বিশ্বকাপ ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে পশ্চিম তীরে নিহত এক ফিলিস্তিনি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণ

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সঙ্গে ফিলিস্তিনের অনেক মানুষও ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। তবে সেই আনন্দের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববার (স্থানীয় সময়) পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দেইর জারির শহরে এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই তরুণ আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দেইর জারির এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের বিষয়টি আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। গাজার বহু মানুষ ক্যাফে, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা জায়গায় একসঙ্গে বসে স্পেনের ম্যাচ উপভোগ করেছেন। অনেকের মতে, গাজা ইস্যুতে স্পেন সরকারের অবস্থান এবং দেশটির প্রতি সংহতির অনুভূতির কারণেই স্পেনের প্রতি তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।   অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামরিক অভিযান, নিরাপত্তা তল্লাশি, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।   বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, ঠিক সেই সময় পশ্চিম তীরে ঘটে যাওয়া এই প্রাণহানির ঘটনা অঞ্চলটির চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাচ শেষে জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো নোট দেখছেন লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। ছবি: সংগৃহীত
টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুত ছিল ইংল্যান্ড, গোলরক্ষকের বোতলে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি ‘চিট শিট’ দেখে কৌতূহলী মেসিরা

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে।   ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড।   তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি।   ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে।   যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় অতিরিক্ত সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার আসনে বসিয়েছে। গোল হজমের পরও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপরও দৃঢ় রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রাখে তারা। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের প্রথম গোল। এরপর যোগ করা সময়ে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও রক্ষণে সফলভাবে তা ঠেকিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। পাল্টা আক্রমণে ১২০+১ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ তৃতীয় গোল করে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। টানা কঠিন দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে শেষ চারে ওঠা আর্জেন্টিনার সামনে এবার অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
বসনিয়াকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র । ছবি: ফিফা
১০ জনের যুক্তরাষ্ট্রও থামেনি, বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত

তিন দেশ যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। তবে জয়ের ম্যাচে গোল করার পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে।   বিশ্বকাপের দুই সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও কানাডা আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রও। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বসনিয়া। ১০ মিনিটে দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এডিন জেকো সতীর্থ এরমেদিন দেমিরোভিচকে দারুণ একটি পাস দেন। দেমিরোভিচ যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ভেদ করে এগিয়ে গেলেও স্বাগতিক গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রেস তার শট রুখে দেন। পরের কর্নার থেকেও কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বসনিয়া।   ৩১ মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন ফোলারিন বালোগান। ওয়েস্টন ম্যাকেনির পাস ধরে বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলকে পরাস্ত করলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে গোল বাতিলের হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে বসনিয়ার রক্ষণভাগের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বালোগান প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন। আলতো শটে বল জালে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি।   প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। তবে তাদের একটি প্রচেষ্টা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬৪ মিনিটে। বসনিয়ার এক ডিফেন্ডারকে ট্যাকল করতে গিয়ে তার গোড়ালিতে আঘাত করেন বালোগান। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাটি পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।   একজন কম নিয়ে খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত আরেকটি গোল যোগ করে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা এবং শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নেয়।

Unknown জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হত্যার হুমকি, পদত্যাগ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশে ফেরার পথে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলকে। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন হং।   ৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ুং-বোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিল দলটি। তবে পরে গ্রুপ 'এ'-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে যায়।   বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত আসরে সেরা আটটি তৃতীয় হওয়া দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু শনিবার ডিআর কঙ্গো ৩-১ গোলে উজবেকিস্তানকে হারানোর পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচ হং মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং তাকে "অযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন।   দলটি মঙ্গলবার দেশে ফিরলে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০ জন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও বিমানবন্দর পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে ইনচন মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও ২৫ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।   বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল তার মুখ অপরাধীদের মতো ঝাপসা করে সম্প্রচার করায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।   পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দল দেশে ফেরার সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বস্তু নিক্ষেপসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং জাতীয় দলের পুরো কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   তিনি বলেন, "একসময় আমি একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাবের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ছিলাম এবং হৃদয়ে এখনও রেড ডেভিলসের একজন সমর্থক। তাই এই অপ্রত্যাশিত ফল বিস্ময়ের পাশাপাশি গভীর হতাশাও তৈরি করেছে।" তিনি আরও বলেন, "আবারও প্রমাণ হলো, সঠিক ব্যক্তি নির্বাচনই সবকিছু নির্ধারণ করে। যোগ্যতার বদলে আনুগত্য ও গোষ্ঠীপ্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে অযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে বসানো হলে ফল কী হবে, তা আগুনের মতোই স্পষ্ট।"   দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই অযৌক্তিক পরিস্থিতিতে জনগণকে যে হতাশার মুখে পড়তে হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার আনা হবে।" এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বে হং মিয়ুং-বোর দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তার অধীনেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি।   দক্ষিণ কোরিয়া টানা ১১টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল দেশটি।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বসনিয়া নিয়ে মন্তব্য, সমালোচনার মুখে মার্কিন টিভি সাংবাদিক

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সরাসরি সম্প্রচারের সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি৭ লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংবাদিক অ্যাবিগেইল ভেলেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের খেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক দর্শক সমাবেশ থেকে সরাসরি প্রতিবেদন দিচ্ছিলেন ভেলেজ। তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ৩-২ গোলে হারের পর পরবর্তী প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বসনিয়ার ব্যাপারে একটি কথা বলতে পারি, মানচিত্রে দেশটি কোথায় আছে আমি দেখাতে পারব না।   দেশটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, আর জানতে চাইও না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসেছে, আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী।” এরপর তিনি আরও বলেন, “প্রস্তুত থাকো, বসনিয়া। তোমরা এটা চাইবে না, কিন্তু এটা পেতেই হবে।”   এই মন্তব্য সম্প্রচারের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্যটিকে অসংবেদনশীল এবং একটি দেশের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেন।   বসনিয়ান ফুটবলবিষয়ক একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ভেলেজের বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করে লেখা হয়, “মনে হচ্ছে প্রচলিত ধারণাগুলো যেন নিজেরাই সত্যি হয়ে উঠছে।” আরেকজন ব্যবহারকারী লেখেন, “খেলাকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মন্তব্য মজার হতে পারে, কিন্তু এভাবে নয়।”   আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, “আমেরিকানদের সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়গুলোর একটি হলো, তারা মনে করে কোনো দেশের অবস্থানই জানে না, এটা বলাটা যেন গর্বের বিষয়।” সমালোচনার মুখে শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষমা চান অ্যাবিগেইল ভেলেজ। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে হালকা পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি সীমা অতিক্রম করেছেন।   তিনি লেখেন, “বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে একটু আনন্দের পরিবেশ তৈরি করতে গিয়ে আমি অনুচিত ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করেছি। বসনিয়ার জনগণ এবং দেশটির ফুটবল দলের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।”   তিনি আরও বলেন, “বিশ্বকাপের মূল চেতনা হলো বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করা। আমার মন্তব্য সেই চেতনাকে প্রতিফলিত করেনি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দলের জন্য শুভকামনা রইল।” আগামী বুধবার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।   গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জন করে। অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ‘বি’ গ্রুপে এক জয়, এক ড্র ও এক হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হলেও সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।

Unknown জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসি, তাদের সমর্থন অসাধারণ’—মার্টিনেজ

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা আবারও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বাংলাদেশি সমর্থকদের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন তিনি।   বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। জিওভানি লো সেলসো, লাউতারো মার্টিনেজ ও লিওনেল মেসির গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।   ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ সময় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নিজের বিশেষ অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।   বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণ করে মার্টিনেজ বলেন, ‘বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমি। সত্যিই দেশটিকে ভালোবাসি।’   বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি তারা কতটা পাগল আমাদের জন্য। সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি আমি। তাদের সমর্থন আমি ভালোবাসি। তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে দেখে, আমার অনেক ভালো লাগে। আমার পূর্ণ ভালোবাসা বাংলাদেশের জন্য।’   ২০২৩ সালে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসে লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। সেই সফরের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে বলেই আবারও বাংলাদেশি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি।

Unknown জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মায়ামির গরম নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। বছরের এই সময়টাতে মায়ামিতে গরম ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। ছবি: সংগৃহীত
কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ স্কালোনির

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি মায়ামির তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও দলটির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।   গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচের সময়সূচি ও আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।   বছরের এ সময়ে মায়ামির গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি করে। গ্রুপ পর্বে এই ভেন্যুতে খেলা দলগুলোর কাছেও আবহাওয়াই ছিল অন্যতম আলোচনার বিষয়। এবার সেই একই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দেকে।   জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা খুব গরম আবহাওয়ায় খেলব, এমন সময়ে যা বোঝানো কঠিন। তবে সবাই একই পরিস্থিতিতে খেলেছে, তাই অভিযোগ করার কিছু নেই।’   সমুদ্র উপকূলবর্তী শহর হওয়ায় এ সময় মায়ামিতে গরম ও আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে প্রতিপক্ষের চাপের পাশাপাশি কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গেও লড়াই করতে হবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।   নকআউট পর্বে ভুলের সুযোগ নেই। তাই শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা।

Unknown জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সূত্র: রয়টার্স
পেনাল্টি মিসের পর জোড়া গোল মেসির, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

শুরুটা হয়েছিল হতাশায়- পেনাল্টি মিস করে ভেঙে পড়েছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়লেন এবং দলকে নিয়ে গেলেন শেষ ৩২-এ। অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।   ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আক্রমণে নামে আর্জেন্টিনা। বক্সে ঢোকা মাত্র শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান লাউতারো মার্টিনেজ। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিএআর পরীক্ষার পর অষ্টম মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গোল করলেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। কিন্তু তিনি শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মেরে দেন। গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করেছিলেন, তবে সেভ করতে হয়নি তাকে।   ২১ মিনিটে মেসি কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকলেও আলাবা পেছন থেকে বলে ছুঁয়ে দেন এবং বল শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। ৩৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের উদ্দেশ্যে দেওয়া পাস শ্লাগার আটকে দিতে গিয়ে সরাসরি মেসির পায়ে ঠেলে দেন। মেসি সঙ্গে সঙ্গে শট নিলেও আলাবা সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল ব্লক করেন।   ৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাম দিক থেকে আক্রমণের সূত্রপাত করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৭তম গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।   দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের জোরালো শট অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার ব্লক করে দেন। ৭৪ মিনিটে মেসির চমৎকার কর্নার কিকে বল পেয়ে গঞ্জালেস দুর্দান্ত হেড করলেও বলটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে গঞ্জালেসের আরেকটি শটও ব্লক হয়ে যায়।   ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে বাম দিক থেকে আলভারেস দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলে বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। আলভারেসের শট শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে। গোললাইনে বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে থাকলেও দমে যাননি মেসি। প্রথম প্রচেষ্টাটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে এলেও দ্বিতীয় শটে গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।   জে গ্রুপে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াকেও হারিয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।

Unknown জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় ফুটবল ভক্তদের জন্য বিশ্বকাপের ফ্যান ফেস্টিভ্যালে বাড়ছে আরও একদিন

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অফিশিয়াল ফ্যান ফেস্টিভ্যালে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও একটি অতিরিক্ত দিন বৃদ্ধি করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। মার্কিন পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দর্শকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা ও বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৫ জুন আটলান্টার সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কে এই ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালটি অতিরিক্ত একদিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত উৎসবটি মহাসমারোহে চলবে।   চলতি বিশ্বকাপে ফুটবল ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের অবিশ্বাস্য রকমের রেকর্ড উপস্থিতি ও উপচে পড়া ভিড় বিবেচনা করেই মূলত এই অতিরিক্ত দিনটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উৎসবের মূল নীতিনির্ধারকেরা। জর্জিয়া ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টার অথরিটির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জো বোচেরার এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেছেন। তিনি জানান, চলতি বিশ্বমঞ্চে ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে যে ধরণের অভাবনীয় সাড়ামিলছে তা তাদের পূর্বের সকল প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আর সে কারণেই তারা আটলান্টার সমস্ত ফুটবলপ্রেমী মানুষকে একসঙ্গে সমবেত হয়ে মার্কিন দলকে সমর্থন জানানোর জন্য আরও একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছেন।   উৎসবের অফিশিয়াল খতিয়ান তুলে ধরে জো বোচেরার আরও জানান যে, এই ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালটি উদ্বোধনের পর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখের বেশি ফুটবল অনুরাগী দর্শক সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের এই উৎসবে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে ধরণের শক্তি, প্রবল আবেগ এবং তীব্র গৌরব লক্ষ্য করা গেছে তা সত্যিই অত্যন্ত অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য। এই অতিরিক্ত উৎসবের দিনটি যুক্ত করার মাধ্যমে মূলত ভক্তদের সেই নিঃসশর্ত সমর্থন ও ভালোবাসাকে উদযাপন করা হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এই অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার অংশ হওয়ার আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন।   আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই অতিরিক্ত দিন যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি মার্কিন পুরুষ জাতীয় দলের ওপর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্দীপনা এবং বিপুল প্রত্যাশার একটি বাস্তব প্রতিফলন। মার্কিন দল ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচে টানা জয়লাভ করার মাধ্যমে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে দলটির লড়াই দেখার জন্য স্থানীয় দর্শকদের মাঝে আগ্রহের পারদ এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে, যা ফ্যান ফেস্টের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করেছে।   এই উৎসবটি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ফুটবল অনুরাগী মানুষ প্রতিদিন আটলান্টার ডাউনটাউনে একত্রিত হচ্ছেন। সেখানে তারা জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন লাইভ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং ফুটবলের ঐতিহ্য উদযাপনে মেতে উঠছেন। আটলান্টা স্টেডিয়ামের একদম কাছাকাছি অবস্থিত এই উৎসবস্থলে কোনো প্রকার প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফুটবলপ্রেমীরা খেলা দেখার পাশাপাশি লাইভ মিউজিক, সুস্বাদু খাবার, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্যান অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   তুরস্কের বিপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে ওই দিন উৎসবস্থলে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ধরণের গণজমায়েত ও মানুষের উপচে পড়া ভিড় হতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা করছেন আয়োজকরা। আর সে কারণেই যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং উৎসবের আমেজ অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা সমস্ত ফুটবল ভক্তদের ম্যাচ শুরু হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে দর্শকদের যাতায়াত ও সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা রাখার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে জাপান। ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের ৪-০ গোলের দাপুটে জয়, তিউনিসিয়ার বিদায়

বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাজারতম ম্যাচটি রাঙাল জাপান। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের দাপুটে জয়ে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় এশিয়ার দলটি। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখে পড়েছে তিউনিসিয়া।   মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে জাপান। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠেন কেইতো নাকামুরা। তার পাস ও আক্রমণাত্মক বিল্ডআপের পর দাইচি কামাদা ভলিতে বল জালে পাঠান।   ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল জাপান। ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু গোলমুখে গিয়ে শট নিলেও তিউনিস গোলরক্ষক আয়মান দাহমেনে তা রুখে দেন। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় জাপান। কো ইটাকুরার পাস থেকে আয়েসা উয়েদা এগিয়ে গিয়ে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান।   প্রথমার্ধে তিউনিসিয়া খুব সীমিত আক্রমণ তৈরি করতে পারে। ৩ মিনিটে হানিবাল মেজব্রি দূর থেকে শট নিলেও তা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বাকি সময়ে জাপানের নিয়ন্ত্রণেই থাকে ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া তিনজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বরং জাপান তাদের চাপ আরও বাড়ায়।   ৬৯ মিনিটে তৃতীয় গোল আসে। আউ তানাকার পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে জুনিয়া ইতো ফিনিশিং দেন। এরপর ৮৩ মিনিটে চতুর্থ গোল আসে। কাইসো সানো’র লং বল থেকে আয়েসা উয়েদা হেডে বল জালে পাঠান এবং নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন।   শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান। এই হারের ফলে টানা দুই ম্যাচে তিউনিসিয়ার পারফরম্যান্স হতাশাজনক হয়ে ওঠে। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর এই ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে হারায় তারা দুই ম্যাচে মাত্র এক গোলের বিপরীতে ৯ গোল হজম করেছে।   অন্যদিকে ‘এফ’ গ্রুপে জাপান ও নেদারল্যান্ডস উভয়েরই পয়েন্ট এখন ৪। সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

Unknown জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গোলরক্ষকের মস্ত ভুলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে মেক্সিকো

দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষকের এক অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শুক্রবার (১৯ জুন) এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথও সুগম করেছে মেক্সিকানরা।   ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল দেখা যায়। তবে খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয় হাফের ৫০তম মিনিটে। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লি কি-হিউকের মাথার ওপর দিয়ে আসা একটি লুপ হেড বল লুফে নিতে যান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। কিন্তু সতীর্থ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার কনুইয়ে চোট পান এবং হাত থেকে বলটি ফসকে যায়। একদম সামনে থাকা মেক্সিকান ফরোয়ার্ড লুইস রোমো এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দেশের হয়ে ৬৪তম ম্যাচে এটি রোমোর পঞ্চম আন্তর্জাতিক গোল।   ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল অসাধারণ দক্ষতায় চো গুয়ে-সুং-এর হেড এবং ইয়াং হিউন-জুনের ফিরতি শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।   ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, "এটি বেশ কৌশলী একটি ম্যাচ ছিল, যা দর্শকদের জন্য উপভোগ করা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে এই জয় আমাদের দলের পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। শেষ মুহূর্তের সেই আক্রমণটি বাদ দিলে পুরো ম্যাচ আমরা খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছি।"   এদিকে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও এই হারের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ড্র করতে পারলেই তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো বলেন, "আজকের ফলাফল হতাশাজনক। গোলরক্ষকের ভুলটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল, তবে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।"

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার | ছবি: সংগৃহীত
এক মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, তবে খেলবেন না গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ

ডান পায়ের কাফ মাসলের (পেশি) চোটের কারণে দীর্ঘ এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। বুধবার (১৭ জুন) নিউ জার্সির মরিসটাউনে চলমান বিশ্বকাপের প্রথমবারে মতো ব্রাজিল দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অনুশীলনে যোগ দেন তিনি।   অনুশীলনে মাঠে নেমে সতীর্থ রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারেস, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহেস এবং ফাবিনহোর সঙ্গে হালকা গা গরম করেন এই ফরোয়ার্ড। সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে নেইমার বলেন, "তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?" অবশ্য দলের সঙ্গে প্রাথমিক কিছু কাজ করার পর তিনি মাঠের একপাশে গিয়ে কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো একাকী রানিং ড্রিল এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির সহকারী স্টাফের সাথে কাজ করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।   গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় কাফ মাসলে চোট পান নেইমার, তবে চোট থাকা সত্ত্বেও দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তাকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়। এদিকে নেইমারকে ছাড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ 'সি-তে শুক্রবার তারা হাইতির এবং আগামী ২৪ জুন বুধবার স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। সোমবার গ্রেড টু পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য নেইমারের পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, যদিও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) এখনও এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, নকআউট পর্বের আগে নেইমার পুরোপুরি ফিট হবেন বলে আশা করছে মেডিকেল টিম, যার অর্থ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না।   ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হাঁটুর এসিএল (ACL) এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে চোট, পুনর্বাসন ও বিশ্রামের কারণে প্রায় ৭০০ দিন মাঠের বাইরে কেটেছে তার। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের বেঞ্চে উপস্থিত থাকলেও ম্যাচ খেলার মতো কিট বা জার্সি পরেননি তিনি।   নেইমারের ফেরা প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নেইমার দ্রুত সেরে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবে বলে আমরা আশা করছি। তার প্রশ্নাতীত কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণেই তাকে দলে রাখা হয়েছে।"   সূত্র: ইএসপিএন

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
উদ্বোধনী ম্যাচেই লাল কার্ড, ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার

চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার থেম্বা জোয়ানে। তার এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দল।   ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ম্যাচটিতে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ব্রাজিলের উইলটন সাম্পাই। পুরো ম্যাচ জুড়ে রেফারি কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং ম্যাচটিতে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখান। এর মধ্যে মেক্সিকোর একজন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন খেলোয়াড় লাল কার্ডের মুখে পড়েন।   ম্যাচের ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হিংসাত্মক আক্রমণের (ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট) দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচ শেষে ফিফার ডিসিপ্লিনারি বা শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়।   ফিফা তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিফার শৃঙ্খলাজনিত কমিটি মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখা ফুটবলার থেম্বা জোয়ানেকে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৪ নং অনুচ্ছেদের ১(ই) প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার আপিল কমিটিতে আপিল করার সুযোগ পাবেন এই ফুটবলার।’   এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচ এবং দল যদি নক-আউট পর্ব বা 'রাউন্ড অব ৩২'-তে উঠতে পারে, তবে সেই ম্যাচটিতেও মাঠে নামতে পারবেন না জোয়ানে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পরবর্তী ম্যাচটি খেলবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোর আগে জোয়ানের মতো খেলোয়াড়কে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে আটলান্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।"   আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক।   অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়।   আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গাড়ি পার্কিংয়ে লাখ টাকা আয় করছেন স্টেডিয়ামের পাশের বাড়ির মালিকেরা

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবোরো এলাকার 'বস্টন স্টেডিয়াম' (জিলেট স্টেডিয়াম)-এর আশেপাশের বাসিন্দাদের ভাগ্য খুলে গেছে। স্টেডিয়ামে পার্কিংয়ের জায়গা সীমিত থাকায় ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন স্থানীয় বাড়ির মালিকেরা। তারা নিজেদের বাড়ির সামনের উঠান ও লনগুলোকে একেকটি বাণিজ্যিক পার্কিং জোনে রূপান্তর করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বস্টনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্সবোরোর মূল স্টেডিয়ামটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা মাত্র ৫ হাজার। আর সেখানে আগে থেকে বুকিং দিয়ে পার্কিং করতে দর্শকদের গুনতে হচ্ছে চড়া মূল্য—প্রায় ১৭৫ ডলার। কিন্তু স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই ওয়ালপোল এলাকার উইলো স্ট্রিটের বাড়িগুলোতে মাত্র ১০০ ডলারে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। পাশাপাশি সেখানকার খুদে উদ্যোক্তারা দর্শকদের সতেজ লেবুর শরবত দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে।   রাইয়ান ওয়াটসন নামের এক স্থানীয় বাড়ির মালিক বলেন, "আমরা এখানে বহু বছর ধরে বাস করছি, কিন্তু কখনো এভাবে আয়ের কথা ভাবিনি। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ পার্কিং থেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, আমরাও ভাবলাম এই সুযোগে একটু আয় করে নিই।" তিনি আরও জানান, এই বাড়তি আয়ের টাকা তিনি তার সন্তানদের কলেজের পড়াশোনার খরচের জন্য জমিয়ে রাখছেন।   তবে চাইলেই যে কেউ এই ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ ডলার দিয়ে একটি বিশেষ পারমিট বা অনুমতিপত্র নিতে হচ্ছে বাড়ির মালিকদের, যার আওতায় সর্বোচ্চ ২৬টি গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।   ওয়াশিংটন স্ট্রিটের বাসিন্দা এরিকা বার্ডন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত 'ইরাক বনাম নরওয়ে'র বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালীন তার বাড়ির ২৬টি স্পটের সবকটিই বুকড হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই আমরা এই সুবিধা দেব। এর থেকে ভালো লাভ হলে ভবিষ্যতে বড় কোনো কনসার্ট বা ফুটবল ম্যাচের সময়েও পার্কিংয়ের ব্যবসা করার পরিকল্পনা আছে।" এই আয়ের টাকা দিয়ে সন্তানদের কলেজের টিউশন ফি দেওয়ার পাশাপাশি একটি পারিবারিক ভ্রমণেরও স্বপ্ন দেখছেন তিনি।   অন্যদিকে জন রুহানা নামের আরেক বাসিন্দা জানান, গাড়ি পার্কিংয়ের এই বাড়তি আয় দিয়ে তিনি তার বাড়ির মোটা অঙ্কের প্রোপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর পরিশোধ করবেন, যা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ছবি: রয়টার্স
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মায়ের ভিসা জটিলতা কাটছে, যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সহায়তা

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ ও দলের সদস্যদের জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে কেপ ভার্দের জাতীয় দলের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে সহায়তা করছে মার্কিন প্রশাসন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে তার ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য সহায়তার চেষ্টা চলছে। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ের পর ভোজিনহা বলেন, তার মা ম্যাচটি দেখতে আসতে পারেননি, কারণ তিনি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি।   ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভিসার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি... ভিসার জন্য যে অর্থ আমাদের দিতে হয়, সেটির কারণেই। আমরা সময়মতো সেটি করতে পারিনি এবং আমি চাই তিনি এখানে থাকুন।”   কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের একটি, যেসব দেশের নাগরিকদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হয়। এই নীতির কারণ হিসেবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার উচ্চ হারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।   ভোজিনহার মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়টির মায়ের কোনো ভিসা আবেদনের নথি তাদের কাছে নেই। তিনি আরও জানান, “সব খেলোয়াড়ের স্বজনদের জন্য এই বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হয়।”   তিনি বলেন, “মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এই ব্যক্তির ভিসা আবেদনের কোনো রেকর্ড নেই। খেলোয়াড়দের সব স্বজন ভিসা বন্ড মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা দিতে দপ্তরটি সক্রিয়ভাবে এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।”   ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে খেলেন। স্পেনের বিপক্ষে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি গোল রক্ষা করেন এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন।   অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দে বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে। তবে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ভোজিনহা ও তার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেন।   প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পারফরম্যান্সের পর ভোজিনহার জনপ্রিয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৯৭ লাখে পৌঁছে যায়।   কেপ ভার্দে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে আগামী রোববার সন্ধ্যা ৬টায়, যেখানে তারা মিয়ামিতে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬ । ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে জমজমাট ফুটবল উৎসব

নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য “আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬”। গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শোবোট রিসোর্টের গ্রীন টার্ফে আয়োজিত এ উৎসবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ অংশ নেন।   ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে সিটি অব আটলান্টিক সিটি, ভিজিট আটলান্টিক সিটি, নর্থ টু শোর এবং আটলান্টিক সিটি স্পোর্টস কমিশনের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।   উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশাল আউটডোর স্ক্রিনে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে দর্শকরা খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং ম্যাচজুড়ে উৎসবস্থলে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।   শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্যে ছিল পি-উই সকার, ফেস পেইন্টিং, আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস এবং ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন ইনফ্ল্যাটেবল গেম। এছাড়া সংগীত পরিবেশনা, উপহার বিতরণ এবং নানা চমকপ্রদ কার্যক্রম দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।   অনুষ্ঠানে আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও পরিবার নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।   ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয় পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে দর্শকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। খেলা শেষে সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।   আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করবে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার নেস্টরি ইরানকুন্ডা

তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। সেই পথ পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ইতিহাস গড়লেন ২০ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দলের প্রথম গোলটি করে তিনি সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন।   একই সঙ্গে বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রাম এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ঝুঁকি নেওয়ার গল্প।   ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড ছেড়ে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন ইরানকুন্ডা। হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয় তাকে।   বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে গত গ্রীষ্মে বড় সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। নিয়মিত খেলার আশায় বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন তিনি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছাকাছি চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।”   ওয়াটফোর্ডের জার্সিতে ৪২ ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা ফিরে পান।   তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শারীরিক শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোলের পর অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ উদযাপন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”   ইরানকুন্ডা জানান, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা টিম কাহিল এবং আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।   তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে ইরানকুন্ডাকে ‘হুডিনি’ বলে অভিহিত করেন এবং তার খেলায় ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামের ছাপ দেখেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ অ্যাঞ্জ পোস্টেকোগলুও এই তরুণের প্রশংসা করে বলেন, “একটি ভালো বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।”   বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাব ছেড়ে নিয়মিত খেলার জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে সেই সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণ করলেন তিনি।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে মেক্সিকোর তিন শহরে বিতরণ হচ্ছে ৭০ লাখ কনডম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে আয়োজক তিন শহরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে ।   মেক্সিকোর তিনটি আয়োজক শহর হলো মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মনতেরে। এসব শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূল উদ্দেশ্য হলো মেগা ইভেন্টে ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ কমানো এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ফ্যান জোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক বুথ ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব স্থানে কনডমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হবে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু সামগ্রী বিতরণ নয়, সঠিক তথ্য ও সচেতনতা না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হয় না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।   বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন দেশে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিম্পিকে অ্যাথলেটদের জন্য নির্দিষ্ট ভিলেজ থাকায় সেখানে এ ধরনের বিতরণ সহজ হয়। তবে বিশ্বকাপে আলাদা প্লেয়ার ভিলেজ না থাকায় মেক্সিকোর এই উদ্যোগ মূলত দর্শক ও পর্যটকদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হবে।   এদিকে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো থেকে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের ঘোষণা এখনো আসেনি।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকা বাংলা কোলাজ
বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে সক্রিয় প্রতারক চক্র, ভুয়া টিকিট ও ফিশিং ই-মেইলে সতর্কতা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। ভুয়া টিকিট বিক্রি, জাল ভ্রমণ প্যাকেজ, ফিশিং ই-মেইল, নকল পণ্য বিক্রি এবং ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।   নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন জানায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। সংস্থাটির মতে, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে সীমিত টিকিট, উচ্চ চাহিদা এবং আবেগপ্রবণ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ তৈরি করে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতারকেরা নিজেদেরকে কখনো টুর্নামেন্ট আয়োজক, কখনো টিকিট বিক্রেতা বা ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে ই-মেইল, টেক্সট বার্তা বা ফোন কলের মাধ্যমে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। এসব বার্তায় আকর্ষণীয় টিকিট অফার, কম দামের ভ্রমণ প্যাকেজ, বিনামূল্যে পুরস্কার জেতার সুযোগ কিংবা বিশেষ স্ট্রিমিং লিংকের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।   নিউইয়র্ক স্টেটের সেক্রেটারি ওয়াল্টার টি মসলি বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হলে লাখো মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে একই সময়ে প্রতারক চক্রও সক্রিয় থাকবে। তাই দর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং শুধু যাচাই করা উৎস থেকেই টিকিট ও সেবা গ্রহণ করা উচিত।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ইভেন্টে প্রতারণার ধরন প্রায় একই থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া টিকিট বিক্রি, জাল রিসেল প্ল্যাটফর্ম, ফিশিং ই-মেইল ও টেক্সট, ভুয়া হোটেল বুকিং, নকল পণ্য বিক্রির ওয়েবসাইট এবং ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং সেবা। অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়।   কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, সন্দেহজনক সংযুক্তি ডাউনলোড না করা এবং ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুয়া ওয়েবসাইট অনেক সময় আসল সাইটের মতো দেখতে হলেও ডোমেইন বা বানানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে, যা খেয়াল করা জরুরি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতারণা বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে ভুয়া বিক্রেতারা স্ক্রিনশট, বারকোড বা কনফার্মেশন ই-মেইল দেখিয়ে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মের বাইরে টাকা পাঠানোর অনুরোধ প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রতারণার ইঙ্গিত বহন করে।   টিকিট পুনর্বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত রিসেল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোথা থেকে টিকিট কিনলে ঝুঁকি বেশি থাকে। বিক্রেতার পরিচয়, লাইসেন্স, রিভিউ এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্বকাপ চলাকালে আবাসন ও পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম এবং আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীর চাপ থাকবে বেশি। এই সুযোগে ভুয়া হোটেল বুকিং ও কম দামের ভ্রমণ প্যাকেজের নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে এনজে ট্রানজিটের নাম ব্যবহার করেও জাল পরিবহন টিকিট বিক্রির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।   অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে তুলনামূলক সুরক্ষা পাওয়া যায়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা হলে চার্জ ব্যাকের মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে ক্যাশ, গিফট কার্ড বা অচেনা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করলে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ভোক্তাদের সহায়তায় নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন একটি হেল্পলাইন চালু রেখেছে, যেখানে ভোক্তারা সহায়তা নিতে পারেন। 

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০