নিউইয়র্কে তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ, সঙ্গে অর্থ উপার্জনের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিনামূল্যে দুটি বৃহৎ যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পারিশ্রমিক পাওয়ারও দারুণ সুযোগ থাকছে।
এর ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন পেশার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করছে।
শহরের যুব ও সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের অধীনে পরিচালিত ছয় সপ্তাহব্যাপী 'গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি'-তে প্রতি বছর ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ তরুণ অংশ নেয়।
ব্রঙ্কসের গ্যাব্রিয়েল পিটার্স নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হিপহপ জাদুঘরের একটি যৌথ প্রকল্পে কাজের সুযোগ পায়।
পিটার্স জানায়, আগে সে শুধু অভিনয়শিল্পী বা গায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, এই কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংগীতের সমন্বয়ের বিষয়টি জেনে তার আগ্রহের পরিধি আরও বেড়েছে। এই চমৎকার অভিজ্ঞতার পর সে হিপহপ জাদুঘরে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজের সুযোগ পেয়েছে।
অন্যদিকে, 'লার্ন অ্যান্ড আর্ন' নামক অপর একটি কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়গুলোর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় এক হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পাশাপাশি পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়েই এটি পরিচালিত হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। এই দক্ষতাগুলো শুধু কর্মজীবনেই নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনেও ব্যাপক কাজে আসবে।
যুব কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে কলেজে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই চাকরির আবেদনের মতো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তাই আবেদনপত্রে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই জরুরি।
বিনামূল্যে পরিচালিত এই উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন। লাজুক ও আত্মবিশ্বাসহীন অনেক তরুণ এই কর্মসূচি শেষে প্রবল আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার এক অভাবনীয় সুযোগ পাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের মানুষের কল্যাণের চেয়ে নিজের সম্পদ ও ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিনি। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের আর্থিক সুবিধা অর্জনে অনৈতিক কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলেও ধারণা অনেকের। নতুন এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন এমন উপায়ে, যা বেআইনি অথবা নৈতিকতার পরিপন্থী। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়। নরকের আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে অংশগ্রহণকারীদের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং দেশের স্বার্থে তাঁর মনোযোগ নিয়ে মানুষের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ট্রাম্প বেআইনি কিছু করছেন। আরও ২০ শতাংশের ধারণা, তাঁর কর্মকাণ্ড অনৈতিক হলেও তা বেআইনি নয়। অন্যদিকে, ২০ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কোনো অন্যায় করছেন না। বাকি অংশের উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁদের জানা নেই। দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোন বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। উত্তরে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি বলেছেন, ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের স্বার্থকে একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজেদের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থে ট্রাম্পের যথেষ্ট মনোযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ১০ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাৎ, জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশের ধারণা, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের তালিকায় সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়েও একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসাকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। একইভাবে, ৫৪ শতাংশ মনে করেন, তিনি নিজের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রায় ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে খুব সামান্য গুরুত্ব দিয়েছেন অথবা একেবারেই দেননি। এই মতের সমর্থকদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সংখ্যাও অর্ধেকের কম। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ট্রাম্প আইন ভেঙেছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার প্রায় ১০ শতাংশ। ট্রাম্পের আচরণকে অনৈতিক কিন্তু বেআইনি নয় বলে মনে করেন প্রায় ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ও রিপাবলিকান। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যেখানে আইন ভাঙার অভিযোগ করছেন, সেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন অভিযোগে বিশ্বাস করার প্রবণতা অনেক কম। তবে জরিপে উঠে আসা এসব মতামতকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এগুলো মূলত প্রেসিডেন্টের আচরণ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মার্কিনিদের ধারণা তুলে ধরে। ক্রিপ্টো ব্যবসা ও বিদেশি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে তাঁর বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয়ের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবসাগুলোর প্রসার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো আয়কে সরাসরি নিট মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর এই বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা চীনের এক ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে। ওই ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় রয়েছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্প পরিবারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, জরিপের ফল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের স্বার্থের তুলনায় নিজের ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন—দুই বিষয়ই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জনমতের আলোচনায় রয়েছে।
ক্যানসার ও গাড়ির আগুন থেকে বেঁচেও রোলার কোস্টারে প্রাণ গেল জর্জিয়ার শিক্ষক জিহাদের
আপনার সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে ২৫০ ডলার, জিপ কোড দিয়ে যাচাই করুন যোগ্যতা
‘অভিশপ্ত পরিবার’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো, ইন্দোনেশিয়ার ‘টিকটিকি পরিবার’ এখন টিকটক তারকা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা। কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি। আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে। কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।
সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নিতে ১৪ বছরের কিশোরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সন্দেহভাজন
নিউইয়র্কের কুইন্সে মাসে মাত্র ৮৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, আবেদন করা যাবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অনৈতিক বা বেআইনিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও মনে করেন অনেক মার্কিন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের (এপি-নরক) নতুন এক জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য নাগরিকদের মতামত তুলে ধরে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্প হয় বেআইনিভাবে লাভবান হয়েছেন, নয়তো এমন কিছু করেছেন যা অনৈতিক হলেও আইনত অপরাধ নয়। তাঁদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প বেআইনি কিছু করেছেন। আর ১৮ শতাংশের ধারণা, তাঁর আচরণ অনৈতিক, তবে বেআইনি নয়। বিপরীতে ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্প ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় জরিপে অংশগ্রহণকারীদের। এতে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই মূল্যায়ন করেছেন ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে তিনি ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন ২৩ শতাংশ। আর নিজের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থকে তিনি একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপের ফলাফলে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলভেদে মতের পার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশ মনে করেন, ট্রাম্প নিজের এবং ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অন্তত কিছুটা হলেও অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ বিষয়ে সমালোচনামূলক মনোভাব তুলনামূলক কম। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ও ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ গুরুত্ব দিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ধারণার ক্ষেত্রেও দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বেআইনি কিছু করেছেন। স্বতন্ত্র উত্তরদাতাদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ মনে করেন ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি, অথবা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো যথেষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ফলে জরিপের ফলাফলে শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ নিয়ে উদ্বেগই নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মতামতের সম্পর্কও স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প তাঁর নতুন ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য জানিয়েছেন। এসব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সময় ক্রিপ্টো খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তবে ব্যবসায়িক আয় এবং প্রেসিডেন্টের সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে বেআইনি সুবিধা নেওয়া এক বিষয় নয়; জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না। এপি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ওই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় থাকা এক চীনা ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের প্রথম বছরে তাঁর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশন আবাসন খাতে বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও আর্থিক কার্যক্রম প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর পরিবারের বিদেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা আয় নিজে থেকেই বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রযোজ্য আইন এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা সরকারি দায়িত্বের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একদিকে নাগরিকদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এবং অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, দুটিই এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের ধারণা জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরলেও, তা দিয়ে কোনো অভিযোগের আইনি সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না। এপি-নরকের জরিপটি ২০২৬ সালের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। নরক সেন্টারের সম্ভাবনাভিত্তিক আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে উত্তরদাতাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে অনলাইন ও টেলিফোনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সামগ্রিক নমুনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিলেও, জরিপের পরিসংখ্যানকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এপি-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে, ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি