- প্রচ্ছদ
- Topic
ইমিগ্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজত থেকে মুক্তির পর তীব্র শীতে জমে ড্যাফি মিশেল (৩১) নামের এক হাইতিয়ান অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বাড়ি থেকে বহুদূরে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে এবার মার্কিন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার। গত ১ মার্চ স্টেশন স্কোয়ারের একটি বাস শেল্টারের কাছে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউএসএ টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যালেগেনি কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস এই মৃত্যুকে ‘হাইপোথার্মিয়া’ বা তীব্র ঠান্ডাজনিত কারণে ঘটা ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। নিহত মিশেলের পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী জোসেফ মার্ফি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করবেন। মিশেল বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত মামলার কারণেই তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণের অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই সময় এক কলার অভিযোগ করেছিলেন যে, মিশেল একটি ছুরি হাতে কাল্পনিক কারও সঙ্গে কথা বলছেন এবং চিৎকার করছেন। এরপর ওয়াশিংটন কাউন্টি জেলে প্রায় ছয় মাস বন্দি থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিচারক তার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপরই তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পায়ে ট্র্যাকিং মনিটর পরিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গে মুক্তি দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তির সময় মিশেলের পরনে ছিল গ্রীষ্মকালীন পোশাক এবং তাকে তার বাড়ি থেকে অনেক দূরে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যমতে, ওই দিন পিটসবার্গের তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি থেকে হঠাৎ ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে আসে। মেডিকেল এক্সামিনার অফিস জানিয়েছে, মিশেল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি কারও কাছে সাহায্যও চাইতে পারেননি। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) অবশ্য মিশেলের মৃত্যুর দায় অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, চার্জ থাকা মোবাইল ফোন এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সুবিধাসহ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনজীবী মার্ফি এই দাবির কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, জেলে থাকার সময়কাল বিবেচনা করলে তার ফোনের সার্ভিস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পরিকল্পিত এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মিশেলের মৃত্যুর পেছনের সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। জুলাই মাসে সংস্থাটি ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ। কংগ্রেসে দেওয়া আইসিইর ডেটা পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। জুনে রেকর্ড সংখ্যক গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে অভিযান আরও বেড়েছে। জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাসের বাকি সময়ে দৈনিক গড় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনে। এই সময়েই আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে টেক্সাস ও মেইনে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ৭ জুলাই হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আইসিইর দাবি, তাকে আটক করার সময় তিনি গাড়ি দিয়ে এক কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটির বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যারিস কাউন্টির মেডিকেল এক্সামিনার পরে আরাউহোর মৃত্যুর ধরনকে ‘হোমিসাইড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবিও জোরালো হয়েছে। এর মাত্র ছয় দিন পর, ১৩ জুলাই মেইনের বিডেফোর্ডে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ২৬ বছর বয়সী জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো নিহত হন। পরপর দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার পর আইসিই সাময়িকভাবে গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে নির্দিষ্ট ধরনের টার্গেটেড অভিযানে এ ধরনের পদক্ষেপ আবার চালু করা হয়। হিউস্টনের ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য নিয়েও তদন্তকারীদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। স্থানীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আইসিইর কাছ থেকে প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। জুলাইয়ের এই রেকর্ড গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে, প্রাণঘাতী অভিযান নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন থেমে নেই। বছরের প্রথম সাত মাসেই আইসিই ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষকে ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে পাঠিয়েছে। আইসিই এখন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যাদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এখনো অনিশ্চিত।
সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ (সিআইএস)-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের দেওয়া মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয়দের মাত্র ২২ হাজার ১৪৯টি এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা দিয়েছে, যা ২০১৭-১৯ এবং ২০২১-২৪ সালের একই সময়ের গড়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের সাথে তুলনা করলে এই পতনের হার আরও ভয়াবহ; সে বছর একই সময়ে ভারতীয় নাগরিকরা ৫৮ হাজার ৬৯৪টি ভিসা পেয়েছিলেন, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভিসা ইস্যু কমেছে ৬২ শতাংশ। সিআইএস-এর মতে, এই ধারাবাহিক পতন মার্কিন শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি আসেন ভারত ও চীন থেকে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯ জন ভারতীয় এবং ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৯ জন চীনা শিক্ষার্থী ছিলেন, যা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ৫৩ শতাংশ। সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাসেই শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ভিসার আবেদন করে থাকেন। কিন্তু ২০২৫ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এই সময়ে চীনা নাগরিকদের মাত্র ৪০ হাজার ৩৪টি এফ-১ ভিসা দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর গড়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। শিক্ষার্থীদের এই পতনের ফলে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওপিটি-এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। সিআইএস-এর প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এই প্রোগ্রামের অধীনে কাজ করছিলেন, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিলেন ভারতীয় ও চীনা নাগরিক। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) স্নাতকদের জন্য নির্ধারিত স্টেম-ওপিটি প্রোগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ শতাংশই ছিলেন ভারত ও চীনের। এর মধ্যে ভারতীয় প্রায় ৭৯ হাজার ৩৩১ জন এবং চীনা প্রায় ৩৩ হাজার ৮০৭ জন। ভিসা হ্রাসের কারণে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বিদেশি স্নাতকদের প্রবেশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ২০০৮ সালে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-১বি (H-1B) ভিসার ৬৫ হাজার বার্ষিক সীমার সীমাবদ্ধতা কাটাতে স্টেম-ওপিটি প্রোগ্রাম চালু করেছিল। তৎকালীন মাইক্রোসফটের এক লবিস্ট দক্ষ কর্মীর অভাব মেটাতে এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমানে ওপিটি প্রোগ্রামে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার সীমাবদ্ধতা নেই এবং এটি এইচ-১বি প্রোগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৬ জন বিদেশি নাগরিক ওপিটি এবং আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৪ জন স্টেম-ওপিটি-তে অংশগ্রহণ করছিলেন। সিআইএস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তুলনামূলক সস্তা বিদেশি শ্রমের কারণে ওপিটি ব্যবস্থাটি সদ্য স্নাতক হওয়া মার্কিন শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সিআইএস-এর প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে চীনা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। উন্নত প্রযুক্তির সাথে যুক্ত স্টেম বিষয়গুলোতে অধ্যয়নরত কিছু চীনা শিক্ষার্থী তাদের সরকারের চাপে তথ্য পাচার করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সবাই গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে যায় না। ১৯৮৪-৮৫ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে চীনাদের হার মাত্র ৩ শতাংশ থাকলেও ২০০৮-০৯ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোতে চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চুরি ও গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদন করতে পারবেন? এ প্রশ্নের জবাবে নিজের ফেসবুক ভিডিওতে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম পাওয়া যায় না। বরং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নির্যাতনের অভিযোগ এবং তার পক্ষে উপস্থাপিত প্রমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভিডিওতে মইন চৌধুরী বলেন, গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় থাকার সময় তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, এলডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করেছেন। তার অভিজ্ঞতায়, অ্যাসাইলাম আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তিনি নিজ দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শ, পরিচয় বা অন্য কোনো সুরক্ষিত কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না এবং দেশে ফিরে গেলে ভবিষ্যতেও নির্যাতনের বাস্তব আশঙ্কা রয়েছে কি না। তিনি বলেন, অতীতে নির্যাতনের ঘটনা, বর্তমান ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে নির্যাতনের সম্ভাবনার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারলে আবেদনকারী যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হোন না কেন, তার আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হতে পারে। মইন চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক অ্যাসাইলাম আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন কোর্টে যাচ্ছে। সেখানে আবেদনকারীর দাবি বাস্তবসম্মত এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হলে বিচারকের সামনে তা উপস্থাপন করে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসাইলাম আইনে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইলাম অনুমোদনের বিধান নেই। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ এবং আইনি শর্ত পূরণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভিডিওর শেষাংশে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের উদ্দেশে অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী পরামর্শ দিয়ে বলেন, যে দেশ থেকেই কেউ অ্যাসাইলামের আবেদন করুন না কেন, নিজের মামলার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, তথ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য সমর্থনকারী দলিল আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের অধীনে অ্যাসাইলাম পেতে আবেদনকারীকে সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে, নিজ দেশে জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত অথবা নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা দেশে ফিরে গেলে এমন নির্যাতনের বাস্তব আশঙ্কা রয়েছে। এসব আবেদন প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং আদালত বা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের মাস্ক বা মুখাবরণ পরার ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে আইসিই-এর যেকোনো ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রণীত অপর একটি রাজ্য আইন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জজ মে ডি’অ্যাগোস্টিনো সম্প্রতি এই রায় প্রদান করেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভানিয়াতেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার একই ধরনের আইন বাতিল করেছিল আদালত। বিচারক ডি’অ্যাগোস্টিনো তার রায়ে উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সৎ উদ্দেশ্যে করা হলেও, সাংবিধানিক যুক্তিতে এটি টিকছে না। মার্কিন সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ' বা সর্বোচ্চ ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজ্য সরকার সরাসরি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে রাজ্যটি আইসিই-এর সাথে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন বিচারক। তিনি জানান, রাজ্যের জনকল্যাণ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্পদ কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা আর আইসিই-এর কোনো অভিযানে সহায়তা করবেন না। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত মে মাসের শেষের দিকে এই 'নিউইয়র্ক মাস্ক ল' স্বাক্ষর করেছিলেন রাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুল। আদালতের নতুন রায়ের পর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে একে আইসিই-এর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, আইসিই-এর সাথে অসহযোগিতার আইনটি বহাল থাকায় একে স্বাগত জানিয়েছেন গভর্নর হোকুল এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, স্থানীয় পুলিশকে কেবল স্থানীয় বিষয়েই নজর দেওয়া উচিত এবং আইসিই-এর সাথে কোনো সমন্বয়ের ব্যয়ভার নিউইয়র্কের সাধারণ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তারা পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আইসিই ইস্যুটিই ক্যাথি হোকুলের পুনর্নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) একটি বন্দিশিবিরে সরবরাহ করা পানের পানিতে ‘কীট বা পোকা-জাতীয়’ প্রাণীর উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অ্যাডেলান্টো নামের ওই বন্দিশিবিরে আটক কার্লিটোস রিকার্ডো পারিয়াস নামের এক ব্যক্তির ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের পানির বোতলে ছোট ছোট পোকা কিলবিল করছে। গত সপ্তাহে ধারণ করা এই ভিডিওটি তার আইনজীবী মার্গারেট হেলারস্টাইনের মাধ্যমে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার কাছে পৌঁছানোর পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। কার্লিটোস রিকার্ডো পারিয়াস, যিনি অনলাইনে টিকটক ক্রিয়েটর 'রিচার্ড এলএ' নামে পরিচিত, জানান যে বন্দিদের জন্য সরবরাহ করা বড় পাত্র থেকেই তিনি এই পানি বোতলে ভরে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন। আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমাদের বিশুদ্ধ পানের পানি এবং কর্তৃপক্ষের আরও ভালো আচরণ প্রয়োজন।" উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে এক আইসিই এজেন্টের গুলিতে আহত হওয়ার পর তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ বিচারক খারিজ করে দিলেও তাকে আইসিই হেফাজতে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ভিডিওটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই অ্যাডেলান্টো বন্দিশিবিরের ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ এবং পানি সংকটের সমাধান করতে একটি ফেডারেল আদালত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল। বেসরকারি কারা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘জিও গ্রুপ’ পরিচালিত এই কেন্দ্রে বন্দিদের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলাটি পরিচালনাকারী আইনি সহায়তা সংস্থা পাবলিক কাউন্সেলের আইনজীবী রেবেকা ব্রাউন জানিয়েছেন, "ভিডিওটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। বন্দিরা দীর্ঘদিন ধরেই সেখানকার ঘোলাটে, দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পানি নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন।" অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সরাসরি এই ভিডিওর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তারা দাবি করেছে, অ্যাডেলান্টো বন্দিশিবিরে স্থানীয় এলাকার সরবরাহকৃত মিউনিসিপ্যাল পানিই ব্যবহার করা হয়। চলতি সপ্তাহে আদালতে দেওয়া এক নথিতে ডিএইচএস আইনজীবীরা দাবি করেছেন, স্বাধীন পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে সেখানকার পানি এফডিএ (FDA)-এর পরিচ্ছন্নতার মানদণ্ড সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে। একইসঙ্গে তারা এও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে যে, ওই বন্দিশিবিরের বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার আইনি ও মূল দায়িত্ব জিও গ্রুপের, তাদের নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (DHS) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) ক্লায়েন্টদের অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগে সুরজ রাজ সিং নামের এক অভিবাসন আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বহু ক্লায়েন্টের—বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের—আবেদনে নির্যাতনের একই ‘কপি-পেস্ট’ গল্প ব্যবহার করেছেন। এই প্রতারণার দায়ে তাকে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ ডলারের বিশাল অঙ্কের সিভিল পেনাল্টি বা জরিমানা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইসিই (ICE)-এর জারি করা ‘নোটিশ অফ ইনটেন্ট টু ফাইন’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন মামলা পরিচালনাকারী এই আইনজীবী ৫৪টি মামলায় মোট ১১৮টি ভুয়া নথিপত্র তৈরি ও জমা দিয়েছেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সুরজ রাজ সিং বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য জমা দেওয়া অ্যাসাইলাম আবেদনগুলোতে প্রায় হুবহু একই ভাষা, বিবরণ এবং নির্যাতনের গল্প ব্যবহার করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের মতে, আবেদনকারীদের নিজস্ব বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার পরিবর্তে এসব নথির বেশিরভাগই কেবল কপি করে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ড ফেডারেল ইমিগ্রেশন নথিপত্র জালিয়াতি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণেই অভিবাসন সংক্রান্ত জালিয়াতির জন্য নির্ধারিত আইনের অধীনে সর্বোচ্চ জরিমানার দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আইনজীবীদের ভুয়া অ্যাসাইলাম আবেদনের বিরুদ্ধে যে বিস্তৃত ক্র্যাকডাউন শুরু হয়েছে, এটি তার অন্যতম বড় একটি পদক্ষেপ। এর আগে গত মে মাসে, সন্দেহভাজন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইসিই-কে নির্দেশ দিয়েছিল ডিএইচএস। সুরজ রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের ঠিক এক মাস আগেই বিনোদ দোদামানি নামের আরেক অভিবাসন আইনজীবীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ৩২টি অ্যাসাইলাম মামলায় ৬৪টি ভুয়া নথি জমার অভিযোগ ওঠে, যে ঘটনায় আড়াই লাখ ডলারের বেশি জরিমানা দাবি করেছে ডিএইচএস। তবে সুরজ রাজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগটি কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া। এই নোটিশের মাধ্যমে এখনই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে না, বরং তিনি একজন প্রশাসনিক বিচারকের কাছে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পাবেন। তাছাড়া চূড়ান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন করার অধিকারও তার রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিং তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বড় পরিসরে পরিচালিত অভিবাসন মামলাগুলোতে এই ধরনের কঠোর নজরদারি গোটা আইনজীবী মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা আগামীতে অ্যাসাইলাম আবেদনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা জারি করেছে কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ভারতীয় শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার পর উদ্ভূত বিভ্রান্তি দূর করতেই এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ করলে কাজ করার আইনি বৈধতা পাবেন, তা নতুন এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্দেশনায় আইআরসিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হাতে শুধু স্টাডি পারমিট থাকলেই কোনো শিক্ষার্থী শর্তহীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন না। ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কানাডা সরকার অনুমোদিত কোনো 'ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশন' (ডিএলআই)-এ পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত থাকতে হবে। এছাড়া তাদের এমন কোনো একাডেমিক, ভোকেশনাল বা প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রামে যুক্ত থাকতে হবে, যার মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস এবং পড়াশোনা শেষে যা একটি সুনির্দিষ্ট ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ক্লাস বা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হওয়ার আগে কোনোভাবেই কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী কানাডায় কোনো ধরনের কাজ শুরু করতে পারবেন না। কানাডা সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে না যান, তা নিশ্চিত করা। ইমিগ্রেশন দপ্তর কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, উল্লেখিত নিয়মগুলোর সামান্যতম লঙ্ঘন হলেও শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের কানাডায় অবস্থান করা বা ইমিগ্রেশন আবেদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের কারণে কানাডা সরকার অভিবাসন নীতিতে যেসব কড়াকড়ি আরোপ করছে, এই নির্দেশনা তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তারের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের নতুন নির্দেশনার পর দেশজুড়ে চলমান অভিযানের জেরে জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়া আইসিই-এর অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যানের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে একক মাস হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরে ১০ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে দেশ থেকে বিতাড়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এ কারণেই মূলত গ্রেপ্তার অভিযানের মাত্রা দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসেই ৩৯ হাজার ৫০০-এর বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে আইসিই-এর বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, যা গত ডিসেম্বরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জুলাই মাসের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তারের এই তীব্রতার মাঝেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। হিউস্টন ও মেইনে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি ফ্লোরিডায় এজেন্টদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অভিযানের সময় দুজনের মৃত্যুর পর ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের হার কিছুটা কমলেও, এরপর থেকে তা আবার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তথ্যমতে, চলতি মাসে বেশ কয়েকবার দৈনিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। মূলত দৈনিক গ্রেপ্তারের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পর থেকেই অভিযানে এই গতি এসেছে। সামগ্রিকভাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর আইসিই-এর গ্রেপ্তারের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে গত বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরিকে ফের হেফাজতে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে ফোর্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সুরিকে মুক্ত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের সরকারের দাবিও নাকচ করেছে আদালত। এই রায় শুধু সুরির ব্যক্তিগত মামলার জন্য নয়, ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আটকাদেশের বৈধতা সরাসরি ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের মামলায় অন্য দুটি ফেডারেল আপিল আদালত বিপরীত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইউএস সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল ফেলো। তিনি একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ তাকে টেক্সাসের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সুরির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তার যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বিরূপ পরিণতি তৈরি করতে পারে বলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্ধারণ করেছিলেন। সরকার তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে এনেছিল। সুরি ও তার আইনজীবীরা সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ এবং তার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সরকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা দাবি করে আসছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সুরিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক তার হেফাজত নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি ভার্জিনিয়ার পরিবর্তে টেক্সাসে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেয়। ২৩ জুলাই ফোর্থ সার্কিটের তিন বিচারকের প্যানেল ২-১ সিদ্ধান্তে সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেন, সুরির মতো কোনো ননসিটিজেন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই হেফাজতের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। এখানেই মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে, হেবিয়াস কর্পাস। শতাব্দীপ্রাচীন এই আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে সরকারি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে জানতে চাইতে পারেন, তাকে আটকে রাখার বৈধ আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না। ফোর্থ সার্কিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন মামলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ ইমিগ্রেশন মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
আমেরিকান আর্মি ভেটেরানের লিথুয়ানিয়ান স্ত্রী অ্যারাইডা গুল্ডকে গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে যাওয়ার পর আটক করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। টানা ৬৬ দিন বন্দি রাখার পর শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর থেকে তাকে লিথুয়ানিয়ায় ডিপোর্ট করা হয়। গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে বিয়েটি বৈধ বলে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তাঁকে একই ভবনে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমেরিকান সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের বিয়ে ও পিটিশন অনুমোদন করলেও ২০০৯ সালের একটি পুরনো রিমুভাল অর্ডারের অজুহাতে তাঁকে আটক করা হয়। মূলত রাস্তাঘাটে জ্যাম থাকায় ২০০৯ সালে আদালতের শুনানিতে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই একটি আদেশ জারি হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি না মেনেই আইসিই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও আইনজীবী। লিথুয়ানিয়ার নাগরিক অ্যারাইডা ২০০০ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ৫৩ বছর বয়সী এই নারী গত দুই দশক ধরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। ইউএস আর্মি ভেটেরান মার্ক গুল্ডের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবন কাটালেও তাঁদের কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ এমন কড়া পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। আটকের পর অ্যারাইডাকে ইলিনয় থেকে কেনটাকি এবং পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে ঘুরিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্য বা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অবস্থা চরম অস্বাস্থ্যকর বলে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন। ডিপোর্টেশনের ফ্লাইটের আগে তাঁকে শুধু কিছু নগদ অর্থ ও জরুরি সরঞ্জাম দেওয়ার অনুমতি পান তাঁর স্বামী। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দেশে না ফেরায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিয়ে অনুমোদন পেলেই আইনি নিরাপত্তা পাওয়া নিশ্চিত হয় না বলেও তারা দাবি করে। অ্যারাইডার আইনি দল ইতিমধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডে জরুরি আবেদন দাখিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য থেকে দেওয়া বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার (২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলার) মূল্যের চুরি হওয়া ‘টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার’ বহনের অভিযোগে দীপক কুমার (৩১) নামে এক অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন। পেন্সিলভেনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরির চালানটি ছিল ‘মিতসুবিশি মেটেরিয়ালস করপোরেশন’-এর, যা ২৪ জুন সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু সংগৃহীত হওয়ার পর ২৬ জুন চালকের সাথে যোগাযোগ করা না গেলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। পরদিন 'ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেম' ব্যবহার করে ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্ত চালক তিনটি পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন—একটি অবৈধ ওয়ার্ক ভিসা, নিউইয়র্কের একটি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাকফারল্যান্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি আইসের হেফাজতে আছেন। উদ্ধার হওয়া এই টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার মূলত সাঁজোয়া বিধ্বংসী গোলা-বারুদ, সিরামিক, লেজার, অপটিক্যাল পণ্য এবং হাই-টেক জানালায় ব্যবহৃত হয়। সাময়িক ফেডারেল ওয়ার্ক পারমিট (ইএডি) থাকা অভিবাসীদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের নীতির কারণে কীভাবে একজন অবৈধ অভিবাসী এত বড় ট্রাকের চালক হলেন, তা নিয়ে এখন সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যেই দেশটির বৃহত্তম ICE (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। প্রতিবেদনে আটক অভিবাসীদের বর্ণনায় চিকিৎসা সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, আইনি সহায়তার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। দ্য নিউ ইয়র্কারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেক্সাসের এল পাসোতে অবস্থিত ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ডিটেনশন সেন্টারের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দ্রুত সম্প্রসারিত এই কেন্দ্রটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে রাখা শুরু হয়। প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেককে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সূর্যের আলো ছাড়াই ভবনের ভেতরে থাকতে হয়েছে। কোথাও কোথাও নষ্ট টয়লেট, দূষিত পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কথাও উঠে এসেছে। কয়েকজন বন্দি অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী না থাকায় তারা নিজেদের পোশাক ব্যবহার করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিবেদনে কিউবার বংশোদ্ভূত রে নামের এক অভিবাসীর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে ICE-এর বিকল্প তদারকি কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের কাছে হাজিরা দিতেন। কিন্তু একদিন নিয়মিত রিপোর্ট করতে গিয়েই তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। তার স্ত্রী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, জানান—একটি স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন মুহূর্তেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, অনেক অভিবাসীর জন্য আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে জামিনের সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছিল, যার আগে বড় আকারের অভিবাসী ডিটেনশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। এ বিষয়েও ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, আটক ব্যক্তিদের মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত এবং কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অবস্থান হলো, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার কার্যক্রম কার্যকর করতে ডিটেনশন ব্যবস্থা আইনানুগভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ICE-এর অভিযান বৃদ্ধি, নতুন ডিটেনশন সেন্টার চালু এবং আটক ধারণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) পরিচালিত একটি বন্দিশিবিরের সামনে বিক্ষোভকারী এক নারীকে গুলি করার অভিযোগে ওই শিবিরের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, জিও গ্রুপের পরিচালিত অরোরা আইসিই প্রসেসিং সেন্টারের কর্মী ৪২ বছর বয়সী ব্র্যান্ডন বুথ গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দিশিবিরের কাছাকাছি একটি রাস্তায় নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা বন্দিশিবিরের প্রবেশপথ আটকে রাখায় তিনি এবং অন্যান্য কর্মীরা ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না। পুলিশ জানিয়েছে, অপেক্ষারত অবস্থায় দুজন নারী বিক্ষোভকারী কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাদের গাড়ির ছবি তুলে সেখান থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ব্র্যান্ডন বুথ তার ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ওই দুই নারীকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে এক নারীর শরীরের নিম্নাংশে গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই বুথ গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও মাত্র দুই ব্লক দূর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ওই নারীকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় বুথের বিরুদ্ধে হামলা ও দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার (অ্যাটেম্পটেড সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার) গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অরোরা পুলিশের প্রধান টড চেম্বারলেইন এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য গোলাগুলির মতো এই ঘটনাটিও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অরোরাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না; একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে সাংবিধানিক অধিকারের চরম গুরুত্ব থাকলেও সেখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। উল্লেখ্য, কলোরাডোর একমাত্র এই আইসিই বন্দিশিবিরটি জিও গ্রুপ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, যেখানে ১,৫০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের একজন অফ-ডিউটি কর্মী একটি গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত বলে তারা অবগত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিইর হেফাজতে থাকা এক ক্যানসারজয়ী অভিবাসীকে চিকিৎসাজনিত জটিলতায় তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আদালতের নথি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ডে উঠে এসেছে, হেফাজতে থাকার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নতুন করে আইসিই হেফাজতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন রোমানিয়ান নাগরিক। ২০২৫ সালে জরুরি ট্রিপল বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টি ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু সময় তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তার চিকিৎসা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর ফলে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে তিন দফা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে আটক রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে আইসিই বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। এ ঘটনা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও কেএফএফ হেলথ নিউজের যৌথ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে চিকিৎসা অবহেলার শত শত অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নথিতে বহু আটক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ করেছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই হেফাজতে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আটককেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানালেও আইসিই বলছে, তাদের স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় মানদণ্ড অনুসারেই পরিচালিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের অধীনে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্যমতে, রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি অঞ্চলে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের নতুন রেকর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৮ জুনের এই বড় পরিসরের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক রাখার মতো গুরুতর অপরাধের সাজা খাটার পূর্ব-রেকর্ড রয়েছে। আইসিই-এর হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুডেলো এক বিবৃতিতে বলেন, "জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনাই আইসিই-এর চলমান লক্ষ্য। সমাজ থেকে একজন একজন করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করে আমেরিকান সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ম্যানুয়েল মোরালেস-জেরোনিমো নামে এক মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যাকে 'পায়সাস' গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আইসিই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারধর করে জখম করা, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া এই অভিযানে জোসে আলফ্রেডো কাস্তিলো-মেন্ডোজা নামের আরও এক মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও আগে থেকে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের রেকর্ড রয়েছে। এদিকে, আইসিই-এর 'ট্রাফিক স্টপ' বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। তল্লাশিকালে সাম্প্রতিক কিছু প্রাণঘাতী ঘটনার জেরে ওঠা সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এই ঘোষণার দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিএইচএস-এর ওই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইসিই-এর ট্রাফিক স্টপকে 'অপরাধ দমনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট অগাস্টিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবক একটি বড় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোলের কর্মকর্তা ডিলান ব্রায়ান এক বিবৃতিতে জানান, সকাল ৭টার আগে সেন্ট অগাস্টিনের একটি গ্যাস স্টেশন এবং কনভেনিয়েন্স স্টোরের পার্কিং লটে একটি গাড়ি এসে থামে। গাড়িটিতে চারজন আরোহী ছিলেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর ওই চারজনই পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ২৮ বছর বয়সী এক যুবক দৌড়ে একটি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গেলে একটি বড় ট্রাকের সামনে পড়েন এবং ধাক্কা লেগে মারা যান। ট্রাকের চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ব্রায়ান জানান। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর এই ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৪ জুলাই ফ্লোরিডার সেন্ট জনসের কাছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একটি অভিযান চালায়। এতে মেক্সিকান এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত করছে। ফ্লোরিডায় এই ঘটনা ছাড়াও অতি সম্প্রতি টেক্সাস ও মেইনে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। জ্যাক্সনভিলের ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন এই মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইমিগ্রেশন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এড়াতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের গ্রীষ্মে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় ৫২ বছর বয়সী গুয়াতেমালার নাগরিক রবার্তো কার্লোস মন্টয়া ভালদেস মারা যান। এছাড়া গত অক্টোবরে ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি হাইওয়েতে ট্রাফিক তল্লাশির সময় কর্মকর্তাদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী হন্ডুরাসের নাগরিক জোসুয়ে কাস্ত্রো রিভেরা পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদের কাছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হেফাজতে বা অভিযানের সময় অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনার জন্য পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। নিহত মেক্সিকান যুবকের বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
টেক্সাস এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে দুটি পৃথক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাময়িকভাবে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার জেরে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন সরাসরি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তল্লাশি অভিযানের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশটি চিরস্থায়ী নয়, বরং সম্পূর্ণ সাময়িক। মূলত চলমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিরতি নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আইসিই কর্মকর্তাদের রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নিয়মকানুন ও কৌশল বিষয়ে নতুন করে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশজুড়ে একযোগে পরিচালিত বড় ধরনের অভিযানে ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯০ জন বাংলাদেশি। অবৈধভাবে অবস্থান, বৈধ কাগজপত্রের অভাব এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এ তথ্য জানান। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮টি স্থানে একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, পুলিশ এবং স্থানীয় সরকারের মোট ৮৭৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানের সময় নিয়োগকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫০৩ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ২৯০ জন ছাড়াও মিয়ানমারের ১০১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ জন, নেপালের ৩৮ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং অন্যান্য দেশের ১০ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৫ জন নারীও রয়েছেন। পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সবাইকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। আবার অনেকেই যে খাতে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন, তার বাইরে অন্য খাতে কাজ করছিলেন। উদাহরণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণ খাতে কাজের ভিসা নিয়ে কেউ কেউ পোশাকের দোকান বা অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, যা ভিসার শর্তের পরিপন্থী। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কয়েকজন ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীকেও আটক করা হয়েছে। তাদের কার্ডের সত্যতা ও বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে তদন্তে সহায়তার জন্য আরও ১২০ জনকে বিশেষ নোটিশ (বোরাং ২৯) দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি জানান, সারা দেশে দুই শতাধিক ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে অবস্থিত। মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মঅনুমতি, নির্ধারিত খাতে কাজ এবং ভিসার শর্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং অবৈধ কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান নাগরিকদের ওপর এমন দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাই তারা শুধু কূটনৈতিক চিঠি চালাচালি বা আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বৈধ অভিবাসন নথিপত্র না থাকার কারণেই এক মেক্সিকান নাগরিককে আটকের নামে প্রাণ দিতে হলো। গত মঙ্গলবার হিউস্টনে এই প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দাবি করেছে, তারা অবৈধভাবে বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। লরেঞ্জো সালগাদো আরউজো নামের ওই মেক্সিকান নাগরিককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলে তিনি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন। আইস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, লরেঞ্জো তার গাড়ি দিয়ে আইসের একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এক এজেন্টকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে ওই এজেন্ট গুলি চালালে লরেঞ্জো গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে এই ঘটনার পর বুধবার নিহতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরউজোর ছেলে জানিয়েছেন, তার বাবা প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। এমনকি তিনি তার ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের বৈধ অনুমতিপত্র পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন। বৈধতা পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা একজন দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দাকে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনায় স্টপ সাইন অমান্য করে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর বয়সী ক্যালি টোলার নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার মা কেলি টোলার এবং ৪ বছর বয়সী ছোট ভাই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী জেইমে সান্তিয়াগো করোনা একটি ডজ র্যাম পিকআপ ট্রাক চালিয়ে উচ্চগতিতে একটি স্টপ সাইন অমান্য করেন। এরপর তার গাড়িটি কেলি টোলারের এসইউভির সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ৬ বছরের ক্যালি। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মা ও ছোট ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় করোনার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল ছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মিসডিমিনর ডেথ বাই ভেহিকেল, বাতিল লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো, স্টপ সাইন অমান্য করা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করেছে। স্থানীয় ফৌজদারি মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। এরপর তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। ঘটনাটি উত্তর ক্যারোলিনাজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহত মা ও ছোট ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।