যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতভিত্তিক কয়েকটি আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 'অপারেশন হার্ড বল' নামে পরিচালিত এই অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব চক্র মাদক ও অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করছিল। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে), ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানেও অন্তত ৫০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও এসব অপরাধী চক্র অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র বেচাকেনা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, চুরি এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, এসব সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ কোকেন ও মেথামফেটামিন ছড়িয়ে দিয়েছে এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ভারতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় থেকেও কয়েকজন শীর্ষ গ্যাং নেতা আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের সহযোগীদের পরিচালনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতের কারাগারে বন্দি লরেন্স বিষ্ণোইর নেতৃত্বাধীন বিষ্ণোই গ্যাং চোরাই মোবাইল ফোন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাদক পরিবহন, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দিত। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বৃহত্তর লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫০ পাউন্ড কোকেন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও এই গ্যাং জড়িত। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী রাজন ভাট্টি এক গোপন ফেডারেল কর্মকর্তার কাছ থেকে দুই লাখ ডলার আদায়ের চেষ্টা করেন। ওই কর্মকর্তা নিজেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী একজন ধনী প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভাট্টি ওই কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন। এদিকে ভারতের কারাগারে বন্দি জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বাধীন ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্যাংটির সদস্যরা ভারতে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় মানুষকে মিথ্যা হত্যামামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। এই গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভারতের পাঞ্জাবের এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে চাঁদা আদায়ের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। আরেক সদস্য গুরদেব সিং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও গোপনে যোগাযোগের মাধ্যমে একটি পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, জগ্গু ভগবানপুরিয়া ভারতের কারাগারে বন্দি থেকেও ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপুল পরিমাণ কোকেন পরিবহন ও বিতরণের নির্দেশ দিতেন। এছাড়া কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্দার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় প্রতি সপ্তাহে শত শত পাউন্ড কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তার চক্র আধা-ট্রাক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়েস্ট কোভিনা, অন্টারিও, ফন্টানা ও পেরিস এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত পর্যন্ত মাদক পরিবহন করত। এই মামলায় অভিযুক্ত জাস্টিন গুজম্যানকে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার এল মন্টে এলাকার একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চক্রটির হয়ে ১৫০ পাউন্ডের বেশি কোকেন পাচারে অংশ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের অভিযানে লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো, স্টকটন, সান হোসে, ফ্রেসনোসহ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিযান চালানো হয়। শুধু স্যাক্রামেন্টো এলাকায় ২৩টি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৯টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডনেল বলেন, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়াকে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২ হাজার ২০০ পাউন্ডের বেশি কোকেন ও হেরোইন, ৪০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং অন্তত ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন যুক্তরাষ্ট্রে, দুজন ভারতে এবং একজন ইউরোপে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, মামলায় উত্থাপিত সব অভিযোগই তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগপত্র ও আদালতের নথির ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সময় কারখানা সচল রাখতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে ফরাসি সিমেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লাফার্জকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্যারিসের আদালত এই রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাফার্জ ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দুটি সংগঠনকেই সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আদালত জানিয়েছেন, মূলত ব্যবসায়িক স্বার্থে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কারখানাটি সচল রাখতেই এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অর্থায়ন জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে শক্তিশালী করেছে এবং তাদের হামলা পরিচালনায় সহায়তা করেছে। এই মামলায় লাফার্জের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আটজন সাবেক কর্মী ও নির্বাহী কর্মকর্তাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাহী ব্রুনো লাফন্টকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটিকে ১০ লাখ ইউরোর বেশি জরিমানাও করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, সিরিয়ার জালাবিয়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি সচল রাখতে কর্মীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং কাঁচামাল সংগ্রহে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করা হয়। বিশেষ করে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে কাঁচামাল কেনা এবং কর্মীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অর্থায়নের মাধ্যমে কার্যত জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে একটি ‘বাণিজ্যিক সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে লাফার্জের বিরুদ্ধে আলাদা তদন্ত এখনো চলছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক এক মামলায়ও লাফার্জ স্বীকার করেছিল যে, সিরিয়ায় তাদের কার্যক্রম চালাতে আইএস ও নুসরা ফ্রন্টকে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় মার্কিন আদালতের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করে। ২০১৫ সালে লাফার্জ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়। তবে সর্বশেষ এই রায়ের পর কোম্পানির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।