ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও প্রচার, ইউটিউব থেকে সরানো হলো ইরানপন্থী চ্যানেল
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে লেগো-থিমযুক্ত অ্যানিমেশন ভিডিও প্রচারের দায়ে ইরানপন্থী একটি ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিয়েছে গুগল। ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামের ওই চ্যানেলটি তাদের প্ল্যাটফর্মে স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইউটিউবের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্প্যাম, স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কাজ সমর্থন করি না যা ইউটিউব কমিউনিটির সুযোগ গ্রহণ করে।’
ভিডিওতে যা ছিল চ্যানেলটি মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করত। কোনো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায় যেখানে নিজেকে ‘পরাজিত ব্যক্তি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনেক ভিডিওতে শিয়া ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতীকগুলো ব্যবহার করে মার্কিন নীতির সমালোচনা করা হতো। নেপথ্যের কারণ ইউটিউব সুনির্দিষ্টভাবে চ্যানেলটির কোনো ভিডিওর কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণেই এটি বন্ধ করা হয়েছে।
তবে এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা চ্যানেলটিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুসারী বলে তকমা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিজেকে ‘মিস্টার এক্সপ্লোসিভ’ পরিচয় দিয়ে বিবিসিকে জানান, তাদের দলে ১০ জনের কম সদস্য কাজ করেন এবং ইরান সরকার তাদের অন্যতম ‘গ্রাহক’।
এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া চ্যানেলটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা লেখে, ‘আমাদের লেগো-স্টাইল অ্যানিমেশনগুলো কি আসলেই হিংসাত্মক?’ তারা দাবি করে, এটি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় যুদ্ধের ময়দান হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন ইরানপন্থী চ্যানেলগুলো ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের নানা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যপ্রযুক্তি
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন। এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়। তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাফি হোসাইনের সহপ্রতিষ্ঠিত ফিনটেক কোম্পানি ফ্যাসেট ৬৮ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ সি বিনিয়োগ পাওয়ার পর ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে পৌঁছেছে। জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসবিআই গ্রুপের নেতৃত্বে হওয়া এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ফ্যাসেট ‘ইউনিকর্ন’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ফ্যাসেট ২০১৯ সালে রাফি হোসাইন ও ড্যানিয়েল আহমেদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে। রাফি হোসাইন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি কোম্পানিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সিরিজ সি বিনিয়োগের ফলে ২০২৬ সালে ফ্যাসেটের মোট তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৯ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫১ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ বি বিনিয়োগ পেয়েছিল। নতুন অর্থ দিয়ে ফ্যাসেট তাদের নিজস্ব ‘ওন নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন, স্টেবলকয়েন নিষ্পত্তি ও টোকেনাইজড সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফ্যাসেটের দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন প্রক্রিয়া করছে। ১২৫টির বেশি দেশে তাদের ৩০ লাখের বেশি ওয়ালেট রয়েছে এবং ১ হাজারের বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবার সঙ্গে যুক্ত। ফ্যাসেট মূলত স্টেবলকয়েনভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের অবকাঠামো তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘ওন নেটওয়ার্ক’ ব্যাংক, টেলিকম কোম্পানি, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং লিকুইডিটি পার্টনারদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং করিডরের সঙ্গে যুক্ত করে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর ও নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও কার্যকর করা। বাংলাদেশসহ উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এই ধরনের অবকাঠামোর গুরুত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে উচ্চ খরচ, ধীরগতির নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্রিল্যান্সার, রিমোট কর্মী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফ্যাসেট নিজেকে এসব সীমাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্যে তৈরি একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। তবে বাংলাদেশে ফ্যাসেটের সেবা ব্যবহার বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। স্টেবলকয়েন ও ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক আর্থিক সেবার ব্যবহারও দেশভেদে ভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পড়ে। জাপানের এসবিআই গ্রুপের সঙ্গে ফ্যাসেটের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। জুনে এসবিআই রেমিট ও ফ্যাসেট আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নতুন অবকাঠামো তৈরিতে কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়। এসবিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও কম খরচে ও দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি করা হবে। ফ্যাসেটের প্রধান নির্বাহী রাফি হোসাইনের ভাষ্য, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো ‘যেকোনো ব্যক্তি থেকে যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো সম্পদ থেকে যেকোনো সম্পদ এবং যেকোনো আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো জায়গায়’ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা। অর্থাৎ মানুষের আর্থিক সুযোগ যেন তারা কোথায় জন্মেছেন বা কোথায় বসবাস করছেন, তার ওপর নির্ভর না করে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। ১ বিলিয়ন ডলারের এই মূল্যায়ন ফ্যাসেটকে বৈশ্বিক ফিনটেক ইউনিকর্নের তালিকায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একজন উদ্যোক্তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির এই পর্যায়ে পৌঁছানো দেশের প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক মাইলফলক।
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার
শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা
নিজের হাতে পুরো ডিসার্টেশন লেখার পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল যুক্তরাজ্যের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। নিখুঁত ব্যাকরণ, লেখার একই ধরনের ছন্দ এবং কিছু বিরামচিহ্নের ব্যবহার দেখে তার কাজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন একজন পরীক্ষক। অভিযোগ প্রমাণিত ধরে প্রথমে তার নম্বর সীমিত করে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারত। তবে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ডিসার্টেশনে পূর্ণ নম্বর পান। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজের মেডিকেল শিক্ষার্থী হ্যারিসন শার্পলসের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। গত বছরের আগস্টে ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী জানতে পারেন, তার ডিসার্টেশনে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। শার্পলসের ডিসার্টেশনের বিষয় ছিল হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের উদ্বেগ কমাতে প্লে থেরাপির প্রভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার কাজ দুজন মানব পরীক্ষক মূল্যায়ন করেন। তাদের একজন লেখাটিতে সম্ভাব্য এআই ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিবিসির দেখা পরীক্ষকের নোটে শার্পলসের লেখার অত্যন্ত পরিশীলিত ও একই ধরনের ভাষাশৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ধারাবাহিকভাবে প্রায় নিখুঁত ব্যাকরণ, বাক্য ও অনুচ্ছেদের গঠনে মিল এবং লেখার কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা। একই সঙ্গে তার লেখায় এম ড্যাশের ব্যবহারও সন্দেহের কারণগুলোর একটি হিসেবে উঠে আসে। শার্পলস অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করেন, পুরো ডিসার্টেশন তিনি নিজেই লিখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটি শেষ করার জন্য তার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে লিখতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন। ফলে এআই ব্যবহার করার প্রয়োজনই তিনি অনুভব করেননি। অভিযোগ ওঠার পর তাকে ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের একটি প্যানেলের সামনে অনলাইন শুনানিতে অংশ নিতে হয়। সেখানে ডিসার্টেশনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ ও মেডিকেল টার্মের অর্থ জানতে চাওয়া হয়। শার্পলস পরে জানান, এমন ধরনের প্রশ্নের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না এবং শুনানিতে নিজের অবস্থান প্রত্যাশামতো তুলে ধরতে পারেননি। প্রথম শুনানির এক সপ্তাহ পর তাকে জানানো হয়, এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে তার ডিসার্টেশনের গ্রেড সীমিত করে দেওয়া হয়। বিষয়টি তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশার রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানতে পেরে তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল করেন। শার্পলসের আপিলের অন্যতম ভিত্তি ছিল প্রথম শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন। আপিল গৃহীত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। নতুন শুনানিতে তার লেখার প্রক্রিয়া ও কীভাবে তিনি ডিসার্টেশন তৈরি করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। দ্বিতীয় শুনানিতে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল থাকেনি। পরে ডিসার্টেশনের জন্য তাকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়ার কারণে তার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং গ্র্যাজুয়েশনও পিছিয়ে যায়। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মামলার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে, ওই শিক্ষার্থীর আপিল গ্রহণের সিদ্ধান্তটি প্রথম শুনানির আয়োজনসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়াগত সমস্যার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বৃহত্তর শিক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখায় এআই ব্যবহার শনাক্ত করা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। শার্পলসের ঘটনা দেখিয়েছে, শুধু লেখার ধরন, নিখুঁত ব্যাকরণ বা নির্দিষ্ট বিরামচিহ্নের মতো বৈশিষ্ট্যকে সন্দেহের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের নিজের লেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!