ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা, ‘নতুন বন্ধু’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভূমিকম্প দুটিকে “অত্যন্ত শক্তিশালী” হিসেবে বর্ণনা করে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ২০টির বেশি পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্যে ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসেবে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্য খুব আশাব্যঞ্জক নয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কারাবন্দি রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ শুধু মানবিক সংকটই নয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উদ্ধার তৎপরতা, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই এখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreসান ফ্রান্সিসকোর রেন্টের বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে শহরটির দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে একটি ভাড়া তালিকাভুক্তি প্ল্যাটফর্মের তথ্যে উঠে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবাসন বাজার বিশ্লেষকেরা, কারণ সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্ট এই হিসাবের আওতায় নেই। সাম্প্রতিক এই হিসাব অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকোর বর্তমান রেন্টের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের রেন্ট দ্রুত বাড়ায় পরিবার ও একাধিক কক্ষের বাসা খোঁজা ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তবে ৬ হাজার ডলারের মধ্যম রেন্টের হিসাবটি মূলত বর্তমানে বাজারে থাকা তুলনামূলক দামি ও পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের তালিকার ওপর নির্ভর করছে। পুরোনো ভবনের অনেক অ্যাপার্টমেন্ট এবং ছোট মালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা তুলনামূলক কম রেন্টের ইউনিট এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। অন্যদিকে অ্যাপার্টমেন্ট লিস্টের মতো ভিন্ন পদ্ধতিতে বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট প্রায় ৪ হাজার ৪০০ ডলারের কাছাকাছি। অর্থাৎ কোন তথ্যসূত্র ও কোন ধরনের ইউনিট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর রেন্টের হিসাব উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে। সান ফ্রান্সিসকোর স্থানীয় আবাসন পরিস্থিতিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল। শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসিন্দা ভাড়ায় থাকেন। ২০২৬ সালের স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম রেন্ট প্রায় ৩ হাজার ৫৬১ ডলার এবং দুই থেকে তিন বেডরুমের ইউনিটের রেন্ট অনেক ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি। শহরের আবাসন সংকটের কারণে অনেক বাসিন্দাকে আয়ের বড় অংশ রেন্টের পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর প্রায় ৩৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া পরিবার তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি রেন্ট ও ইউটিলিটিতে ব্যয় করছিল। রেন্টের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে না, আশপাশের শহরগুলোর রেন্টের বাজারেও প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান ফ্রান্সিসকোর বাইরে ওকল্যান্ডেও রেন্ট দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে কর্মসংস্থানের চাহিদা বাড়ায় বে এরিয়ার আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সান ফ্রান্সিসকোতে তুলনামূলক কম রেন্টের কিছু ইউনিট এখনো রয়েছে। শহরের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি ও সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও বাজারদরের তুলনায় অনেক কম রেন্টের সুযোগ পাওয়া যায়। আবাসন সংকটের কারণে শহরটিতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ানোর দাবি রয়েছে। স্থানীয় সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা পূরণে বছরে প্রায় ৫ হাজার নতুন ইউনিট নির্মাণ প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউনিট নির্মাণ করেছে।
সৌদি স্থাপনায় ড্রোন হামলা, দায় স্বীকার হুথিদের
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫
পর্তুগালে ‘অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়’, ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনর তিন বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে দেশের রানি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি ছিল প্যারাশুট প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের জুনে মুরসিয়ার আলকান্তারিয়া বিমানঘাঁটির মেন্দেজ পারাদা মিলিটারি প্যারাশুট স্কুলে বেসিক প্যারাশুট কোর্স শেষ করেন লিওনর। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে একাধিক প্যারাশুট জাম্প করেন। এর মধ্যে রাতের জাম্পও ছিল। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ‘কাজাদোর পারাকাইদিস্তা’ বা প্যারাশুট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যের ব্যাজ পান। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে মুরসিয়ার সান হাভিয়েরের জেনারেল এয়ার অ্যান্ড স্পেস অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণের তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করেন লিওনর। সেখানে বিমান চালনার প্রশিক্ষণও নেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি প্রথমবার এককভাবে একটি পিলাটাস পিসি-২১ প্রশিক্ষণ বিমান উড়ান। ২০২৬ সালের জুনে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাবার সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটেও অংশ নেন তিনি। স্পেনের রাজপরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক প্রশিক্ষণের পুরো প্রক্রিয়ায় লিওনরকে তিন বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের সামরিক দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে পরিচিত করা হয়েছে। তবে সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হলেও লিওনরের প্রস্তুতি এখানেই শেষ হচ্ছে না। স্পেনের রাজপরিবার জানিয়েছে, সামরিক ক্যারিয়ারের পর তিনি মাদ্রিদের কার্লোস থ্রি ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করবেন। চার বছরের এই ডিগ্রিতে রাজনীতি, আইন, অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে। ভবিষ্যতে স্পেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে লিওনরের। ২০২৭ সালের জুলাইয়ে তিনি স্পেনের সেনাবাহিনী ও এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সে লেফটেন্যান্ট এবং নৌবাহিনীতে নেভাল এনসাইন হিসেবে কমিশন পাওয়ার কথা রয়েছে। লিওনরের সামরিক প্রশিক্ষণকে স্পেনের রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সিংহাসনে বসলে প্রায় দেড়শ বছর পর স্পেনে আবার একজন নারী শাসক হিসেবে রাজত্ব করবেন।
হামলায় স্ত্রী ও ৬ সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবার ১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন সেই বাবা
কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, প্রিপেইড কার্ডে মিলবে এলাউন্স
জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া, পোশাকে ইসরায়েলের প্রতীক! ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিতেও সক্রিয়
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
সিটবেল্ট না বাঁধায় এক শিশুর কারণে বাতিল পুরো ফ্লাইট, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী
ইরান যুদ্ধে কমেছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, রাশিয়া-চীনের সম্ভাব্য সুযোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ