিজের সন্তান। এই মিথ্যা দাবির সপক্ষে তিনি ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা একটি পরিবর্তিত বা জাল জন্মনিবন্ধন সনদও যুক্ত করেন। এই প্রতারণার ওপর ভিত্তি করেই রিভেরা প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা লাভ করেন। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর রিভেরা মার্কিন বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং মিসৌরির হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেসে কর্মরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি ইমিগ্রেশন সুবিধা পেতে কোনো ধরনের মিথ্যা বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার কথা শপথপূর্বক অস্বীকার করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তবে তার এই প্রতারণার অবসান ঘটে যখন তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে তার প্রকৃত মাকে স্পনসর করার উদ্যোগ নেন। আসল মাকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা করার জন্য তিনি ইউএসসিআইএস-এর কাছে যে আবেদনটি জমা দেন, সেখানে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য তিনি নিজের আসল জন্মনিবন্ধন সনদটি যুক্ত করে বসেন। সিস্টেমে পূর্বের এবং বর্তমান নথির মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়লে তদন্ত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের এই বিশাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই ষড়যন্ত্রের দায়ে খালা শুলেনবার্গ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। অন্যদিকে, ভাগনে রিভেরার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং তার মার্কিন নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যেতে পারে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ তদন্ত শাখার যৌথ প্রচেষ্টায় এই মামলাটির তদন্ত পরিচালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডানবারি শহরের রাস্তায় হঠাৎ করেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)। গত ৩ সেপ্টেম্বর চালানো এই আকস্মিক অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছেন ফেডারেল এজেন্টরা। রাজ্যজুড়ে অভিবাসন সংক্রান্ত ধরপাকড় ও নজরদারি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কানেকটিকাটের বিভিন্ন রাস্তায় এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে সম্প্রতি আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। ডানবারি শহরে চালানো সাম্প্রতিক এই অভিযানটি ছিল বেশ সুপরিকল্পিত। আটককৃতদের বর্তমান অবস্থা বা তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত নথিপত্রবিহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করেই এই ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে আইসিই-এর এমন আকস্মিক ও কঠোর তৎপরতায় স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় ফেডারেল এজেন্টদের টহল বৃদ্ধির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করলেও, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি তাদের নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমেরই একটি অংশ। আগামী দিনগুলোতে কানেকটিকাটের অন্যান্য শহরেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘অপারেশন রোটেন অ্যাপল’ বা পচা আপেল অভিযানের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি, ধর্ষক এবং মাদক চোরাকারবারি রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী বা গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে এমন আরও বড় পরিসরের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ২ হাজার ১৯৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুলিন সাংবাদিকদের জানান, নিউইয়র্কের মেয়র এবং গভর্নর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইসিই-এর সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ ধরনের বিশাল অভিযানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি মেয়র মামদানীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও চাহিদার বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফেডারেল সরকারের কাজে স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগিতা অব্যাহত রাখলে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনে আরও বেশি এজেন্ট মোতায়েন করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুলিন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউক্রেনীয় নাগরিক বোগদান ডেট্রোভিচ গ্রেন রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত। এছাড়া শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কলম্বিয়ার আন্দ্রেয়াস বারনাল চিকুইতো, জার্মানিতে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিক পালবিন্দর সিং এবং ভেনেজুয়েলার কার্লোস মেন্ডেজ-অ্যাকোস্টাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়র মামদানী গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইসিই-এর সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে গভর্নর হোকুলও রাজ্য পুলিশকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করে আইন পাস করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, এসব চরমপন্থী নীতির কারণে ১৩ হাজারের বেশি অপরাধী অভিবাসী নিউইয়র্কের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে আইন অমান্যকারী এসব 'স্যাংচুয়ারি' বা আশ্রয়দাতা রাজ্য ও শহরগুলোতে ফেডারেল তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই। এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন মার্কোস গাসপার-দা সিলভা। একজন মার্কিন নাগরিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই ব্রাজিলীয় নাগরিক আইনি প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হন। এরপর তাঁকে প্রায় সাত মাস কাটাতে হয় বন্দিশিবিরে। চলতি মাসের শুরুতে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাঁকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দিলে অবশেষে তিনি মুক্তি পান। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও এই দীর্ঘ বন্দিজীবন তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তির পরও তাঁর মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। সংবাদমাধ্যম পোর্টল্যান্ড প্রেস হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি আবেগের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু আমার ভেতরে এখন কোনো আবেগই অবশিষ্ট নেই।" মার্কোসের দাবি, বন্দিশিবিরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ সেখানে গাদাগাদি করে থাকতো। মাসের পর মাস তাঁকে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি, মানহীন খাবার, পানের অযোগ্য পানি এবং চরম চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি দাঁতের তীব্র ব্যথায় ভুগলেও তাঁকে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়েছে এবং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে 'অতিরঞ্জিত' আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, আইসিই-এর বন্দিশিবিরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কারাগারগুলোর চেয়েও উন্নত মান বজায় রাখা হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন অভিযানের প্রতিশ্রুতির মাঝেই মার্কোসের মতো বৈধ গ্রিন কার্ড ও ভিসা আবেদনকারীদের এভাবে আটকের ঘটনা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ব্রাজিলে সিভিল অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করার সময় মৃত্যুর হুমকি পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মার্কিন নাগরিক আলেসিয়াকে বিয়ে করে আইনি পথেই স্পাউসাল গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই গত জানুয়ারিতে কাজে যাওয়ার পথে তাঁকে হঠাৎ আটক করে আইসিই। এরপর ম্যাসাচুসেটস থেকে অ্যারিজোনা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের বন্দিশিবিরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে একজন পর্তুগিজ-ভাষী থেরাপিস্টের সহায়তা নিচ্ছেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষিকা ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামশেট্টি। একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার সাড়ে সাত হাজার ডলারের জামিন মঞ্জুর করেছেন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ভেঙ্কটাকে 'পলাতক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। নর্থ ক্যারোলিনার স্টেট সিনেটর জে চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুক্তির খবরটি নিশ্চিত করে লেখেন, "ভেঙ্কটা বাড়ি ফিরছেন।" তার ভার্চুয়াল জামিন শুনানিতে ৫০ জনেরও বেশি স্বজন ও সহকর্মী অংশ নেন এবং তার মুক্তির দাবিতে খোলা একটি পিটিশনে আট হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। ভেঙ্কটার এই আইনি জটিলতার শুরু হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে সেসময় তিনি ভারতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে তার ছয় মাসের বেশি সময় লেগে যায়। এরপরই ডিএইচএস অভিযোগ তোলে যে, দীর্ঘসময় দেশের বাইরে থাকায় তিনি তার বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা হারিয়েছেন। গত ১৯ মে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক প্রমাণের অভাবে সরকারের এই অভিযোগ খারিজ করে দেন এবং তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার অনুমতি দেন। তা সত্ত্বেও আইসিই কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখে। সবশেষ গত ১১ আগস্ট মেয়েকে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে হাজিরা দিতে গেলে ভেঙ্কটাকে আকস্মিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জর্জিয়ার আরউইন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এই বয়স্ক নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। তার পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বন্দিদশায় তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও উপযুক্ত খাবার দেওয়া হয়নি। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ভেঙ্কটা ২০১৩ সালে গ্রিন কার্ড পান। নর্থ ক্যারোলিনায় দীর্ঘ তিন দশক ধরে বসবাস করা এই নারী ওয়েক কাউন্টির পাবলিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অবশেষে জামিন পাওয়ায় পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সিনেটর জে চৌধুরী বলেন, এই দুঃস্বপ্নের অবসান হওয়ায় তিনি আনন্দিত, তবে ভেঙ্কটা বা অন্য কারও সঙ্গেই এমন অবিচার হওয়া উচিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন তাকে আটক করা হয় তখন তার ছেলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এলাকায় নিয়মিত গাড়ি তল্লাশিকালে লুইস ম্যানুয়েল আভিলেস রোয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা। আটক লুইসের স্ত্রী আর্জেলিয়া আভিলেস জানান, পেশায় 'হ্যান্ডিম্যান' বা খুচরা মেরামতকর্মী তার স্বামী নিজের গাড়িটি মেকানিকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। মূলত নিকারাগুয়া থেকে আসা লুইস গত ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এখানে কাজ করার বৈধ অনুমতিপত্রও (ওয়ার্ক পারমিট) তার রয়েছে। আর্জেলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন এবং তিনি সন্তানদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন আদর্শ বাবা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছেলে জশুয়া আভিলেস ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, যে দেশ তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই দেশের জন্যই তিনি গত নয় মাসের বেশি সময় ধরে সাগরে যুদ্ধ করছেন। এমন অবস্থায় দেশে তার বাবাকেই অপরাধীর মতো আটকে রাখা হয়েছে জেনে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জশুয়া আরও জানান, তারা বাবার গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ইমিগ্রেশনের সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন এবং বর্তমানে কেবল অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই আটকের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি, পরিবারের কোনো সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও তা ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি হতে পারে না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লুইসকে আইসিই-এর ডিটেনশন সেন্টার বা আটককেন্দ্রেই থাকতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি সম্প্রতি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলায় ভরে গেছে ফেডারেল আদালত। গত এক বছরেই ফেডারেল বিচারকরা ১৬ হাজারেরও বেশিবার আইসিই-এর আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এর আগে এক মার্কিন সেনার স্ত্রীকেও জোরপূর্বক ব্রাজিলে নির্বাসন ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে, টানা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজের নৌসেনাদের মানসিক অবস্থা ও অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়েও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, গতিশীল ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক করতে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ের একটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)। 'ইমিগ্রেশন বায়োমেট্রিকস অ্যান্ড আইডেন্টিটি সার্ভিসেস' বা আইবিআইএস (IBIS) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন, উন্নত ডেটা অ্যানালিটিকস এবং এনটিটি রেজোলিউশন প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) অধিগ্রহণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত দরপত্র প্রকাশ করা হতে পারে এবং ২০২৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএস আইবিআইএস (IBIS)-কে সম্পূর্ণ নতুন কোনো বায়োমেট্রিক ডেটাবেজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি, বরং এটিকে সংস্থাটির পরিচয় ব্যবস্থাপনা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং ও তথ্য বিশ্লেষণের একটি সমন্বিত ক্লাউডভিত্তিক আধুনিক আইটি সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো 'এনটিটি রেজোলিউশন' প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও সরকারি বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে একই আবেদনকারীকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আধুনিক এই ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং সিস্টেমের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি দূর থেকেই আবেদনকারীদের পরিচয়পত্র ও কাজের অনুমতির নথি যাচাই করতে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের আলাদা বাণিজ্যিক সফটওয়্যার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন, নথির বারকোড ও মেশিন-রিডেবল জোন যাচাই এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR)-এর মতো সুবিধার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা যাবে, যা প্রচলিত সরাসরি নথিপত্র পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাবে। একই সঙ্গে কাগজভিত্তিক আবেদন থেকে ধাপে ধাপে পুরোপুরি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথ তৈরি করছে সংস্থাটি। গত ১১ আগস্ট কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা পেয়েছে ইউএসসিআইএস, যা বছরে প্রায় ৬০ লাখ আবেদনকারীকে প্রভাবিত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ইমিগ্রেশন জালিয়াতি রোধ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ইমিগ্রেশন পরিবেশের মধ্যেই এক মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই তরুণের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তরুণটিকে ‘মেধাবী’ ও ‘দরিদ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, সঠিক উপায়ে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি আমেরিকান গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। একই পোস্টে মঈন চৌধুরী তার ল’ অফিসের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্টাফদের প্রশংসার কথাও উল্লেখ করেন। তবে ওই পোস্টে গ্রিন কার্ডটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরির মাধ্যমে পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি পারিবারিক, কর্মসংস্থানভিত্তিক, অ্যাসাইলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আবেদন ও গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ২০২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ভিত্তিতে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যম প্রক্রিয়াকরণ সময় ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস। অন্যান্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ক্যাটাগরিতে এই সময় আরও বেশি ছিল। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ২১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান আইনি টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে। এমন একটি পরিবর্তনশীল ইমিগ্রেশন পরিবেশে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেকের কাছে এ ধরনের সফলতার খবর আশার বার্তাও হয়ে উঠতে পারে। তবে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট কেসে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পেছনে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি বা আইনি প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও পাচারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজন শিশু নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যারা অনলাইনে ও বাস্তবে তৎপর, মূলত তাদের হাতেনাতে ধরতেই ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে জোকসান আপারিসিও সান্তোস নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মেক্সিকান নাগরিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। বাকি চারজন হলেন ব্রায়ান ড্যাডি, লোগান ট্রিগ, টিলিয়ান হাটন এবং মিয়ানমার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল এহ—যাঁরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এইচএসআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনেরই আগে থেকে শিশুদের ওপর যৌন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁরা পুলিশের ‘সেক্স অফেন্ডার’ রেজিস্ট্রিতেও তালিকাভুক্ত ছিলেন। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে শিশুদের ওপর যৌন শোষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের গভীর ও বাস্তব ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এইচএসআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে এবং কমিউনিটির শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোসের বিয়ের বয়স তখন মাত্র দুই দিন। নববধূর সামরিক আইডি সংগ্রহ ও সেনা পরিবারের সুবিধাগুলো চালুর উদ্দেশ্যে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন তারা। অ্যানি পেশায় একজন শিক্ষিকা, যিনি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ভিজিটর সেন্টারে ম্যাথিউয়ের সামরিক আইডি, বিয়ের সনদ ও অ্যানির হন্ডুরাসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর বদলে সেখানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর পরিবারের চোখের সামনেই অ্যানিকে হাতকড়া পরিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তার পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়। মূলত সেই কারণেই তখন শিশু অ্যানির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ বা রিমুভাল অর্ডার জারি হয়েছিল। যদিও তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাদের এই বিপদে পড়তে হয়। আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে মুক্তি দিলেও, তাকে পায়ে একটি জিপিএস মনিটর পরিয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের দেশ ভাবা অ্যানি এখন কেবল একটু মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।