বিশ্ব

ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: ৮০ শতাংশ কাজের পরও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে কাটল এক নির্ঘুম ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ রাত। কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক টেবিলে বসলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে ঐতিহাসিক এই সংলাপ। তবে আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় ‘৮০ শতাংশ কাজ’ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মতভেদের কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি।

 

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার দিন পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হোটেলের তিনটি পৃথক উইংয়ে চলেছে এই কূটনৈতিক লড়াই—একপাশে মার্কিন প্রতিনিধি দল, অন্যপাশে ইরানিরা এবং মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে চলা এই আলোচনায় ফোনের ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তার জন্য প্রতিনিধিদের বারবার মূল কক্ষের বাইরে আসতে হয়েছে।

 

আলোচনার সাথে পরিচিত ১১টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই পক্ষই চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে শেষ মুহূর্তে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী কোনো টোল ছাড়াই উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি ছিল জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেন, বিশেষ করে অতীতে আলোচনার মধ্যেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া অবস্থান নেন।

 

বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং চিৎকার শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কয়েক দফায় ‘চা-বিরতি’ ডাকেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য এখনো পূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সোমবার সকালে ইরান থেকে ফোন করা হয়েছে এবং তারা একটি চুক্তিতে আসতে আগ্রহী। যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, মার্কিন অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশেরই এখন উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ, আর ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দেশটিকে চাপের মুখে রেখেছে।

 

জেডি ভ্যান্স আলোচনার সমাপ্তি টেনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি সমঝোতার পদ্ধতি দিয়ে এসেছি যা আমাদের চূড়ান্ত অফার। দেখা যাক ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি না।”

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত।
মহাকাশে আধিপত্যের লড়াই: ১১.৫৭ বিলিয়ন ডলারে গ্লোবালস্টার কিনছে আমাজন, টক্কর হবে মাস্কের স্টারলিংকের সাথে

মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার বাজারে এক বিশাল ধামাকা নিয়ে এলো ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন 'স্টারলিংক'-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে ১১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) বিনিময়ে কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'গ্লোবালস্টার' (Globalstar) অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে আমাজন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে আমাজনের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট 'কুইপার' (বর্তমানে যা 'Amazon Leo' নামে পরিচিত) এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবালস্টারের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৯০ ডলার নগদ অর্থ অথবা আমাজনের ০.৩২১০টি সাধারণ শেয়ার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গ্লোবালস্টারের শেয়ারের দাম প্রাক-বাজার লেনদেনে ৯ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপলের সাথে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: গ্লোবালস্টার মূলত আইফোনের ‘ইমার্জেন্সি এসওএস’ ফিচারের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আমাজন জানিয়েছে, অধিগ্রহণের পরেও তারা অ্যাপলের সাথে বিদ্যমান চুক্তি বজায় রাখবে এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের জন্য স্যাটেলাইট সেবা আরও উন্নত করতে কাজ করবে। বর্তমানে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংক একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। ১০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে ৯ কোটিরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে, আমাজন ২০২৯ সালের মধ্যে ৩,২০০টি স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার অর্ধেক ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই কক্ষপথে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্লোবালস্টারের দুই ডজন সক্রিয় স্যাটেলাইট এবং তাদের অভিজ্ঞ দক্ষ জনবল আমাজনকে দ্রুত এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকাগুলোতে সরাসরি স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা 'ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস' (D2D) সেবা আরও সহজলভ্য হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

হরমুজ অবরোধ না করতে ট্রাম্পকে বিরল হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

ছবি: সংগৃহীত

বিধ্বংসী রণতরী থেকে উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পাকিস্তানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে? ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি: ত্রিভুজ সংকটে পাকিস্তান

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক অভিনব এবং অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। একদিকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সাথে তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হচ্ছে।  আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইসলামাবাদের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের চিত্র। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। যখন এই আলোচনার টেবিলে বিশ্বশান্তির আশা জাগছিল, ঠিক তখনই রিয়াদ ঘোষণা করে যে, কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির (SMDA) আওতায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বিশাল বহর সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতামত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য এটি এক অগ্নিপরীক্ষা। ইরানের সাথে তাদের দীর্ঘ সীমান্ত এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক মিত্র। আল-জাজিরার মতে, পাকিস্তান যদি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের আস্থা হারানো এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ শিয়া জনগোষ্ঠীর অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক ভারসাম্য কি সম্ভব? পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ইসলামাবাদ দুটি দায়িত্বই পালনে সক্ষম। তারা একদিকে শান্তি বজায় রাখতে কূটনীতি চালাচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তজনা এই ভারসাম্য বজায় রাখাকে দিনে দিনে আরও কঠিন করে তুলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ: ইরানের অর্থনীতিতে কতটা বড় ধাক্কা?

ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: আল-আকসা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও পোপ লিওর মধ্যে উত্তেজনা চরমে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

প্রতীকী ছবি
পরমাণু কর্মসূচিতে ২০ বছরের বিরতি চায় যুক্তরাষ্ট্র—ইরানের দাবি

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় বলে জানা গেছে।   এই দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশের বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে পাল্টা হিসেবে মাত্র পাঁচ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু করেন, তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখা। যদিও ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই ফিরে গেছেন। পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত খোলা রাখা নিয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে।   ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তাদের ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইরানের। তিনি বলেন, শুধু আশ্বাস নয়, বরং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।   অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ওই ইউরেনিয়াম নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হয়।   তবে মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং কোনো পক্ষই এ বিষয়ে এগোয়নি। ফলে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রয়ে গেছে।   সূত্র: আল-আরাবিয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে কমছে জ্বালানি তেলের দাম, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি, জাতিসংঘে ইরানের চিঠি

পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি, জাতিসংঘে ইরানের চিঠি

চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং।

চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখাস্ত

0 Comments