ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলমেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাজিয়া হক ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন।
তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্যালি কলেজ থেকে লিবারেল আর্টসে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যানেল আইল্যান্ডস থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।
স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বেও শাজিয়া হকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উইলশায়ার সেন্টার-কোরিয়াটাউন নেবারহুড কাউন্সিলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নেবারহুড কাউন্সিলের নথিতে তাকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সক্রিয় ছিলেন।
শাজিয়া হকের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটি সরকারের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সরাসরি সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন।
ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শাজিয়া। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার বিকাশে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার জীবনীতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শাজিয়া হকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠন ও বিভিন্ন আয়োজনে তার সম্পৃক্ততার কথা তার প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সঞ্চালক ও আয়োজক হিসেবে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন শাজিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
অভিবাসন ইস্যুতেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্পেকট্রাম নিউজ। ওই প্রতিবেদনে শাজিয়া হক তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।
কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শাজিয়া হকের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস-হলিউডভিত্তিক ফোবানা আয়োজনের কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে কমিউনিটি পর্যায়ে জানানো হয়েছে।
মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে শাজিয়া হকের প্রার্থিতা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ বাড়ার ধারাবাহিকতায় তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মন্টেবেলো সিটির সরকারি নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১-এর কাউন্সিলমেম্বার পদও রয়েছে। নির্বাচিত কাউন্সিলমেম্বারের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
শাজিয়া হকের সামনে এখন মূল লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন বাড়ানো। নির্বাচনে জয়ী হলে ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করার সুযোগ পাবেন তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, রোববার রাত পর্যন্ত এ ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে ‘আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা’ জারি হয়েছে বলে উল্লেখ করেনি দপ্তরটি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে রোববার রাত পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে আরও ২ থেকে ৪ ইঞ্চি এবং আশপাশের অনেক এলাকায় দেড় থেকে ৩ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। বৃষ্টির কোনো কোনো অংশে অল্প সময়ে বেশি পানি জমতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউ জার্সির উপকূলীয় কিছু এলাকায় উপকূলীয় বন্যার পৃথক সতর্কবার্তা কার্যকর রয়েছে। জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত হওয়ার এই সতর্কবার্তা ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থেকে আলাদা। বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য দেখতে এবং পানিতে ডুবে থাকা সড়ক এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও পানি জমার প্রবণতা থাকা পথে চলাচলের আগে পরিস্থিতি দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
তুর্কি বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে করলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী আলিনা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশিদের জন্য বড় অগ্রগতি, এগিয়েছে এফ-১ থেকে এফ-৪
ফ্লোরিডায় জোড়া খুনে দোষী কিশোরী, মা ও প্রেমিককে হ ত্যার দায়ে ৫০ বছরের সাজা
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূলে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নর-ইস্টার’-এর প্রভাবে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার আঘাত হানা এই শক্তিশালী ঝড়ে এটিই প্রথম কোনো প্রাণহানির ঘটনা। আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার ৭০০ ইউক্লিড অ্যাভিনিউয়ের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র বাতাসের তোড়ে একটি বিশাল গাছ ভেঙে সরাসরি ৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির ওপর পড়ে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ ব্রুকডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিকেল ৫টার পরপরই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল পর্যন্ত। রোববার এই ঝড়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাবে কোনো কোনো অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প
মাত্র ৮ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, আজ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠিত সিলেটের ড. কালী প্রদীপ
১০–১৫ হাজার ডলারের পুঁজিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শপিং মল কার্ট ব্যবসার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে মাদক বিক্রি এবং চোরাই অস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগে দুই প্রবীণ কিউবান অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিজার ভালদেস (৮৯) এবং ম্যাগডালেনো মেদিনা (৭৩) নামের এই দুই ব্যক্তি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা গেছে, ১৯৮০ সালের মে মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শাসনামলে তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। গত ৪৬ বছর ধরে তারা দেশটিতে অবৈধভাবেই বসবাস করে আসছিলেন। গত আগস্ট মাসের ১৯ তারিখে এক গোপন অভিযানে ছদ্মবেশী পুলিশের কাছে মেদিনা ৬০ ডলারের কোকেইন বিক্রি করলে এই দুই প্রবীণের সাম্প্রতিক অপরাধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর জের ধরে গত ৯ সেপ্টেম্বর সোয়াট (SWAT) টিমের সদস্য ও তল্লাশি পরোয়ানাসহ পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সে সময় বাড়িতে ভালদেস উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি চোরাই আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে। এছাড়া সেখান থেকে ১৪১ গ্রাম কোকেইন এবং ১ হাজার ২৭৮ গ্রাম গাঁজাভর্তি কয়েক ডজন স্বচ্ছ ব্যাগও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কোকেইন পাচার এবং আগ্নেয়াস্ত্র চুরির মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) আটকাদেশের আওতায় মায়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আইসিই কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেদিনার বিরুদ্ধে আগে থেকেই কোকেইন চোরাচালান, মাদক রাখা ও ব্যবসার মতো অন্তত চারটি গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে, ভালদেসও ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে কোকেইন রাখা এবং প্রবেশনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন। আইসিই-এর এক মুখপাত্র কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারী কোনো অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না; বরং তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার পর নিজ দেশে বিতাড়িত করা হবে।
নিউইয়র্কে সিটি বাইকের গতি কমায় ২৪ মিনিটের যাত্রায় গুনতে হচ্ছে ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্ক ফেরত পেল কস্টকো, গ্রাহকদের জন্য কমছে দাম