বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাজারতম ম্যাচটি রাঙাল জাপান। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের দাপুটে জয়ে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় এশিয়ার দলটি। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখে পড়েছে তিউনিসিয়া। মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে জাপান। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠেন কেইতো নাকামুরা। তার পাস ও আক্রমণাত্মক বিল্ডআপের পর দাইচি কামাদা ভলিতে বল জালে পাঠান। ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল জাপান। ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু গোলমুখে গিয়ে শট নিলেও তিউনিস গোলরক্ষক আয়মান দাহমেনে তা রুখে দেন। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় জাপান। কো ইটাকুরার পাস থেকে আয়েসা উয়েদা এগিয়ে গিয়ে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান। প্রথমার্ধে তিউনিসিয়া খুব সীমিত আক্রমণ তৈরি করতে পারে। ৩ মিনিটে হানিবাল মেজব্রি দূর থেকে শট নিলেও তা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বাকি সময়ে জাপানের নিয়ন্ত্রণেই থাকে ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া তিনজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বরং জাপান তাদের চাপ আরও বাড়ায়। ৬৯ মিনিটে তৃতীয় গোল আসে। আউ তানাকার পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে জুনিয়া ইতো ফিনিশিং দেন। এরপর ৮৩ মিনিটে চতুর্থ গোল আসে। কাইসো সানো’র লং বল থেকে আয়েসা উয়েদা হেডে বল জালে পাঠান এবং নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান। এই হারের ফলে টানা দুই ম্যাচে তিউনিসিয়ার পারফরম্যান্স হতাশাজনক হয়ে ওঠে। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারের পর এই ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে হারায় তারা দুই ম্যাচে মাত্র এক গোলের বিপরীতে ৯ গোল হজম করেছে। অন্যদিকে ‘এফ’ গ্রুপে জাপান ও নেদারল্যান্ডস উভয়েরই পয়েন্ট এখন ৪। সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষকের এক অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শুক্রবার (১৯ জুন) এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথও সুগম করেছে মেক্সিকানরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল দেখা যায়। তবে খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয় হাফের ৫০তম মিনিটে। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লি কি-হিউকের মাথার ওপর দিয়ে আসা একটি লুপ হেড বল লুফে নিতে যান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। কিন্তু সতীর্থ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার কনুইয়ে চোট পান এবং হাত থেকে বলটি ফসকে যায়। একদম সামনে থাকা মেক্সিকান ফরোয়ার্ড লুইস রোমো এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দেশের হয়ে ৬৪তম ম্যাচে এটি রোমোর পঞ্চম আন্তর্জাতিক গোল। ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল অসাধারণ দক্ষতায় চো গুয়ে-সুং-এর হেড এবং ইয়াং হিউন-জুনের ফিরতি শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, "এটি বেশ কৌশলী একটি ম্যাচ ছিল, যা দর্শকদের জন্য উপভোগ করা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে এই জয় আমাদের দলের পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। শেষ মুহূর্তের সেই আক্রমণটি বাদ দিলে পুরো ম্যাচ আমরা খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছি।" এদিকে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও এই হারের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ড্র করতে পারলেই তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো বলেন, "আজকের ফলাফল হতাশাজনক। গোলরক্ষকের ভুলটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল, তবে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।"
ডান পায়ের কাফ মাসলের (পেশি) চোটের কারণে দীর্ঘ এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। বুধবার (১৭ জুন) নিউ জার্সির মরিসটাউনে চলমান বিশ্বকাপের প্রথমবারে মতো ব্রাজিল দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। অনুশীলনে মাঠে নেমে সতীর্থ রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারেস, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহেস এবং ফাবিনহোর সঙ্গে হালকা গা গরম করেন এই ফরোয়ার্ড। সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে নেইমার বলেন, "তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?" অবশ্য দলের সঙ্গে প্রাথমিক কিছু কাজ করার পর তিনি মাঠের একপাশে গিয়ে কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো একাকী রানিং ড্রিল এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির সহকারী স্টাফের সাথে কাজ করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় কাফ মাসলে চোট পান নেইমার, তবে চোট থাকা সত্ত্বেও দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তাকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়। এদিকে নেইমারকে ছাড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ 'সি-তে শুক্রবার তারা হাইতির এবং আগামী ২৪ জুন বুধবার স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। সোমবার গ্রেড টু পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য নেইমারের পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, যদিও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) এখনও এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, নকআউট পর্বের আগে নেইমার পুরোপুরি ফিট হবেন বলে আশা করছে মেডিকেল টিম, যার অর্থ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হাঁটুর এসিএল (ACL) এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে চোট, পুনর্বাসন ও বিশ্রামের কারণে প্রায় ৭০০ দিন মাঠের বাইরে কেটেছে তার। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের বেঞ্চে উপস্থিত থাকলেও ম্যাচ খেলার মতো কিট বা জার্সি পরেননি তিনি। নেইমারের ফেরা প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নেইমার দ্রুত সেরে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবে বলে আমরা আশা করছি। তার প্রশ্নাতীত কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণেই তাকে দলে রাখা হয়েছে।" সূত্র: ইএসপিএন
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার থেম্বা জোয়ানে। তার এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দল। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ম্যাচটিতে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ব্রাজিলের উইলটন সাম্পাই। পুরো ম্যাচ জুড়ে রেফারি কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং ম্যাচটিতে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখান। এর মধ্যে মেক্সিকোর একজন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন খেলোয়াড় লাল কার্ডের মুখে পড়েন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হিংসাত্মক আক্রমণের (ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট) দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচ শেষে ফিফার ডিসিপ্লিনারি বা শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। ফিফা তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিফার শৃঙ্খলাজনিত কমিটি মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখা ফুটবলার থেম্বা জোয়ানেকে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৪ নং অনুচ্ছেদের ১(ই) প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার আপিল কমিটিতে আপিল করার সুযোগ পাবেন এই ফুটবলার।’ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচ এবং দল যদি নক-আউট পর্ব বা 'রাউন্ড অব ৩২'-তে উঠতে পারে, তবে সেই ম্যাচটিতেও মাঠে নামতে পারবেন না জোয়ানে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পরবর্তী ম্যাচটি খেলবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোর আগে জোয়ানের মতো খেলোয়াড়কে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।" আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়। আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবোরো এলাকার 'বস্টন স্টেডিয়াম' (জিলেট স্টেডিয়াম)-এর আশেপাশের বাসিন্দাদের ভাগ্য খুলে গেছে। স্টেডিয়ামে পার্কিংয়ের জায়গা সীমিত থাকায় ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন স্থানীয় বাড়ির মালিকেরা। তারা নিজেদের বাড়ির সামনের উঠান ও লনগুলোকে একেকটি বাণিজ্যিক পার্কিং জোনে রূপান্তর করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বস্টনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্সবোরোর মূল স্টেডিয়ামটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতা মাত্র ৫ হাজার। আর সেখানে আগে থেকে বুকিং দিয়ে পার্কিং করতে দর্শকদের গুনতে হচ্ছে চড়া মূল্য—প্রায় ১৭৫ ডলার। কিন্তু স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই ওয়ালপোল এলাকার উইলো স্ট্রিটের বাড়িগুলোতে মাত্র ১০০ ডলারে গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। পাশাপাশি সেখানকার খুদে উদ্যোক্তারা দর্শকদের সতেজ লেবুর শরবত দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। রাইয়ান ওয়াটসন নামের এক স্থানীয় বাড়ির মালিক বলেন, "আমরা এখানে বহু বছর ধরে বাস করছি, কিন্তু কখনো এভাবে আয়ের কথা ভাবিনি। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ পার্কিং থেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, আমরাও ভাবলাম এই সুযোগে একটু আয় করে নিই।" তিনি আরও জানান, এই বাড়তি আয়ের টাকা তিনি তার সন্তানদের কলেজের পড়াশোনার খরচের জন্য জমিয়ে রাখছেন। তবে চাইলেই যে কেউ এই ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ ডলার দিয়ে একটি বিশেষ পারমিট বা অনুমতিপত্র নিতে হচ্ছে বাড়ির মালিকদের, যার আওতায় সর্বোচ্চ ২৬টি গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন স্ট্রিটের বাসিন্দা এরিকা বার্ডন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত 'ইরাক বনাম নরওয়ে'র বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালীন তার বাড়ির ২৬টি স্পটের সবকটিই বুকড হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই আমরা এই সুবিধা দেব। এর থেকে ভালো লাভ হলে ভবিষ্যতে বড় কোনো কনসার্ট বা ফুটবল ম্যাচের সময়েও পার্কিংয়ের ব্যবসা করার পরিকল্পনা আছে।" এই আয়ের টাকা দিয়ে সন্তানদের কলেজের টিউশন ফি দেওয়ার পাশাপাশি একটি পারিবারিক ভ্রমণেরও স্বপ্ন দেখছেন তিনি। অন্যদিকে জন রুহানা নামের আরেক বাসিন্দা জানান, গাড়ি পার্কিংয়ের এই বাড়তি আয় দিয়ে তিনি তার বাড়ির মোটা অঙ্কের প্রোপার্টি ট্যাক্স বা সম্পত্তি কর পরিশোধ করবেন, যা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ ও দলের সদস্যদের জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে কেপ ভার্দের জাতীয় দলের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার বিষয়ে সহায়তা করছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে তার ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য সহায়তার চেষ্টা চলছে। সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ের পর ভোজিনহা বলেন, তার মা ম্যাচটি দেখতে আসতে পারেননি, কারণ তিনি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভিসার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি... ভিসার জন্য যে অর্থ আমাদের দিতে হয়, সেটির কারণেই। আমরা সময়মতো সেটি করতে পারিনি এবং আমি চাই তিনি এখানে থাকুন।” কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের একটি, যেসব দেশের নাগরিকদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হয়। এই নীতির কারণ হিসেবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার উচ্চ হারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ভোজিনহার মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়টির মায়ের কোনো ভিসা আবেদনের নথি তাদের কাছে নেই। তিনি আরও জানান, “সব খেলোয়াড়ের স্বজনদের জন্য এই বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হয়।” তিনি বলেন, “মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এই ব্যক্তির ভিসা আবেদনের কোনো রেকর্ড নেই। খেলোয়াড়দের সব স্বজন ভিসা বন্ড মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা দিতে দপ্তরটি সক্রিয়ভাবে এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।” ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে খেলেন। স্পেনের বিপক্ষে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি গোল রক্ষা করেন এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দে বড় ব্যবধানে পরাজিত হবে। তবে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ভোজিনহা ও তার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেন। প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পারফরম্যান্সের পর ভোজিনহার জনপ্রিয়তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৯৭ লাখে পৌঁছে যায়। কেপ ভার্দে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে আগামী রোববার সন্ধ্যা ৬টায়, যেখানে তারা মিয়ামিতে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য “আটলান্টিক সিটি ফুটবল উৎসব–২০২৬”। গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শোবোট রিসোর্টের গ্রীন টার্ফে আয়োজিত এ উৎসবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ অংশ নেন। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে সিটি অব আটলান্টিক সিটি, ভিজিট আটলান্টিক সিটি, নর্থ টু শোর এবং আটলান্টিক সিটি স্পোর্টস কমিশনের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশাল আউটডোর স্ক্রিনে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে দর্শকরা খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন এবং ম্যাচজুড়ে উৎসবস্থলে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্যে ছিল পি-উই সকার, ফেস পেইন্টিং, আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস এবং ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন ইনফ্ল্যাটেবল গেম। এছাড়া সংগীত পরিবেশনা, উপহার বিতরণ এবং নানা চমকপ্রদ কার্যক্রম দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অনুষ্ঠানে আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও পরিবার নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জয় পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে দর্শকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। খেলা শেষে সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল। আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করবে।
তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। সেই পথ পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ইতিহাস গড়লেন ২০ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দলের প্রথম গোলটি করে তিনি সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রাম এবং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ঝুঁকি নেওয়ার গল্প। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেড ছেড়ে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন ইরানকুন্ডা। হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয় তাকে। বিশ্বকাপ দলে জায়গা নিশ্চিত করতে গত গ্রীষ্মে বড় সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। নিয়মিত খেলার আশায় বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন তিনি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ খুব কাছাকাছি চলে আসছিল এবং আমার নিয়মিত মাঠে থাকা প্রয়োজন ছিল।” ওয়াটফোর্ডের জার্সিতে ৪২ ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা ফিরে পান। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শারীরিক শক্তির দারুণ প্রদর্শনীতে গোল করেন ইরানকুন্ডা। গোলের পর অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ উদযাপন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।” ইরানকুন্ডা জানান, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা টিম কাহিল এবং আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে ইরানকুন্ডাকে ‘হুডিনি’ বলে অভিহিত করেন এবং তার খেলায় ইংল্যান্ডের তারকা জুড বেলিংহ্যামের ছাপ দেখেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ অ্যাঞ্জ পোস্টেকোগলুও এই তরুণের প্রশংসা করে বলেন, “একটি ভালো বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।” বায়ার্ন মিউনিখের মতো ক্লাব ছেড়ে নিয়মিত খেলার জন্য যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ে সেই সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণ করলেন তিনি।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে আয়োজক তিন শহরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে । মেক্সিকোর তিনটি আয়োজক শহর হলো মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মনতেরে। এসব শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূল উদ্দেশ্য হলো মেগা ইভেন্টে ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ কমানো এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ফ্যান জোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক বুথ ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব স্থানে কনডমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু সামগ্রী বিতরণ নয়, সঠিক তথ্য ও সচেতনতা না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হয় না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন দেশে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিম্পিকে অ্যাথলেটদের জন্য নির্দিষ্ট ভিলেজ থাকায় সেখানে এ ধরনের বিতরণ সহজ হয়। তবে বিশ্বকাপে আলাদা প্লেয়ার ভিলেজ না থাকায় মেক্সিকোর এই উদ্যোগ মূলত দর্শক ও পর্যটকদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হবে। এদিকে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো থেকে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের ঘোষণা এখনো আসেনি।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। ভুয়া টিকিট বিক্রি, জাল ভ্রমণ প্যাকেজ, ফিশিং ই-মেইল, নকল পণ্য বিক্রি এবং ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন জানায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। সংস্থাটির মতে, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে সীমিত টিকিট, উচ্চ চাহিদা এবং আবেগপ্রবণ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ তৈরি করে। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতারকেরা নিজেদেরকে কখনো টুর্নামেন্ট আয়োজক, কখনো টিকিট বিক্রেতা বা ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে ই-মেইল, টেক্সট বার্তা বা ফোন কলের মাধ্যমে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। এসব বার্তায় আকর্ষণীয় টিকিট অফার, কম দামের ভ্রমণ প্যাকেজ, বিনামূল্যে পুরস্কার জেতার সুযোগ কিংবা বিশেষ স্ট্রিমিং লিংকের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। নিউইয়র্ক স্টেটের সেক্রেটারি ওয়াল্টার টি মসলি বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হলে লাখো মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে একই সময়ে প্রতারক চক্রও সক্রিয় থাকবে। তাই দর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং শুধু যাচাই করা উৎস থেকেই টিকিট ও সেবা গ্রহণ করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ইভেন্টে প্রতারণার ধরন প্রায় একই থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া টিকিট বিক্রি, জাল রিসেল প্ল্যাটফর্ম, ফিশিং ই-মেইল ও টেক্সট, ভুয়া হোটেল বুকিং, নকল পণ্য বিক্রির ওয়েবসাইট এবং ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং সেবা। অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, সন্দেহজনক সংযুক্তি ডাউনলোড না করা এবং ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুয়া ওয়েবসাইট অনেক সময় আসল সাইটের মতো দেখতে হলেও ডোমেইন বা বানানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে, যা খেয়াল করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতারণা বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে ভুয়া বিক্রেতারা স্ক্রিনশট, বারকোড বা কনফার্মেশন ই-মেইল দেখিয়ে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মের বাইরে টাকা পাঠানোর অনুরোধ প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রতারণার ইঙ্গিত বহন করে। টিকিট পুনর্বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত রিসেল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোথা থেকে টিকিট কিনলে ঝুঁকি বেশি থাকে। বিক্রেতার পরিচয়, লাইসেন্স, রিভিউ এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ চলাকালে আবাসন ও পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম এবং আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীর চাপ থাকবে বেশি। এই সুযোগে ভুয়া হোটেল বুকিং ও কম দামের ভ্রমণ প্যাকেজের নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে এনজে ট্রানজিটের নাম ব্যবহার করেও জাল পরিবহন টিকিট বিক্রির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে তুলনামূলক সুরক্ষা পাওয়া যায়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা হলে চার্জ ব্যাকের মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে ক্যাশ, গিফট কার্ড বা অচেনা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করলে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ভোক্তাদের সহায়তায় নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন একটি হেল্পলাইন চালু রেখেছে, যেখানে ভোক্তারা সহায়তা নিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। বুধবার ভোরে তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে পৌঁছান। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাকে বীরের সম্মানে বরণ করে নেয় উচ্ছ্বসিত জনতা। আরতান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পেলে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেতেন। তিনি হতেন প্রথম সোমালি রেফারি, যিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনা করতেন। তবে বিশ্বকাপ দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। স্বপ্নভঙ্গের এই পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তার জন্য অপেক্ষা করছিল ব্যাপক সংবর্ধনা। অসংখ্য সমর্থক ফুল ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে বরণ করে নেন। এ সময় তাকে সোমালিয়ার গর্ব এবং অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, আরতানের সম্মানে জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরতান ফিফা এবং সোমালিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশ্বকাপে দায়িত্ব না পাওয়ার হতাশা ব্যক্ত করে এক সাক্ষাৎকারে আরতান বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, তবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও বৈধ ভিসা নিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এরপরও তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় কিছু উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আরতান তার বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কিত গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। হতাশা থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী আরতান বলেন, যা ঘটেছে তা দুর্ভাগ্যজনক হলেও তরুণদের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা উচিত নয়। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় থাকলে নতুন সুযোগ আসবে। হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ সোমালিয়ায় জনপ্রিয় এই রেফারি ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর আফ্রিকান ফুটবলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন তিনি। ২০২৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েন আরতান এবং পরের বছর আফ্রিকার সেরা রেফারির স্বীকৃতি অর্জন করেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রেফারি ও সমর্থকদের ভিসা জটিলতা, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার ব্রিল এম্বোলোর ভিসা পুনঃপর্যালোচনার আওতায় নেওয়া হয়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে সক্ষম হন। একই সময়ে ইরাক জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় আইমান হুসেইন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। ইরান জাতীয় দলকেও ভিসা পেতে দীর্ঘ জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তুরস্কে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে কয়েক দিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় দলটিকে। পরে ম্যাচের দিনগুলোতে কেবল তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদলের ১৫ সদস্যের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ২০২৫ সালের সেরা রেফারি নির্বাচিত সোমালিয়ার ওমর আবদুলকাদির আরতানও ভিসা পাননি। কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ফেরত পাঠানো হয়। পরে ফিফা নিশ্চিত করে, তিনি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলও ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়। প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য ভিসা না পাওয়ায় পুরো দলের সফর বিলম্বিত হয়। এদিকে সেনেগাল জাতীয় দলের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় দীর্ঘ তল্লাশির শিকার হন। তাদের জুতা খুলতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হয়। এ ঘটনায় বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও উঠেছে। উজবেকিস্তান জাতীয় দলকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর দিয়ে তল্লাশি করার একটি ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শুধু দল বা কর্মকর্তারাই নন, ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সমর্থকরাও। স্কটল্যান্ডের কিছু সমর্থক, যারা ইএসটিএ কর্মসূচির আওতায় ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন, তাদের ভ্রমণ অনুমোদন যাত্রার মাত্র কয়েক দিন আগে বাতিল করা হয়। এছাড়া অনেক সমর্থক ম্যাচের টিকিট ও আবাসন বুকিং সম্পন্ন করার পরও ভিসা না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে বিশ্বকাপ ঘিরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা হাজারো দর্শকের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের মধ্যে একের পর এক ভিসা ও প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সমন্বিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে বড় ধরনের গণ-প্রদর্শনীর আয়োজন ঘোষণা করেছে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য প্রশাসন। আগামী ১৯ জুলাই ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের গ্রেট লনে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক একসঙ্গে বিনামূল্যে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি আয়োজক কমিটি, গ্লোবাল সিটিজেন এবং সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত প্রান্তরে তিনটি বড় এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হবে, যেখানে হাজারো ফুটবলপ্রেমী একসঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে পারবেন। এই প্রদর্শনীকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনামূল্যের বিশ্বকাপ ফাইনাল ভিউয়িং ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিকিট ফি থাকবে না। তবে দর্শকদের জন্য লটারিভিত্তিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। আগামী ১১ জুন সকাল ১০টা থেকে নিবন্ধন শুরু হয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। মোট টিকিটের ২০ শতাংশ স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশদ্বার দুপুর ১২টায় খুলে দেওয়া হবে এবং বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। খেলা ছাড়াও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্থানীয় খাবারের স্টল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া ‘ফিফা অ্যারেনা’ নামে একটি অস্থায়ী ক্ষুদ্র ফুটবল মাঠও চালু করা হয়েছে, যা ১০ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে বিনামূল্যে ফুটবল প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি টুর্নামেন্ট এবং সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপ শুধু উচ্চমূল্যের টিকিটধারীদের জন্য নয়, বরং পুরো শহরের মানুষের জন্য একটি উৎসব। তার ভাষায়, কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। গভর্নর হোকুল বলেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখা সবার জন্য সম্ভব নয়। তবে সেন্ট্রাল পার্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে লাখো মানুষ একসঙ্গে ফুটবল উন্মাদনা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ৬ মিলিয়ন ডলার এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকার ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে নিউইয়র্ক ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক নজর কাড়ছে। সেন্ট্রাল পার্কের এই আয়োজনকে শুধু ম্যাচ প্রদর্শনী নয়, বরং বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও নগর সংস্কৃতির এক বৃহৎ জনউৎসব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর প্রাক্কালে নিউইয়র্কে বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বর্ডার জার টম হোম্যান। বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে যখন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো দর্শকের আগমন ঘটছে, তখন তার এ মন্তব্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে এমন সংখ্যক আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হবে, যা শহরটি আগে কখনও দেখেনি। তিনি জানান, একটি অপারেশনাল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সম্প্রতি গভর্নর হোকুল একটি বিল সই করেন, যার মাধ্যমে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মুখোশধারী আইসিই এজেন্টদের অভিযান সীমিত করা এবং অভিবাসন কার্যক্রমে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হোম্যানের বক্তব্য ওই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এদিকে একই সময়ে নিউজার্সির একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন। সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তি, তার অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, কিছু মৌলিক আইনি অধিকার ভোগ করেন। সংগঠনটির মতে, এসব অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো নীরব থাকার অধিকার। কেউ আইস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হলে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অধিকার রাখেন। এছাড়া তল্লাশির ক্ষেত্রে সম্মতি না দেওয়া, কোনো নথিতে স্বাক্ষর করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন আরও পরামর্শ দিয়েছে, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার ফটোকপি সঙ্গে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন ছাড়া এসব নথি প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং মোবাইল ফোন পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, কোনো অভিভাবক হঠাৎ আটক হলে শিশুর দেখভালের জন্য আগেই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নির্ধারণ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, চিকিৎসা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথির কপি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী নিউইয়র্কে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের বড় একটি প্রবাসী জনগোষ্ঠীও নিউইয়র্কে বসবাস করে। এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন অভিযান নিয়ে আলোচনা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল উন্মাদনা চলছে, তখন মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের একটি ছোট্ট শহরে ফুটবল হয়ে উঠেছে পুনর্মিলন ও শান্তির প্রতীক। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘রেতুর, রেক্লামাসিওঁ, রেয়াবিলিতাসিওঁ’ (৩আর) ২০২৫ সালে অস্ত্র সমর্পণ করার পর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। এরপর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মিনুস্কার উদ্যোগে শুরু হয় পুনর্মিলন কার্যক্রম। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাক্তন বিদ্রোহী যোদ্ধা, সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যারা একসময় সংঘাতের বিপরীত পক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তারা এখন একই মাঠে খেলছেন, একে অপরকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং খেলা শেষে করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ফুটবল এখানে শুধু একটি খেলা নয়; এটি আস্থা পুনর্গঠন এবং সামাজিক পুনর্মিলনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। মিনুস্কার সেনেগালি কন্টিনজেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গেরাল্ড আরান্দা আসিনে বলেন, কয়েক মাস আগেও এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন ছিল। তার ভাষায়, “যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, আজ তারা একই দলে খেলছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।” জাতিসংঘের সহায়তায় জেমিওসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে স্কুল পুনরায় চালু হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার নিজ এলাকায় ফিরে আসছে। স্থানীয় এক সাবেক শিশু সৈনিক, যিনি এখন পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন, বলেন তিনি এখন নিরাপদ বোধ করেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মৌসুমে মধ্য আফ্রিকার এই অভিজ্ঞতা ফুটবলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়, এটি বিভক্ত সমাজকে একত্রিত করারও শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। মধ্য আফ্রিকার একটি ছোট্ট শহরের এই ফুটবল ম্যাচ হয়তো বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে জায়গা পাবে না, তবে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্মিলনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর সম্ভাব্য অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের কারণে দর্শক ও স্থানীয়দের সতর্ক করতে অন্তত ১২০টিরও বেশি সংগঠন একত্র হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, মিয়ামি, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ চলাকালীন সম্ভাব্য অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের সময় দ্রুত আইনি সহায়তা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফাই স্টেডিয়ামে কর্মরত দুই হাজারের বেশি হোটেল ও পরিষেবা কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি শ্রমিক ইউনিয়ন হুমকি দিয়েছে, স্টেডিয়াম এলাকায় আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি বন্ধ না হলে তারা ধর্মঘটে যাবে। ডালাসে মানবাধিকার সংগঠন এল মুভিমিয়েন্তো ডিএফডব্লিউ গির্জা, দোকান এবং আবাসিক এলাকায় ‘হুইসেল কিট’ বিতরণ করছে। এতে আইসিই উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও বিনামূল্যে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের উপায় রাখা হয়েছে। একাধিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ১ কোটি দর্শনার্থীর উদ্দেশে সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে “অবৈধভাবে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার, আটক ও নির্বাসনের ঝুঁকি” থাকতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বড় এই ক্রীড়া আসর এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশটির অভিবাসন নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমননীতির কারণে এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করছে অধিকার সংগঠনগুলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সংস্থাটির মতে, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া নেটওয়ার্ক, আইনজীবী সহায়তা এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যাতে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তার ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। সিয়াটলে শ্রম অধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্কিং ওয়াশিংটন’ জানিয়েছে, তারা রেস্তোরাঁ ও কর্মস্থলে কর্মীদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হলে করণীয় ও যোগাযোগ কৌশল। মিয়ামিতে, যেখানে অভিবাসী গ্রেপ্তারের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে বিশেষ হটলাইন এবং আইন পর্যবেক্ষক দল সক্রিয় করা হয়েছে। এসব দল আইসিই উপস্থিতি নথিভুক্ত করার কাজ করবে। কিছু সংগঠন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ‘নো আইসিই ইন দ্য কাপ’ নামের একটি জাতীয় প্রচারণা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আয়োজক শহরগুলোতে নিরাপদ অঞ্চল, কমিউনিটি সহায়তা কেন্দ্র এবং অভিবাসীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিয়াটলে কিছু সংগঠন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে কাজ করে “সেফ জোন” ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা সহায়তা ও তথ্য পেতে পারবেন। অধিকারকর্মীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের যুক্তি, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভিবাসন অভিযান যদি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে টিকিট লটারির নিবন্ধনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই নির্ধারিত দৈনিক আবেদনসীমা পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে কর্তৃপক্ষ নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উদ্যোগে সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করতে এই লটারির আয়োজন করা হয়। মেয়রের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, নিবন্ধন শুরুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মানুষ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করায় আবেদনসীমা দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন মোট ১ হাজার বিশ্বকাপ টিকিট সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। এছাড়া নির্বাচিতদের জন্য নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিনামূল্যে বাসসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আগ্রহ বাড়ছে। কম দামে টিকিট পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লটারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি টিকিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক শহরগুলোতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা, পরিবহন ও দর্শকসেবা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। সোমবার কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দল প্রকাশ করেন। দলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তবে বড় চমক হিসেবে কোনো রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়কে দলে রাখা হয়নি। দলের এই ঘোষণায় স্পেনের স্কোয়াডে ক্লাবভিত্তিক ভারসাম্য ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেখা গেছে। দানি কারভাহাল চোটের কারণে দলে জায়গা পাননি। স্পেনের বিশ্বকাপ দলটি তিন গোলরক্ষক, আটজন ডিফেন্ডার, সাতজন মিডফিল্ডার এবং আটজন ফরোয়ার্ড নিয়ে গঠিত। গোলরক্ষক হিসেবে আছেন উনাই সিমোন, ডেভিড রায়া এবং হুয়ান গার্সিয়া। ডিফেন্ডারদের মধ্যে আছেন মার্ক কুকুরেয়া, পাও কুবার্সি, আইমেরিক লাপোর্তে, আলেক্স গ্রিমালদো, পেদ্রো পোরো, এরিক গার্সিয়া, মার্কোস লরিয়েন্তে এবং মার্ক পুবিল। মিডফিল্ডে দলে আছেন গাভি, রদ্রি, পেদ্রি, মার্তিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইস, আলেক্স বায়েনা এবং মিকেল মেরিনো। আক্রমণভাগে সবচেয়ে আলোচিত নাম লামিনে ইয়ামাল। তার সঙ্গে আছেন নিকো উইলিয়ামস, দানি অলমো, ফেরান তোরেস, মিকেল ওইরজাবাল, ইয়েরেমি পিনো, বোরহা ইগলেসিয়াস এবং ভিক্টর মুনিয়োজ। স্পেনের স্কোয়াডে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, মোট আটজন। ক্লাবটির হয়ে খেলছেন কুবার্সি, এরিক গার্সিয়া, গাভি, পেদ্রি, ইয়ামাল, অলমো ও ফেরান তোরেস। বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। ১৫ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপের দলে নেইমারের নাম ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই চোটের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক চোটে ভোগার কারণে নেইমারকে নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে। অতীতেও বড় ধরনের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিল জানায়, বর্তমান চোট গুরুতর নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় মেডিকেল স্টাফও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে আর কোনো ম্যাচে না খেলার বিষয়েও ভাবছেন নেইমার বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ ম্যাচ দেখার সুযোগ নিয়ে বিশেষ টিকিট লটারি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিটি প্রশাসন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীরা মাত্র ৫০ ডলারে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মোট এক হাজার সাশ্রয়ী টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে! সাতটি ম্যাচের জন্য এসব টিকিট বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং দুটি নকআউট পর্বের খেলা। প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার। তবে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ রাখা হয়নি। এছাড়া নির্বাচিত দর্শকদের জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাতায়াতের বিনামূল্যে বাস সুবিধাও রাখা হয়েছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লটারির আবেদন শুরু হবে আগামী ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। তবে আবেদন গ্রহণের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কেবল নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হবে। প্রতিদিন একজন ব্যক্তি একবার করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একাধিক আবেদন করলে তা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের কাছে ইমেইল বা ফোনে যোগাযোগ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন বিজয়ীরা। মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত ফুটবলপ্রেমীদের কথা বিবেচনায় এনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির সময় আমরা দেখছি টিকিটের দাম কয়েকশ থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অথচ অসংখ্য মানুষ জীবনে একবার হলেও বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান।” সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কিছু ম্যাচের সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ২২০ থেকে ৪১৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনরায় বিক্রির বাজারে এসব টিকিটের দাম আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় টিম ওয়ে এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি হোস্ট কমিটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ল্যাসরিও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বহুজাতিক সম্প্রদায়ের ফুটবল উন্মাদনা এবং বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তে থাকা আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।