বিশ্ব

যুদ্ধের ধুলো পেরিয়ে ফুটবল মাঠে একসঙ্গে প্রাক্তন যোদ্ধারা, মধ্য আফ্রিকায় শান্তির বার্তা

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৫:২৩
আমেরিকা বাংলা কোলাজ
আমেরিকা বাংলা কোলাজ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল উন্মাদনা চলছে, তখন মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের একটি ছোট্ট শহরে ফুটবল হয়ে উঠেছে পুনর্মিলন ও শান্তির প্রতীক।

 

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘রেতুর, রেক্লামাসিওঁ, রেয়াবিলিতাসিওঁ’ (৩আর) ২০২৫ সালে অস্ত্র সমর্পণ করার পর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। এরপর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মিনুস্কার উদ্যোগে শুরু হয় পুনর্মিলন কার্যক্রম।

 

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাক্তন বিদ্রোহী যোদ্ধা, সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 

যারা একসময় সংঘাতের বিপরীত পক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তারা এখন একই মাঠে খেলছেন, একে অপরকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং খেলা শেষে করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, ফুটবল এখানে শুধু একটি খেলা নয়; এটি আস্থা পুনর্গঠন এবং সামাজিক পুনর্মিলনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

 

মিনুস্কার সেনেগালি কন্টিনজেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গেরাল্ড আরান্দা আসিনে বলেন, কয়েক মাস আগেও এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন ছিল।

 

তার ভাষায়, “যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, আজ তারা একই দলে খেলছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”

 

জাতিসংঘের সহায়তায় জেমিওসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে স্কুল পুনরায় চালু হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার নিজ এলাকায় ফিরে আসছে।

 

স্থানীয় এক সাবেক শিশু সৈনিক, যিনি এখন পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন, বলেন তিনি এখন নিরাপদ বোধ করেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মৌসুমে মধ্য আফ্রিকার এই অভিজ্ঞতা ফুটবলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়, এটি বিভক্ত সমাজকে একত্রিত করারও শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

 

মধ্য আফ্রিকার একটি ছোট্ট শহরের এই ফুটবল ম্যাচ হয়তো বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে জায়গা পাবে না, তবে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্মিলনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’, দুই মাসে অন্তত ৩৭ বার একই কথা বলেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত দুই মাস ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় তার এসব বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে মিলিয়ে ট্রাম্প অন্তত ৩৭ বার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসভা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের মন্তব্য করে আসছেন।   গত ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান চুক্তির ক্ষেত্রে “খুব এগিয়ে গেছে” এবং সমঝোতা চূড়ান্ত করতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তিনি এটিকে দীর্ঘদিনের একটি সংকটের সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও উল্লেখ করেন।   তবে ওই মন্তব্যের পর দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এরপরও বিভিন্ন সময়ে তিনি একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে গেছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধারাবাহিক মন্তব্যের সূচনা হয় ২৩ মার্চ। সেদিন ট্রাম্প বলেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়েই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। পরদিন তিনি দাবি করেন, ইরান চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী।   ২৫ মার্চ তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়। ২৬ মার্চ তার বক্তব্য আরও জোরালো হয়ে ওঠে। সেদিন তিনি বলেন, ইরান চুক্তির জন্য অনুরোধ করছে। এরপর ২৯ মার্চ ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে দেখছেন। এপ্রিলের শুরুতে তিনি আরও কয়েকবার বলেন, দুই পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।   ১৫ এপ্রিল তিনি বলেন, পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ইরান দ্রুত চুক্তি করতে চায়। ১৬ ও ১৭ এপ্রিলের মধ্যে একাধিক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রায় সব বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে।   ২০ এপ্রিল ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রক্রিয়া খুব দ্রুত এগোচ্ছে। এপ্রিলের শেষ ভাগ এবং মে মাসজুড়েও তিনি একাধিকবার বলেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী এবং আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। ১৮ মে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।   ২৩ মে তিনি বলেন, আলোচনা আরও অগ্রসর হয়েছে এবং চুক্তির শেষ অংশ নিয়ে কাজ চলছে। ২৮ মে আবারও তিনি দাবি করেন, দুই দেশ একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। মে মাসের শেষ ভাগ এবং জুন মাসেও একই ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। তার সর্বশেষ মন্তব্যেও তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে এবং আলোচনা চলমান।   তবে এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় ট্রাম্পের ধারাবাহিক দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে ইরানও বারবার জানিয়ে আসছে যে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৬:২৩
আমেরিকা বাংলা কোলাজ

যুদ্ধের ধুলো পেরিয়ে ফুটবল মাঠে একসঙ্গে প্রাক্তন যোদ্ধারা, মধ্য আফ্রিকায় শান্তির বার্তা

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ২ ক্রু উদ্ধার

রিয়েল আইডিবিহীন বিমানযাত্রীদের ওপর টিএসএ-এর ৪৫ ডলার ফি বাতিলের দাবি রিপাবলিকানদের

রিয়েল আইডিবিহীন বিমানযাত্রীদের ওপর টিএসএ-এর ৪৫ ডলার ফি বাতিলের দাবি রিপাবলিকানদের

তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু
তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু, হজযাত্রীদের নিয়ে অবতরণ

আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর ইরানের রাজধানী তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা হজযাত্রীদের বহনকারী ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোরে এ তথ্য জানানো হয়। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান গণমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিক এবং হজ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।   এর আগে, রোববার ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এখন ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি বিমান চলাচলের ওপর পড়ায় যাত্রী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১:৩১
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে ইরানি হামলার জেরে রুশ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি

ছবি: সংগৃহীত

আলিবাবা, বিওয়াইডিসহ চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ‘সামরিক কোম্পানি’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

লেবানন কেন হয়ে উঠল ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে বড় বাধা

প্রতীকী ছবি
৩৪ তলার ফ্ল্যাট কিনে বিপাকে ক্রেতা, পরে জানা গেল ভবনই মাত্র ৩২ তলা

চীনের এক ব্যক্তি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ করার বহু বছর পর জানতে পারেন, তিনি যে ৩৪ তলার অ্যাপার্টমেন্টটি কিনেছিলেন তার কোনো অস্তিত্বই নেই। কারণ যে ভবনে ফ্ল্যাটটি থাকার কথা ছিল, সেটি নির্মিত হয়েছে মাত্র ৩২ তলা পর্যন্ত। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেন নামের ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ান শহরের নিকটবর্তী একটি এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য অর্থ পরিশোধ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তিনি একটি আবাসন কেলেঙ্কারির শিকার হয়েছেন।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, শেন কথিত ৩৪তম তলায় ৯০ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রতি বর্গমিটার ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান দরে কিনেছিলেন। প্রকল্পটি ‘সীমিত সম্পত্তির অধিকার’ ক্যাটাগরির হওয়ায় এর মূল্য তুলনামূলক কম ছিল। এ ধরনের প্রকল্প অনেক ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হয় এবং সাধারণ আবাসিক প্রকল্পের মতো পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পায় না।   ২০১৩ সালে শেন অ্যাপার্টমেন্টটির জন্য ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট হিসেবে প্রদান করেন। তার দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদপত্র পরে সংগ্রহ করে দেওয়া হবে বলে ডেভেলপার তাকে আশ্বস্ত করেছিল। তবে এ ধরনের প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংগ্রহ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।   অ্যাপার্টমেন্টটি ২০১৫ সালে হস্তান্তরের কথা থাকলেও নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ায় সময়সীমা পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালে ডেভেলপার শেনকে জানায়, ভবনটিতে মাত্র ৩২টি তলা রয়েছে। ফলে তিনি যে ইউনিট কিনেছেন বলে মনে করেছিলেন, সেটি বাস্তবে বরাদ্দ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।   পরবর্তীতে কোম্পানিটি তাকে ৩২ তলায় একটি বিকল্প অ্যাপার্টমেন্টের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শেন তাৎক্ষণিকভাবে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় সেই ইউনিট অন্য একজন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।   এরপর শেন তার অর্থ ফেরত দাবি করেন। তবে ডেভেলপার জানায়, তারা আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং পুরো অর্থ একসঙ্গে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। ডেভেলপারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে শেন ২০২০ সালে ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। কর্তৃপক্ষ ডেভেলপারকে শেনের অগ্রিম পরিশোধ করা অর্থের অবশিষ্ট ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান এবং এর সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে ডেভেলপারকে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   তবে ওই নির্দেশনার পরও চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন তার বকেয়া অর্থ ফেরত পাননি। অ্যাপার্টমেন্টটি কেনার এক দশকের বেশি সময় পার হলেও তিনি এখনো পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি। ঘটনাটি চীনে আইনি সুরক্ষাবিহীন স্বল্পমূল্যের আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।  

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৬:৯
৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া জলিবি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা । ছবি: এএফপি

৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহত বেড়ে ৩২, আহত ১৩৪

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ফেরত পাঠানোর দাবি, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

ছবিঃ সুপ্রিম কোর্ট, ভারত

বিয়ের আগে সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে চরিত্রের দোষ হিসেবে দেখা যাবে না: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

0 Comments