জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া, পোশাকে ইসরায়েলের প্রতীক! ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিতেও সক্রিয়
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও আদর্শিক নেতা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া ফারুক যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৫ সালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সোফিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করার’ রাজনৈতিক ধারার সমর্থক হিসেবেও পরিচিত।
সোফিয়ার পারিবারিক পরিচয়ও তাকে ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ। তিনি মওদূদী পরিবারের উত্তরসূরি। তবে তার বাবা সাইয়্যেদ হায়দার ফারুক মওদূদী, এই দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশ্য সূত্রে তার বাবার নাম সাইয়্যেদ আহমদ ফারুক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের মার্চে কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনে সোফিয়া ফারুক, মেরি ক্ল্যারিস হ্যাথাওয়ে ও ড. ফান ফং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের আগে কাব কাউন্টি রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলি সোফিয়া ও তার প্যানেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়। সংগঠনটি তার রাজনৈতিক কাজ, রিপাবলিকান পার্টির জন্য মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে।
সোফিয়ার রাজনৈতিক অবস্থানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইসরায়েল প্রশ্নে তার প্রকাশ্য অবস্থান। কাব কাউন্টি রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক প্রার্থী ফোরামে সোফিয়া স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানান এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করার কথা বলেন। সংগঠনটি আরও জানায়, তিনি হামাসের নিন্দা করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ থেকে আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অধিকার রয়েছে বলে মত দিয়েছেন।
সোফিয়ার প্রকাশিত ছবিতেও তার পোশাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকার প্রতীকযুক্ত ল্যাপেল পিন দেখা যায়। এ কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ছবিতে থাকা প্রতীক দেখে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো দাবি করা ঠিক হবে না।
২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারে সোফিয়ার মুসলিম পারিবারিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কাব কাউন্টি রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলি জানায়, সোফিয়া নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে সংগঠনটি তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে আক্রমণের সমালোচনা করে এবং জানায়, সোফিয়া হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করেছেন।
শেষ পর্যন্ত কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী হন মেরি ক্ল্যারিস হ্যাথাওয়ে। সোফিয়া ফারুক জয় না পেলেও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জর্জিয়ার স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিতে তার পরিচিতি আরও বাড়ে। বর্তমানে কাব কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্বসংক্রান্ত প্রকাশ্য তালিকায় সোফিয়ার নাম হাউস ডিস্ট্রিক্ট ৪১-এর চেয়ার হিসেবে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনাইজেরিয়ার কানোর গণবিয়েতে নতুন করে সংসার শুরু করলেন হারুনা বশির। চলতি বছরের শুরুতে এক ভয়াবহ হামলায় স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর কয়েক মাস পর ৮ আগস্ট আয়োজিত এই গণবিয়েতে তিনি আবার বিয়ে করেছেন। একই অনুষ্ঠানে মোট ১,৫০০ দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কানো রাজ্যের গভর্নর আব্বা কবির ইউসুফের উদ্যোগে শুক্রবার ও শনিবার এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধবা, তরুণী ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা নারীদের বিয়েতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে। বশিরের জন্য অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভয়াবহ পারিবারিক ক্ষতির পর নতুন করে জীবন শুরু করার একটি সুযোগ। কানো স্টেট হিসবাহ বোর্ডের কমান্ডার জেনারেল শেখ আমিনু ইব্রাহিম দাউরাওয়া জানান, ঘটনার পর বশির দীর্ঘ সময় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতেন না। তবে নতুন এই বিয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। গণবিয়েতে অংশ নেওয়া সব দম্পতির জন্য আগে স্ক্রিনিং ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে ধর্মীয় ও আইনি প্রয়োজনীয়তাও সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক কনে ২ লাখ নাইরা বা প্রায় ১৪৫ ডলার দেনমোহর হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য দেওয়া হচ্ছে অর্থসহায়তা। নবদম্পতিদের বিছানা, ম্যাট্রেস, কম্বল, বেডশিট ও রাগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। কানো রাজ্য সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের ৪৪টি স্থানীয় সরকার এলাকাতেও একই সময়ে গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। গভর্নর ইউসুফ এই উদ্যোগকে সামাজিক সহায়তার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বিয়ের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দুর্বল ও সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কানো নাইজেরিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যগুলোর একটি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি সংস্কৃতির কেন্দ্র। সেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও তরুণীদের সহায়তায় গণবিয়ের আয়োজন নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় এ ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের জন্য বিয়ের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে কানো সরকারের গণবিয়ের কর্মসূচিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিয়ের খরচ কমানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। হারুনা বশিরের জন্য অবশ্য এই আয়োজনের অর্থ আরও ব্যক্তিগত। স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর গভীর শোকের পর নতুন জীবন শুরু করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, ১,৫০০ দম্পতির এই গণবিয়ে তাঁর জীবনে হয়ে উঠেছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
কানেকটিকাটে স্ন্যাপ সুবিধা হারানো পরিবারকে ৩০০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, প্রিপেইড কার্ডে মিলবে এলাউন্স
জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীর নাতনি সোফিয়া, পোশাকে ইসরায়েলের প্রতীক! ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিতেও সক্রিয়
আড়ালে থাকার পর প্রথমবার ভিডিওতে দেখা গেল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে
কানাডায় উড্ডয়নের ঠিক আগে এক শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে শিশুটিকে সিটবেল্ট পরানো সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেদিন পোর্টার এয়ারলাইন্সের পিডি৪৪৪ ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যাওয়ার পর কেবিন ক্রুরা দেখতে পান, এক শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী উড্ডয়নের সময় প্রত্যেক যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির বাবা-মা এবং কেবিন ক্রুরা তাকে সিটবেল্ট পরানোর একাধিক চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপদ অবস্থায় না থাকায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। তাই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে বিমান থেকে নামানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টার বেশি বেজে যায়। ওই সময়ের পর ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল না। ফলে যাত্রীদের রাতটি ভিক্টোরিয়াতেই কাটাতে হয়। পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে একই ফ্লাইট আবার যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত গন্তব্য টরন্টোতে পৌঁছে। ঘটনার পর যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পোর্টার এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়নের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি এমন প্রথম ঘটনা নয়। গত মাসেও সুইডেনগামী একটি ফ্লাইটে এক শিশুকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট পরানো না যাওয়ায় উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছিল। সেই ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হতে পারে। তবে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সিটবেল্ট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী, বিশেষ করে শিশু, নিরাপদ অবস্থানে না থাকলে বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না।
ইরান যুদ্ধে কমেছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, রাশিয়া-চীনের সম্ভাব্য সুযোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
পড়াশোনার খরচ জোগাতে ২৮ লাখ মানুষের কাছে মাত্র ১ সেন্ট করে চাইলেন, শেষ পর্যন্ত উঠল প্রায় ৩৫ লাখ টাকা!
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। যুক্তরাজ্যের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া গবেষকরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র তিন বছর পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের জন্য আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। তবে শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে এবং তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে। এই পথে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং সেটির মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বড় সুবিধাগুলোর একটি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট একটি চাকরির সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে কিংবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে। স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটান, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না। তবে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণসহ প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা শুধু যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগ নয়, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোকা-কোলার কাস্টম ক্যান নিয়ে বিতর্ক: ‘ঈশ্বরই প্রভু’ লিখা নিষিদ্ধ অথচ ‘শিশুকামী প্রাইড' লিখায় মিলল অনুমতি
ইহুদিদের উদ্বেগ স্বত্তেও, ইজরায়েল বিরোধী চরমপন্থীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে আগ্রহী এল-সায়েদ