লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে আরও স্থায়ী ও কার্যকর রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও শনিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও তার সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই সফর কেবল যুদ্ধবিরতি রক্ষার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরুরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নৌপথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে স্টিভ উইটকফের সফর সম্পর্কে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।
রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা না চালালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সামরিক অভিযান চালানো হবে না। তবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেও কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু লেবানন সংকট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট, ভিসা ও অ্যাটেস্টেশন পরিষেবা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের কারণে আগামী ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকবে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার পরিষেবা একটি নতুন আউটসোর্সড প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত আবেদন ও সেবা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। তবে এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন হলে ভারতীয় নাগরিকরা সরাসরি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। নতুন ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে দায়িত্বে থাকা বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল এবং এসজিআইভিএস গ্লোবাল আগামী ২৫ জুনের পর আর কোনো নতুন আবেদন গ্রহণ করবে না। আবুধাবিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শুক্রবার এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আল হিন্দ ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেল এলএলসি সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে আউটসোর্সড পাসপোর্ট, ভিসা ও অ্যাটেস্টেশন পরিষেবা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত পরিকল্পনা নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতায় ফেরাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক শেষে বিমানে কলকাতা ফেরার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের বাইরে আগে থেকেই দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার Om Birla-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে কলকাতায় ফিরছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিমান অবতরণের কিছুক্ষণ আগেই বিমানবন্দরের প্রবেশপথের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘিরে বিজেপি সমর্থকদের একটি দল বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হন। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূল গেটের পরিবর্তে অন্য একটি পথ দিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করানো হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির দাবি, তাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, নির্বাচন এবং জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রায়ই দেখা যায়। কলকাতা বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই রাজনৈতিক উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরের বাইরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলেও পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) বিল পুল্টে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন আগেই অফিসে হাজির হয়ে কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই) থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পুল্টের আকস্মিক উপস্থিতি ওডিএনআই কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে। এমনকি বিদায়ী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও তার এই সফর সম্পর্কে অল্প সময় আগে অবহিত হন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, পুল্টে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুল্টে আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি ব্রিফিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ (পিডিবি) বাসায় নেওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পিডিবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সংকলন। একই ব্রিফিংয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর, টপ-সিক্রেট অনুমোদন এবং সরকারি বিমান ব্যবহারের সুযোগ সম্পর্কেও জানতে চান বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সরবরাহ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পুল্টে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম চেয়েছিলেন এবং সরকারি বিমানের সুবিধা নিয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা ও শিকাগোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩৮ বছর বয়সী বিল পুল্টে এর আগে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির দায়িত্ব পাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তার যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুল্টে নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করতে আগ্রহী। এদিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান পদে ট্রাম্পের স্থায়ী মনোনীত প্রার্থী জে ক্লেটনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় পুল্টে প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।