শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি বিশ্ববিদ্যাল দিচ্ছে ফ্রীতে আবেদন করার সুযোগ!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২:৫
যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি  বিশ্ববিদ্যাল দিচ্ছে ফ্রীতে  আবেদন করার সুযোগ!
যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি বিশ্ববিদ্যাল দিচ্ছে ফ্রীতে আবেদন করার সুযোগ!

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকেই শুধু আবেদন ফি বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। সাধারণভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে ৫০ থেকে ১০০ ডলার বা তারও বেশি ফি লাগতে পারে।

 

সে হিসেবে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতেই প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। তবে অনেক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন ফি মওকুফ বা ‘অ্যাপ্লিকেশন ফি ওয়েভার’ সুবিধা দিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় কমানোর একটি কার্যকর সুযোগ।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ভার্চুয়াল ওপেন হাউজ, গ্র্যাজুয়েট রিক্রুটমেন্ট ইভেন্টে অংশগ্রহণ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের গ্র্যাজুয়েট কোঅর্ডিনেটরের অনুমোদন অথবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতায় আবেদন ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। তবে এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, ডিগ্রি প্রোগ্রাম, ভর্তি সেশন ও সময়সীমা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

 

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ফি ওয়েভারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, লিহাই ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইড, ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব তুলসা, বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার, ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার, ক্লার্কসন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মন্টানা, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা গ্রিনসবোরো, ইউনিভার্সিটি অব মেইন, কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি, রকফেলার ইউনিভার্সিটি, বেইলর কলেজ অব মেডিসিন, ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টার, কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি, মায়ো ক্লিনিক গ্র্যাজুয়েট স্কুল, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি, টুলেন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকো, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিং, ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো।

 

তবে শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এই তালিকায় থাকলেই সব প্রোগ্রামে বা সব সময় আবেদন ফি মওকুফ পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা বিশেষ প্রচারণার সময়েই এ সুবিধা দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন অফিস ও গ্র্যাজুয়েট কোঅর্ডিনেটরের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।

 

উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতারা বলছেন, বিদেশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শুধু আবেদন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়; বরং পূর্ণ বা আংশিক স্কলারশিপ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), গবেষণা বা একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন শিক্ষার্থীর ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

শিক্ষার্থীদের পরামর্শ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার আগে তাদের অভিজ্ঞতা, সেবার ধরন ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নির্দেশনাকেই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করা। এতে ভুল তথ্যের ঝুঁকি কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও হবে আরও নিরাপদ ও কার্যকর।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

শিক্ষা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি  বিশ্ববিদ্যাল দিচ্ছে ফ্রীতে  আবেদন করার সুযোগ!
যুক্তরাষ্ট্রের যে ৪০ টি বিশ্ববিদ্যাল দিচ্ছে ফ্রীতে আবেদন করার সুযোগ!

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকেই শুধু আবেদন ফি বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। সাধারণভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে ৫০ থেকে ১০০ ডলার বা তারও বেশি ফি লাগতে পারে।   সে হিসেবে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতেই প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। তবে অনেক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন ফি মওকুফ বা ‘অ্যাপ্লিকেশন ফি ওয়েভার’ সুবিধা দিয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় কমানোর একটি কার্যকর সুযোগ।   বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত ভার্চুয়াল ওপেন হাউজ, গ্র্যাজুয়েট রিক্রুটমেন্ট ইভেন্টে অংশগ্রহণ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের গ্র্যাজুয়েট কোঅর্ডিনেটরের অনুমোদন অথবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের আওতায় আবেদন ফি মওকুফের সুযোগ দেয়। তবে এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, ডিগ্রি প্রোগ্রাম, ভর্তি সেশন ও সময়সীমা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।   যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ফি ওয়েভারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, লিহাই ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইড, ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব তুলসা, বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার, ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার, ক্লার্কসন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মন্টানা, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা গ্রিনসবোরো, ইউনিভার্সিটি অব মেইন, কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি, রকফেলার ইউনিভার্সিটি, বেইলর কলেজ অব মেডিসিন, ইউটি সাউথওয়েস্টার্ন মেডিকেল সেন্টার, কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি, মায়ো ক্লিনিক গ্র্যাজুয়েট স্কুল, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি, টুলেন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকো, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিং, ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো।   তবে শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এই তালিকায় থাকলেই সব প্রোগ্রামে বা সব সময় আবেদন ফি মওকুফ পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা বিশেষ প্রচারণার সময়েই এ সুবিধা দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন অফিস ও গ্র্যাজুয়েট কোঅর্ডিনেটরের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।   উচ্চশিক্ষা–সংশ্লিষ্ট পরামর্শদাতারা বলছেন, বিদেশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শুধু আবেদন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়; বরং পূর্ণ বা আংশিক স্কলারশিপ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), গবেষণা বা একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন শিক্ষার্থীর ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।   শিক্ষার্থীদের পরামর্শ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার আগে তাদের অভিজ্ঞতা, সেবার ধরন ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নির্দেশনাকেই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করা। এতে ভুল তথ্যের ঝুঁকি কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও হবে আরও নিরাপদ ও কার্যকর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ২:৫
ছবি: সংগৃহীত

মার্কেটিং থেকে পাবলিক পলিসিতে পিএইচডি! পাহাড়ের থেকে নিউমা চৌধুরী এবার যুক্তরাষ্ট্রে

ওয়াল স্ট্রিটের চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় নতুন ক্যারিয়ার গড়েছেন স্টিভ মেনকিং। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াল স্ট্রিটের মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে এখন বাড়ি থেকেই ঘণ্টায় ১ হাজার ডলার আয়, শিক্ষক স্টিভ মেনকিংয়ের অনুপ্রেরণার গল্প

ছবি: সংগৃহীত

স্নাতক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাদিয়া

ছবি: সংগৃহীত
২.৯৬ সিজিপিএ, আইইএলটিএসে দুইবার ব্যর্থ, তবুও পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি

কম সিজিপিএ, জিআরই না থাকা, একাধিকবার আইইএলটিএসে কাঙ্ক্ষিত স্কোর না পাওয়া কিংবা গবেষণা প্রকাশনা ছাড়াও যে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ অর্জন করা সম্ভব, তারই একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন খাগড়াছড়ির মংসাই মারমা নিমং। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসে ইতিহাস বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপসহ পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে বেড়ে ওঠা মংসাই মারমা নিমং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি ও এলএল.এম সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইতিহাস বিষয়ে গবেষণার জন্য আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসে ভর্তি ও গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যানশিপ অর্জন করেন।       তার শিক্ষাজীবনের পথ ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তার সিজিপিএ ছিল ২.৯৬। তিনি জিআরই পরীক্ষা দেননি। আইইএলটিএসে প্রথম দুইবার ৬.০ স্কোর পাওয়ার পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৬.৫ অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বাবাকে হারানোর পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন এবং আদালতে কাজ করেছেন। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও তার সাড়ে তিন বছর সময় লেগেছে। গবেষণার ক্ষেত্রে তার কোনো আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ছিল না। তবে কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস ইউনিভার্সিটির দুটি গবেষণা প্রকল্পে প্রায় দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। এই গবেষণা অভিজ্ঞতাই তার উচ্চশিক্ষার আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আইন থেকে ইতিহাসে গবেষণার বিষয় পরিবর্তন নিয়ে অনেকের কাছে বিস্ময় তৈরি হলেও, পার্বত্য অঞ্চলের অধিকার, রাষ্ট্র, আইন এবং সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আইনের শিক্ষাই তার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।     উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সিজিপিএ বা পরীক্ষার স্কোরই নয়, গবেষণা অভিজ্ঞতা, একাডেমিক প্রস্তুতি, উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মংসাই মারমা নিমংয়ের সাফল্য দেখিয়েছে, প্রতিকূলতা থাকলেও পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন সম্ভব।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ০:৪০
যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এফ-১ ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় বড় পরিবর্তন, সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ৪ বছর

হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের উদ্যোগে পরিচালিত অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন চলছে। ছবি: সংগৃহীত

আইইএলটিএস ছাড়াই হার্ভার্ডের লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় আজ

ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ, যাত্রা শুরু ২০২৭ সালে

সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আজ থেকে ফেডারেল শিক্ষাঋণে বড় পরিবর্তন, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ঋণে নতুন সীমা, বিশেষ ঋণ কর্মসূচি বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে আজ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ফেডারেল শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় স্নাতকোত্তর ও পেশাগত ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং পুরো শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিতে পারবেন। অন্যদিকে চিকিৎসা, আইন, ডেন্টাল, ভেটেরিনারি ও অন্যান্য স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং মোট ২ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   আগে এই বিশেষ ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় পুরো অর্থ ঋণ হিসেবে নিতে পারতেন। তবে ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে যারা একই শিক্ষা কর্মসূচিতে এই সুবিধা নিয়েছেন, তারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আগের নিয়ম অনুযায়ী কিছু সুবিধা বজায় রাখতে পারবেন।   ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য মূলত দুটি পরিশোধ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত শিক্ষাঋণ নির্ভরতা কমানো, সরকারি ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষা ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে উৎসাহিত করা।   তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নতুন ঋণসীমার কারণে উচ্চ ব্যয়ের স্নাতকোত্তর ও পেশাগত ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে পারেন, যেখানে সুদের হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৬:২১
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে আবেদন করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা: আবেদন থেকে ভিসা অনুমোদন, বিস্তারিত জানুন

ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় ইউসিএমএএস ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

0 Comments