বিশ্বজুড়ে পরিচালিত মার্কিন জৈব গবেষণাগারগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচির আড়ালে আক্রমণাত্মক জীবাণু অস্ত্র গবেষণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক স্কট রিটার। রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ক্ষতিকর রোগজীবাণু নিয়ে পরিচালিত কিছু গবেষণা বাস্তবে সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য সক্ষমতা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে স্কট রিটার তার দাবির পক্ষে নতুন কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। রিটার বলেন, প্রতিরক্ষামূলক গবেষণার জন্য ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যেও প্রয়োগ করা সম্ভব। তার মতে, এ কারণেই এ ধরনের গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
এদিকে রাশিয়ার রেডিয়েশন, কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্স ট্রুপসের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেক্সি রতিশচেভ সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনে পরিচালিত কয়েকটি গবেষণাগারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত কিছু প্রকল্পে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স, টুলারেমিয়া, মারবার্গ এবং ইবোলা ভাইরাসের মতো বিপজ্জনক রোগজীবাণু নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।
রাশিয়ার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কার্যক্রম জৈব ও টক্সিন অস্ত্র কনভেনশনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গবেষণাগুলো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং মহামারি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে কোভিড-১৯ মহামারীর উৎস নিয়ে বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির ভিত্তিতে দাবি করেছেন, মহামারির উৎস-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তিনি সাবেক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. অ্যান্থনি ফাউচির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
গ্যাবার্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে করোনাভাইরাস-সম্পর্কিত কিছু গবেষণায় মার্কিন অর্থায়ন গিয়েছিল। তবে ফাউচি অতীতে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে কোনো নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণা পরিচালিত হয়নি।
কোভিড-১৯-এর উৎপত্তি নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিছু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ল্যাব-লিক তত্ত্বকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করলেও, অন্য সংস্থাগুলো প্রাকৃতিক উৎসের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আরও তথ্য বিনিময়, স্বচ্ছতা এবং স্বাধীন গবেষণার ওপর জোর দিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবাণু অস্ত্র, বায়োল্যাব এবং কোভিড-১৯-এর উৎস নিয়ে চলমান বিতর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত, নিরপেক্ষ যাচাই এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
সূত্র: তাস
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতের নীতিনির্ধারক মহলে। চীনের এই প্রকল্পটি মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প নামে পরিচিত, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসইউএমপি প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি। তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যেখানে ভারতের এসইউএমপি এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজান থেকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি মোকাবিলা করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। ফলে প্রকল্পটি অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার (২০ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। পরে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেওয়া হয় স্টিভ উইটকফকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও সম্ভাব্য এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে বৈঠকটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথের একটি বড় বাধা দূর হয়েছে। এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলমান থাকায় তেহরান আলোচনায় অনাগ্রহ দেখায়। ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির খবর সামনে আসার পরই স্টিভ উইটকফের সুইজারল্যান্ড সফরের তথ্য প্রকাশ পায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা নতুন করে জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা করতেই সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন উইটকফ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউস জানায়, জেডি ভ্যান্স আপাতত আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না। তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ সমঝোতার বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনার চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে বলে তারা আশাবাদী। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, বার্গেনস্টক রিসোর্টে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে চলমান সংঘাত এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশে প্রায় ১২ কোটি বছর আগের এক নতুন পালকযুক্ত ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীদের মতে, জীবাশ্মটি অত্যন্ত ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ডাইনোসর থেকে আধুনিক পাখির বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য দিতে পারে। চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে প্রাণিবিজ্ঞান ও জীবাশ্মবিষয়ক গবেষণার স্বীকৃত সাময়িকী ভার্টিব্রাটা প্যালএশিয়াটিকা-তে। সেখানে বলা হয়েছে, নতুন আবিষ্কৃত এই ডাইনোসরটি পেনার্যাপটোরান গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যাদের আধুনিক পাখির ঘনিষ্ঠ পূর্বপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবাশ্মটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর শরীরের বিভিন্ন অংশে পালকের স্পষ্ট ছাপ পাওয়া গেছে। কঙ্কালের চারপাশে সংরক্ষিত পালকের চিহ্ন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, ডাইনোসরটির পায়ে বড় আকারের পালক, সামনের অঙ্গে ডানার মতো পালক এবং লেজে দীর্ঘ পাখার আকৃতির পালক ছিল। এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় আগে কোনো পরিচিত ডাইনোসরের ক্ষেত্রে একসঙ্গে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত একমাত্র ডাইনোসর, যার শরীরে একই সঙ্গে এত বিস্তৃত পালক বিন্যাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ডাইনোসরটির লেজে অন্তত ১৬টি বড় পালক ছিল। এসব পালক ছড়িয়ে পড়লে তা অনেকটা ময়ূরের পেখমের মতো আকৃতি ধারণ করত। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই পালকগুলো শুধু উড্ডয়ন বা ভারসাম্য রক্ষার জন্য নয়, বরং সঙ্গী আকর্ষণ বা অন্যান্য আচরণগত উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে। নতুন প্রজাতিটি ড্রোমিওসরিড পরিবারভুক্ত। এই পরিবারে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত কিছু ডাইনোসর রয়েছে, যার মধ্যে ভেলোসির্যাপ্টর এবং মাইক্রোর্যাপ্টরের মতো প্রজাতিও অন্তর্ভুক্ত। ড্রোমিওসরিডদের সাধারণত দ্রুতগামী ও শিকারি স্বভাবের ডাইনোসর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিয়াওনিং অঞ্চল বহু বছর ধরেই ডাইনোসর গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার সূক্ষ্ম আগ্নেয় ছাই ও পলিমাটির স্তরে বহু জীবাশ্ম অসাধারণভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে পালক, চামড়া এবং নরম টিস্যুর মতো সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যও অনেক ক্ষেত্রে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন এই আবিষ্কার ডাইনোসর ও আধুনিক পাখির মধ্যকার বিবর্তনীয় সম্পর্ক নিয়ে চলমান গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বিশেষ করে কীভাবে পালক প্রথম বিকশিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা উড্ডয়নের উপযোগী কাঠামোয় রূপ নিয়েছে, সে বিষয়ে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে পালকযুক্ত ডাইনোসরের একাধিক জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ক্রমেই এই ধারণাকে শক্তিশালী করেছে যে, আধুনিক পাখি আসলে ডাইনোসরেরই উত্তরসূরি। গবেষকরা এখন নতুন জীবাশ্মটির আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যৎ গবেষণার মাধ্যমে ডাইনোসরটির জীবনযাপন, চলাফেরা এবং পালকের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।