মার্কিন ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টিন তাঁর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না। তিনি দাবি করেন, এপস্টিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল তথ্য, বিশেষ করে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কে বিশ্বস্ত না থাকার বিষয়টি ব্যবহার করে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলেন।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির রুদ্ধদ্বার শুনানিতে সদস্যদের সামনে সাক্ষ্য দেন বিল গেটস। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি কখনো এপস্টিনকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে দেখেননি এবং এমন কোনো ইঙ্গিতও পাননি। গেটস জানান, তিনি কখনো এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাসভবনে যাননি এবং কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, এপস্টিন তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি এবং সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের পরিচয় হয়। এপস্টিন তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করতে পারবেন। গেটস জানান, তিনি জানতেন এপস্টিন আগে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন, তবে তাঁর অপরাধের পূর্ণ মাত্রা তখন তাঁর জানা ছিল না। যথাযথ যাচাই না করেই তিনি সেই পরিচয় গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সীমিত এবং ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের পর তাঁদের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবেরি পরে জানান, গেটস স্বীকার করেছেন যে তিনি জানতেন এপস্টিন যৌন অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তবে তিনি তখনো তাঁকে দাতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
গেটস আরও অভিযোগ করেন, যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পর এপস্টিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য এবং অতিরিক্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করাটা তাঁর পক্ষ থেকে একটি বড় ভুল ছিল।চলতি বছর এপস্টিন সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এরপর রুদ্ধদ্বার এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এটি ছিল হাউস ওভারসাইট কমিটির একাধিক সাক্ষাৎকারের অংশ।
শুনানির পর গেটস সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে পরে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং তিনি সব ফাইল প্রকাশের উদ্যোগকে সমর্থন করেন। তাঁর মতে, এটি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের পরিধি নিয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না এবং যেকোনো বিষয়েই প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গেটস সাক্ষ্য দিতে পুরোপুরি আগ্রহী ছিলেন না, তবে তিনি সহযোগিতা করেছেন।
গেটসের আইনজীবী শুনানিতে জানান, তাঁর মক্কেল এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। কমিটির ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া গেটসকে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখালেও সহযোগিতাপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গেটস প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যদিও কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত নথিপত্রে এপস্টিনের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু খসড়া বার্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই বার্তাগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, গেটসের জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্কের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং কিছু চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তার কথাও উল্লেখ ছিল। তবে এসব ই-মেইল আদৌ পাঠানো হয়েছিল কি না, বা গেটসের কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।
গেটস পক্ষ এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসব দাবি ভিত্তিহীন এবং এপস্টিন ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এসব তথ্য তৈরি করে থাকতে পারেন। ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, শুনানিতে গেটস দাবি করেছেন এপস্টিন নিজেই নিজের কাছে ই-মেইল লিখে বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করতেন। তিনি আরও জানান, গেটস স্পষ্ট করেছেন যে এপস্টিন কখনো তাঁকে কোনো নারী, কিশোরী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিপুল নথিতে গেটসের নাম বহুবার এসেছে। সেখানে বৈঠকের সময়সূচি, খাবারের আয়োজন, ফোন কলের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সাক্ষাতের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এসব যোগাযোগ মূলত ২০০৮ সালে এপস্টিন দণ্ডিত হওয়ার পরবর্তী সময়ের। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের এক বার্তায় গেটস লিখেছিলেন, তিনি প্রাতরাশ উপভোগ করেছেন। জবাবে এপস্টিন তাঁকে প্রশংসা করে ব্যক্তিগত দ্বীপে আসার আমন্ত্রণ জানান, তবে গেটস সেখানে যাননি বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শুনানির আগে প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া বলেন, দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা উদ্বেগজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোর পর তার দলবদল বা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নিজেই সব জল্পনা উড়িয়ে দেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়, তৃণমূলের একটি ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের কাছে যে চিঠি জমা দিয়েছে, সেখানে নাকি শত্রুঘ্ন সিনহারও স্বাক্ষর রয়েছে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনকাল পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান আসানসোলের এই সংসদ সদস্য। ওই পোস্টে তিনি মোদিকে “সমাজ ও জাতির পথপ্রদর্শক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই পোস্টে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়-কেও ট্যাগ করেছিলেন। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়—তাহলে কি শত্রুঘ্ন সিনহা নতুন কোনো রাজনৈতিক পথে হাঁটতে যাচ্ছেন? তবে এসব জল্পনার জবাব দিতে দেরি করেননি তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। “আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তার কোনোটিই সত্য নয়,” বলেন তিনি। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আনুগত্যের কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরেন সিনহা। তার ভাষায়, “আমার কঠিন সময়ে দিদি আমার পাশে ছিলেন। তার কঠিন সময়ে আমিও তার পাশে থাকব।” তিনি আরও জানান, তৃণমূল নেত্রীর অনুরোধেই তিনি আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই কারণেই দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আরও গভীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কৌশলগত বার্তা অনেক সময়ই এমন বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। তবে শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আপাতত পরিষ্কার, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন না এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচিত পদে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। এ পর্যন্ত ১০ জনেরও কম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এ ধরনের পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো থেকে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১২ এর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। মঙ্গলবার প্রকাশিত মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাওয়াসের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ফিলিপিনো-আমেরিকান আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচিত হলে আগামী জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অ্যালবানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পেয়েছেন কাওয়াস। এর আগে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে মামদানির প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন স্টিভেন রাগা। কাওয়াস বলেন, “মামদানি আন্দোলন বহু তরুণ এবং প্রগতিশীল বামপন্থির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি হতাশা কাটিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।” তিনি জানান, সেই রাজনৈতিক গতি ও জনসমর্থন ধরে রাখার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। ২০২৫ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভের আগে মেয়র মামদানিকে একজন বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার দৃঢ় অবস্থানই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। তবু ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাওয়াসের ব্যক্তিগত জীবনও অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমদের ওপর নজরদারি ও নিরাপত্তা অভিযান বাড়লে তার নথিপত্রহীন বাবাকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) আটক করে। প্রায় তিন বছর আটককেন্দ্রে রাখার পর তাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে অভিযোগ উঠছে, কাওয়াস জানান তার পরিবারও একসময় একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি এবং তার ভাইবোনেরা দীর্ঘ সময় একক অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কাওয়াস বলেন, “আমি চাই না এমন ঘটনা আর কারও সঙ্গে ঘটুক।” নিউইয়র্কের কুইন্সের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১২ একটি বৈচিত্র্যময় এলাকা। এর আওতায় রয়েছে অ্যাস্টোরিয়া, লং আইল্যান্ড সিটি এবং সানিসাইডের মতো জনবহুল অঞ্চল। হিজাব পরিহিত কাওয়াস ইতোমধ্যে কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছেন। সেখানে আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিল এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণা সংগঠনের সঙ্গে তার অতীত কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এসব সংগঠনের সমালোচনা করে আসছে। কাওয়াস জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মসজিদভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে অভিবাসীদের অধিকার, ভাষাগত সহায়তা এবং পুলিশি সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন। তার মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে বিভিন্ন পটভূমির মানুষকে আইনসভায় প্রবেশ করতে হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচন করাকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করেন। মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানির ঘটনা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত মার্চে নিউইয়র্কের পরিচিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী নার্দিন কিসওয়ানির বাসভবনে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মাসে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর ১ লাখ ডলার বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পান ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী লেকা কর্দিয়া। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ‘শালীনভাবে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিরল এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, চাবুক এবং গুলি ব্যবহার করে। কিছু ক্ষেত্রে তাজা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভে শুধু নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও অংশ নেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশের দিকে গুলিও ছোড়ে। এএফপির এক ফটোগ্রাফার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে এবং গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু নারী মারধর বন্ধের জন্য চিৎকার করছেন। একই সময় আশপাশ থেকে গুলির শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভে কেউ নিহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হোসেনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে। বিবিসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশটিতে নারীর অধিকার ও জনসমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।