গত ৫০ বছর ধরে ভারতের জাতীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মণ্ডল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি দেখলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম নেই।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল প্রকাশের তোড়জোড় যখন তুঙ্গে, তখন এই খবর তাকে দিশেহারা করে দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ইসিআই ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে।
নবীজান একা নন; পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। রাজ্যের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে এটি প্রায় ১২ শতাংশ। এই ৯০ লাখের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাকি ৩০ লাখ ভোটার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী-টার্গেট করেই মুসলিমদের এই ভোটাধিকার হরন করা হচ্ছে।
নবীজানের স্বামী, তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছেন শুধু তিনি। কারণটি হলো : দীর্ঘ বছর ধরে নবীজান ও তার পরিবার খেয়ালই করেনি যে, তার ভোটার কার্ডে ডাকনাম ‘নবীজান’ থাকলেও আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো অন্যান্য সরকারি নথিতে নাম রয়েছে ‘নবীরুল’। এছাড়াও নির্বাচনের আগে এত বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল, কারণ তাদের ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, যাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে ঝুলে আছে, তাদের এপ্রিলের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে আদালত ইসিআই-কে নির্বাচনের আগে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিতে পারে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নবীজান আল জাজিরাকে বলেন, ‘এবার আমার পরিবারের সবাই ভোট দেবে, শুধু আমি পারব না। আমি অত কিছু বুঝি না; নাম আলাদা হওয়ার কারণে যে আমার ভোট দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, সেটা জানতাম না।’
পরিকল্পিত পদক্ষেপ: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম বাস করেন, যা রাজ্যের মোট ১০ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের পর ভারতেই এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজ্য যেখানে বিজেপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি।
২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই রাজ্য শাসন করছে, যারা টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। ৭১ বছর বয়সী মমতা মোদির অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসাবে পরিচিত।
রাজ্যজুড়ে ভোটার বাতিলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিমরাই এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এবং যারা নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে, সেখানে গণহারে নাম কাটা গেছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় ২ লাখ ৪০ হাজার নাম বাতিল হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর, গোবরা ও বালকি গ্রামে এ ধরনের ডজনখানেক মুসলিম পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে আল জাজিরা। তারা জানান, সব নথিপত্র ঠিক থাকার পরেও অনেকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বসবাসের প্রমাণ, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন, নামের বানানে ভুল বা অভিবাসনের প্রমাণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন।
ইসিআই-এর দাবি, ভুয়া বা মৃত ভোটার বাদ দিতে এবং বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের যুক্ত করতেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া। তবে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তবে বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) যারা ভোট দেবে না-বিশেষ করে মুসলিমদের তাদের পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে ইসিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন (১৯৬ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের উন্নত রকেট নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। মার্কিন আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবে রয়েছে ১০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস-টু)’ আকাশ থেকে আকাশে ব্যবহারের নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং আরও ১০ হাজার আকাশ থেকে স্থলভাগে ব্যবহারের নির্দেশনা ব্যবস্থা। এগুলোর মাধ্যমে সাধারণ ৭০ মিলিমিটার রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেওয়া যায়। চুক্তিতে আরও রয়েছে রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্র, উচ্চ বিস্ফোরক ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, পরীক্ষামূলক ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি নথি, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং প্রকৌশল ও লজিস্টিক সেবা। প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র। এ বিক্রয় দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ সামরিক কার্যক্রমে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মার্কিন কৌশলেরও অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সীমান্তপারের নিরাপত্তা হুমকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই অনুমোদনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কম খরচে ড্রোন প্রতিরোধে এই নির্দেশনা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই অনুমোদন চূড়ান্ত বিক্রয় চুক্তি নয়। কংগ্রেস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি না জানালে এবং দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলে অস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, না হলে “কাজ শেষ করবে”। এর মাধ্যমে তিনি আবারও তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো কাজ শেষ করব। তবে আমি চুক্তিই করতে চাই, কারণ ৯১ মিলিয়ন মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ুক, সেটা আমি চাই না।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা গত সপ্তাহে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর আগে সংঘাতের পর কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
লেবাননের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ওপর একদিনেই মুহুর্মুহু ১৭টি সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানের বহর লক্ষ্য করে এসব সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মূলত নাবাতিয়েহ, বিন্ত জাবিল, মাজদাল জাউন, সোর, কানতারা এবং মারজায়ুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সমাবেশ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই তীব্র আক্রমণগুলো চালানো হয়। এর ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থলভাগে সরাসরি আক্রমণের পাশাপাশি আকাশপথেও কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, জেজিন এবং সাইদা শহরের কাছাকাছি এলাকায় নজরদারি চালানো ইসরায়েলি ড্রোনের ওপর তারা সফলভাবে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া একটি ইসরায়েলি সামরিক ট্রাকেও সরাসরি এবং নির্ভুল আঘাত হানার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। একদিনের ব্যবধানে হিজবুল্লাহর এতগুলো সুপরিকল্পিত হামলা লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতকে যেমন আরও ঘনীভূত করেছে, তেমনি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক নতুন সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।