এআইয়ের পরামর্শ মেনে ২৫ একর জমির ফসল নষ্ট করলেন কৃষক
চীনের আনহুই প্রদেশের চুঝৌ এলাকার ৬৭ বছর বয়সী এক কৃষক এআই অ্যাপের দেওয়া ভুল কৃষি পরামর্শ মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৫০ মু বা ২৫ একর তিলের চারা হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে কৃষিকাজে অ্যাপটির পরামর্শ অনুসরণ করে আসার পর এক ভুল কীটনাশক ও আগাছানাশকের পরামর্শেই পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষকটি এক বছরের বেশি সময় ধরে সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৃষিকাজে এআই অ্যাপের পরামর্শ নিতেন। শুরুতে প্রযুক্তিটির দেওয়া তথ্য নিয়ে তার সংশয় থাকলেও একের পর এক পরামর্শ কাজে লাগায় ধীরে ধীরে অ্যাপটির ওপর তার আস্থা তৈরি হয়।
১০ জুলাই তিলের জমিতে আগাছা ও পোকামাকড় দমনের উপায় জানতে তিনি এআই অ্যাপের সাহায্য নেন। অ্যাপটি তাকে কয়েক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে জমিতে স্প্রে করার একটি পরিকল্পনা দেয়। সেই পরামর্শ অনুসারে তিনি পুরো ১৫০ মু জমিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করেন।
কিন্তু রাসায়নিক ছিটানোর পরদিনই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগাছার পাশাপাশি তিলের চারাগুলোও দ্রুত শুকিয়ে মরতে শুরু করে। কৃষকের ভাষ্য অনুযায়ী, চারাগুলো আগাছার চেয়েও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিষয়টির কারণ জানতে আবার এআই অ্যাপের সাহায্য নেন কৃষক। তখন অ্যাপটি জানায়, ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলোর একটি ফ্লুসালফামেট বা ফোমেসাফেন ধরনের আগাছানাশক মূলত সয়াবিনের জমিতে চওড়া পাতার আগাছা দমনে ব্যবহৃত হয়। তিলও চওড়া পাতার ফসল হওয়ায় সেটি পুরো জমিতে প্রয়োগ করা তিলের চারার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কৃষি কর্মকর্তারাও জানান, ওই রাসায়নিক তিলের জমিতে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এটি পুরো জমিতে ছিটানোর জন্যও উপযুক্ত নয়।
কৃষক জানিয়েছেন, রাসায়নিক ব্যবহারের আগে অ্যাপটি তাকে এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সতর্কতা দেয়নি। তবে অ্যাপের চ্যাট ইন্টারফেসে সাধারণভাবে উল্লেখ ছিল, এআইয়ের উত্তর ভুল হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাটি কৃষিকাজের মতো উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে এআইয়ের পরামর্শ সরাসরি অনুসরণ করার বিপদও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই তথ্য ও পরামর্শের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কৃষি রাসায়নিক, ওষুধ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তবে প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের একটি সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গত মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২২ আগস্ট। এটিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম সফল সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট হওয়ায় এই হামলায় দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামও প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কর্মীরা সিস্টেম পুনরায় চালু করতে কাজ করার পর প্রায় চার দিন পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার-কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ইরানকে যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দেশ্য রাষ্ট্রীয় হুমকির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে। সরকারের কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সফিস্টিকেটেড সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্ত এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-হামলাটি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না করলেও, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম চার দিন বন্ধ করে দিতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা
মুসলিম পরিচয় নিয়ে জেমিনির বিতর্কিত উত্তর, তীব্র সমালোচনার মুখে ইসলামবিদ্বেষী উত্তরের পরিবর্তন
কৃষ্ণাঙ্গ দম্পতির ঘরে নীল চোখ ও সোনালি চুলের শিশুর জন্ম, বিস্মিত চিকিৎসকরাও
চীনের আনহুই প্রদেশের চুঝৌ এলাকার ৬৭ বছর বয়সী এক কৃষক এআই অ্যাপের দেওয়া ভুল কৃষি পরামর্শ মেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৫০ মু বা ২৫ একর তিলের চারা হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে কৃষিকাজে অ্যাপটির পরামর্শ অনুসরণ করে আসার পর এক ভুল কীটনাশক ও আগাছানাশকের পরামর্শেই পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষকটি এক বছরের বেশি সময় ধরে সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবহারসহ বিভিন্ন কৃষিকাজে এআই অ্যাপের পরামর্শ নিতেন। শুরুতে প্রযুক্তিটির দেওয়া তথ্য নিয়ে তার সংশয় থাকলেও একের পর এক পরামর্শ কাজে লাগায় ধীরে ধীরে অ্যাপটির ওপর তার আস্থা তৈরি হয়। ১০ জুলাই তিলের জমিতে আগাছা ও পোকামাকড় দমনের উপায় জানতে তিনি এআই অ্যাপের সাহায্য নেন। অ্যাপটি তাকে কয়েক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করে জমিতে স্প্রে করার একটি পরিকল্পনা দেয়। সেই পরামর্শ অনুসারে তিনি পুরো ১৫০ মু জমিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করেন। কিন্তু রাসায়নিক ছিটানোর পরদিনই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগাছার পাশাপাশি তিলের চারাগুলোও দ্রুত শুকিয়ে মরতে শুরু করে। কৃষকের ভাষ্য অনুযায়ী, চারাগুলো আগাছার চেয়েও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টির কারণ জানতে আবার এআই অ্যাপের সাহায্য নেন কৃষক। তখন অ্যাপটি জানায়, ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলোর একটি ফ্লুসালফামেট বা ফোমেসাফেন ধরনের আগাছানাশক মূলত সয়াবিনের জমিতে চওড়া পাতার আগাছা দমনে ব্যবহৃত হয়। তিলও চওড়া পাতার ফসল হওয়ায় সেটি পুরো জমিতে প্রয়োগ করা তিলের চারার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কৃষি কর্মকর্তারাও জানান, ওই রাসায়নিক তিলের জমিতে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এটি পুরো জমিতে ছিটানোর জন্যও উপযুক্ত নয়। কৃষক জানিয়েছেন, রাসায়নিক ব্যবহারের আগে অ্যাপটি তাকে এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সতর্কতা দেয়নি। তবে অ্যাপের চ্যাট ইন্টারফেসে সাধারণভাবে উল্লেখ ছিল, এআইয়ের উত্তর ভুল হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি কৃষিকাজের মতো উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে এআইয়ের পরামর্শ সরাসরি অনুসরণ করার বিপদও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই তথ্য ও পরামর্শের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কৃষি রাসায়নিক, ওষুধ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তবে প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
নাতির ইসলাম গ্রহণ বদলে দিল দাদার মন, মৃত্যুশয্যায় ১০৫ বছরের শিখের ইসলাম গ্রহণ
ছেলের হাত বানানোর পর এবার অন্য শিশুর পাশে বাবা, ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি করলেন কৃত্রিম হাত
১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস
শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ থেকে সন্তানদের দূরে রেখে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শেখাতে চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যতিক্রমী ধরনের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে সন্তানদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে গ্রামের পরিবেশে কৃষিকাজ, কাঠ কাটা, পশুপাখির দেখাশোনা ও আলু খোঁড়ার মতো শারীরিক শ্রম করতে দেওয়া হচ্ছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান, গুইঝো ও ইউনান প্রদেশে এ ধরনের ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ছে। শহরের শিশুদের গ্রামীণ জীবন ও কৃষিকাজের সঙ্গে পরিচিত করানো এবং পরিবার যে আরাম-সুবিধা দিয়ে তাদের বড় করছে, তার মূল্য বোঝানোই এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে আয়োজকেরা দাবি করছেন। সাধারণ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের তুলনায় এসব কর্মসূচির ধরন বেশ কঠোর। শিশুদের ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর কৃষকদের দৈনন্দিন কাজের আদলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জমি থেকে আলু তোলা, সেই আলু বিক্রি করা, গাছের ছাল ছাড়ানো, কাঠ কাটা এবং গবাদিপশুকে খাবার দেওয়া। কিছু ক্যাম্পে শিশুদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও থাকে না। কাজের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিছু কর্মসূচিতে। এসব পয়েন্ট দিয়ে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সামগ্রী সংগ্রহ করা যায়। তবে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে শাস্তি হিসেবে শুধু সেদ্ধ আলু খেতে দেওয়া হয় এমন নিয়মের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই অভিজ্ঞতার জন্য বাবা-মাকেই উল্টো অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিছু ক্যাম্পে ১০ দিনের কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার ইউয়ানের বেশি নেওয়া হয়। এক মাস পর্যন্ত চলা দীর্ঘ কর্মসূচির খরচ ১০ হাজার ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সন্তানকে কৃষিকাজ ও কঠোর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা দিতে পরিবারগুলোকে কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজারেরও বেশি ইউয়ান খরচ করতে হচ্ছে। আয়োজকদের বক্তব্য, শহরের অনেক শিশু অর্থ উপার্জন কতটা কঠিন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে কতটা শ্রম রয়েছে, তা বাস্তবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাই তাদের সাময়িকভাবে এমন পরিবেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে খাবার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পেতেও শ্রম দিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে অবশ্য এসব ক্যাম্প নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে শিশুদের কান্না করতে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ কৃষিকাজের পরিবর্তে স্কুলের পড়াশোনায় ফিরে যেতে চাওয়ার কথাও বলেছে। কিছু কর্মসূচিতে সন্তানদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখতেও বলা হয়। ক্যাম্প পরিচালনাকারীদের দাবি, এসব চিঠি ও ভিডিও দেখে অনেক বাবা-মা আবেগাপ্লুত হন এবং অন্যদেরও সন্তানদের এমন অভিজ্ঞতার জন্য পাঠাতে উৎসাহিত করেন। তবে অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিভাবকদের মত এক নয়। সিচুয়ানের গাও পদবির এক বাবা তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েকে এমন একটি ক্যাম্পে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জানান, মেয়ে কৃষিকাজ নিয়ে বারবার অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত কাজটি উপভোগ করতে শুরু করে বলে তিনি অবাক হয়েছেন। অন্যদিকে, সাংহাইয়ের এক মা তার সাত বছর বয়সী মেয়েকে ১০ দিনের কর্মসূচিতে পাঠিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ক্যাম্প শেষে মেয়ের অলসতা ও খাবার নিয়ে বাছবিচারের মতো পুরোনো অভ্যাস পুরোপুরি বদলায়নি। তবে মেয়েটি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবন দেখার সুযোগ পেয়েছে এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন তিনি। অন্য কিছু অভিভাবক দাবি করেছেন, আগে যারা সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকত, ক্যাম্প থেকে ফিরে তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। আবার কেউ বলেছেন, ঘুম ও খাবারের পুরোনো অনিয়ম খুব দ্রুতই ফিরে এসেছে। ফলে এসব কর্মসূচি শিশুদের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এ নিয়েই এখন চীনে শিক্ষা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কঠোর শারীরিক শ্রম করানো আসলেই কি তাদের দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে? শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্প সময়ের জন্য কঠোর পরিবেশে রেখে শিশুদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। চাপের মধ্যে শিশুরা সাময়িকভাবে অনুগত বা অনুতপ্ত আচরণ করতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে স্থায়ী মানসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অতিরিক্ত শ্রমে যুক্ত করলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একটি শিশুকে জীবনের বাস্তবতা শেখানোর জন্য শ্রমের সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার মাত্রা, নিরাপত্তা এবং শিশুর সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রবণতার পেছনে চীনের প্রজন্মগত পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক আগে চীনের অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও কঠিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাদের পরিশ্রমী ও দৃঢ় করে তুলেছিল। এখন তাদের সন্তানরা তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবেশে বড় হওয়ায় একই ধরনের দৃঢ়তা তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে না—এমন উদ্বেগ থেকেই অনেক বাবা-মা সন্তানদের ‘কষ্টের অভিজ্ঞতা’ দিতে চাইছেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, সন্তানকে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করার দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে কোনো ক্যাম্পের হাতে তুলে দিলেই শেষ হয় না। পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, পরিশ্রমের মূল্য বোঝানো এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও শিশুর মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে চীনের এই নতুন ধরনের ‘কষ্টের ক্যাম্প’ একদিকে যেমন সন্তানদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত ও মানসিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। আপাতত এ নিয়ে অভিভাবক, আয়োজক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
চাঁদে শুধু নভোচারী নয়, সাধারণ মানুষও যেতে পারবে, ইলন মাস্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা