ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোর পর তার দলবদল বা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নিজেই সব জল্পনা উড়িয়ে দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়, তৃণমূলের একটি ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের কাছে যে চিঠি জমা দিয়েছে, সেখানে নাকি শত্রুঘ্ন সিনহারও স্বাক্ষর রয়েছে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনকাল পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান আসানসোলের এই সংসদ সদস্য। ওই পোস্টে তিনি মোদিকে “সমাজ ও জাতির পথপ্রদর্শক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই পোস্টে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়-কেও ট্যাগ করেছিলেন।
এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়—তাহলে কি শত্রুঘ্ন সিনহা নতুন কোনো রাজনৈতিক পথে হাঁটতে যাচ্ছেন?
তবে এসব জল্পনার জবাব দিতে দেরি করেননি তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। “আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তার কোনোটিই সত্য নয়,” বলেন তিনি।
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আনুগত্যের কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরেন সিনহা। তার ভাষায়, “আমার কঠিন সময়ে দিদি আমার পাশে ছিলেন। তার কঠিন সময়ে আমিও তার পাশে থাকব।”
তিনি আরও জানান, তৃণমূল নেত্রীর অনুরোধেই তিনি আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই কারণেই দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আরও গভীর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কৌশলগত বার্তা অনেক সময়ই এমন বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। তবে শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আপাতত পরিষ্কার, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন না এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ ও অভিনেত্রী কেটি হোমসের একমাত্র কন্যাসন্তান সুরি ক্রুজ তার বাবার সঙ্গে সমস্ত আইনি ও সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ২০ বছর বয়সী সুরি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার নামের শেষ থেকে বাবার বিখ্যাত 'ক্রুজ' পদবিটি বাদ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে 'সুরি নোয়েল' হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাবলিক রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গে বসবাস করছেন সুরি। সেখানকার বিখ্যাত কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিএমইউ) ভর্তি হওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেন। অ্যালেনি কাউন্টির সেই ভোটার তালিকায় তিনি নিজের নাম নিবন্ধিত করেছেন 'সুরি নোয়েল' হিসেবে। পেনসিলভেনিয়া আদালতের নিয়মানুসারে, ভোটার নিবন্ধনের জন্য অবশ্যই নাগরিকের বৈধ আইনি নাম ব্যবহার করতে হয়, যা নিশ্চিত করে যে সুরি আগেই তার নাম পরিবর্তন করেছেন। তবে অ্যালেনি কাউন্টির প্রশাসনিক নথিতে নাম পরিবর্তনের আলাদা কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পেনসিলভেনিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার আগেই নিউইয়র্কে থাকাকালীন তিনি এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা আবেদনকারীর অনুরোধে প্রকাশ্যে না এনে গোপন রাখা যায়। সুরি নোয়েল নামটি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহার করা শুরু করলেও, এর পেছনের কারণটি বেশ স্পষ্ট। 'নোয়েল' মূলত তার মা কেটি হোমসের মধ্যনাম (Middle Name)। বাবার পরিচয় ছেড়ে মায়ের মধ্যনামকে নিজের পদবি হিসেবে গ্রহণ করার ঘটনাকে তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিনোদন জগতের সংশ্লিষ্টরা। গত ২০২৪ সালের জুনে লাগার্ডিয়া হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সময় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক লিপলেটেও তিনি 'সুরি নোয়েল' নাম ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় পেজ সিক্স-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, বিখ্যাত বাবার সন্তান হিসেবে পাপারাত্জি ও সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত নজরদারি এড়াতে এবং নিজের আলাদা একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতেই সুরি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের আগে তিনি নিজের মতো করে পথচলা শুরু করতে চেয়েছিলেন। ২০০৬ সালের এপ্রিলে জন্মগ্রহণ করেন সুরি। একই বছরের নভেম্বরে বেশ জমকালো আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন টম ক্রুজ ও কেটি হোমস। তবে সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১২ সালের আগস্টে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর থেকে সুরি তার মা কেটি হোমসের কাছেই বড় হয়েছেন। টম ক্রুজ সায়েন্টোলজি ধর্মীয় বিশ্বাসের একজন কট্টর অনুসারী। বিচ্ছেদের পর থেকে সুরির শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় জুড়েই বাবার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। বর্তমানে থিয়েটার ও অভিনয় জগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ছেন সুরি। হাই স্কুলে পড়ার সময় 'দ্য অ্যাডামস ফ্যামিলি: এ নিউ মিউজিক্যাল'-এ মরটিশিয়া অ্যাডামস চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বেশ প্রশংসা কুড়ান। বর্তমানে তিনি কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা স্কুলে মিউজিক্যাল থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করছেন। সম্প্রতি তিনি পিটসবার্গের নিউ হ্যাজলেট থিয়েটারে 'কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড' নামক এক রাতের একটি নাটকে 'অ্যাঞ্জেল' চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া, কার্নেগি মেলনের সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের 'এ মিডসামার নাইট'স ড্রিম'-এর আধুনিক রূপান্তর 'মিডসামার!'-এ অভিনয় করছেন তিনি। আগামী মাসে স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত ‘২০২৬ এডিনবরা ফেস্টিভ্যাল ফ্রিঞ্জ’-এ নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে। আইনিভাবে বাবার নাম বাদ দেওয়া ও যোগাযোগের দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে টম ক্রুজ কিংবা কেটি হোমসের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব চলাকালে ভিড়ের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবদুল বি. পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামি চরমপন্থার সম্ভাব্য যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্লিনের প্রাইড অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ভ্যান মানুষের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থামাতে গুলি চালায় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে বার্লিনের বড় এলজিবিটি+ উৎসব প্রাইড উদযাপনের সময়। গাড়িটি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার পর উৎসবস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমাগমস্থলে যানবাহন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে দেশটিতে বিভিন্ন হামলার পর বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বার্লিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর উৎসবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পাঁচটি দেশ প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইইউর বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে সাময়িকভাবে ইউরোপের বাইরে কোনো দেশে রাখা হতে পারে। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশনকে ভিত্তি করে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সদস্যদেশগুলো ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব স্থাপন করতে পারবে। সম্ভাব্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে গ্রিস। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে রিটার্ন হাব চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের এসব রিটার্ন হাবে রাখা হতে পারে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের এই উদ্যোগ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও প্রস্তাবটি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা শুধু বাংলাদেশিদের জন্য নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর লক্ষ্য হলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করা। বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে এক কর্মকর্তা জানান, ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। নতুন রেগুলেশন কার্যকর হলে নতুন আশ্রয় আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে এবং বাতিল হওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর যুক্তি হলো, বর্তমানে যেসব অভিবাসীর বহিষ্কার বা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়, তাদের বড় একটি অংশকে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে অবস্থান করেন, যা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তবে রিটার্ন হাব পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, আপিলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ এবং ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এই নীতির অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তার নির্যাতন বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি। ২০২৫ সালে ইইউতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন। নতুন রিটার্ন হাব ব্যবস্থা কার্যকর হলে ইউরোপে থাকা প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইউরোপীয় আইন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ওপর।