সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের আল-তোয়াইক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি মোশারফ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশে এসে পৌঁছেছে।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট (এসভি ৮০৬) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মরদেহ গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারকে তা হস্তান্তর করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলা গ্রামের মো. সুরজত আলীর ছেলে। তিনি জীবিকার তাগিদে আট বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। গত ৮ মার্চ স্থানীয় সময় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেনসহ তিনজন নিহত হন। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মৃত্যুর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে মোশারফ তার বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে ইরান-সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জবাব দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসছে, যেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি। ইরানের পক্ষ থেকে এই কৌশলগত সমুদ্রপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের একটি বড় অংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই যায়, ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ফি আরোপের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে, যা কার্যত নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য নৌ চলাচলে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন যাচাইকরণ বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে জাহাজগুলোকে আগে থেকেই নিবন্ধন করতে হবে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-র নৌসদস্যদের রক্তের প্রতিশোধ এবং দেশের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। ভারতের মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে এই জাহাজে হামলার কারণে ৮০-এর বেশি নৌসদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ফলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসরাইল এখন বিজয়ের পথে, আর ইরানের সামরিক কাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও ধ্বংসের পথে। তিনি আরও জানান, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কারখানা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। এর আগে, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনেও বাধা সৃষ্টি করছে তারা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত এখন পর্যন্ত মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের জনগণই ঠিক করবে কখন এবং কীভাবে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে জড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব, বাইরের কারও প্রভাব নয়। সূত্র: রয়টার্স