- প্রচ্ছদ
- Topic
ইউএসসিআইএস
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র Form N-400-এর কাগজে জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করলে বর্তমান ৭১০ ডলারের পরিবর্তে দিতে হবে ১ হাজার ২৮০ ডলার। তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২৩ জুন প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে Form N-400 জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হলে আবেদনকারীর খরচ বাড়বে ৫৭০ ডলার বা প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৭১০ থেকে ১ হাজার ২৮০ ডলারে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এখানে বিষয়টি পাসপোর্টের আবেদন ফি নিয়ে নয়। Form N-400 হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। ফলে নতুন প্রস্তাবটি সরাসরি পাসপোর্টের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়। শুধু মূল নাগরিকত্বের আবেদন নয়, আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর শুনানির অনুরোধ করার Form N-336-এর ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজে এই ফি ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কম আয়ের আবেদনকারীদের ওপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা ৩৮০ ডলারের কম ফিতে Form N-400 জমা দিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে এই কম ফি ব্যবস্থাটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে N-400 ও N-336-এর জন্য বর্তমানে থাকা ফি মওকুফের ব্যবস্থাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় মেটানোর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ নেওয়া হলে ইউএসসিআইএসের আর্থিক কাঠামো আরও টেকসই হবে। সংস্থাটি ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেই মূলত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কম ফি ও ফি মওকুফের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করতে ইউএসসিআইএসের অতিরিক্ত প্রশাসনিক সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়। এসব ব্যবস্থা বাদ দিলে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ এবং কম আয়ের মানুষের জন্য ছাড়ের সুযোগ কমে গেলে অনেক যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভার্জিনিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করা রেবেকা থমাস স্থানীয় এনবিসি অ্যাফিলিয়েট WVIR-কে বলেন, তার শিক্ষার্থীদের অনেকের পক্ষেই প্রস্তাবিত বাড়তি ফি বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে। বর্তমানে Form N-400-এর সাধারণ ফি কাগজে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে ৭১০ ডলার। কম আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের বিকল্প এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে যাওয়া অনেক অভিবাসীর জন্য আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আবেদন করার সময় ও সম্ভাব্য খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে। তবে এখনই বাড়তি টাকা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৪ আগস্টের পর সরকার প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন। পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন। সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি আর্থিক সহায়তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহারের ইতিহাস গ্রিন কার্ড আবেদন মূল্যায়নে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাবে। এর ফলে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে যাচাই করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, সেটি বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আগের নীতির কারণে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। মার্কিন অভিবাসন আইনে 'পাবলিক চার্জ' বা 'সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তি' ধারণাটি বহুদিন ধরেই রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। আবেদন মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস, দক্ষতা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। নতুন নীতির ফলে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), আবাসন সহায়তাসহ আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রত্যাশাই এই নীতির মূল ভিত্তি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, ইউএসসিআইএস থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন। একই সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি বিবেচনাধিকার দেওয়া হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কার্যকর তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার সমস্যার কারণ হতে পারে। নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে বলে ধারণা করছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রশাসন স্বীকার করেছে, এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুদি দোকান, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। ফলে এটি অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা অনেক অভিবাসীও ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আশঙ্কায় এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন 'পাবলিক চার্জ' নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর থেকে যারা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তাদের নতুন সংস্করণের আই-৪৮৫ আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন মূল্যায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) ১০ জুলাই থেকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে। নতুন নীতির ফলে H-1B ভিসা, গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আবেদনে টাইপ করা নাম, অটো-জেনারেটেড বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। ইউএসসিআইএসের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে অবশ্যই আবেদনকারীর নিজ হাতে করা স্বাক্ষর অথবা সেই হাতে করা স্বাক্ষরের আসল কপি থাকতে হবে। স্ক্যান করা বা ফটোকপি করা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি সেটি মূল হাতে করা স্বাক্ষরের সঠিক অনুলিপি হয়। তবে কেবল নাম টাইপ করে লেখা, কম্পিউটার-জেনারেটেড সিগনেচার, ফন্টভিত্তিক স্বাক্ষর বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল সিগনেচার বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে সঠিক স্বাক্ষর না থাকলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত সময়, অর্থ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হবে। এই নির্দেশনা H-1B কর্মভিসা, স্থায়ী বাসিন্দার জন্য গ্রিন কার্ড, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন, কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ফর্ম এবং ইউএসসিআইএসে জমা দেওয়া অন্যান্য অধিকাংশ কাগজপত্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া ডিজিটাল সিগনেচারের কারণে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ইউএসসিআইএসের এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো আবেদনপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এবং আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য করা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বা নতুন করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নিয়ম অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও আবেদন বাতিলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। দেশটির প্রশাসন নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) প্রস্তাবিত বিধিমালায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বের জন্য ব্যবহৃত এন-৪০০ (N-400) ফরম কাগজে জমা দিলে আবেদন ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হবে। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের ব্যয় গড়ে প্রায় ৫৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রস্তাবে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি মওকুফ এবং ফি কমানোর সুবিধা বাতিলের কথাও বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকবে। তবে এ পরিবর্তন এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এটি একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা, যা বাস্তবায়নের আগে জনমত গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আবেদন যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যয়ের পূর্ণ অর্থ জোগান দিতেই ফি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সমালোচকদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বৈধ অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব আবেদন ফি তুলনামূলকভাবে এমন পর্যায়ে রাখা হয়েছিল যাতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা নাগরিকত্ব গ্রহণে উৎসাহিত হন। নতুন প্রস্তাব সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই উদ্যোগ এসেছে। ফলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ (এওএস) আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ অভিবাসন ইতিহাস পর্যালোচনা করা হবে এবং শুধু যোগ্যতা অর্জন করলেই আবেদন অনুমোদিত হবে না। গত ২২ মে ২০২৬ প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আর স্বাভাবিক বা স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয়; বরং এটি প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে দেওয়া একটি বিশেষ সুযোগ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক অভিবাসীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত যোগ্য ব্যক্তিরা দেশ ছাড়াই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতির ফলে এই সুবিধা এখন কঠোর পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। ড্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিমিত্রি লিটভিনভের মতে, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসা করছেন কেন তারা নিজ দেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি আবেদনকারীর অতীতের সব ধরনের ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা পূরণ করাই যথেষ্ট ছিল। এখন আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হচ্ছে কেন তার আবেদন অনুমোদন করা উচিত। তবে কিছু আইনজীবীর মতে, নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং বিভিন্ন অফিসে এর প্রয়োগের ধরন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নির্দেশনার প্রধান প্রভাব পড়বে নন-ডুয়াল ইনটেন্ট ভিসাধারীদের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে বি-১/বি-২ পর্যটক ভিসা, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা এবং টিএন ভিসাধারীরা। অন্যদিকে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসাধারীরা আপাতত নতুন নীতির মূল লক্ষ্যবস্তু নন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন, যেমন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী বা কর্মসংস্থানভিত্তিক কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারী, তারা তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়তে পারেন। এলসিআর ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিলপা মেনন বলেন, এখন পর্যন্ত অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি এবং নতুন নির্দেশনার কারণে কোনো চলমান আবেদন প্রত্যাখ্যানের তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ইউএসসিআইএসের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার স্বাভাবিক পথ হিসেবে এখন বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ অর্থবছরে ৬ লাখ ৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই এওএস প্রক্রিয়া ব্যবহার করতেন। নতুন নীতির পর সেই ধারণা আর নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকে কোনো আবেদনকারীকে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস তার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত থাকবে। গোল্ডেন গেট গ্লোবালের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা অভিনব লোহিয়া বলেন, আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, ভিসার ধরন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময়কার উদ্দেশ্য, বর্তমান অভিবাসন অবস্থা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তার মতে, প্রতিটি আবেদন এখন পৃথকভাবে মূল্যায়িত হবে এবং আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন কঠোর নীতি চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সামান্য ত্রুটিও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে তা গ্রহণ পর্যায়েই বাতিল করা হবে অথবা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার-নির্ভর স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর অথবা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। এসব আবেদন সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়, যেখানে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ছোট ত্রুটিও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে পুরো আবেদন বাতিল করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে। নতুন নীতির বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে প্রস্তুতির সময় সীমিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।