নিউইয়র্কে মেয়রের সরকারি মুদি দোকানে ৩০ শতাংশ কম দামে নিত্যপণ্য, পরিকল্পনা ব্যয় নিয়ে বিতর্ক
নিউইয়র্ক শহরে সরকারি উদ্যোগে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এসব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ডলার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বরোতে একটি করে দোকান চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট হারলেমের একটি দোকানের জন্য প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা দোকান পরিচালনা করতে পারেন।
মামদানির প্রশাসনের দাবি, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমানো এবং যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা কম, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে উদ্যোগটি নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করলে ছোট ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কম লাভে পরিচালিত অনেক দোকান এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে।
এ ছাড়া দোকানগুলোর কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে আর্থিকভাবে টেকসই হবে—এসব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে—এমন দাবি ছড়ালেও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে না।
মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি দোকান ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর প্রভাব এবং প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয়ই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর ধরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন মাধুর মেহতা। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৬ সালে এইচ-১বি ভিসাও পেয়েছেন। তবু যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে ঘর কেনা কিংবা পরিবার শুরু করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ৩৫ বছর বয়সী মেহতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না। ২০২৫ সালে অ্যামাজনে যোগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তার এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। নতুন লটারি ব্যবস্থায় বেতনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও তখন উদ্বেগে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে ভিসা নির্বাচিত হওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেন মেহতা। তবে এইচ-১বি পাওয়ার পরও তার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চাকরি হারালে সাধারণত নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সীমিত সময় থাকে। ফলে চাকরি ও ভিসার অবস্থার ওপর তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভরশীল। মেহতার বাগদত্তাও ভারতের নাগরিক এবং তার এইচ-১বি লটারিতে আর মাত্র একটি সুযোগ বাকি। দুজনের ভিসার পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মেহতার পরিচিত অনেক অভিবাসীও ভিসার অনিশ্চয়তার কারণে এখনো বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে তিনি জানান। মেহতা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য এখন ইবি-১এ ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি পেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও নিশ্চিন্তভাবে পরিকল্পনা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয়টিও সামনে আনছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের বড় একটি অংশকে কয়েক বছর ধরে চাকরি, ভিসা এবং স্থায়ী বসবাস—তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হয়।
নিউইয়র্কে মেয়রের সরকারি মুদি দোকানে ৩০ শতাংশ কম দামে নিত্যপণ্য, পরিকল্পনা ব্যয় নিয়ে বিতর্ক
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি
গণিতে পিএইচডি, গণিতের কৌশল ব্যবহার করে লটারি জিতলেন চারবার, পেলেন ২ কোটি ১০ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দোকানে ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৬২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী সুরেশ প্যাটেল। ভয়াবহ এই ঘটনার সময় তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে বাবার পাশেই ছিলেন এবং চোখের সামনে বাবাকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে টেনেসির জ্যাকসনের রিজক্রেস্ট সেলার্স ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটস নামের দোকানে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে জ্যাকসন পুলিশ বিভাগ। গুজরাটের মেহসানা জেলার বাসিন্দা সুরেশ প্যাটেল মাত্র কয়েক দিন আগে দোকানটির মালিকানা নিয়েছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি দোকানে ঢুকে কর্মীদের কাছে অস্ত্রের মুখে টাকা দাবি করে। টাকা পাওয়ার পরই সে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সুরেশ প্যাটেল গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় দোকানে থাকা তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েও পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার পরনে ছিল ধূসর রঙের হুডি, জিনস ও কালো কাজের বুট। মুখে ছিল পেইন্টবল ধরনের একটি মাস্ক। ডাকাতির পর একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে পালিয়ে যায় সে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনও পলাতক এবং তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান বা ম্যানহান্ট শুরু করেছে পুলিশ। তথ্য দিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সুরেশ প্যাটেলের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ সময় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সম্প্রতি রিজক্রেস্ট সেলার্সের মালিকানা নেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিবিজে জানিয়েছে, প্যাটেল সোমবার দোকানটির নতুন মালিক হন। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন দিন আগে তিনি ব্যবসাটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ডাকাতির সময় দোকানে থাকা ৭০ বছর বয়সী এক কর্মীও আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় পড়ে গিয়ে তার কবজি ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়, বিশেষ করে গুজরাটি বংশোদ্ভূত দোকান ও ব্যবসা মালিকদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত বছর টেনেসিতেই ডাকাতির সময় গুলিতে নিহত হন ৩০ বছর বয়সী পেরেশ ‘প্রিন্স’ প্যাটেল। এরপর ভার্জিনিয়ার নরফোকেও একটি দোকানের ভেতর গুলিতে নিহত হন গুজরাটি বংশোদ্ভূত মেঘনা প্যাটেল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চারোতার এলাকার বাসিন্দা কিরণ প্যাটেলও দোকানে ঢোকা এক সশস্ত্র ডাকাতকে প্রতিহত করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন। সুরেশ প্যাটেল হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে জ্যাকসন পুলিশ বিভাগ অথবা ক্রাইম স্টপার্সকে জানাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে শক্ত অবস্থান যে ৫ স্টেটে
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শনিবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় আলোচনা থেকে সরে এসেছে তার সরকার। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর কার্যকর হয়েছে। এই পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে হকি স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। কানাডাও এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করবে। বিশেষ করে মার্কিন ইস্পাত ও দুগ্ধ শিল্পের পণ্য এই পাল্টা শুল্কের আওতায় আসবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বিস্তারিত তালিকা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশ একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক চুক্তির দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত দেয়, যা কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও অন্যায্য। কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বেশি দাবি করেছে, কিন্তু বিনিময়ে কম প্রস্তাব দিয়েছে। তাই ওয়াশিংটনের প্রস্তাব গ্রহণ করবে না কানাডা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর উল্লেখযোগ্য শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। এর বিনিময়ে কানাডার কাছ থেকে কিছু ছাড় চাওয়া হয়েছিল। তবে আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। গ্রিয়ার আরও জানিয়েছেন, কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে। এসব শুল্ক দেশটির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে, কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। এদিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি ইউএসএমসিএ—ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন। উত্তর আমেরিকার এই বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো নেই এবং তার দেশকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন করে শুরু হওয়া এই বাণিজ্য সংঘাত দুই দেশের পাশাপাশি কানাডার ব্যবসা, কৃষক ও ভোক্তাদের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় প্রয়োজন? কোন অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে কম
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক