বিশ্ব

আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২০:৫০
আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ কিনেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে কেনা স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি দেশটির কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের তীরে অবস্থিত। দুর্গটির সঙ্গে প্রায় ৪৪০ একর জমিও রয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার জাকারবার্গের এক মুখপাত্র তাঁর দুর্গ কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্গটি মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

 

স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তিনতলা একটি ঐতিহাসিক ভবন। দুর্গটির বর্তমান কাঠামো প্রায় ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের দিকে তাকিয়ে থাকা একটি উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে দুর্গটিতে ব্যাপক সংস্কার করা হয় বলে আয়ারল্যান্ডের সরকারি স্থাপত্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দুর্গটির নকশা করেন স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইন।

 

দুর্গটির সঠিক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্পত্তি মূল্য নিবন্ধনেও এর দাম দেখা যাচ্ছে না। তবে দ্য আইরিশ টাইমস প্রথম জাকারবার্গের কেনার খবর প্রকাশ করে এবং তাদের হিসাবে সম্পত্তিটির মূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে।

 

জাকারবার্গের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির দেখভাল চালিয়ে যেতে এবং আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে হওয়ায় দেশটির সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগও দীর্ঘদিনের।

 

তবে এই দুর্গকে জাকারবার্গ পরিবারের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করবেন এবং আয়ারল্যান্ডে গেলে এই ঐতিহাসিক বাড়িটিকে অবস্থানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করবেন।

 

স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বর্তমান দুর্গটি ১৯ শতকে নির্মিত হলেও একই এলাকায় এর চেয়েও পুরোনো একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। নতুন স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি জন কিলির জন্য নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, কিলি ক্লনমেলের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ওয়াটারফোর্ড কাউন্টির উচ্চ শেরিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

গত দুই দশকে দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার করেন আগের মালিক মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কাছ থেকেই জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান সম্পত্তিটি কিনেছেন বলে একাধিক আইরিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

 

দুর্গটির অবস্থানও বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকায় নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয় ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটি ক্যাপোকুইন ও লিসমোর শহরের কাছাকাছি এবং নদী ও আশপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত।

 

আয়ারল্যান্ডে জাকারবার্গের এই সম্পত্তি কেনার পেছনে দেশটির সঙ্গে মেটার দীর্ঘ ব্যবসায়িক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মেটার আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মী রয়েছে। ডাবলিনে রয়েছে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর। এছাড়া কর্কে মেটার ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি কার্যক্রম এবং ডাবলিনের বাইরে একটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে।

 

আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলনামূলক অনুকূল করব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুবিধার কারণে দেশটিতে বহু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। মেটাও এর ব্যতিক্রম নয়।

 

জাকারবার্গের নতুন এই সম্পত্তি কেনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বড় আকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ড ও ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধনী বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

 

তবে জাকারবার্গের জন্য এটি শুধু আরেকটি বিলাসবহুল সম্পত্তি নয়, বরং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই দুর্গ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মালিকানায়। জাকারবার্গের পরিবার ভবিষ্যতে কীভাবে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল, সম্প্রতি এটি কিনেছেন মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
আয়ারল্যান্ডে ১৯ শতকের দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ, মূল্য হতে পারে ৩০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত

আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ কিনেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে কেনা স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি দেশটির কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের তীরে অবস্থিত। দুর্গটির সঙ্গে প্রায় ৪৪০ একর জমিও রয়েছে।   বৃহস্পতিবার জাকারবার্গের এক মুখপাত্র তাঁর দুর্গ কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্গটি মেটার ইউরোপীয় সদর দপ্তর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।   স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসল গথিক পুনরুজ্জীবন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত তিনতলা একটি ঐতিহাসিক ভবন। দুর্গটির বর্তমান কাঠামো প্রায় ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি রিভার ব্ল্যাকওয়াটারের দিকে তাকিয়ে থাকা একটি উঁচু জায়গায় অবস্থিত। ২০০৩ সালে দুর্গটিতে ব্যাপক সংস্কার করা হয় বলে আয়ারল্যান্ডের সরকারি স্থাপত্য নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দুর্গটির নকশা করেন স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইন।   দুর্গটির সঠিক ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের সরকারি সম্পত্তি মূল্য নিবন্ধনেও এর দাম দেখা যাচ্ছে না। তবে দ্য আইরিশ টাইমস প্রথম জাকারবার্গের কেনার খবর প্রকাশ করে এবং তাদের হিসাবে সম্পত্তিটির মূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে হতে পারে।   জাকারবার্গের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির দেখভাল চালিয়ে যেতে এবং আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে হওয়ায় দেশটির সঙ্গে জাকারবার্গের ব্যবসায়িক যোগাযোগও দীর্ঘদিনের।   তবে এই দুর্গকে জাকারবার্গ পরিবারের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করবেন এবং আয়ারল্যান্ডে গেলে এই ঐতিহাসিক বাড়িটিকে অবস্থানের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করবেন।   স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বর্তমান দুর্গটি ১৯ শতকে নির্মিত হলেও একই এলাকায় এর চেয়েও পুরোনো একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। নতুন স্ট্র্যাঙ্কালি ক্যাসলটি জন কিলির জন্য নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, কিলি ক্লনমেলের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ওয়াটারফোর্ড কাউন্টির উচ্চ শেরিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।   গত দুই দশকে দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার করেন আগের মালিক মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কাছ থেকেই জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান সম্পত্তিটি কিনেছেন বলে একাধিক আইরিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   দুর্গটির অবস্থানও বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকায় নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয় ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটি ক্যাপোকুইন ও লিসমোর শহরের কাছাকাছি এবং নদী ও আশপাশের সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এলাকাটি ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত।   আয়ারল্যান্ডে জাকারবার্গের এই সম্পত্তি কেনার পেছনে দেশটির সঙ্গে মেটার দীর্ঘ ব্যবসায়িক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মেটার আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মী রয়েছে। ডাবলিনে রয়েছে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর। এছাড়া কর্কে মেটার ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি কার্যক্রম এবং ডাবলিনের বাইরে একটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে।   আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তুলনামূলক অনুকূল করব্যবস্থা এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুবিধার কারণে দেশটিতে বহু মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় সদর দপ্তর রয়েছে। মেটাও এর ব্যতিক্রম নয়।   জাকারবার্গের নতুন এই সম্পত্তি কেনার খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বড় আকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আয়ারল্যান্ডের ওয়াটারফোর্ড ও ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকাতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধনী বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   তবে জাকারবার্গের জন্য এটি শুধু আরেকটি বিলাসবহুল সম্পত্তি নয়, বরং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই দুর্গ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মালিকানায়। জাকারবার্গের পরিবার ভবিষ্যতে কীভাবে ঐতিহাসিক সম্পত্তিটির ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২০:৫০
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!

১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!

স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

কানেকটিকাটের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী মেরিয়াম খান। ১১ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে কানেকটিকাটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হওয়ার মাইলফলক অর্জন করবেন তিনি।    প্রাইমারিতে মেরিয়াম খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরি পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এই ফলের মধ্য দিয়ে ম্যাকক্রোরিকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করেছেন খান।    দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের কিছু অংশ রয়েছে। ১১ আগস্টের প্রাইমারির আগে মেরিয়াম খানই ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। মে মাসের দলীয় কনভেনশনে তিন দফা ভোটের পর তিনি সেই সমর্থন নিশ্চিত করেন।    মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আবারও জয় পান।    স্টেট হাউসে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তাঁর আগে মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন সৌদ আনোয়ার। ফলে খান এবার সিনেটে জয়ী হলে মুসলিম নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।    রাজনীতিতে আসার আগে মেরিয়াম খান শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি স্টেট হাউসের তিনটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিশেষ শিক্ষা বিষয়ক নির্বাচিত কমিটির কো-চেয়ার। শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   প্রাইমারির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অগ্রগতি নয়, কানেকটিকাটের মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে রাজ্যের আইনসভায় তাঁর সম্ভাব্য উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের বিস্তারের দিকটিও সামনে আনছে।   তবে ইতিহাস গড়ার আগে মেরিয়াম খানের সামনে আরও একটি নির্বাচনী লড়াই বাকি। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলেই দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবেন। বর্তমানে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রার্থিতা সক্রিয় রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:২২
যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে

যুক্তরাজ্যই কি এবার ইলন মাস্কের টার্গেট? কিনতে কত খরচ হবে, জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি

নিজ দেশে গেলে হারাতে পারেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা

নিজ দেশে গেলে হারাতে পারেন কানাডার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা

৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন

৫০ বছরের পুরোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে বন্ধুর শেষ বিদায়ে লাঠি ছেড়ে কফিনের পাশে ৮৩ বছরের সাবেক মেরিন

ভূমিকম্পের সময় ১০ নবজাতককে উদ্ধারে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন কলম্বিয়ার চিকিৎসক জার্মান সোমোয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে ১০ শিশুকে বাঁচালেন, সেই চিকিৎসক পেলেন জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের নবজাতক বিভাগ থেকে ১০ শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে আলোচনায় আসা শিশু বিশেষজ্ঞ জার্মানিতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেড দে মেডিকোস হিস্পানোহাবলান্তেস এন আলেমানিয়া বা রেমা চিকিৎসক জার্মান আন্দ্রেস সোমোয়ারকে পেশাগতভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়। অ্যান্টিওকিয়া বিভাগের আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকানার ষষ্ঠ তলায় তখন নবজাতক বিভাগে ১০টি শিশু ছিল। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর চিকিৎসক সোমোয়ার অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে নিয়ে শিশুদের ভবন থেকে নিরাপদে বের করে আনেন।   সোমোয়ারের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রথমে রোগী ও স্বজনদের বের হওয়ার পথ দেখান। এরপর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নবজাতকদের কাছে ফিরে যান। দুই চিকিৎসক ও তিন নার্সের সহায়তায় তারা একে একে শিশুদের কোলে নিয়ে ভবন থেকে বের করে আনেন। উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে একজন ওই দিনই জন্মেছিল বলে সোমোয়ার জানিয়েছেন।   নবজাতকদের মধ্যে যাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, তাদের সবাইকে একইভাবে বের করা সম্ভব হয়নি। সোমোয়ার জানান, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা কিছু শিশুর দায়িত্ব একজন সহকর্মী সামলাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ওই সহকর্মী অন্য এক রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করছিলেন। অন্যদিকে, যারা নিজেরা নিরাপদে বের হতে পারছিল না, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার করা হয়।   ভূমিকম্পের পর সোমোয়ারের দুই নবজাতককে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দ্রুত কলম্বিয়ায় সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় আসে। অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস হুলিয়ান রেনদোনও তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সাহসিকতার জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।   সোমোয়ার মূলত কলম্বিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যা ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত পরিচয়ও অনলাইনে যাচাই করা যায়, যেখানে তার শিশু চিকিৎসায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং ওই হাসপাতালের সঙ্গে কাজের তথ্য রয়েছে।   ভূমিকম্পের সময় তার ভূমিকার খবর জার্মানিতে কর্মরত স্প্যানিশভাষী চিকিৎসকদের সংগঠন রেমার কাছেও পৌঁছে যায়। এরপর সংগঠনটি সোমোয়ারকে জার্মানিতে তার পেশাগত ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সনদ জার্মানিতে স্বীকৃত করার প্রক্রিয়া, শিশু চিকিৎসায় তার বিশেষায়িত যোগ্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে শিশু হৃদরোগ বিষয়ে আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণের পথে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে।   তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমা এখন পর্যন্ত তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ ও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এবং সোমোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে। সংগঠনটি বিদেশি চিকিৎসকদের জার্মানিতে সনদ স্বীকৃতি, ভাষা শিক্ষা, নথিপত্রের অনুবাদ এবং বিশেষায়ন বা চাকরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। তাই মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব খরচ ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   রেমার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসকদের পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সনদ স্বীকৃতি, চিকিৎসকদের জন্য জার্মান ভাষা শেখা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং হাসপাতাল খোঁজার মতো বিভিন্ন ধাপে সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনটির সঙ্গে জার্মানিতে বসবাস ও কর্মরত ৪৫ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত রয়েছেন এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষকে তারা প্রাথমিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।   সোমোয়ারের জন্য জার্মানিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত পেশাগত অর্জন নয়, বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে তার নেওয়া সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সেই উদ্ধার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে হাসপাতালের সবচেয়ে অসহায় রোগীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।   কলম্বিয়ায় ১০ আগস্টের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রেও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আপার্তাদোর ক্লিনিকা পানামেরিকায় সোমোয়ার ও তার সহকর্মীদের নবজাতক উদ্ধারের ঘটনা সেই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে।   সোমোয়ারের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তই রোগীর জীবন রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সিদ্ধান্তই এবার কলম্বিয়ার এই শিশু বিশেষজ্ঞের সামনে জার্মানিতে নতুন পেশাগত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ২১:৫৩
একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ দুই শিশুর বাবা আলাদা হওয়ার বিরল ঘটনা এটি। ছবি: সংগৃহীত

একই মায়ের যমজ সন্তান, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল দুই শিশুর বাবা দুইজন

যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

0 Comments