আমেরিকা

ইরান প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘বেরিয়ে যেতে’ বললেন ট্রাম্প

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৬:৪২
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে প্রশ্নকারীকে কার্যত বেরিয়ে যেতে বলেন।

 

সিবিএস নিউজের সাংবাদিক অলিভিয়া রিনাল্ডি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, ইরানি গানবোট দুটি জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী। প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে বলেন, “আউট। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপরই ব্রিফিং কার্যত শেষ হয়ে যায়। উপস্থিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টতই রাগান্বিত দেখাচ্ছিল।

 

এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের দাবি, ইরানের দুটি গানবোট একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

 

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিতিশীলতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত
আমেরিকার হুমকিতে কখনোই ভয় পায়নি ইরান: আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা সামরিক চাপের কাছে ইরান কখনোই মাথা নত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ বহু বছর ধরে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও বহুমুখী চাপ মোকাবিলা করে এসেছে। তাই হুমকি দেখিয়ে তেহরানের নীতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।   এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, "যারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে জীবনযাপন করে, তাদের হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো যায় না।" তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নীতি অনুসরণ করলেও ইরান তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে আসেনি।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি কোনো দেশের চাপ বা নির্দেশে পরিচালিত হয় না। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষাই তেহরানের মূল অগ্রাধিকার। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি কিংবা রাজনৈতিক চাপের মুখেও দেশটি নিজের অবস্থানে অটল রয়েছে।   আরাগচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভেবেছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কৌশল সফল হয়নি। বরং এসব পদক্ষেপ ইরানের জনগণকে আরও আত্মনির্ভরশীল ও ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।   তিনি বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায় না, তবে কোনো আগ্রাসন হলে তার জবাব দিতে দেশটি প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, "আমরা সংঘাত চাই না, কিন্তু আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কখনো সরে আসব না।"   সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পেছনে একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজ করেছিল। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে সরে আসবে না। তবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে আলোচনা হলে তেহরান কূটনৈতিক সংলাপের পথ খোলা রাখতে প্রস্তুত।   আরাগচি আরও বলেন, ইরান বিশ্বাস করে বলপ্রয়োগ বা হুমকির মাধ্যমে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই একমাত্র কার্যকর পথ।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আরাগচি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বা চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তার অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৮:৩৩
সসালিটো শহরের সিটি ম্যানেজার এলেইন ফরবস।ছবি:সংগৃহীত

দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহ পরই গ্রেপ্তার, ইয়ট থেকে আটক ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি প্রধান

ক্যালিফোর্নিয়ার বাল্ডউইন পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।ছবি:সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার বাল্ডউইন পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৬০ জন

ইসাবেল রোজ জনসন এর দুটি আলাদা সময়ের ফটো। ছবি:সংগৃহীত

কবর থেকে মিলল যুবকের মরদেহ, সেই নারীকে ধরিয়ে দিলে ১১ হাজার ডলার পুরস্কার

পার্ক অ্যাভিনিউ হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম । ছবি:সংগৃহীত
পার্ক অ্যাভিনিউ হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের নামে ব্রঙ্কসে সড়কের নামকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম–এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ব্রঙ্কসে একটি সড়কের নাম তাঁর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সাউন্ডভিউ এলাকার ইস্ট ১৭২তম স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে "ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে" নামফলক উন্মোচন করা হয়।   অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের স্ত্রী, সন্তান, স্বজন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিশ, সহকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনার টিশ বলেন, দিদারুল ইসলাম শুধু একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী, পিতা এবং কমিউনিটির আদর্শ সদস্য। তাঁর নাম এখন নিউইয়র্কের ইতিহাসের স্থায়ী অংশ হয়ে থাকবে।   দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকালে বন্দুকধারী শেন ডেভন তামুরার গুলিতে নিহত হন। হামলায় মোট চারজন নিরীহ মানুষ নিহত হন। পরে হামলাকারী আত্মহত্যা করে। তদন্তে জানা যায়, সে ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল)কে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে এসেছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সিটিই (ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি) রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করছিল, যা পরে ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়।   ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর তিনি প্রথমে স্কুল নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন। পরে এনওয়াইপিডিতে যোগ দিয়ে সততা, সাহসিকতা ও মানবিক আচরণের জন্য সহকর্মীদের কাছে বিশেষ সম্মান অর্জন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় ।   নামকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দিদারুল ইসলামের স্ত্রী—যিনি স্বামীর মৃত্যুর সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন—তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই সম্মান তাঁদের জন্য গর্বের হলেও প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা কখনো মুছে যাবে না।    দিদারুল ইসলামের মৃত্যু শুধু নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিকেই নয়, পুরো শহরকে শোকাহত করেছিল। তাঁর আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সড়কের নামকরণকে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি স্থায়ী শ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৫:৩৬
নিহত হওয়া সাইকেল আরোহী। ছবি:সংগৃহীত

টেক্সাসে সাইকেল আরোহী বক্সার হান্না র‍্যাপ নিহত, চালক গ্রেপ্তার

বানর । ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কের সবুজ এলাকায় একাধিক বাদুড় প্রজাতির বসবাসে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

গুলিবিদ্ধ এমা ল্যান্ডিস , ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

আইসিইর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরেই আবার আইসিই বিক্ষোভে তরুণী

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ সদস্যের মধ্যে কোটি কোটি ডলারের সরকারি তহবিল নিয়ে গৃহযুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অলটুরাস ইন্ডিয়ান র্যাঞ্চেরিয়া নামের একটি ফেডারেল স্বীকৃত আদিবাসী গোষ্ঠীর বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলারের সরকারি ও উপজাতীয় তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন গোষ্ঠীটির কয়েকজন সদস্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবার জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।  গোষ্ঠীর সদস্য ওয়েন্ডি ডেল রোসা এবং তার আইনজীবীর দাবি, চেয়ারম্যান ফিলিপ ডেল রোসা ও ভাইস চেয়ারম্যান ড্যারেন রোজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তাদের অভিযোগ, এই সময়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি সরকারি ও উপজাতীয় তহবিল নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।        অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উপজাতির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা প্রায় দেওয়া হয়নি, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের বড় অংশের সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (বিআইএ) কাছেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছে।  অলটুরাস ইন্ডিয়ান র্যাঞ্চেরিয়া ক্যালিফোর্নিয়ার মোডক কাউন্টিতে অবস্থিত একটি ছোট ফেডারেল স্বীকৃত উপজাতি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০০৮ সালের পর থেকে সেখানে নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। নেতৃত্ব, সদস্যপদ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে।        এদিকে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স সম্প্রতি ওই উপজাতির ট্রাস্টভুক্ত জমিতে প্রয়োজনীয় ফেডারেল অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত কিছু বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিতে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি তাদের কাছে নেই।  তবে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা তহবিল তছরুপের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২:৫১
ছবি: সংগৃহীত

ল্যাবে কী ঘটেছিল? নারী কর্মীর যৌন নিপীড়ন অভিযোগের পর পদ ছাড়লেন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী

ভাগ্য বদলে দেওয়া সেই টিকিট বিক্রি করে ৫ হাজার ডলার কমিশন পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দোকান। ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নের ইঙ্গিতেই কিনলেন লটারি, জিতে নিলেন ৫ লাখ ডলার

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

0 Comments