মিস্টারবিস্টের উদ্যোগ, ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারকারা
বিশ্বখ্যাত ইউটিউবার মিস্টারবিস্ট এবং বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমসসহ কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তি ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ শিশুর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা ও তাদের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পরিবারের ওপর থাকা আর্থিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিস্টারবিস্ট, যার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন, অনলাইন দুনিয়ায় মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। এর আগে তিনি অসহায় মানুষকে সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন।
লেব্রন জেমসও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষা, শিশু কল্যাণ এবং কমিউনিটি উন্নয়নে তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।
এই নতুন উদ্যোগে আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও যুক্ত হয়েছেন। তাদের লক্ষ্য হলো ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্যানসারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হতে পারে। এ ধরনের সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের সাহস জোগানো এবং তাদের পাশে পুরো সমাজকে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরানকে চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই সরবরাহের পরিমাণ, সময়সূচি এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সাধারণত সেনাদের দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু উচ্চতায় উড়তে সক্ষম বিমান প্রতিহত করতে এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে নানা বাধার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন অস্ত্র সরবরাহ হলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চীন বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো গোপনীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
মিস্টারবিস্টের উদ্যোগ, ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ শিশুর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারকারা
কাগজের বাক্স থেকে পাঁচ নবজাতকের দেহাবশেষ উদ্ধার, তদন্ত শুরু
কাশ্মিরে পাকিস্তানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযান, নিহত ২০
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। কম্পনের পর কুমামোতোসহ কয়েকটি এলাকায় মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাপানের কিউশু অঞ্চলের কাছে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে কিছু এলাকায় ভবন কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সমুদ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা ও সতর্কবার্তা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সমুদ্রের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটির অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও শক্তিশালী কম্পনের পর নিয়মিতভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আফটারশকের আশঙ্কায় মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জাপানে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর দেশটির দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নরেন্দ্র মোদির পোস্ট ব্লক করায় মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করল ভারত সরকার, ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মেলেনি ছাড়
অক্সফোর্ডের ভুয়া ডিগ্রি ও জাল সনদে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এ ১৩ চাকরি, চার বছরের কারাদণ্ড ব্রিটিশ-বাংলাদেশির
প্রতি ৩ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ জনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিপক্ষে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দিনের আলোয় ছুরি হামলায় তিন নারী আহত হয়েছেন। সোমবার শহরের পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকায় দুইটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। হামলায় আহত নারীদের বয়স ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর; তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হলেও প্রাণসংকটের বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, হামলার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিরোধ করেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুই হাতে বড় ছুরি নিয়ে এক নারীকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে আরও বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই ব্যক্তি “আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন” বলে চিৎকার করেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেছেন, আটক ব্যক্তির বক্তব্য ছিল “অসংলগ্ন” এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফরাসি জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রসিকিউটর দপ্তর ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তের আওতায় নেওয়া হবে কি না, তা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত
২৭ বছর পর ভারতকে ইসরায়েলের গোপন সহযোগিতার তথ্য ফাঁস!