বিশ্ব

হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ০:৫৭
হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা
হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা

হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে প্রতিবার দেশটির একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ঘোষণা এলো। 

 

ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন কিংবা অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করবে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের অবকাঠামোও থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

 

ইরান ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তিনি জানান, তেহরান এখন থেকে পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে।

 

ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর ইরানে টানা দ্বাদশ রাতের মতো হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুমকি দেওয়ার ইরানি সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ, রামশির ও আন্দিমেশক শহরের কাছে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরাক সীমান্তের কাছে শালামচেহ শহরে একটি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অন্যদিকে ইরানের হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষের ড্রোন মোকাবিলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি দেশ।

 

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর সাময়িকভাবে সংঘাত কমেছিল। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা
হরমুজে জাহাজে আঘাত করলেই ইরানের সেতু-বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে প্রতিবার দেশটির একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ঘোষণা এলো।    ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন কিংবা অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করবে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের অবকাঠামোও থাকতে পারে বলে তিনি জানান।   ইরান ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তিনি জানান, তেহরান এখন থেকে পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে।   ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর ইরানে টানা দ্বাদশ রাতের মতো হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুমকি দেওয়ার ইরানি সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ, রামশির ও আন্দিমেশক শহরের কাছে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরাক সীমান্তের কাছে শালামচেহ শহরে একটি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   অন্যদিকে ইরানের হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষের ড্রোন মোকাবিলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি দেশ।   গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর সাময়িকভাবে সংঘাত কমেছিল। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ০:৫৭
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা ভারতীয় নাগরিক নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার

অন্যের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়েই গ্রেপ্তার এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার ভারতীয় নাগরিক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প

লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরে দুই সৌদি জাহাজে হুথিদের হামলা

ড্রোননির্ভর যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন ইউক্রেনীয় সেনা সেরহি ক্রিনিতস্কি। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন ছিল মৃত্যুর অপেক্ষা, ড্রোন এড়িয়ে ৩২৬ দিন মাটির নিচে বেঁচে থাকার অবিশ্বাস্য গল্প

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ফ্রন্টলাইনগুলোর একটিতে টানা ৩২৬ দিন মাটির নিচের একটি ছোট ফক্সহোলে কাটিয়েছেন ইউক্রেনের সেনাসদস্য সেরহি ক্রিনিতস্কি। চারদিকে রুশ ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোলাবর্ষণ আর মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যে দিনের আলোয় বাঙ্কার থেকে বের হওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রায় এক বছর ধরে এমন জীবন কাটিয়ে অবশেষে ফিরে এসে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘হিরো অব ইউক্রেন’ পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।   রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৩৫ বছর বয়সী ক্রিনিতস্কি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেৎস্ক অঞ্চলের চাসিভ ইয়ারের কাছে একটি অগ্রবর্তী অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ের বেশির ভাগ সময়ই তিনি মাটির নিচে খোঁড়া একটি সংকীর্ণ ফক্সহোলে কাটিয়েছেন, কারণ রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া কার্যত আত্মহত্যার শামিল ছিল।   ক্রিনিতস্কি জানান, যুদ্ধের শুরুতে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে আকাশজুড়ে ড্রোনের আধিপত্য তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের ধরন পুরোপুরি বদলে যায়। আগে সেনারা দিনের বেলায়ও অবস্থান পরিবর্তন করতে পারলেও এখন সামান্য নড়াচড়াও শত্রুপক্ষের নজরে পড়ে যায়। ফলে খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে সেনাদের চলাচল সবকিছুই রাতের অন্ধকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দিনের পর দিন সূর্যের আলো দেখা হতো না। সংকীর্ণ গর্তের ভেতরেই ঘুম, খাওয়া এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি চলত। রাত নামলে সীমিত সময়ের জন্য বাইরে বের হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হতো।   যুদ্ধ চলাকালে তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহযোদ্ধা রুশ ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত বিস্ফোরকে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। এরপর দীর্ঘ সময় একাই সেই অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করেন ক্রিনিতস্কি। রয়টার্স জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রের কিছু মুহূর্ত তিনি নিজের মোবাইল ফোনেও ধারণ করেছিলেন, যা যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে।   খাবার ও সরঞ্জামের তীব্র সংকটের কথাও তুলে ধরেছেন এই ইউক্রেনীয় সেনা। তিনি বলেন, অনেক সময় যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে থাকা রসদ সংগ্রহ করেই টিকে থাকতে হয়েছে। প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা, আর প্রতিটি রাত ছিল পরবর্তী দিনের জন্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম। যুদ্ধের আগে ক্রিনিতস্কির জীবন ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি খরগোশ পালন করতেন এবং সাধারণ কৃষিজীবন কাটাতেন। পরে দেশ রক্ষার আহ্বানে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে চলে যান পূর্ব ইউক্রেনের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে।   রয়টার্সকে তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ চলাকালে অন্তত ২৩ জন রুশ সেনাকে হত্যা করেছেন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রোননির্ভর আধুনিক যুদ্ধের কারণে ফ্রন্টলাইনের বাস্তবতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট ফক্সহোল ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়স্থল এখন অনেক সেনার প্রধান নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।   প্রায় এক বছরের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার পর ক্রিনিতস্কিকে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সামরিক সম্মান ‘হিরো অব ইউক্রেন’ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে নতুন প্রজন্ম যুদ্ধের মানবিক মূল্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ২৩:৬
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে আবারও ইন্টারনেট বন্ধ, পুলিশকে ককরোচ পার্টির ধাওয়া!

ঋণমুক্ত জীবনের আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে ভিটেমাটি ত্যাগ: বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলীয় দম্পতি

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প

৪০ বছর পর লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের

হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজ
ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ‘অ্যামাজন’ ওয়াইল্ডবেরিজের সরবরাহ নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ (Wildberries)–এর লজিস্টিক অবকাঠামো।   প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম জানিয়েছেন, ক্রাসনোদার ও নেভিনোমিস্ক শহরে অবস্থিত দুটি বড় গুদামে হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।   এর আগেও জুলাই মাসে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়। ১৮ জুলাই তামবভ অঞ্চলের কোতোভস্ক ও মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্টাল–এ অবস্থিত দুটি লজিস্টিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। একই সময়ে একটি তেল ডিপোতেও আগুন লাগে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন লজিস্টিক কেন্দ্র, যেখান থেকে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করা হতো। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।   ওয়াইল্ডবেরিজ বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১০ লাখেরও বেশি বিক্রেতা যুক্ত এবং প্রতিদিন কোটি কোটি অর্ডার প্রক্রিয়াজাত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার ই-কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এর লজিস্টিক নেটওয়ার্ক দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।   সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ফলে শুধু গুদাম নয়, হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পণ্য সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।   রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরে দুই পক্ষই এখন একে অপরের জ্বালানি, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২২, ২০২৬ ৩:৪৬
শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন

পালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি, নজির গড়লেন নীলাওয়ান রাখাইন

প্রতীকী ছবি

জাপানে ১২ তলা থেকে পথচারী নারীর ওপর পড়লেন যুবক: নারীর মৃত্যু, জীবিত যুবক

প্রেস টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে শাহেদ ড্রোনের গায়ে লামিন ইয়ামালের ছবি দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এবার লামিন ইয়ামালের ছবি-সংবলিত ড্রোন ছুড়ল ইরান

0 Comments