বিশ্ব

‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে’: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২:৪৫
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হিব্রু ভাষায় সংক্ষিপ্ত একটি পোস্টে লেখেন, ‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে।’

 

এর আগে ইরান থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পরপরই বেন-গভির এই মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে একাধিক পোস্টে জানায়, রোববার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বেজে ওঠে।

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরান থেকে আসা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর হোম ফ্রন্ট কমান্ড বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেয়।

 

অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার ও নাবাতিহ অঞ্চলের বেসামরিক হতাহতের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করে।

 

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব আরও বিস্তৃত হবে এবং এই অঞ্চলের সব আমেরিকান-জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তু এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।’

 

বেন-গভিরের মন্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত
‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের পর এবার তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ভারতের প্রধান বিচারপতির

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তরুণ আইনজীবী ও আইনক্ষেত্রের নতুন প্রজন্মকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কিছুদিন আগে বেকার তরুণদের নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার পর এবার তিনি তরুণদের ভূমিকা ও সক্ষমতার প্রশংসা করলেন।   রোববার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির ভূমিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।   বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারতের আইনক্ষেত্রের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম এবং প্রযুক্তি গ্রহণে দ্রুত সক্ষমতা দেখাচ্ছে। জেলা আদালত থেকে শুরু করে সরকারি আইনজীবী ও করপোরেট লিগ্যাল অ্যাডভাইজরদের মধ্যে এই প্রজন্ম বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তিনি আরও বলেন, এই তরুণ প্রজন্মই ভারতের বিচারব্যবস্থার চলমান সংস্কার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ‘সংবিধানের প্রতিশ্রুতি থেকে ডিজিটাল বাস্তবতায়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগে ন্যায়বিচার রক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বিচারব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের দিক নিয়েও আলোচনা করেন।   প্রধান বিচারপতি জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রযুক্তিকে মানবিক বিচারবোধের বিকল্প হিসেবে দেখে না। এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার একটি মাধ্যম মাত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘স্বদেশি জুরিসপ্রুডেন্স’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন, যা ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ, প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি বিচারব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সহজ করেছে এবং বৈশ্বিক বিচারিক সংলাপকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক না কেন, তা মানবিক বিচারবোধ, সহানুভূতি ও নৈতিক উপলব্ধির বিকল্প হতে পারে না।   এর আগে গত ১৫ মে এক শুনানিতে বেকার তরুণদের নিয়ে করা তাঁর মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় তিনি কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই মন্তব্যের পর এবার তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করলেন তিনি, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৫:১১
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স

‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে’: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে নজির গড়লেন নারী মেয়র শোকো কাওয়াতা, নিচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী কারা, কী তাদের পরিচয়

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অঞ্চলে সোমবার ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ফিলিপাইনের ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিভলকস জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিন্দানাও দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে সারাঙ্গানি প্রদেশের জেনারেল সান্তোস সিটি উপকূলের কাছে।   ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফিভলকস। মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানিয়েছে, ফিলিপাইনের কিছু এলাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের উচ্চতার তুলনায় ১ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোস সিটির বিভিন্ন ভবন ও দোকান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।   নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে দাভাও দেল সুর-এর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাদের অংশ ধসে পড়তে দেখা যায়। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর বাসিন্দাদের সুনামি সতর্কতা মেনে চলতে হবে এবং দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন যেকোনো সম্পদের চেয়ে বেশি মূল্যবান।   ক্ষতিগ্রস্ত সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। সারাঙ্গানির আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান বেনজি আনচেতা জানান, ভূমিকম্পের সময় পুলিশ সদস্যরা পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। কম্পনের পরপরই পুলিশ ভবনে ফাটল দেখা দেয়।   তিনি বলেন, “এটাই আমাদের অনুভব করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।” যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তীব্র কম্পনের কারণে কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়া তাদের উত্তর-পূর্ব উপকূলের জন্য এবং জাপান ইবারাকি থেকে ওকিনাওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।   ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, মার্কিন আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে হাওয়াইয়ের জন্য কোনো সুনামি ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:১১
ছবি: সিএনএন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় বাড়ছে অস্বস্তি, যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনে

সূত্র: জিও নিউজ

ইসরাইল-ইরান সংঘাতেও শান্তি চুক্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না: ট্রাম্প

ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকা শান্তিবাদী সংবিধান এখন বড় পরিবর্তনের মুখে। ছবি: সংগৃহীত
সংবিধানের যুদ্ধবিরোধী অনুচ্ছেদ সংশোধনের আলোচনা জোরালো। গণভোটের দিকে এগোচ্ছে কি জাপান?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় আট দশক ধরে জাপানের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হয়ে আছে তার শান্তিবাদী সংবিধান। বিশেষ করে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষমতা সম্পন্ন সামরিক বাহিনী গঠন থেকে বিরত রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ডানপন্থী শক্তির উত্থানের ফলে সেই ঐতিহাসিক অবস্থান এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।   জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন শিবির সংবিধান সংশোধনের পক্ষে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর তার সমর্থকরা এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষেও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বহুদিন ধরে আলোচিত সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া এবার বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের রক্ষণশীল রাজনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরেই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন, জনমত এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তারা সফল হতে পারেননি। এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।   রেইতাকু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং রক্ষণশীল চিন্তাকেন্দ্র জাপান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ফান্ডামেন্টালসের জ্যেষ্ঠ সদস্য সুতোমু নিশিওকা বলেন, “সংবিধান সংশোধনের পক্ষে আবারও গতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।”   জাপানের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন জোটে থাকা শান্তিবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত কোমেইতো পার্টির প্রভাব কমেছে। তাদের জায়গায় উঠে এসেছে জাপান ইনোভেশন পার্টি, যারা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্নে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানের সমর্থক।   আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও জাপানের রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়গুলো জাপানি জনগণের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন এনেছে।   টোকিওর ব্যবসায়ী কেন কাতো, যিনি সংবিধান সংশোধনের সমর্থক, বলেন, “আগে মানুষ মনে করত সামরিক বাহিনী থাকলে সংঘাত বাড়বে। এখন অনেকে মনে করেন, আত্মরক্ষার যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকলে অন্যরা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তাই প্রতিরোধক্ষমতা জরুরি।”   যদিও বাস্তবে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী বা সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনীর একটি। কয়েক দশক ধরেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে সংবিধানের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই বাহিনীর অস্তিত্ব বৈধ করা হয়েছে। রক্ষণশীলদের দাবি, বাস্তবতা ও আইনি অবস্থানের মধ্যে এই বৈপরীত্য দূর করতে হবে।   নিশিওকার মতে, বর্তমান সংবিধান আজকের বাস্তবতা কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।   সংসদের নিম্নকক্ষে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আইনপ্রণেতা কেইজি ফুরুয়া মনে করেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন তাদের হাতে রয়েছে।   সম্প্রতি জাপান ফরওয়ার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন নিয়ে গণভোট আয়োজনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার হিসাব অনুযায়ী, এলডিপি, জোটসঙ্গী দল, ছোট ডানপন্থী দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের সমর্থন মিলিয়ে সংসদে সংশোধনী উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জন করা সম্ভব।   ফুরুয়ার মতে, এতদিন ধরে এই প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া না হওয়াটা সংসদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ সাধারণ নাগরিকদের প্রাপ্য।   তবে সংশোধনের পথ যে পুরোপুরি মসৃণ, তা নয়। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দীর্ঘ সময় ধরে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করেও সফল হননি। তার উত্তরসূরি ফুমিও কিশিদাও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেননি।   টোকিওর সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তাদাশি আন্নো মনে করেন, বর্তমান উদ্দীপনার মধ্যে কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করছে।   তার ভাষায়, “তাকাইচি এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ইরান সংকট, জাপানে মূল্যস্ফীতি, ইয়েনের অবমূল্যায়ন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে সেই সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে।”   আন্নো নিজেও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে, তবে এলডিপির প্রস্তাবিত পদ্ধতির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি সংবিধানের ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিবাহকে একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তার মতে, এই ধরনের পুরোনো ভাষা আধুনিক সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।   তবে ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ২০১২ সালে এলডিপি যে খসড়া সংবিধান প্রস্তাব করেছিল, তা অত্যন্ত রক্ষণশীল ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, জাপানি জনগণের বড় অংশ হয়তো এমন পরিবর্তন সমর্থন করবে না।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৯৪৭ সালে মিত্রবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রণীত জাপানের সংবিধান দেশটির শান্তিবাদী রাষ্ট্রপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে ওঠে। সেই সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ যুদ্ধকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।   কিন্তু বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই ঐতিহাসিক অনুচ্ছেদ এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে জাপান কি সত্যিই তার যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসতে যাচ্ছে, নাকি সীমিত কিছু পরিবর্তনের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:৫৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁ থেকে)। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে নেতানিয়াহুকে তা মানতেই হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরান যুদ্ধের ১০০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন সংকট, রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প

ছবি: তিয়ানআনমেন স্কয়ার, চীন

নিষিদ্ধ ইতিহাসের দরজায় আবারও কড়া নাড়ছে চীনের নতুন প্রজন্ম

0 Comments