সিরিয়ায় আইএস-কে অর্থায়ন: প্যারিসের আদালতে দণ্ডিত ফরাসি সিমেন্ট জায়ান্ট লাফার্জ
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় কারখানা সচল রাখতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে ফরাসি সিমেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লাফার্জকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্যারিসের আদালত এই রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাফার্জ ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দুটি সংগঠনকেই সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
আদালত জানিয়েছেন, মূলত ব্যবসায়িক স্বার্থে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কারখানাটি সচল রাখতেই এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অর্থায়ন জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছে এবং তাদের হামলা পরিচালনায় সহায়তা করেছে।
এই মামলায় লাফার্জের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আটজন সাবেক কর্মী ও নির্বাহী কর্মকর্তাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাহী ব্রুনো লাফন্টকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটিকে ১০ লাখ ইউরোর বেশি জরিমানাও করা হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, সিরিয়ার জালাবিয়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি সচল রাখতে কর্মীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং কাঁচামাল সংগ্রহে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করা হয়। বিশেষ করে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে কাঁচামাল কেনা এবং কর্মীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যত জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে একটি ‘বাণিজ্যিক সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে লাফার্জের বিরুদ্ধে আলাদা তদন্ত এখনো চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক এক মামলায়ও লাফার্জ স্বীকার করেছিল যে, সিরিয়ায় তাদের কার্যক্রম চালাতে আইএস ও নুসরা ফ্রন্টকে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় মার্কিন আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করে।
২০১৫ সালে লাফার্জ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়। তবে সর্বশেষ এই রায়ের পর কোম্পানির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreজন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা। তবে সেই সীমাবদ্ধতা ব্রাজিলের ২৪ বছর বয়সী মারিয়া ভিটোরিয়া গোমেস দা সিলভার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। সহায়ক প্রযুক্তির সাহায্যে পড়াশোনা করে প্রথমবারেই আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি থেকে পেশাগত সনদও পেয়েছেন মারিয়া। তার এই অর্জন নতুন করে সামনে এনেছে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ এবং পেশাগত জীবনে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। মারিয়া ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের গোইয়ানেশিয়া শহরের বাসিন্দা। জন্মগত গ্লুকোমার কারণে জন্ম থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি নেই। ছোটবেলায় তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়তে শেখেন। এরপর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি পুলিশ স্টেশন এবং গোইয়াস রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্রাজিলে আইন বিষয়ে স্নাতক হলেই সরাসরি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা যায় না। পেশাগত নিবন্ধন পেতে দেশটির আইনজীবী সমিতি, ওএবির আয়োজিত পরীক্ষা পাস করতে হয়। এই পরীক্ষায় দুটি ধাপ রয়েছে। মারিয়া প্রথমবার অংশ নিয়েই দুই ধাপ অতিক্রম করেন। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি পর্দার লেখা পড়ে শোনায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা কম্পিউটার বা মুঠোফোনে প্রদর্শিত লেখা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শোনায়। এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বই, নথি, অনলাইন পাঠ্যসামগ্রী ও পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ আরও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে মারিয়া ফৌজদারি আইন বেছে নেন। সেখানে তাকে একটি মামলায় আসামিপক্ষের জবাব প্রস্তুত করার মতো ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তিনি। আইনজীবী সমিতির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরেক তরুণী লরা সোয়ারেস ফেরেইরাও প্রথম চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। লরার দৃষ্টিশক্তি কম এবং পরীক্ষায় তিনি পাঠক ও লিখন-সহায়তাকারীর সহযোগিতা নেন। দুই তরুণীই দ্বিতীয় ধাপে ফৌজদারি আইন বেছে নিয়েছিলেন এবং একই ধরনের ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মারিয়া ও লরা আনুষ্ঠানিক শপথ নেন এবং পেশাগত পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তাদের স্বাগত জানান সমিতির সভাপতি রাফায়েল লারা মার্তিন্স। তিনি নতুন আইনজীবীদের পেশাগত বিকাশ এবং অধিকার সুরক্ষায় সমিতির সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই অনুষ্ঠানে পরিচয় হওয়ার আগে দুই তরুণীর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ফৌজদারি আইন বেছে নেওয়ার মতো একাধিক মিল তাদের অভিজ্ঞতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। আইনজীবী হিসেবে এখন মারিয়ার সামনে নতুন অধ্যায়। তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি, দুই ধরনের মামলায় কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তার অর্জন দেখিয়েছে, উপযুক্ত সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য শিক্ষার সুযোগ থাকলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও জটিল পেশাগত পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের সাফল্য নিশ্চিত করতে শুধু ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পরীক্ষায় প্রবেশগম্য উপকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পেশাগত ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হতে পারে। সূত্র: ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি (ওএবি-জিও), মাইস গোইয়াস।
গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ায় সন্তান ‘অভিশপ্ত’ ভেবেছিলেন মা, চিকিৎসকেরা জানালেন বিরল রোগ
কম খরচে সৌন্দর্যচর্চা করাতে গিয়ে মুখ বিকৃত, ট্রান্সজেন্ডার নারীর মুখে সিমেন্ট ও আঠা পুশ করেন ভুয়া চিকিৎসক
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৩ লাখ রুপি প্রতারণা, পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রীর মৃত্যু
আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার স্কুলের পোশাকবিধিতে এমন পরিবর্তন এনেছে, যেখানে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পোশাকের বিবরণসংক্রান্ত বিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো স্কুলে একটি অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতি বজায় রাখা। নতুন নিয়মে নির্ধারিত স্কুল পোশাকের অভিন্নতা নষ্ট করে কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন পোশাক বা অতিরিক্ত পোশাকের উপকরণ ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে নিয়মে হিজাবের নাম উল্লেখ করে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাস্তবে বিধিটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও হিজাব পরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নতুন বিধির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে। জাহরা হাসানোভা নামের এক শিক্ষিকা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তাঁকে স্কুলে হিজাব পরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে কেউ হিজাব খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে, নতুন পোশাকবিধিতে জাতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জাতীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাক বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত পেডাগজিক্যাল কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পোশাকবিধি মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট পরিষদের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে বিধিটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আজারবাইজানের জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। দেশটির সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। এ কারণে নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কটি কেবল স্কুলের পোশাকের নিয়মে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং শিক্ষার অধিকারও জড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, নিয়মটির প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা তৈরি হতে পারে। নতুন বিধির প্রতিবাদ শুধু স্কুলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের ঘটনাও সামনে এসেছে। কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানভও নতুন নিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দণ্ডিত এই সাংবাদিক দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর স্ত্রীগুলমিরা আসলানভা ফেসবুকে প্রকাশিত একটি বার্তায় জানান, কারাগারে থেকেও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে অনশন করছেন তাঁর স্বামী। আজারবাইজানে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটার খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন তথ্য এখনো নেই। এই বিতর্কের প্রভাব প্রতিবেশী দেশ তুরস্কেও পড়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরা নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি চাকরিতে কর্মরত কিছু নারীকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তুরস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও প্রতিবাদ নিয়ে পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দল নিউ আজারবাইজান পার্টির এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অন্যদের দেশের জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজারবাইজানে নতুন পোশাকবিধি কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এর ফলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্কুলে প্রবেশের সুযোগ ফিরবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অভিন্ন পোশাকবিধি ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে, প্রতিবাদকারীরা বলছেন, পোশাকের নিয়মের কারণে কাউকে শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। এই দুই অবস্থানের টানাপোড়েনে দেশটিতে হিজাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, আজারবাইজান প্রেস এজেন্সি (এপিএ)
যিশুর সময়কার ২ হাজার বছরের পুরোনো স্নানাগার, বিশাল ক্রেনে অক্ষত অবস্থায় সরালেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা
খ্রিষ্টান উপাসকদের জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন মুসলিম যুবক রিয়ান্তো
শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে করলেন ইন্দোনেশিয়ার দুই সাবেক শিক্ষার্থী
আজারবাইজানের হিজাব পরা এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হিজাব পরা নিয়ে শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষক তাঁকে হিজাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। শিক্ষক তাঁকে হারাতে চান না বলেও জানিয়েছেন। জবাবে ছাত্রী বলেন, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরেন এবং অন্য কারও অনুরোধে তা খুলতে রাজি নন। প্রয়োজনে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা নিয়ে শিক্ষক ও তাঁর মধ্যে আলোচনা হয়। শিক্ষক তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিলেও ছাত্রী নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যের মূল ভিডিও, শিক্ষার্থীর পরিচয় এবং ঘটনাটি কোন স্কুলে ঘটেছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে কথোপকথনের সব বিবরণ যাচাই করা জরুরি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আজারবাইজানের সরকারি স্কুলে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে। আল জাজিরার ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মন্ত্রিসভা ২১ সেপ্টেম্বর স্কুলের পোশাকসংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনী অনুমোদন করে। নতুন বিধিতে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত অতিরিক্ত পোশাক বা উপকরণ পরার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা নিয়মে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। অভিভাবক ও সমালোচকদের একাংশের উদ্বেগ, পোশাকবিধির কারণে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, দেশটির পোশাকবিধির সমর্থকেরা বলছেন, সরকারি স্কুলে নির্ধারিত নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও নতুন পোশাকবিধির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চললেও ভাইরাল হওয়া ওই ছাত্রীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তিনি স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন, নাকি হিজাবের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আল জাজিরা, অবজারভার বিডি।
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা