যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে অভিহিত করেছে। জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’ নামে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যেসব শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার তথ্য এসেছে:
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় নীতি, সামরিক বাহিনী ও বৈদেশিক কৌশলে তার চূড়ান্ত প্রভাব ছিল।
আবদুল রহিম মুসাভি
ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর (আরটেস) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম তার অধীনে পরিচালিত হতো।
আজিজ নাসিরজাদেহ
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আলি শামখানি
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সচিব। আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
মোহাম্মদ পাকপুর
ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক সামরিক কৌশল ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ শিরাজি
সর্বোচ্চ নেতার সামরিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করতেন।
হোসেইন জাবাল আমেলিয়ান ও রেজা মোজাফফারি-নিয়া
ডিফেন্সিভ ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এসপিএনডি)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও গবেষণা কার্যক্রমে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সালেহ আসাদি
জরুরি কমান্ড কাঠামোর জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, চলমান হামলায় বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
গত ৫০ বছর ধরে ভারতের জাতীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মণ্ডল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি দেখলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল প্রকাশের তোড়জোড় যখন তুঙ্গে, তখন এই খবর তাকে দিশেহারা করে দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ইসিআই ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে। নবীজান একা নন; পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। রাজ্যের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে এটি প্রায় ১২ শতাংশ। এই ৯০ লাখের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ভোটার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী-টার্গেট করেই মুসলিমদের এই ভোটাধিকার হরন করা হচ্ছে। নবীজানের স্বামী, তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছেন শুধু তিনি। কারণটি হলো : দীর্ঘ বছর ধরে নবীজান ও তার পরিবার খেয়ালই করেনি যে, তার ভোটার কার্ডে ডাকনাম ‘নবীজান’ থাকলেও আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো অন্যান্য সরকারি নথিতে নাম রয়েছে ‘নবীরুল’। এছাড়াও নির্বাচনের আগে এত বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল, কারণ তাদের ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, যাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে ঝুলে আছে, তাদের এপ্রিলের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালত ইসিআই-কে নির্বাচনের আগে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নবীজান আল জাজিরাকে বলেন, ‘এবার আমার পরিবারের সবাই ভোট দেবে, শুধু আমি পারব না। আমি অত কিছু বুঝি না; নাম আলাদা হওয়ার কারণে যে আমার ভোট দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, সেটা জানতাম না।’ পরিকল্পিত পদক্ষেপ: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম বাস করেন, যা রাজ্যের মোট ১০ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের পর ভারতেই এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজ্য যেখানে বিজেপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই রাজ্য শাসন করছে, যারা টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। ৭১ বছর বয়সী মমতা মোদির অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসাবে পরিচিত। রাজ্যজুড়ে ভোটার বাতিলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিমরাই এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এবং যারা নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে, সেখানে গণহারে নাম কাটা গেছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় ২ লাখ ৪০ হাজার নাম বাতিল হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর, গোবরা ও বালকি গ্রামে এ ধরনের ডজনখানেক মুসলিম পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে আল জাজিরা। তারা জানান, সব নথিপত্র ঠিক থাকার পরেও অনেকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বসবাসের প্রমাণ, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন, নামের বানানে ভুল বা অভিবাসনের প্রমাণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন। ইসিআই-এর দাবি, ভুয়া বা মৃত ভোটার বাদ দিতে এবং বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের যুক্ত করতেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া। তবে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) যারা ভোট দেবে না-বিশেষ করে মুসলিমদের তাদের পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে ইসিআই।
ইউরোপীয় রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম প্রধান মিত্র ভিক্টর অরবানের শোচনীয় পরাজয় হাঙ্গেরির দীর্ঘ ১৬ বছরের একচেটিয়া শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে বিরোধী তিশা পার্টির নেতা পিটার মাগিয়ারের এই ঐতিহাসিক জয় কেবল হাঙ্গেরি নয়, বরং পুরো ইউরোপের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। অরবানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাশিয়ার প্রতি অতিনির্ভরতার অভিযোগকে পুঁজি করেই মাগিয়ার এই বিশাল জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী এবং পুতিনের ইউক্রেন বিরোধী প্রচারণার প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত অরবানের পতনকে অনেকেই জনতুষ্টিবাদী বা পপুলিস্ট রাজনীতির সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী মাগিয়ার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, তার সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং রাশিয়ার ওপর থেকে জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনবে। অরবান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠান ও প্রচারণা সংস্থাগুলোর তহবিল বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন নতুন এই রাষ্ট্রপ্রধান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে হাঙ্গেরির সাথে নতুন করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের বিশেষ রাজনৈতিক আন্দোলনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বুদাপেস্ট এখন নতুন এক গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে, যা ওয়াশিংটন ও মস্কোর জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ধাক্কা। মাগিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, হাঙ্গেরির করদাতাদের অর্থ আর কোনো রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হবে না বরং তা দেশের জনকল্যাণেই ব্যয় করা হবে। সামনের দিনগুলোতে হাঙ্গেরির ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই হবে মাগিয়ার সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের দাবিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের রিট পিটিশন দাখিল করেছেন দেশটির একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা গিলাদ কারিভ সোমবার এই আবেদনটি জমা দেন যেখানে তিনি আইনটিকে বর্ণবাদী এবং চরমপন্থী বলে অভিহিত করেছেন যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে। জিলাত ইনস্টিটিউট এবং রাব্বিস ফর হিউম্যান রাইটস নামক মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে যা বর্তমানে দেশটির বিচার বিভাগে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গিলাদ কারিভ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী ওতজমা ইহুদিত পার্টিকে এই জনতোষণমূলক ও জাতীয়তাবাদী প্রচারণার জন্য কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং একে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি আরও উগ্র ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং আরিয়ে দেরির ধর্মীয় শাশ পার্টি অর্থের বিনিময়ে সব মূল্যবোধ বিক্রি করছে বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেছেন। আবেদনকারী দাবি করেছেন যে এই আইনটি কার্যকর হলে তা কেবল আন্তর্জাতিক আইনেই নয় বরং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফ এবং কারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জীবনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ এবং তারা যেকোনো আইন যদি দেশের মৌলিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবে তা সরাসরি বাতিল করার অসীম ক্ষমতা রাখে যা এখন সময়ের দাবি। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুদণ্ড আইনটি আপাতত কার্যকর করা সম্ভব হবে না যা ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য এক সাময়িক স্বস্তি। এর আগে গত ৩১ মার্চ মানবাধিকার সংগঠন আদলাহ এবং আরব সংসদ সদস্যরাও এই আইনের বিরুদ্ধে পৃথক রিট দাখিল করেছিলেন যা নিয়ে আদালত সরকারকে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আইনটি মূলত সেইসব ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং এতে অন্তত ১১৭ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশু এবং ৭৩ জন নারী চরম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। কারাগারে বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসার অবহেলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। গিলাদ কারিভ আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকারের আইনি উপদেষ্টারাও আদালতের কাছে এই আইনের বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন যাতে মানবতার স্বার্থে এই কালাকানুনটি চিরতরে বাতিল করা সম্ভব হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে এই আইনি লড়াই বেইজিং ও মস্কোর মতো পরাশক্তিদের নজর কেড়েছে যারা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সব মিলিয়ে ইসরায়েলের এই নতুন আইন কেবল ফিলিস্তিনিদের নয় বরং দেশটির নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।